Thursday, September 8, 2022

ছবিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বর্ণাঢ্য জীবন

 ব্রিটেনের সিংহাসনে সাত দশক ধরে আসীন ছিলেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। বিশ্বের ইতিহাসের বহু ঘটনাপ্রবাহ আর উত্থান-পতনের স্বাক্ষী তিনি। ৯৬ বছর বয়সে তিনি মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে বিশাল এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। দ্বিতীয় এলিজাবেথের বর্ণাঢ্য জীবনের কয়েকটি চুম্বক অংশের আলোকচিত্র নিয়েই এই আয়োজন।

অনেকেই মনে করতেন, দ্বিতীয় এলিজাবেথ কখনো সিংহাসনে বসবেন না। ছবি: গেটি ইমেজ
অনেকেই মনে করতেন, দ্বিতীয় এলিজাবেথ কখনো সিংহাসনে বসবেন না। ছবি: গেটি ইমেজ
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আন্তরিক ও বন্ধুবৎসল। ছবি: গেটি ইমেজ
ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আন্তরিক ও বন্ধুবৎসল। ছবি: গেটি ইমেজ
১৯৩৬ সালে অষ্টম রাজা এডওয়ার্ডের পর রাজা হন ষষ্ঠ জর্জ। এসময় দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী হন। ছবি: গেটি ইমেজ
১৯৩৬ সালে অষ্টম রাজা এডওয়ার্ডের পর রাজা হন ষষ্ঠ জর্জ। এসময় দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী হন। ছবি: গেটি ইমেজ
১৯৪৭ সালে আত্মীয় ফিলিপের সঙ্গে বিয়ে হয় দ্বিতীয় এলিজাবেথের। পরে ফিলিপ ডিউক অব এডিনবার্গ হন। ছবি: গেটি ইমেজ
১৯৪৭ সালে আত্মীয় ফিলিপের সঙ্গে বিয়ে হয় দ্বিতীয় এলিজাবেথের। পরে ফিলিপ ডিউক অব এডিনবার্গ হন। ছবি: গেটি ইমেজ
১৯৪৮ সালে দ্বিতীয় এলিজাবেথ-ফিলিপ এর প্রথম সন্তান (প্রিন্স) চার্লস-এর জন্ম হয়। ছবি: পিএ মিডিয়া
১৯৪৮ সালে দ্বিতীয় এলিজাবেথ-ফিলিপ এর প্রথম সন্তান (প্রিন্স) চার্লস-এর জন্ম হয়। ছবি: পিএ মিডিয়া
মায়ের সঙ্গে দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ছবি: পিএ মিডিয়া
মায়ের সঙ্গে দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ছবি: পিএ মিডিয়া
১৯৫৩ সালের জুনে দ্বিতীয় এলিজাবেথ রানি হিসেবে সিংহাসন আরোহণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তাকে এই দায়িত্ব নিতে হয়। ছবি: ইউনিভার্সাল হিস্ট্রি আর্কাইভ
১৯৫৩ সালের জুনে দ্বিতীয় এলিজাবেথ রানি হিসেবে সিংহাসন আরোহণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ২৫ বছর বয়সেই তাকে এই দায়িত্ব নিতে হয়। ছবি: ইউনিভার্সাল হিস্ট্রি আর্কাইভ
১৯৫৭ সালে তিনি প্রথম টেলিভিশনের পর্দায় ভাষণ দেন। ছবি: পিএ মিডিয়া
১৯৫৭ সালে তিনি প্রথম টেলিভিশনের পর্দায় ভাষণ দেন। ছবি: পিএ মিডিয়া
স্বামী ফিলিপের সঙ্গে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ১৯৫৯ সালের ছবি। ছবি: লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভস, কানাডা
স্বামী ফিলিপের সঙ্গে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ১৯৫৯ সালের ছবি। ছবি: লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্কাইভস, কানাডা
১৯৬১ সালের ৫ জুন বাকিংহাম প্যালেসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এবং ফার্স্ট লেডি জ্যাকুলিন কেনেডির সাথে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপ। ছবি: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
১৯৬১ সালের ৫ জুন বাকিংহাম প্যালেসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এবং ফার্স্ট লেডি জ্যাকুলিন কেনেডির সাথে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও প্রিন্স ফিলিপ। ছবি: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর
১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো রয়্যাল ফ্যামিলির জীবনযাত্রা নিয়ে ডকু-ফিল্ম প্রকাশ পায়। সেবারই মানুষের সামনে আসে রাজপরিবারের জীবনযাত্রা। ছবি: গেটি ইমেজ
১৯৬৯ সালে প্রথমবারের মতো রয়্যাল ফ্যামিলির জীবনযাত্রা নিয়ে ডকু-ফিল্ম প্রকাশ পায়। সেবারই মানুষের সামনে আসে রাজপরিবারের জীবনযাত্রা। ছবি: গেটি ইমেজ
১৯৭৬ সালে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে রানি এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপের সম্মানে দেওয়া রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের সঙ্গে নাচছেন ব্রিটিশ রানি। ছবি: রিকার্ডো টমাস
১৯৭৬ সালে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে রানি এলিজাবেথ এবং প্রিন্স ফিলিপের সম্মানে দেওয়া রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের সঙ্গে নাচছেন ব্রিটিশ রানি। ছবি: রিকার্ডো টমাস
১৯৯৩ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে। ছবি: রয়টার্স
১৯৯৩ সালে প্রিন্সেস ডায়ানার সঙ্গে। ছবি: রয়টার্স
১৯৯৬ সালে ব্রিটেন সফররত নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে রানি এলিজাবেথ। ছবি: রয়টার্স
১৯৯৬ সালে ব্রিটেন সফররত নেলসন ম্যান্ডেলার সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে রানি এলিজাবেথ। ছবি: রয়টার্স
২০১৬ সালে রানির ৯০তম জন্মদিন উদযাপনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ছবি: পিএ মিডিয়া
২০১৬ সালে রানির ৯০তম জন্মদিন উদযাপনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ছবি: পিএ মিডিয়া
পরিবারে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে। ছবি: ডাচেস অব ক্যামব্রিজ
পরিবারে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে। ছবি: ডাচেস অব ক্যামব্রিজ
 

 

Thursday, September 1, 2022

দেড় লাখের বেশি বেতনে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার সুযোগ

 দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান শহরে এনজিইউ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরা

 দক্ষিণ কোরিয়ার উলসান শহরে এনজিইউ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীরাছবি: সংগৃহীত

 

দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প খাতে প্রতিবছর কয়েক হাজার বাংলাদেশি কর্মী সরকারিভাবে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত ৩ হাজার ১৭০ বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন। আগামী তিন মাসে আরও প্রায় দুই হাজার কর্মী যাওয়ার সুযোগ পাবেন। দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। শুধু কোরিয়ান ভাষা শিখলে নামমাত্র খরচে মাসে দেড় লাখ টাকার বেশি বেতনে চাকরি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়া যায়।

দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ২০০৭ সালে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি হয়। এই চুক্তির ভিত্তিতে ২০০৮ সাল থেকে দেশটিতে দক্ষ কর্মী পাঠানো শুরু করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) ও দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অব কোরিয়া (এইচআরডি কোরিয়া) কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প খাতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো হয়। কয়েক ধাপে প্রার্থী নির্বাচনের পর দক্ষ কর্মীরা সেখানে যাওয়ার সুযোগ পান। বোয়েসেলের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়া গেছেন ২৫ হাজার ২১৪ জন বাংলাদেশি কর্মী। এর মধ্যে ৭৬ জন নারী। এ বছর প্রায় ৫ হাজার কর্মী যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগামী বছর ৩ থেকে ৪ হাজার বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়া যেতে পারবেন বলে আশা করছে বোয়েসেল।

দক্ষিণ কোরিয়া যেতে আগ্রহী কর্মীদের কমপক্ষে এসএসসি পাস হতে হবে। বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। পাসপোর্ট থাকতে হবে। এ ছাড়া কোরিয়ান ভাষা জানতে হবে এবং কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় পাস করতে হবে।
নূর আহমেদ, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক

দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার যোগ্যতা

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক নূর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যেতে আগ্রহী কর্মীদের কমপক্ষে এসএসসি পাস হতে হবে। বয়স ১৮ থেকে ৩৯ বছরের মধ্যে। পাসপোর্ট থাকতে হবে। এ ছাড়া কোরিয়ান ভাষা জানতে হবে এবং কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় পাস করতে হবে। ফৌজদারি অপরাধে জেল বা অন্য কোনো শাস্তি হলে আবেদন করতে পারবেন না। কালার ভিশনে সমস্যা থাকা যাবে না।

অনলাইনে নিবন্ধন

সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য কয়েক ধাপে প্রার্থী নির্বাচন করে বোয়েসেল। প্রথমে প্রার্থীদের অনলাইনে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। প্রতিবছর সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসে নিবন্ধন শুরু হয়। এ বছরের নিবন্ধন ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এইচআরডি কোরিয়ার চাহিদা অনুযায়ী, এবার মোট ২৪ হাজার প্রার্থী কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মধ্যে কোরিয়ান ভাষা জানা ৯ হাজার এবং ভাষা না জানা ১৫ হাজার প্রার্থী পরীক্ষা দিতে পারবেন।

নিবন্ধন করা প্রার্থীদের প্রথম ধাপের পরীক্ষা ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ থেকে ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। কোরিয়ান ভাষা না জানা নিবন্ধন করা প্রার্থীর সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি হলে লটারির মাধ্যমে কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। লটারি–সংক্রান্ত কার্যক্রম আগামী রোববার বোয়েসেলের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের লটারির সময় উপস্থিত থাকতে হবে। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকা বোয়েসেলের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হবে।

বাছাইপ্রক্রিয়া

বোয়েসেল থেকে জানানো হয়, অনলাইনে নিবন্ধন করার পর যাঁরা কোরিয়ান ভাষা জানেন না, তাঁরা কোরিয়ান ভাষা শেখার সময় পান। সরকারিভাবে সারা দেশে ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে কোরিয়ান ভাষা শেখানো হয়। এরপর এইচআরডি কোরিয়া তাঁদের ২০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়। এর মধ্যে রিডিং ১০০ এবং লিসেনিং ১০০। পরীক্ষার সময় ৫০ মিনিট। ২০০ নম্বরের মধ্যে ১১০ নম্বরের বেশি প্রাপ্ত প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ নম্বরের ক্রম অনুযায়ী মেধাতালিকা তৈরি করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই শুধু ইপিএসের অধীন চাকরির আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন।

যেতে খরচ

বোয়েসেলের উপমহাব্যবস্থাপক নূর আহমেদ বলেন, এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় দক্ষিণ কোরিয়া যেতে একজন বাংলাদেশি কর্মীর সব মিলে ৩৩ হাজার ৫২৪ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে বোয়েসেলের সার্ভিস চার্জ ভ্যাটসহ ২৩ হাজার ১৮৪ টাকা, নিবন্ধন ফি ২০০, ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্সের জন্যকল্যাণ তহবিল ফি ৩ হাজার ৫০০, ট্যাক্স ৮০০, স্মার্ট কার্ড ফি ২৫০, বিমা ফি ৪৯০ এবং ভিসা ফি ৫ হাজার ১০০ টাকা। তবে যাওয়া–আসার বিমানের টিকিটের ব্যয় কর্মীকে বহন করতে হয়।

যেসব খাতে চাকরির সুযোগ

বোয়েসেলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি অ্যান্ড মেইনটেনেন্স) মো. নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মূলত দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন খাতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে পনির ও খাদ্যপণ্যশিল্প, কাগজশিল্প, প্লাস্টিকশিল্প, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস শিল্প, কাঠশিল্প, মেটালশিল্প, মেশিনারিজ, টেক্সটাইল ও পোশাকশিল্প।

সুযোগ-সুবিধা

দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যালকো স্টিলে সহকারী হিসেবে কর্মরত নাহিদ নাদিম প্রথম আলোকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়াতে ওভার টাইমসহ কাজ করলে মাসে তিন লাখ টাকাও আয় করা সম্ভব। বাংলাদেশি কর্মীদের একজনের ন্যূনতম মাসিক আয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সপ্তাহে পাঁচ দিন কাজ করতে হয়। শনি ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি। যাঁরা এই দুই দিন কাজ করেন, তাঁরা ওভারটাইম পান। এ ছাড়া সরকারি ছুটির দিনগুলোতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। সে সময় কেউ কাজ করলে তখনো ওভারটাইম পান। এ ছাড়া থাকা ফ্রি ও খাওয়ার জন্য কোম্পানি বেতনের বাইরে টাকা দেয়।

বিস্তারিত জানতে

সরকারিভাবে স্বল্প খরচে দক্ষিণ কোরিয়া যেতে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন বোয়েসেলের ইপিএস শাখায়। ঠিকানা: বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ৭১-৭২ ইস্কাটন গার্ডেন, প্রবাসী কল্যাণ ভবন (৪র্থ তলা) রমনা, ঢাকা-১০০০। ফোন: ৪৮৩১৯১২৫, ৪৮৩১৭৫১৫, ৫৮৩১১৮৩৮। ওয়েবসাইট: www.boesl.gov.bd।

‘কোরিয়ানদের কাছে বাংলাদেশি কর্মীরা বেশি পছন্দের’

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত মো. নাহিদ নাদিম
দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত মো. নাহিদ নাদিম

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (ইপিএস) কর্মসূচির আওতায় মো. নাহিদ নাদিম ২০১৫ সালে চাকরি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া যান। সেখানে ৪ বছর ১০ মাস সুনামের সঙ্গে কাজ করার পর ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন। এরপর আবার চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার সুযোগ পান। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াসংসিতে অ্যালকো স্টিল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সহকারী হিসেবে কর্মরত। প্রথমবার যখন কোরিয়া যান তখনো এই কোম্পানিতে চাকরি করেছিলেন তিনি।

মো. নাহিদ নাদিম প্রথম আলোকে বলেন, ইপিএস কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন উজবেকিস্তানসহ বিশ্বের ১৫টি দেশ থেকে কর্মী নিয়ে থাকে দক্ষিণ কোরিয়া। এর মধ্যে কোরিয়ানদের কাছে বাংলাদেশি কর্মীদের সুনাম রয়েছে। কারণ, অন্যদের তুলনায় বাংলাদেশি কর্মীদের কোরিয়ান ভাষা দক্ষতা ভালো। তাঁরা সহজেই কোরিয়ানদের কথা বুঝতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য দেশের কর্মীরা কোম্পানি বেশি পরিবর্তন করেন। এ জন্য কোরিয়ানরা তাঁদের কম পছন্দ করেন। বাংলাদেশি কর্মীরা দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে কাজ করেন, তাই বাংলাদেশি কর্মীদের নিতে তাঁরা আগ্রহী বেশি।

মো. নাহিদ নাদিম বলেন, কোরিয়ানদের ব্যবহার অনেক ভালো। তাঁরা কর্মীদের প্রতি যত্নশীল। থাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন। ইপিএসের আওতায় যাঁরা দক্ষিণ কোরিয়ায় আসতে চান, তাঁদের শুধু কোরিয়ান শিখলেই হয়। অন্য কোনো কাজের অভিজ্ঞতা তেমন লাগে না। কোরিয়ানদের কাছে নিরাপত্তা আগে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ কর্মীদের দিয়ে করানো হয় না। যেসব কাজ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে হয়, সেসব কাজ মেশিন দিয়ে করা হয়।

Saturday, October 3, 2020

ঘরে থাকুক সবুজের ছোঁয়া

 


ঘরে থাকুক সবুজের ছোঁয়া
নিলুফা খানম

‌‘একটুখানি সবুজ খুঁজি, একটু সবুজ হাওয়া, এই শহরে একটু সবুজ, অনেক বেশি পাওয়া’। ঠিক তাই চারদিকে আকাশছোঁয়া কংক্রিটের বাড়িঘর এবং প্রচণ্ড দাপদাহে মন চায় একটু সবুজের পরশ। মন ছুটে যেতে চায় সবুজের টানে দূরে কোথাও। কিন্তু সেই সবুজের ছোঁয়া যদি পাওয়া যায় নিজের বাড়িতে অথবা শোয়ার ঘরের ভেতরেই, তাহলে তো আর কথাই নেই। চাইলেই খুব সহজে গাছ দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার বাড়ির অন্দরমহলটি।

সবুজে থাকুন, সবুজে বাঁচুন- এমন মনোভাব সবার হৃদয়েই দোলা দেয়। ঘরের দেয়ালজুড়ে প্লাস্টিক পেইন্ট নয়, অন্দরজুড়ে সতেজ পাতাবাহার থাকুক। এর ফলে মনটাও সতেজ থাকবে। ব্যালকনিজুড়ে হোক বা ড্রইং রুমের এক কোণে। অন্দরসজ্জায় পাতাবাহারের সতেজ পরশ মানে প্রকৃতির দিকে একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

ঘরে ছোট বড় যাই হোক সেখানে যদি থাকে সবুজের ছোয়া তবে তা সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা ধারণ করে। ঘর সাজাতে সুন্দর ফার্ণিচার, পর্দা, ওয়ালম্যাট সব কিছুই জরুরি। এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করেছে গাছ। মানিপ্ল্যান্ট, পাতাবাহার, বাঁশ গাছ ঘরের শোভা বাড়ায়। তবে আসবাবপত্রের সাথে মিল রেখে নির্বাচন করে ফেলুন আপনার পচ্ছন্দের গাছ।

ঘরে যে গাছই রাখুন তা সাজানোর উপর নির্ভর করছে এর সৌন্দর্য। গাছ একদিকে যেমন সৌন্দর্য বর্ধন করে তেমনি বাতাস ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ রাখে।


টেবিলের উপর ছোট গাছ: ঘরে বা অফিসের টেবিলের উপর ছোট গাছ একদিকে যেমন সৌন্দর্য বর্ধন করে তেমনি সারাদিনের ক্লান্তিকেও ভুলিয়ে দেয়। ক্যাকটাস, যেকোনো বনসাই এমনকি অ্যালোভেরাও রাখা যেতে পারে। গাছগুলো এমনিতে ছোট হয় সেজন্য বাড়তি কোন জায়গা দরকার হয় না আবার তেমন যত্ন নেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না।

মানিপ্ল্যান্ট: নিজের সৌভাগ্য ফিরিয়ে বড়লোক হতে চায় সবাই। মানিপ্ল্যান্টকে এই সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। সাধারণত ঘরে রাখা হয় মানিপ্ল্যান্ট, এর বাড়তি কোন যত্নের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি দিলেই হয়।

ঝুলন গাছ: ঘরে জায়গার স্বল্পতা থাকলে গাছ ঝুলানো যেতে পারে। যেহেতু জায়গা আনেক কম সেহেতু অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি আকৃতির টব নির্বাচন করা ভাল। ঝুলানো গাছের ক্ষেত্রে ৮-১০ ইঞ্চি বাশেঁর ঝুড়ি, মাটি বা প্লাস্টিকের টব ব্যবহার করা ভাল। মাটি ও প্লস্টিক টবের উপরের কোনাগুলো ছিদ্র করে গাছসহ টবটিকে রশির সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলেই হয়ে গেল ঝুলন গাছ। শিকা কিনে তাতে করেও ঝুলিয়ে দেয়া যায় টব। গাছগুলো এমনভাবে ঝুলাতে হবে যেনো সহজে পানি দেয়া যায় এবং পরিচর্যা করা যায়।


সবজি বাগান: আপনি বাসার বারান্দায় খুব সহজেই বিভিন্ন সবজির গাছ লাগাতে পারেন। এতে একসাথে যেমন আপনার দৈনিক চাহিদা পূরণ হবে তেমনি পরিবেশও সবুজ ও সতেজ থাকবে।

বেঁচে থাকুক সবুজ অন্তরে, বেঁচে থাক সবুজ জীবনের গহীনে, বেঁচে থাক সবুজ চারিদিকে। সবুজ গাছের পাতায় হাত ছোঁয়াতে ভালো লাগে, সবুজ ঘাসের উপর পা ফেলে মুহূর্ত গুনতে আমাদের আনন্দ হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে





কি আছে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভিতরে-ডেইলি মেইলের রিপোর্ট

 


ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে করোনার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে। এই হাসপাতালে আছেন ৭ হাজার ১০০ স্টাফ। এর মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ চিকিৎসকরাও। সেখানে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট অত্যন্ত বিলাসবহুল। এটি ওয়ার্ড ৭১ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও হোয়াইট হাউজের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের জন্য এই হাসপাতালে এমন বিশেষ ৬টি রুমকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট। এর ভিতর আছে সব রকম নিরাপত্তামুলক ডিভাইস, যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য সরঞ্জাম।

এ কথা লিখেছেন রিয়ার এডমিরাল কোনি মারিয়ানো।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং বিল ক্লিনটনকে চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়েছেন। এ সময় তিনি হোয়াইট হাউজের মেডিকেল ইউনিটের পরিচালক ছিলেন। 
এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের সুনাম যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। সিলভার স্প্রিংয়ে রয়েছে এর একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব রিসার্স। এটি মেরিল্যান্ডে হাসপাতালের কাছেই। ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানীরা টিকা উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করেন এবং করোনা ভাইরাসের মতো সংক্রামক রোগের চিকিৎসা নিয়ে কাজ করেন।

আবার এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগও আছে। ২০০৭ সালে সেখানে বেশ কিছু সেনা সদস্যকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সময়ে তাদের অনেকে মারা যান। ফলে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে। তা সত্ত্বেও এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য নেশনস মেডিকেল সেন্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং সেনাবাহিনীর প্রধানদের চিকিৎসা দেয়া হয় এখানে। আছে ৭১০০ স্টাফ।

এর রয়েছে শতাধিক ক্লিনিক। এখানকার মেডিকেল ইভ্যালুয়েশন এন্ড ট্রিটমেন্ট ইউনিটে (এমইটিইউ) চিকিৎসা নিয়ে থাকেন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট। এমইটিইউ অত্যন্ত নিরাপদ, প্রাইভেট ও হাসপাতালের বিস্তৃত অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে আলাদা। এর ভিতর আছে একটি ডাইনিং রুম। তাতে আছে ক্রিস্টাল ক্যান্ডেলিয়ার। বেড থেকে কয়েক পা দূরে আছে একটি ডেস্ক বা টেবিল।

রুমগুলোকে সাজানো হয়েছে এমনভাবে যাতে সেখানে অতিথিরা যেতে পারেন। আছে নিরাপত্তা প্রযুক্তি। এ ছাড়া ট্রাম্প যাতে সেখানে অবস্থান করে তার প্রেসিডেন্সিয়াল সব দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এমন সব সরঞ্জাম রয়েছে এর মধ্যে। হোয়াইট হাউজ থেকে প্রায় ৯ মাইল দূরে এই হাসপাতাল। এতে আছে ২৪৪টি বেড। আর আছে ৫০টি আইসিইউ।

এই হাসপাতালে আছে ১৬৫টি স্মার্ট স্যুট। এতে আছে ‘টু-ওয়ে’ যোগাযোগ বিষয় বিষয়ক ডিভাইস। আছে অডিও ভিজুয়াল, ওয়ারলেস সুবিধা। আছে বিছানার পাশে বিনোদনের ব্যবস্থা। সবই স্থানান্তরযোগ্য কিবোর্ড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ সুবিধা রোগীরা সব সময় ভোগ করতে পারেন। অনলাইন মেইল লিখেছে, প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট এসব উচ্চ প্রযুক্তির কোনো স্যুট কিনা তা পরিষ্কার নয়।

Friday, October 2, 2020

বাংলাদেশে নান্দনিক ইসলামিক স্থাপনা

 

মোস্তফা কাজলঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বাংলাদেশে নান্দনিক ইসলামিক স্থাপনা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে নান্দনিক ইসলামিক স্থাপনা। এসব স্থাপনার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মসজিদ। মসজিদ আল্লাহর ঘর। পৃথিবীতে মানুষের কল্যাণে যে ঘর নির্মিত হয়েছিল, তা হলো মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ বা বায়তুল্লাহ। পৃথিবীতে এখনো মসজিদ নির্মিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এসব মসজিদ পবিত্র কাবাঘরকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে প্রথমেই মসজিদুল কুবা নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মহানবী (সা.)-এর নামে  মদিনায় মসজিদ নির্মিত হয় মসজিদুন নববী। রসুল (সা.)-এর আমলে মসজিদে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগি, সাহাবায়ে কেরামকে ইসলামের বিধিবিধান শিক্ষাদান, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামের বাণী প্রচারসহ নানাবিধ ধর্মীয়, সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালিত হতো।  বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে সুলতানি, মোগল ও বাংলাদেশ আমলের মসজিদ ও স্থাপনা। এসব নিয়েই আজকের আয়োজন-

 

বাহারি মডেল মসজিদ

মসজিদ নির্মাণ মুসলমান সমাজের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ। বহু স্থানে এর সঙ্গে যুক্ত আছে পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র, পরামর্শ কেন্দ্র, মুসাফিরখানা, হেফজখানাসহ নানাবিধ শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী মুসলমান। এখানকার প্রতিটি শহর, নগর, গ্রাম ও মহল্লায় মসজিদ রয়েছে। মসজিদ এ দেশের সমাজ ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ। এ অঞ্চলে অনেক ওলি ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে এসেছেন। তাদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে অসংখ্য মসজিদ নির্মিত হয়েছে। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে মসজিদ-সংলগ্ন পুকুরঘাট, কবরস্থান, মুসাফিরখানা দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব মসজিদভিত্তিক সমাজের প্রমাণ বহন করে। বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ আছে। এসব মসজিদের বেশির ভাগই স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয়। সম্প্রতি মসজিদভিত্তিক সমাজের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশের উদ্দেশ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা প্রদান করেন, প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে হবে। ওই মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে লাইব্রেরি, গবেষণাকক্ষ, ইসলামিক সংস্কৃতি, শিশুশিক্ষা কার্যক্রম থাকতে হবে। পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক নামাজ কক্ষ, মেহমানদের আবাসন ব্যবস্থা, বিদেশি পর্যটকদের পরিদর্শনের ব্যবস্থা এবং হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকবে। আরও থাকবে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক অজুর ব্যবস্থা। মুসলিম মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা। এই মডেল মসজিদ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে। এ ছাড়া নির্মাণকারী সংস্থার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদফতরকে। প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। এর অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

মডেল মসজিদ হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। উপকূলীয় এলাকায় নিচতলা উন্মুক্ত রেখে ভবনটি নির্মিত হবে। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের জন্য আলাদা র‌্যাম্প থাকবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত্ব হলে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪৪০ পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ নারীর নামাজ পড়ার সুযোগ হবে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ৩৪ হাজার পাঠকের জন্য লাইব্রেরি সুবিধা নিশ্চিত হবে। ৬ হাজার ৮০০ গবেষকের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিদিন ৫৬ হাজার মুসল্লি দীনি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবেন। প্রতি বছর ১৪ হাজার শিক্ষার্থীও কোরআন শরিফ হিফজ করার সুযোগ পাবে। প্রতি বছর ১৬ হাজার শিশুর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা তৈরি হবে।

মডেল মসজিদে দৈনিক ২ হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথি আবাসন সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পের আওতায় দেশের নয়টি স্থানে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। নয়টি স্থানের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, ঝালকাঠির রাজাপুর, খুলনার জেলা সদর, বগুড়ার শেরপুর, রংপুর জেলা সদর, ময়মনসিংহ জেলা সদর, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, নোয়াখালী জেলা সদর এবং চট্টগ্রাম মহানগরের কল্পলোক আবাসিক এলাকায়। এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৃণমূল পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের সঠিক প্রচার-প্রসারে ভূমিকা রাখবে। এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো আলেম-ওলামার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফরম তৈরি করছে।

 

বসুন্ধরায় দেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ

রাজধানীর বসুন্ধরায় হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক মসজিদ। এটি নির্মাণ করছে দেশের শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা বসুন্ধরা গ্রুপ। এই মসজিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এখানে একসঙ্গে ৭০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায় ও সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াতের সুব্যবস্থা। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে পরিবেশবান্ধব এই মসজিদ হবে দেশের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ। মূলত আবাসিক এলাকায়  হাজার হাজার মুসল্লির নামাজ আদায় করার চিন্তা থেকেই বানানো হচ্ছে মসজিদটি। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট। এই মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

বর্তমানে মসজিদটিতে নিচতলায় নামাজ আদায় করার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদের প্রতি তলায় সাত হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মো. সফিউল্লাহ।

এই মসজিদ এক নজর দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার নতুন এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের ভিড় জমে। মসজিদের নাম দেওয়া হয়েছে বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আবদুর রহমান (রহ.)-এর নামে ফক্বিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান জামে মসজিদ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে আট বিঘা জমির ওপর। এতে সব রকম সুবিধা থাকবে। উন্নতমানের টাইলস এই মসজিদের শোভা বাড়িয়ে দেবে অনেকখানি। মসজিদে থাকবে ১২০ ফুট উচ্চতার একটি সুদৃশ্য মিনার, যা তৈরি হবে কষ্টিপাথর দিয়ে।

শুধু তাই নয়, মসজিদে থাকবে চারটি চলন্ত সিঁড়ি। পাশাপাশি চারপাশেও থাকবে আধুনিক সিঁড়ি, যা দিয়ে ওপর তলায় ওঠানামা করা যাবে অতি সহজে। মসজিদের ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি বড় গম্বুজ।

মসজিদের প্রতি তলায় ৫০ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা রয়েছে। এই মসজিদে রয়েছেন একজন পেশ ইমাম ও একজন খতিব। প্রতি তলায় নামাজের কাতার হবে ৪৫টি। প্রতি কাতারে ২০০ মুসল্লি দাঁড়াতে পারবেন। একেক তলায় ৫০০ থেকে ৫৫০টি ফ্যান থাকবে। তবে মসজিদটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। মসজিদের তিন পাশে আলাদা বারান্দাও রয়েছে। সামনের অংশের দুই পাশে থাকবে মুসল্লিদের অজুখানা।

 এ ছাড়া মসজিদের সামনেই রয়েছে একটি মাদ্রাসা। মাদ্রাসা ভবনও নির্মাণাধীন। যাতে বর্তমানে হেফজখানা চালু আছে। আর এই মাদ্রাসায় ১ হাজার ২০০ ছাত্র একসঙ্গে পড়াশোনা করতে পারবে।

জানা গেছে, একই কমপ্লেক্সে মসজিদের পাশাপাশি কবরস্থান ও ঈদগাহ নির্মাণ করা হবে।  বসুন্ধরা এলাকায় আরও ৫০টি মসজিদ নির্মাণের জায়গা রাখা হয়েছে।

 

ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাট

বাগেরহাট জেলায় রয়েছে হজরত খানজাহান (রহ.) কর্তৃক নির্মিত অপূর্ব কারুকার্য খচিত পাঁচ শতাব্দীরও অধিককালের পুরাতন বিশালায়তন একটি মসজিদ। এটি তাঁর দরগাহ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। স্থাপত্য কৌশল ও লাল পোড়ামাটির ওপর লতাপাতার অলঙ্করণে মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শিল্পে এ মসজিদ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। যদিও এটা ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চতুষ্কোণের বুরুজের ওপর চারটি গম্বুজসহ এতে মোট ৭৪টি গম্বুজ আছে। মধ্যের সারির বাংলা চালের অনুরূপ সাতটি চৌচালা গম্বুজসহ এতে মোট ৮১টি গম্বুজ আছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, প্রার্থনা কক্ষের চৌচালা ছাদ ও গম্বুজগুলো ইট ও পাথরের ষাটটি খাম্বার দ্বারা সমর্থিত খিলানের ওপর নির্মিত। জনশ্রুতি আছে, হজরত খানজাহান (রহ.) ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মাণের জন্য সমুদয় পাথর সুদূর চট্টগ্রাম, মতান্তরে ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা বলে জলপথে ভাসিয়ে এনেছিলেন। ইমারতটির গঠন বৈচিত্র্যে তুঘলক স্থাপত্যের বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকের প্রাচীর ৮ ফুট চওড়া। চার কোণে চারটি মিনার আছে।

দক্ষিণ দিকের মিনারের শীর্ষে কুটিরের নাম রোশনাই কুঠির এবং এ মিনারে উপরে ওঠার সিঁড়ি আছে। মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরি। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১৬০ ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ ফুট। মসজিদের সম্মুখ দিকের মধ্যস্থলে একটি বড় খিলান। দুই পাশে পাঁচটি করে ছোট খিলান আছে। মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য এ ঐতিহাসিক মসজিদ এবং খানজাহান (রহ.)-এর মাজার শরিফের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

দৃষ্টিনন্দন ২০১ গম্বুজ মসজিদ টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণ হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত ২০১ গম্বুজের মসজিদ। এ মসজিদের মিনারের উচ্চতা ৪৫১ ফুট (১৩৮ মিটার)। যা ৫৭ তলা ভবনের সমান। গম্বুজ আছে ২০১টি। আর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এটি হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় উঁচু মিনারের মসজিদ।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে ঝিনাই নদীর তীরে অবস্থিত ২০১ গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল বিগত ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। ২০১৮ সালের শেষ দিকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাড। ডিজাইন ও কারুকার্যের দিক থেকে মসজিদটি একটি ভিন্ন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে গড়ে উঠছে। মসজিদের টাইলসসহ ফিটিংসের যাবতীয় শোভাবর্ধনের শৌখিন কারুকার্যখচিত পাথরগুলো বিশ্বের কয়েকটি দেশ ঘুরে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক, ওলি-আউলিয়া ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আগমন ঘটছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনারটি মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় দ্বিতীয় হাসান মসজিদে অবস্থিত। এর উচ্চতা ৬৮৯ ফুট (২১০ মিটার)। যা ৬০ তলা ভবনের সমান। তবে এটি ইটের তৈরি নয়। ভারতের দিল্লির কুতুব মিনার বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইটের তৈরি মিনার। এটির উচ্চতা ৭৩ মিটার বা ২৪০ ফুট। ৩৭৯টি সিঁড়ি রয়েছে এতে।

নির্মাণাধীন অবস্থাতেই ২০১ গম্বুজের এই মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর এ মসজিদ কমপ্লেক্সে থাকবে অত্যাধুনিক সব সুবিধা। মিহরাবের দুই পাশে লাশ রাখার জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পরও মসজিদটিতে শতাধিক ফ্যান লাগানো হবে। মসজিদের ছাদের মাঝখানে থাকবে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি বড় গম্বুজ। এর চারদিকে থাকবে ১৭ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট ২০০টি গম্বুজ। মূল মসজিদের চার কোণে থাকছে ১০১ ফুট উচ্চতার চারটি মিনার। পাশাপাশি থাকবে ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার।

১৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪৪ ফুট প্রস্থের দ্বিতল মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে পারবেন একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি। দেয়ালের টাইলসে অঙ্কিত থাকবে ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরিফ। যে কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে মসজিদের দেয়ালের কোরআন শরিফ পড়তে পারবেন। আর মসজিদের প্রধান দরজা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫০ মণ পিতল। আজান প্রচারের জন্য মসজিদের দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হবে উঁচু মিনারটি। উচ্চতার হিসাবে মিনারটি তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৭ তলার সমান অর্থাৎ ৪৫১ ফুট। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে পৃথক দুটি পাঁচতলা ভবন।

 

১৫০ বছরের চন্দনপুরা তাজ মসজিদ চট্টগ্রাম

অনেকের কাছে এ মসজিদটি চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। এখন মসজিদটির বয়স ১৫০ বছর। চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়

ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন স্থাপনার একটি চন্দনপুরা তাজ মসজিদ। বন্দরনগরীর চকবাজার ওয়ার্ডের সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কে এটি অবস্থিত। মসজিদের চারদিকে যেন রঙের মেলা। হরেক রং ব্যবহার করা হয়েছে স্থাপনার প্রতিটি অংশে। লতাপাতার নকশা আর নানা কারুকাজে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুনিপুণ হাতে। অনেক দূর থেকে দেখা যায় মসজিদটির বাহ্যিক সৌন্দর্য। সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কের পশ্চিম পাশে মোগল স্থাপনা শিল্পের আদলে ১৮৭০ সালে মাটি ও চুন সুরকির দেয়াল আর টিনের ছাদের মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল হামিদ মাস্টার। তখনো মাটির দেয়ালে কারুকাজে ভরপুর ছিল। তার বংশধর ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সৈয়দ দোভাষ ১৯৪৬ সালে এই মসজিদের সংস্কার কাজে হাত দেন। মসজিদের কারিগর ও নির্মাণসামগ্রী ভারত থেকে আনা হয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকারও অধিক খরচ হয়। চারপাশের দেয়ালগুলো ভেন্টিলেশন সিস্টেমের। দেয়ালের ফাঁক গলে ঢুকছে আলো। আলোর ঝরনাধারায় ভিতরটা করছে ঝলমল। আছে বাতাসের কোমল পরশ।

অনেকের কাছে এ মসজিদটি চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। এখন মসজিদটির বয়স ১৫০ বছর। চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়। এসব প্রকাশনায় এ মসজিদের ছবি থাকায় বিদেশ থেকে পর্যটকরাও আসেন এখানে। আবু সৈয়দ দোভাষ সেই সময়ে কলকাতা থেকে কারিগর ও দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উপকরণ এনে ১৩ শতক জায়গার ওপর দোতলা মসজিদটি গড়ে তোলেন। মসজিদে রয়েছে ছোট-বড় ১৫টি গম্বুজ। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য আছে সিঁড়ি। গম্বুজ ও সিঁড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মোগল স্থাপত্য নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি। গম্বুজের চারপাশে রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবির নাম। যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না, তখন চারতলা সমান উঁচু মিনারে উঠে আজান দেওয়া হতো। এ রকম দুটি মিনার এখনো আছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচ বছর পর একবার রং করা হয়। এ মসজিদে বড় গম্বুজটি ছিল প্রায় ১৩ মণ রুপা ও পিতলের তৈরি। বৈরী আবহাওয়ায় এসব জিনিস যেমন নষ্ট হয়েছে তেমনি সংস্কারের সময়ও অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। পরবর্তীতে বড় গম্বুজে সবুজ, গোলাপি ও হলুদ রং করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মসজিদে একজন ইমাম, একজন হাফেজ ও দুজন মুয়াজ্জিন রয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন মুসল্লি এ মসজিদ দেখতে আসেন। আশপাশেও অনেক নতুন মসজিদ গড়ে উঠেছে। এরপরও এ মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ লোক নামাজ পড়েন এ মসজিদে। শুক্রবার জুমায় পাঁচ হাজার মুসল্লি ছাড়িয়ে যায়। তখন মসজিদে জায়গা সংকুলান না হলে মসজিদ-সংলগ্ন রাস্তা বন্ধ করে সেখানেই নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

Thursday, May 7, 2020

নিরাপদ সবজির গ্রাম

নিরাপদ সবজির গ্রাম
পরিবেশবান্ধব, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ছাড়াই নিরাপদ বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন দিনাজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শুশুলী গ্রামের চাষিরা। মানুষকে বিষমুক্ত শাক-সবজি খাওয়াতে পেরে তারাও যেমন আনন্দিত, তেমনি দাম ভালো পাওয়ায় লাভবানও তারা। এই প্রচেষ্টার কারণে গ্রামটি এখন ‘নিরাপদ সবজির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে। এখানের ১২০ জন চাষি এবার তাদের জমিতে চাষ করেছেন বিষমুক্ত করলা, বেগুন, শসা, চালকুমডা, পটলসহ বিভিন্ন সবজি। সরেজমিন দেখা যায়, ওই গ্রামের চারদিকে সবুজ সবজির খেতে ভরা। খানসামার শুশুলী, ফরিদাবাদ এবং বাসুলী গ্রামের ৩৫ একর জমিতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত এসব সবজি। বিষমুক্ত শাক-সবজি খাওয়ার কথা যখন ভাবাই যায় না সেখানে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের শুশুলী গ্রামের চাষিরা। কৃষকরা উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভোক্তাকে বিষমুক্ত শাক-সবজি খাওয়ানোর সংকল্প নেন। জমিগুলোয় দেখা যায়, প্রতি জমিতে মাঝে মাঝে সেক্সফেরোমন ফাঁদ। এটি হচ্ছে কীটপতঙ্গ দমন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক বক্স ব্যবহার করা হয়। যার দুই পাশে তিন কোণা ফাঁক থাকে। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত এক রকম রাসায়নিক পদার্থ বা স্ত্রী পোকার গন্ধ ব্যবহার করা হয় ফাঁদে। এর আকর্ষণে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ফাঁদে পড়ে মারা যায়। এতে জমির ফসল নিরাপদ থাকে। সেক্সফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় জমির ফসল নিরাপদ থাকছে। এ ছাড়াও তারা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করছে জৈব সার ও ভার্মি কম্পোষ্ট সার। এতে খাদ্যমান ও পুষ্টি সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। চালকুমড়া চাষি রশিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের কাছ থেকে জানতে পারি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগে জমির ফসল বিষে পরিণত হয় এবং মাটির উর্বরতা কমে যায়। এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভোক্তাকে আর বিষ খাওয়াব না। বর্তমানে আমাদের গ্রামের সবাই নিরাপদ সবজি চাষাবাদে সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নিরাপদ সবজিগ্রাম করার বিভাগীয় নির্দেশনা রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাসুলী, শুশুলী ও ফরিদাবাদ গ্রামের কৃষকদের সংগঠিত করে জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত ফসল উৎপাদনের সুফল বুঝতে পেরে কৃষকরা সহজেই এই পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেন

Tuesday, May 5, 2020

যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ ১৬ মে পর্যন্ত

প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবিঅভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সময়সীমা ৭ মে থেকে বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। তবে চীনের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট চালু থাকবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের (সিডিউল প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট)ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আগের মতো বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইউএই, ইউকে -এর সাথে বিদ্যমান বিমান চলাচল রুটের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। একই সাথে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে বেবিচক। পরে কয়েক দফা এই সময়সীমা বাড়ানো হয়।