Friday, January 31, 2020

05 Most dangerous Bridge in the World

বিশ্বের ৫টি ভয়ঙ্কর সেতুঃ

১. The Bridge of Immortalsঃ
  China
The Bridge of Immortals

অদ্ভুত নামের এই ব্রিজটি চিনে অবস্থিত। এই সেতুটি পাশের লোকদের মেঘের উপরে থেকে নীচে দেখতে দেয়, যা এর নামটি ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে।
একমাত্র সমস্যাটি হ'ল সেতুতে উঠতে সময় লাগে এবং প্রক্রিয়াটি ভীতিকর হতে পারে।

২.  Hussaini Hanging Bridge – Pakistan




হুসেনি ঝুলন্ত সেতুঃ



হুসেনি ঝুলন্ত সেতু বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সেতু হিসাবেও পরিচিত। উত্তর পাকিস্তানের অনেকগুলি অনিশ্চিত দড়ি ব্রিজের মধ্যে এটিই একটি। 1978 এর আগে, রাওয়ালপিন্ডিতে পর্বতমালার পথ ধরে হেঁটে এই একমাত্র পথ ছিল। 1978 সালে করাকরাম হাইওয়ে অঞ্চলটিকে সংযুক্ত করেছিল, তবে এই সেতু দিয়ে আন্ত অঞ্চল অঞ্চল ভ্রমণ এখনও সম্ভব।
হুসেনি ঝুলন্ত ব্রিজ, উপরের হুনজার বোরিট লেক পেরিয়ে। এই দড়ি ব্রিজটি অত্যন্ত দীর্ঘ এবং খুব খারাপ অবস্থায় রয়েছে। অনেক তক্তা নিখোঁজ রয়েছে, এবং প্রবল বাতাস সেতুর ঝাঁকুনির মতো কাঁপছে।
যদিও এর বিপজ্জনক চেহারা সত্ত্বেও, হুসেনি একটি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ সেতু, হাইকিং সহ দর্শনার্থীরা তাদের স্নায়ুগুলি পরীক্ষা করে যখন তারা সাবধানে ওপারে কাজ করছেন।



    ৩. The Sidu River Bridge- China

 

 চীনের সিডু নদী সেতুঃ

 চীনের সিডু নদী সেতুটি বিশ্বের সর্বোচ্চ সেতুটির খেতাব পেয়েছে এবং সাংহাইকে চংকিংয়ের সাথে সংযুক্ত করে।

এই ব্রিজটি কেবল দীর্ঘ নয়, এটি দুর্দান্ত দৃশ্যও সরবরাহ করে। তবে আপনি উচ্চতা সম্পর্কে ভীত থাকলে এটি এমন কোনও স্থান নয় যা আপনি দেখতে পারেন।






 

     ৪. The Carrick-a-Rede Rope Bridge- Ireland

 

 আয়ারল্যান্ডের ক্যারিক-এ-রেড রোপ ব্রিজঃ


 আয়ারল্যান্ডের ক্যারিক-এ-রেড রোপ ব্রিজটি পাথুরে জলের 30 মিটার উপরে স্থগিত করা হয়েছে। এই ব্রিজটি কী আকর্ষণীয় করে তোলে তা হ'ল বেশিরভাগ লোকেরা কেবল সেতুর অন্যদিকে দ্বীপে পৌঁছানোর জন্য ব্যবহার করে।

তাদের ফিরে আসার সময় হলে তারা স্থানীয় ফেরি ব্যবহার করে। এর চেয়েও মজার বিষয় হল এই সেতুটি একটি ফি গ্রহণ করে।






৫. The Storseisundet Bridge- Norway

 

 

 নরওয়ের স্টোরসিসুন্ডেট ব্রিজঃ 

নরওয়ের স্টোরসিসুন্ডেট ব্রিজটি এমন কোণগুলিকে বৈশিষ্ট্যযুক্ত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল যা প্রদর্শিত হবে যেন তারা নামবে।

দুর্ভাগ্যক্রমে, এই সেতুটি যে অনুপ্রেরণা জাগায় তা বর্ণনা করা বরং কঠিন, তবে সেখানে যাওয়া লোকদের মতে, সেতুটি আপনাকে নিচে নেমে যাওয়ার আগে নিজেকে রোলার-কোস্টারে নিয়ে যাওয়ার মতো মনে করে makes


Saturday, January 25, 2020

চীনে মহামারী আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে ৪১ জনের মৃত্যু






চীনে মহামারী আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে ৪১ জনের মৃত্যু


Jugantor News:

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণে চীনে এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এরই মধ্যে এ ভাইরাস দেশটিতে মহামারী আকার ধারণ করেছে। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। খবর বিবিসির।
এদিকে সংক্রমণ ঠেকাতে এরই মধ্যে এ ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেইপ্রদেশে ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটির সরকার।
হুবেইপ্রদেশের উহানসহ ১৪ শহরের প্রবেশদ্বার কার্যত ‘তালাবদ্ধ’ করে দিয়েছে চীন প্রশাসন।
সরকারের নির্দেশানুয়ায়ী, বাইরের কেউ ভেতরে ঢুকতে পারবে না, শহরের ভেতরে থাকা কেউ বের হতে পারবে না।
এ ছাড়া কিছু শহরে সিনেমা হল, রেস্তোরাঁ, কারাওকে বারের মতো বিনোদন স্থানগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফ।
এই কড়াকড়ির কারণে প্রদেশটির রাজধানী উহানসহ ১৪ শহরের অন্তত চার কোটি মানুষ কার্যত আটকে রয়েছেন।
অন্যদিকে বেইজিং ও সাংহাই কর্তৃপক্ষও আক্রান্ত এলাকাফেরত বাসিন্দাদের ১৪ দিন পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত করা হয়েছে।
২৫ জানুয়ারি চীনা নববর্ষের কারণে বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় এই ভাইরাস বিশ্বের অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে জেনেভায় বৈঠকও করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমিয়ার বলেছেন, ‘চীনা কর্তৃপক্ষকে বলব– এই ভাইরাস নিয়ে আরও গবেষণা করুন এবং ফল জানান।
আমাদের গবেষকরাও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। এই ভাইরাস প্রতিরোধের ওষুধ ও ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা জানান, কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্যের শরীরে সংক্রমিত হয়। তাই এমন রোগীর কাছ থেকে দূরে থাকা উচিত।
এ ছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্য সচেতনতাই আপাতত এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের প্রাথমিক উপায়।
এই ভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর উপসর্গ হলো—সংক্রমণের সময় জ্বর, শ্বাসজনিত সমস্যা, গলা ফোলা। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসের কোনো টিকা বা প্রথাগত চিকিৎসা নেই। প্রতিকারের উপায় হিসেবে সংক্রমণ ঠেকানোর ওপরই ভরসা করছেন গবেষকরা।

Friday, January 10, 2020

সংবাদপত্রের একাল-সেকাল

ইত্তেফাক

সংবাদপত্রের একাল-সেকাল
ছবি: সংগৃহীত
ঘুম থেকে উঠে দরজার সামনে থেকে খবরের কাগজ তোলা আমাদের মজ্জায় ঢুকে গেছে। সকালে খবরের কাগজে চোখ না বোলালে সারা দিনটাই কেমন এলোমেলো লাগে। নাশতার টেবিলে চায়ে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজ পড়া কিংবা অফিসে যাওয়ার পথে গাড়িতে খবরের কাগজে চোখ বোলানো মধ্যবিত্ত বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে। ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলায় সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছিল। সে হিসাবে বাংলায় সংবাদপত্র প্রকাশকাল ২০০ বছর পেরিয়ে এসেছে। খুব কম সময় তো নয়!
খবরের কাগজ কেন পড়ি আমরা? এর কোনো প্রয়োজন আছে? না পড়লেই বা কী? দিব্যি ঘর-সংসার চলতে থাকবে। তাহলে কেন কিনি প্রতিদিন! একটা প্রয়োজন হয় মাঝে মাঝে, কোনো সনদ হারিয়ে গেলে পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি দিতে হয়। চাকরি-বাকরির খোঁজ করতে গেলে পত্রিকার বিজ্ঞাপনের দিকে নজর দিতেই হয়। চাকরি-বাকরি পেয়ে গেলে তো সে প্রয়োজনও ফুরায়। তাহলে?
মানুষ পড়ে আনন্দের জন্য। আর খবরের কাগজ পড়ে জানার জন্য। দৈনন্দিন ঘটনাবলি, রাজনীতি, বিনোদন, ব্যবসা, শেয়ারের ওঠানামা, নিজের এলাকার খবর—সবকিছু জানতে চায় খবরের কাগজের পাতায়। টিভিতে ঘটনা দেখার পরেও বিস্তারিত জানার জন্য খবরের কাগজের পাতা উলটাতেই হয়। খবরের কাগজ মানুষকে দিকনির্দেশনাও দেয়। দেয় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলির বিশ্লেষণ। জানা যায়, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য তখনকার সংবাদপত্রগুলো পুনর্জন্মের কাহিনি-সংবাদ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ছাপত। আবার মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তীকালে দেশের মানুষ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি ও আন্দোলনের নির্দেশনা লাভ করত সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর থেকেই। এ সময় দৈনিক ইত্তেফাকসহ কয়েকটি দৈনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। বিশেষ করে সংবাদপত্রের জগতে মানিক মিয়া সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাক সেই সময়ে জনমানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করার অনুকরণীয়, উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
তাই সংবাদপত্র বা খবরের কাগজ হলো একটি লিখিত প্রকাশনা, যার মধ্যে থাকে বর্তমান ঘটনা, তথ্যপূর্ণ নিবন্ধ, সম্পাদকীয়, বিভিন্ন ফিচার ও বিজ্ঞাপন। এর দাম মানুষের হাতের নাগালে রাখা হয়, যাতে যে কোনো আয়ের মানুষ তা কিনতে পারেন। মালিকপক্ষ প্রধানত বিজ্ঞাপনের আয় থেকে সেই খরচ মেটান।
সংবাদপত্র বনাম ইলেকট্রনিক মিডিয়া
সংবাদপত্রের বিশাল সাম্রাজ্য যখন গড়ে উঠেছে, তখন ইলেকট্রনিক মিডিয়া নতুন করে তার জায়গা নিতে শুরু করেছে। বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশে যেখানে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে পত্রিকার প্রচারসংখ্যা বাড়ছে, সেখানে উন্নত বিশ্বে পত্রিকার প্রচারসংখ্যা কমে আসার পাশাপাশি বাড়ছে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতি ঝোঁক। টিভি বা রেডিও নিউজ বুলেটিন তো রয়েছেই, অনলাইন নিউজ পেপার মূলত সংবাদপত্রের বিকল্প হয়ে উঠেছে। ইন্টারনেট ও স্মার্ট ফোনের প্রসারের কারণে এই অনলাইন নিউজ সেবার দিগন্ত অবারিত হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে এমি মিশেল ও জ্যাস হলকম পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে সংবাদপত্রের গ্রাহক ৭ শতাংশ কমে গেছে। সেই সঙ্গে বিজ্ঞাপন পাওয়ার হার কমেছে ৮ শতাংশ। অন্যদিকে টিভিতে প্রাইম টাইম নিউজ দেখার দর্শক বেড়েছে ৮ শতাংশ। আর বিজ্ঞাপনের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ। এর কারণে বিশ্ব জুড়ে প্রায় সব জনপ্রিয় সংবাদপত্র তাদের অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলতে বাধ্য হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোর অনলাইন নিউজ পের্টালগুলোও ধীরে ধীরে ব্যবসাসফল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ট্রিবিউন একটি জনপ্রিয় দৈনিক। এই পত্রিকা ২০১৩ সাল থেকে চার দিন প্রিন্ট ভার্সন প্রকাশ করা শুরু করেছে। বাকি তিন দিন এটি অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত হচ্ছে। পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, পত্রিকা প্রকাশের খরচের কারণে এটি লাভজনক থাকছে না। এছাড়া, পৃথিবীর অনেক নামি-দামি সংবাদপত্র তাদের প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করে দিয়ে শুধু অনলাইন চালু রেখেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার নিউজ ফিড।
সংবাদপত্রের শুরু
সংবাদপত্রের সেকাল খুব বেশি দিনের কথা নয়। পঞ্চদশ শতকে মুদ্রণযন্ত্র উদ্ভাবনের পরে এর বিকাশ। প্রাক-আধুনিককালে রাজা-বাদশারা ‘ফরমান’ জারি করতেন, রাজভৃত্যরা তা যথাস্থানে পৌঁছে দিত, কিংবা ঢ্যাড়া পিটিয়ে জরুরি সংবাদ জানিয়ে দেওয়া হতো প্রজাদের। প্রজার খবরও রাজার কাছে পৌঁছে যেত গুপ্তচর মারফত। সে হিসেবে পৃথিবীর প্রাচীন সংবাদপত্র ধরা হয় ‘অ্যাক্টা ডানিয়া’কে (acta diurna)। প্রাচীন রোমে খ্রিষ্ট জন্মের ৫৯ বছর আগে জুলিয়াস সিজার ‘অ্যাক্টা ডানিয়া’ পত্রিকা বাজার, জনসাধারণের চলাচলের পথে সাঁটানোর নির্দেশ দেন। সেই পত্রিকায় এখনকার সংবাদপত্রের মতোই সব ধরনের খবরই ছাপা হতো। গ্ল্যাডিয়েটরদের খবর, অপরাধ, বিয়ে, ধনী ব্যক্তিদের খবর, সামরিক বাহিনী ও রাজনীতির খবরও থাকত সে পত্রিকায়। পাথরে বা ধাতুতে খোদাই করে সংবাদ পরিবেশন করা হতো সে পত্রিকায়।
এরপর চীনের হ্যান ডাইনেস্টিতেও পত্রিকার প্রচলন ছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতকে ‘ডিবাও’ নামের সেই পত্রিকা সরকারিভাবে প্রকাশিত হতো। ৭১৩ শতক থেকে ৭৩৪ শতকে ট্যাং ডাইনেস্টি ‘কাইয়ুআন যা বাও’ শিরোনামে সরকারি খবর প্রকাশ করত। সিল্কের কাপড়ে হাতে লেখা সেই পত্রিকা শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য প্রকাশিত হতো। আধুনিক ইউরোপের শুরুর দিকে অস্ট্রিয়ার ভেনিস থেকে হাতে লেখা মাসিক খবরের পাতা বের হতো। খুব কম দামে কেনার সুযোগ ছিল। কিন্তু এসবের কোনোটাই পূর্ণাঙ্গ সংবাদপত্র ছিল না বা সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাতো না।
তবে আধুনিক সংবাদপত্রের সবচেয়ে প্রাচীন পত্রিকাটি হচ্ছে জার্মান ভাষায় প্রকাশিত ‘রিলেশন’। ১৬০৫ সালে এটির প্রকাশনা শুরু হয়। মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের পরে মূলত সংবাদপত্র প্রকাশের সুযোগ অবারিত হয়। রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে জার্মান অধ্যুষিত শহর স্ট্র্যাসবুর্গের জোহান ক্যারোলাসে এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
আধুনিক সংবাদপত্রের শুরু
১৬৯০ সালে বেঞ্জামিন হ্যারিসের হাত ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। সে সময় এই সংবাদপত্র যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মূলত সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে ইংল্যান্ডে সংবাদপত্রের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। তখনকার দিনে বেশিরভাগ খবরই ছিল কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর বা গোত্রের। ১৭০২ সালের আগে সাপ্তাহিক বা মাসিক হিসেবেই সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো, প্রতিদিন সংবাদপত্র প্রকাশ করা হতো না। সব ধরনের খবরে ভরপুর ছিল সংবাদপত্রগুলো। ১৭৭৬ সালের দিকে লন্ডনে মোট সংবাদপত্রের সংখ্যা ছিল ৫৩টি, জন ওয়াল্টার ১৭৮৫ সালে ‘দ্য লন্ডন টাইমস’ প্রকাশ করলে বিশ্বব্যাপী হইচই পড়ে যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এ পত্রিকাটির সার্কুলেশন দাঁড়ায় ৫০ হাজার। ১৭২৫ সালে উইলিয়াম ব্রাডফোর্ড নিউইয়র্ক গেজেট নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন, এ পত্রিকা যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। পেনি প্রেস বাজারে আসার পর সংবাদপত্র জনগণের কাছে আরো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ডেইলি নিউইয়র্ক সান প্রকাশিত হয়। ১৮৪১ সালে দ্য নিউইয়র্ক ট্রিবিউন নামে এটি বের হয়। ১৯১৯ সালে দ্য লেটার পত্রিকাটি শিকাগোর তিনটি প্রকাশনা থেকে প্রকাশ করা হতো। দ্য ডেইলি নিউজ যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে খুবই জনপ্রিয় একটি পত্রিকা। এদিকে, প্রাভদা ও ইজভেসটিয়া রাশিয়ার বিখ্যাত পত্রিকা। ইয়োমিউরি শিমবুন পত্রিকা সবচেয়ে বেশি বিক্রিত পত্রিকা। প্রতিদিন এটি ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৭ হাজার কপি বিক্রি হয়। দ্বিতীয় অবস্থানেও রয়েছে জাপানি পত্রিকা ডেইলি আসাহি শিমবুন এটি প্রতিদিন ১ কোটি ২ লাখ ২১ হাজার কপি বিক্রি হয়।
ভারতবর্ষে সংবাদপত্র
মুসলমান রাজত্বকালে ভারতবর্ষে সংবাদপত্রের প্রচলন ছিল। অবশ্য তখন সংবাদপত্র মুদ্রিত হতো না, সমস্ত রাজনৈতিক সংবাদ হাতে লেখা হতো এবং তা দেশের প্রধান প্রধান রাজকর্মচারীর নিকট পাঠানো হতো। তাছাড়া বিভিন্ন প্রদেশের সংবাদ এক করে সম্রাটের কাছে দেওয়া হতো। কানুন এ-জং নামক প্রাচীন পারস্য গ্রন্থে লেখা আছে যে, ১৫২৬ সালের পানিপথের প্রথম যুদ্ধে বাবর শাহ শিবিরে বসে সংবাদপত্র পাঠ করছিলেন এমন সময়ে হিন্দু রাজারা এসে সন্ধির প্রস্তাব করেন। আবুল ফজল আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে লিখেছেন, সম্রাট আকবরের সময় প্রতি মাসে গভর্নমেন্ট গেজেটের মতো রাজকীয় সমাচারপত্র প্রচলিত ছিল।
বাংলায় সংবাদপত্র
বাংলা সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিরা। ১৮১৮ সালে মিশনের পক্ষে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র দিগ্দর্শন। এর ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটিতে ইংরেজি প্রবন্ধও প্রকাশিত হতো। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়। দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর ১৮১৮ সালের ২৩ মে মার্শম্যান প্রকাশ করেন সমাচার দর্পণ। ১৮৩২-৩৪ পর্যন্ত পত্রিকাটি ছিল দ্বি-সাপ্তাহিক এবং ১৮৪১ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত ছিল। বাঙালি সম্পাদিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক বাঙ্গাল গেজেটিও প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮১৮ সালের মে মাসে। সম্পাদক ও মালিক ছিলেন হরচন্দ্র রায়। বছর খানেক পত্রিকাটি চলেছিল। এর কোনো কপি পাওয়া যায়নি। এ ধরনের পত্রিকা বা সাময়িকপত্র প্রকাশের উদ্দেশ্য ছিল প্রধানত সংবাদ পরিবেশন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোচনা করা; তবে এর মাধ্যমে বাংলা গদ্যেরও অনেক উন্নতি হয়। ১৮১৮ থেকে ১৮৩০ সাল পর্যন্ত প্রধানত কলকাতাকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি বাংলা সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়; যদিও সেগুলো তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। বলা যেতে পারে, বাঙালির কাছে সংবাদপত্র উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে ১৮৩১ সালে, ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত সাপ্তাহিক সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের ফলে। এটি বাংলা সাময়িকপত্রে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করে
পূর্ববঙ্গে সংবাদপত্র
১৮৫৭ সালের আগে প্রকাশিত দুটি সংবাদপত্র ব্যতীত ১৮৫৭ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত তত্কালীন পূর্ববঙ্গে প্রকাশিত হয়েছিল ৭৬টি সংবাদপত্র ও ১৬২টি সাময়িকপত্র। ১৮৫৭ সালের আগে প্রকাশিত সংবাদপত্র ধরলে মোট সংখ্যা হয় ২৫২। একই সময়ে অখণ্ড বাংলায় প্রকাশিত হয়েছিল মোট ৯০৫টি বাংলা সংবাদ-সাময়িকপত্র। এ পরিসংখ্যান পূর্ববঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির অবস্থা তুলে ধরে। তবে নানা দিক থেকে পশ্চাত্পদ তত্কালীন পূর্ববঙ্গেও এ সংখ্যা একেবারেই অকিঞ্চিত্কর নয়।
ইত্তেফাক/কেকে

বঙ্গবন্ধুর কীর্তি ছড়াবে বিশ্বে প্রতিটি দেশেই হবে কোনো না কোনো আয়োজন, দেশের আয়োজনে থাকবেন বিশ্বনেতারা

বাংলাদেশ প্রতিদিন
বঙ্গবন্ধুর কীর্তি ছড়াবে বিশ্বে
জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে পথ চলতে শেখা বাংলাদেশ তার জনকের কীর্তি ছড়িয়ে দিতে যাচ্ছে সারা বিশে^। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত মুজিববর্ষে পৃথিবীজুড়ে নানান আয়োজনে উপস্থাপিত হবে মুজিবাদর্শ। পাশাপাশি করা হবে নতুন বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং। বাংলাদেশ যে অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ-সুবিধার এক গতিশীল অর্থনীতির দেশ তাও তুলে ধরবে এসব আয়োজন। বিশে^র প্রায় প্রতিটি দেশেই হবে কোনো না কোনো আয়োজন। সভা-সেমিনার থেকে কনসার্ট, বৃক্ষরোপণ থেকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সবই আছে পরিকল্পনায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন আয়োজনে আসবেন বিশ^নেতারা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের ভাষায়, ‘আমরা মুজিবাদর্শ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। কারণ বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের বন্ধুই নন, তিনি সারা বিশ্বের সব শান্তিপ্রিয় মানুষের বন্ধু ছিলেন।’ জানা যায়, বিদেশে থাকা বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোর মাধ্যমে ২৬১ অনুষ্ঠানের  পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সুবিধাজনক সময়ে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার বা সেন্ট্রাল পার্ক ও লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও  নেওয়া হয়েছে। ইউনেস্কোয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে পুরস্কার প্রবর্তনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিদেশে আরও ৫টি বঙ্গবন্ধু চেয়ার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজে বঙ্গবন্ধু সেন্টার স্থাপন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব লর্ডসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজন ও অনুষ্ঠানটিতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, এমন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। লন্ডনে মাদাম তুসো জাদুঘর ও জাতিসংঘ সদর দফতরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগের পাশাপাশি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জীবন ও আদর্শভিত্তিক চিত্রকর্ম এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন মুজিব ফেলোশিপ অ্যান্ড ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম চালু করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিদেশ সফর নিয়ে একটি শর্টফিল্ম ও ছবিগুলো নিয়ে একটি স্টিলফিল্ম বা ভিডিও তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে সেমিনারের অডিও, ভিডিও ও স্থিরচিত্রের ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী। ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম ও শিলংয়ে নাগরিক মিলনমেলার আয়োজন থাকবে। এ ছাড়া এ বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্বের সব দেশে রোপণ করা হবে ১০০টি করে গাছের চারা। যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্টজনদের নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হবে। আগামী মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউটে ‘শেখ মুজিব ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেমিনার। ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে সর্বপ্রথম বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। তাই এ বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ প্রদানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য  নিয়ে আলোচনা হবে। দূতাবাসগুলো নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী, মেলার আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন আনন্দ আয়োজন, সেবা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্রের পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা, বঙ্গবন্ধুর নামে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রবর্তন, গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতিকৃতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস হিসেবে অন্তর্ভুক্তকরণ, বাংলা ও ইংরেজিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব জন্মশতবার্ষিকী স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের কাজ করবে।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে ইংরেজিতে ছবি, স্কেচ ও আলোকচিত্র নিয়ে কফি টেবিল বই শেখ মুজিব লাইফ অ্যান্ড টাইমস এবং বায়োগ্রাফি অব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রকাশ করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের চীন সফর নিয়ে অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশ, বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ ইংরেজি ছাড়াও হিন্দি, উর্দু, ফরাসি, জার্মান, চাইনিজ, আরবি, ফারসি, স্প্যানিশ, রুশ, ইতালিয়ান, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষায় অনুবাদ করা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক অ্যালবাম, জীবন ও কর্মভিত্তিক ১০০টি প্রকাশনের লক্ষ্য রয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা ২৫টি দেশের যেসব গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, তা সংগ্রহ ও প্রকাশ করা হবে। ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় আপলোড করা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে নিয়ে নির্মিত কনটেন্ট। পরিকল্পনা অনুসারে, জন্মশতবার্ষিকীর মূল আয়োজন শুরু হবে ১৭ মার্চ সূর্যোদয়ের ক্ষণ থেকেই। ১৭ মার্চ অনুষ্ঠানের মূল পর্বে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান, বঙ্গবন্ধুর সমসাময়িক সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, ইউনেস্কোর সাবেক মহাসচিব ইরিনা বুকোভা ও আরব লিগের সাবেক মহাসচিব আমর মুসা এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন। আমন্ত্রণের তালিকায় থাকা আন্তর্জাতিক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেস পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা সোনিয়া গান্ধী, বিজেপির নেতা ও ভারতের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী এলকে আদবানি, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মেরকেল, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রমুখ। ১৮ মার্চ জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন বসবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা আমন্ত্রিত অতিথিরা। ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে থাকবেন বিশ^নেতারা।
দূতাবাসগুলোকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি : বিদেশে বাংলাদেশের মিশনপ্রধানদের কাছে চিঠিতে স্বাগতিক দেশের সরকার, সুশীল সমাজ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে মুজিববর্ষ পালনের নির্দেশনা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, মুজিববর্ষ পালন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি জাতি হিসেবে আমাদের পরিচয়, বাঙালি জাতি এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক ভূমিকার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন। মুজিববর্ষকে সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের অভাবনীয় সাফল্য আন্তর্জাতিক পরিম-লে তুলে ধরার একটি বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশ্বের সব দেশের সরকার, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ এবং জনগণের কাছে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরার মাধ্যমে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বৈদেশিক মিশনগুলোকে নির্দেশনা দেন আবদুল মোমেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে সম্প্রচারিত হয়েছিলো

বাসস, ঢাকা
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ের কয়েক সপ্তাহ পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে লাখো উচ্ছ্বসিত মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। সেদিনকার সেই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বিশ্বের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে সম্প্রচার করেছিলো।

বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমানটি তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করার দৃশ্যটিকে এনবিসি টেলিভিশনের ভাষ্যকার ‘আজ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলো’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

প্রতিবেদনটিতে বঙ্গবন্ধুকে ‘বাংলাদেশের জর্জ ওয়াশিংটন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং জনগণের এই স্বাগত জানানোর ঘটনাটিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আবেগঘন ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। একই সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর যে টাস্কফোর্স পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সমর্থনে বঙ্গোপসাগরে এসেছিলো, বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের ঠিক ওই মুহূর্তে সেই মার্কিন নৌবাহিনীর টাস্কফোর্সের বঙ্গোপসাগর ত্যাগের খবরটিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

অপর একটি আন্তর্জাতিক চ্যানেল এবিসি টিভি একই দিনে সম্প্রচার করে, ‘শেখের বিমানটি ঢাকায় অবতরণের আগে আকাশ থেকেই তিনি তাকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষমাণ আনুমানিক ১০ লাখ লোককে দেখতে পান।’ অসংখ্য উল্লসিত মানুষ বঙ্গবন্ধুকে স্বাগত জানাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে তার দিতে ছুটে যায়।

পাকিস্তান ভেঙ্গে যাওয়ার পর ভুট্টোর নতুন পাকিস্তানি সরকার বঙ্গবন্ধুকে বন্দিদশা থেকে মুক্তি দেয়। পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে সেখান থেকে তিনি লন্ডনে যান। লন্ডন থেকে নতুন দিল্লিতে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।

১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি দিনের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে লন্ডনগামী একটি চার্টার্ড বিমানে উঠিয়ে দেওয়ার পর, পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জুলফিকার আলী ভুট্টোর দেওয়া উক্তি উদ্ধৃত করে তখনকার নিউজউইক রিপোর্ট করেছিলো ‘পাখি উড়ে গেছে।’

১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি নিউজউইক প্রকাশ করেছিলো, ‘কঠোর নিরাপত্তায় পাকিস্তানি রাষ্ট্রপতি ভুট্টো মধ্যরাতে মুজিবকে রাওয়ালপিন্ডি বিমানবন্দরে নিয়ে যান এবং সেখানে তিনি তাকে একটি ভাড়া করা বিমানে তুলে দেন।’

নিউজউইক ‘মুজিব ফ্লাই’জ টু ফ্রিডম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো, “মুজিবের বিমানটি লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। গত বসন্তে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ ইয়াহিয়া খান তাকে জেলখানায় আটকের পর থেকে বিশ্ববাসী ৫১ বছর বয়সী এই বাঙালি নেতাকে প্রথমবারের মতো দেখতে পেলো।”

ডেইলী স্টার

দার্জিলিংয়ের হলুদ কমলা রফিকুলের মহেশপুরে

https://assetsds.cdnedge.bluemix.net/bangla/sites/default/files/styles/medium_3/public/feature/images/orange_farming_thumbnil-1.jpg?itok=iJ7fAQuD





বাগানে ঢুকতেই অনেক মানুষের ভিড় দেখা গেলো। কেউ ঘুরছেন, কেউ আবার সেলফি তুলছেন। আবার কেউ বলছেন- যেনো দার্জিলিংয়ে কমলা বাগানে ঘুরতে আসা!
গাছে গাছে হলুদ কমলা ঝুলে আছে দেখতেই খুব সুন্দর লাগছে। কমলা সাধারণত আমাদের দেশে চাষ হয় খুবই কম। অনেকেই বলেন, বাংলাদেশে চাষ করা কমলা খেতে টক। কিন্তু, স্বাদে পিছিয়ে নেই সেই কমলা।
বলছিলাম ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম চাপাতলা এলাকার কমলা চাষি রফিকুল ইসলামের কমলা বাগানের কথা। মহেশপুর উপজেলার চাপাতলা গ্রামের আইনুদ্দীন মণ্ডলের ছেলে রফিকুল ইসলাম। ভারতের সীমান্ত থেকে মাত্র ৪০০ গজ দূরে চাপাতলা গ্রামে অবস্থিত বাগানটি। রফিকুল একজন নার্সারি ব্যবসায়ী। তিনি মান্দারিন ও দার্জিলিং- দুই জাতের কমলা চাষ করেছেন।
বাগান ঘুরতে ঘুরতে কথা হয় রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানিয়েছেন, নিজের এক বিঘা চাষের জমি আছে। আর আছে ছোট নার্সারির ব্যবসা। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সংসার কাটতো খুব কষ্টে। সংসারের অভাব ঘোচাতে তিনি ধার-দেনা করে তিনবছর আগে ভারতের দার্জিলিং গিয়েছিলেন কমলা বাগান দেখতে। মূলত নার্সারি ব্যবসা থাকায় সেখানে বিভিন্ন ফলের বাগানে ঘুরেছিলেন তিনি। এর মধ্যে কমলা বাগান দেখে বেশি ভালো লেগেছিলো তার। দার্জিলিং থেকে ফেরার সময় ২০০ টাকা করে কমলা ও ১৪০ টাকা দরে মাল্টা লেবুর চারা কিনে আনেন। সেখান থেকে ফিরে এসে ২০১৬ সালের প্রথম দিকেই চাপাতলা গ্রামে অন্যের কাছ থেকে ৪ বিঘা জমি ইজারা নেন। ওই জমিতে তিনি পেয়ারা, কমলা ও মাল্টার চাষ শুরু করেন।
রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, “প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছিলো। এই জমি থেকে ১০ লাখ টাকার পেয়ারা ও ৯ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করা হয়েছে। দার্জিলিংয়ের কমলা কেজি প্রতি ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। এরপর বাগান থেকে পেয়ারা গাছ উঠিয়ে শুধুই কমলার বাগান তৈরি করেছি। এখনো প্রায় ২ লাখ টাকার কমলা বাগানে আছে।”
তার মতে, পাঁচ বছর পর একটি গাছ ফল ধরার জন্য উপযুক্ত হয়। প্রতিটি গাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে ফল পাওয়া যাবে।
রফিকুলের দাবি, দার্জিলিং থেকে তার বাগানের কমলা অনেক স্বাদের। তিনি মনে করেন, এ দেশেও কমলা চাষ ভালো হবে। বলেন, “কমলা চাষের উপযুক্ত মাটি ও আবহাওয়া আমাদের রয়েছে।” তিনি এখন নিজেই এই কমলা গাছের চারা বিক্রি করছেন। তার বাগানের এই কমলার চাহিদা অনেক। চাহিদা মোতাবেক তিনি যোগান দিতে পারছেন না। এখন একমাত্র ছেলে রোকনুজ্জামানকে সঙ্গে নিয়ে কমলা চাষে মনযোগী তিনি। এই কমলা চাষ অনেক লাভজনক বলেও মন্তব্য করেন রফিকুল।
ঘুরতে আসা তানভীর তুহিন নামের এক যুবক বলেন, “দূর থেকে হলুদ কমলা দেখতে অনেক ভালো লাগছে। আমরা আগে ভারতের দার্জিলিংসহ বিভিন্ন দেশের কমলা বাগানের কথা শুনেছি, কিন্তু দেখিনি। এখন আমাদের দেশেই কমলা চাষ হচ্ছে। এটা খুব ভালো উদ্যোগ।”
বাগান থেকে কমলা নিতে আসেন ঢাকার ফল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, “এই কমলার সাইজ, স্বাদ, রং সবকিছু দার্জিলিং বা অন্য দেশের কমলার মতো। এখান থেকে নিয়ে গেলে আমাদের লাভ বেশি হয়। ফল ভালো রাখতে কোনো প্রকার রাসায়নিক ব্যবহার করতে হয় না। এই ফল টাটকা থাকে।”
মহেশপুর উপজেলার কুসুমপুর বাজারের ফল ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ও সালাম হোসেন। তারাও এসেছিলেন এই বাগান থেকে কমলা নিতে। ফারুক জানালেন, “আমরা বিভিন্ন ফলের ব্যবসা করি। রফিকুল ইসলামের বাগানের এই কমলা অন্যদেশের কমলার থেকে ভালো। আমরা এখান থেকে কমলা নিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠাই।”
মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান আলী বললেন, “আমি এবং বিভিন্ন ভিজিটর নিয়ে রফিকুল ইসলামের কমলার বাগান পরিদর্শন করেছি। সবাই বলেছে, দার্জিলিংয়ের থেকে এই কমলা অনেক ভালো। আমরা জানতাম পাহাড়ি অঞ্চলে কমলা ভালো হয়। কিন্তু, মহেশপুর উপজেলার এই বেলে-দোআঁশ মাটিতেও অনেক ভালো কমলা হয়েছে। কমলাতে মাছি-পোকা এড়াতে তাকে পরামর্শ দিয়েছি। গ্রাফটিং বা কলমের মাধ্যমে তাকে চারা বানানোর জন্য বলা হয়েছে। তাহলে চারাটি সুন্দর হবে।”
তিনি আরও বললেন, “ইতিমধ্যে বাগানটি পরিদর্শনে এসেছেন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালক ড. আলহাজ উদ্দীন আহাম্মেদ। পরিদর্শনকালে তিনি জানিয়েছিলেন, সমতল ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে দার্জিলিং জাতের কমলার চাষ এই প্রথম। রফিকুলের বাগানে উৎপাদিত কমলা খেতে বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর।”

ডেইলী স্টার।

Saturday, January 4, 2020

বাংলাদেশ ঢাকার ৮২% এলাকাই ঢাকা কংক্রিটে: বিআইপি

Friday, January 3, 2020

Agargoan খোলা বাজারে দেশীয় মাছের সমারোহ

সোয়াইন ফ্লু নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ

চারদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী। ২৮ ডিসেম্বর শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি।
হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আক্তারুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, প্যাথলজি পরীক্ষায় ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির এইচ১এন১ পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল।
“এটা সোয়াইন ফ্লুর ভাইরাস, তিনি এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।”
তবে এ রোগের প্রতিষেধক রয়েছে এবং বাংলাদেশে সোয়াইন ফ্লুর চিকিৎসা সহজলভ্য হওয়ায় আতঙ্কিত না হওয়ার কথা বলছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ রোগে আক্রান্ত হলে ‘বেশিরভাগ সময়’ রোগী ভালো হয়ে যায়।
তবে শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিসের রোগী, গর্ভবতী নারী, ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু, ৬৫ বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তি এবং ফুসফুসের রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সোয়াইন ফ্লুর ঝুঁকি বেশি থাকে বলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
২০০৯ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত সোয়াইন ফ্লুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে অনেকেই ভিড় করেন আইইডিসিআরে।
“সোয়াইন ফ্লু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে বিষয়টিকে হালকা করে দেখারও সুযোগ নেই।” জ্বর, নাক দিয়ে সর্দি ঝরা, গলা ব্যথা ও কাশির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট সোয়াইন ফ্লুর অন্যতম উপসর্গ। সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, তার ব্যবহৃত পাত্রে খাবার খেলে বা ওই ব্যক্তির কাপড় পড়লে ফ্লু ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।
এ কারণে সর্দিকাশি বা জ্বর হলে বসে না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীর পরিচর্যার সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা.  মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সোয়াইন ফ্লু এখন বাংলাদেশে নিয়মিতই হয়। এ রোগের জীবাণু এখন মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়। মানুষের শরীর থেকেও ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির শরীরে ভাইরাসটি এসে থাকতে পারে।” 
শীতের সময় জ্বর ও কাশিসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা দেখা যায়। এ কারণে বাংলাদেশে ওই সময়ই ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়ায় বলে একটি ধারণা প্রচলিত আছে।
এক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে ডা. ফ্লোরা বলেন, বাংলাদেশেই এখন সোয়াইন ফ্লুর টিকা পাওয়া যায়। হজযাত্রীদের যাওয়ার আগে এই টিকা দেওয়া হয়।
“আমরা এই টিকা রুটিনলি নিতে বলি না। তবে যদি কারও রোগ থাকে, অ্যাজমা থাকে বা প্রেগনেন্সির সময় সতর্কতা হিসেবে এই টিকা নিতে পারে। এই রোগটা সাধারণত প্রকট হয় না। কিন্তু যাদের ক্ষেত্রে সিভিয়ার হতে পারে তাদের আমরা টিকার পরামর্শ দিই।”
তিনি বলেন, এখন ইউরোপে সোয়াইন ফ্লুর মৌসুম বলে সেখান থেকে ফেরা কারও মধ্যে লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অর্ধশত বছরের নিয়ম ভেঙে ঢাকা-ভোলা রুটে লঞ্চ এ্যাডভেঞ্চার-৫


ঢাকা-ভোলা রুটে লঞ্চ এ্যাডভেঞ্চার-৫ লঞ্চ উদ্বোধন










৫০ বছরের রাতে লঞ্চ চলার নিয়ম ভেঙে ভোলা-ঢাকা রুটে দিনের বেলা মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘন্টায় গন্তব্যে পৌঁছার যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।
ভোলায় বৃষ্টি, শীত ও বৈরী প্রকৃতির মধ্যেও শুক্রবার সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্বোধনের পর ভোলার ইলিশা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে দ্রুতগামী যাত্রীবাহী নৌযান ওয়াটার ভ্যাসেল এ্যাডভেঞ্চার-৫। সাড়ে ৪ ঘন্টায় এটি ঢাকায় পৌঁছায়।
সকালে দোয়া ও মিলাদের পর সকাল ৮টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভোলার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মমিন টুলু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ, এ্যাডভেঞ্জারের মালিক মো. নিজাম উদ্দিন, প্রেসক্লাব সম্পাদক অমিতাভ অপুসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা।

Thursday, January 2, 2020

৬০ ফুট এখন কয় ফুট সরেজমিন :আগারগাঁও মিরপুর-২ সড়ক

সমকালঃ

৬০ ফুট এখন কয় ফুট
নির্মাণসামগ্রীসহ নানা স্থাপনায় দখল হয়ে আছে ৬০ ফুট রাস্তাটির প্রায় অর্ধেকই মামুনুর রশিদ


আগারগাঁও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের সামনে থেকে শুরু করে মিরপুর ২ নম্বর পর্যন্ত সড়কটির নাম 'কামাল সরণি' হলেও এলাকাবাসী '৬০ ফুট' নামেই চেনেন ও জানেন। কারণ, সড়কটির প্রস্থ ৬০ ফুট। এর মধ্যে দু'পাশে ৫ ফুট করে ১০ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত থাকার কথা। কিন্তু সড়কটির চলাচলযোগ্য জায়গা বর্তমানে এতই সংকীর্ণ হয়ে এসেছে যে খোদ এলাকাবাসীই প্রশ্ন করেন, '৬০ ফুট তুমি কত ফুট।' ২০১৪ সালের শেষ দিকে ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির প্রতিটি লেন এখন দখলের কারণে কোথাও কোথাও ১০-১২ ফুটও হয়ে গেছে। সম্প্রতি মিরপুর ২ নম্বর থেকে বাংলাদেশ বেতার পর্যন্ত সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সড়কটির খুব কম জায়গাই আছে, যেখানে দখল নেই। সড়ক ও এর ফুটপাত দোকানপাট, বালু-সুরকির স্তূপ, ওয়ার্কশপ, চায়ের দোকান, কাঁচাবাজার, ময়লা-আবর্জনার বিন ইত্যাদিতে ভরে উঠেছে। নিরাপদে চলাচলের প্রতিবন্ধকতায় পুরো সড়কটিই ঠাসা। কোথাও স্বাচ্ছন্দ্যময় ফুটপাত নেই- সংকীর্ণ অংশও ব্যবহার করা যায় না দোকানপাটের কারণে। পথচারীরা চলেন মূল সড়ক দিয়ে। ৬০ ফুট সড়কের কোথাও আর এখন ৬০ ফুট নেই।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মিরপুর এলাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন জানান, ওই সড়ক থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য তারা প্রায়ই অভিযান চালান। কিন্তু অভিযানের পরদিনই তা পুরোনো অবস্থায় ফিরে আসে। অথচ পুলিশ প্রশাসন উচ্ছেদের পর তদারকি অব্যাহত রাখলে নতুন করে আর দোকানপাট বসতে পারে না। এভাবে উচ্ছেদের পর আবারও বসার সুযোগ পেলে রাস্তা কখনও দখলমুক্ত করা যাবে না।

এলাকাবাসী জানান, উদ্বোধনের পর থেকেই সড়কটি মিরপুরবাসীর কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। মেট্রোরেলের নির্মাণকাজের কারণে কয়েক বছর ধরে সড়কটিতে যানবাহনের চাপ আরও বেড়েছে। কারণ, রোকেয়া সরণির আগারগাঁও থেকে মিরপুর পর্যন্ত সড়কটি সরু ও ভাঙাচোরা। সেখানে স্বাভাবিক চলাচলের উপায় নেই। তাই মিরপুর এলাকার অসংখ্য যানবাহনের চাপ পড়ে ৬০ ফুটে। দখলের পাশাপাশি ভাঙচুর ও গর্তের কারণে সংকুচিত ৬০ ফুটেও লাগে যানজট।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, সড়কটিতে গত তিন বছরে অন্তত ৩০ বার অভিযান চালানো হয়েছে। তারপরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা ছাড়া এ ক্ষেত্রে কোনো ফল মিলবে না।

সরেজমিন চিত্র :মিরপুর রোডের মিরপুর পোস্ট অফিসের পাশ দিয়ে সড়কটিতে গেলেই দেখা যায়, বাঁ পাশে ফুটপাতে বসেছে গামছা-লুঙ্গির দোকান। আছে ফল, খেলনা ও ভ্রাম্যমাণ খাবার গাড়ির দোকান। ডানেই রাস্তার ভেতর গোটাদশেক টং দোকান। আরও একটু সামনেই ডানে রয়েছে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের অফিস ও প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কল্যাণী ইনক্লুসিভ স্কুল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কারণে জনসমাগম হওয়ায় সেখানে এসব টং দোকানের ব্যবসা বেশ জমজমাট। আরেকটু এগোলেই মূল ৬০ ফুটে ওঠার বাঁক। সেখানকার রাস্তা ভেঙেচুরে একেবারেই তছনছ হয়ে গেছে। ফুটপাত নেই, প্রস্থও ৬০ ফুটের জায়গায় বড়জোর ২০ ফুট। ঢাকা শহরের কোথাও যানজট না থাকলেও বড়বাগের এই ছোট বাঁকে সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে। 

বড়বাগের দুলাল বুক হাউসের কর্মচারীরা জানান, বাঁক পার হতেই ১৫ মিনিট লাগে। রাস্তার ওপর গাড়ি পার্ক করে রাখা হয়। মোড় পেরিয়ে বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে যেতেই উদাহরণ মিলল তার কথার। ফার্মগেটগামী সারি সারি লেগুনা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। যেন পুরোদস্তুর লেগুনাস্ট্যান্ড। আরেকটু এগোলেই রাস্তার জায়গা হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলার স্থান- রাস্তার মধ্যেই রাখা হয়েছে বর্জ্য ফেলার কয়েকটা কনটেইনার। ফলে ব্যবহারযোগ্য রাস্তার প্রস্থ প্রতিটি লেনে বড়জোর ১০ ফুটে নেমে এসেছে। পুরো সড়কে বর্জ্য ফেলার জন্য সংরক্ষিত এ রকম অন্তত পাঁচটি স্থান রয়েছে। আরেকটু এগোলে স্বপ্ন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে রাস্তার ওপরেই বসেছে সবজিবাজার।

স্থানীয় বাসিন্দা মেহের সুলতানা জানান, সকালে এখানে পুরো বাজার বসে। তখন মাছ-মুরগিও পাওয়া যায়। আর মনিপুর স্কুলের আশপাশে সব সময় রিকশাভ্যান-প্রাইভেটকারের জটলা লেগে আছে। স্কুল ছুটি ও শুরুর সময় এ পথে যাতায়াতকারীরা ভয় আর অস্বস্তিতে থাকেন। মোহনা শপিং কমপ্লেক্সের সামনে দেখা যায়, রাস্তার ভেতরেই রাখা হয়েছে ইট-বালু-সুরকি, যা মজুদ করে রাখা হয়েছে পাশের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের জন্যে। এর পাশেই রয়েছে ময়লা ফেলার স্থান। সেখানে ফুটপাত ভেঙেচুরে একাকার।

মনিপুর স্কুলের কিছু পরেই ভাই ভাই কাঁচাবাজারের সামনে দেখা গেল ফুটপাতে ক্রোকারিজের পসরা। দোকানি আফসান আলী বললেন, অনেকেই তো ফুটপাতে ব্যবসা করছে। তিনি সেখানে মাত্র কয়েকটা জিনিসপত্র রেখেছেন, যাতে লোকজন বুঝতে পারে, এখানে দোকান আছে। তা না হলে কাস্টমার আসে না। মনিপুরের লাজ ফার্মার পাশে দেখা গেল রাস্তা ও ফুটপাতের ওপর গড়ে উঠেছে গ্যারেজ। ফলে সেখানে রিকশার জট লেগেই আছে। রিকশাভ্যান মেরামত করেন ইয়াসিন মিয়া। তিনি বলেন, প্রতিদিন পুলিশকে ৫০ টাকা করে দিতে হয়। তা হলে আর কোনো সমস্যা করে না। না হলে ঝামেলা হয়। একই কথা জানান সড়ক-ফুটপাতের সব ব্যবসায়ী।

৩৩/২/এ উত্তর পীরেরবাগে আরআর এন্টারপ্রাইজের সামনের রাস্তায় দেখা গেল কয়েকটা ঠেলাগাড়ি। এগোতেই বোঝা গেল, দোকানটি থেকে বিক্রি করা রড-সিমেন্ট ঠেলাগাড়িতে করে সরবরাহ করা হয়। আরআর এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করে বলেন, 'এই দোকানের সামনে কিন্তু তেমন যানজট হয় না। ঠেলাগাড়ি রাখলেও তেমন সমস্যা হয় না।'

কিছুদূর এগোলেই দেখা গেল মেডিহোম হসপিটাল। সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। হাসপাতালের পাশে রয়েছে ওষুধের দোকান 'রাইট ফার্মা'। এর সাইনবোর্ড রাখা হয়েছে রাস্তার ভেতরে। সাইনবোর্ডে তীর চিহ্ন দিয়ে লেখা- 'এখানে সকল প্রকার দেশি-বিদেশি ওষুধ, শিশুখাদ্য ও প্রসাধনসামগ্রী ডিসকাউন্টে বিক্রয় করা হয়'।

সড়কটির পশ্চিম আগারগাঁওয়ে রয়েছে মিজান জামে মসজিদ। মসজিদের প্রায় অর্ধেকটাই রাস্তার ভেতরে। জায়গা না ছাড়ায় মসজিদের প্রান্তে রাস্তার প্রস্থ বড়জোর ছয় ফুট। স্থানীয়রা জানান, মসজিদটির জন্য সরকার অন্যখানে জায়গা দিতে চেয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেয়নি। তাই মসজিদটি এখানেই রয়েছে। মসজিদের উত্তর পাশেই একটি পারিবারিক কবরস্থান। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মালিকপক্ষকে স্থানান্তরের অনুরোধ জানালেও তা সরানো হয়নি। সেখানেও সড়কে লেনের প্রস্থ ১০ ফুটের নিচে। সবচেয়ে বেহাল অবস্থা পশ্চিম আগারগাঁও এলাকায়। সেখানে রাস্তার ভেতরেই ফার্নিচারের শোরুম গড়ে উঠেছে।

এ পথে চলাচলকারী মনিপুরের বাসিন্দা শেখ ফয়সাল বলেন, রাস্তাটি হওয়ার আগে অপেক্ষায় ছিলেন, কবে রাস্তাটি চালু হবে আর দ্রুতই আগারগাঁও পৌঁছে যাবেন। সেই স্বপ্ন উবে গেছে। মনিপুরের গৃহবধূ উল্লাসী বিশ্বাস বলেন, 'ছেলেকে প্রতিদিন স্কুলে দিতে যাই। কী যে অবস্থা বলে বোঝানো যাবে না। সড়কটিতে ঠিকমতো হাঁটারও উপায় নেই।'

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন অর রশিদ বলেন, 'রাস্তাটি দখলমুক্ত করতে অনেকবার মিটিং করেছি। অনেকবার অভিযানও চালিয়েছি। কিন্তু কাজ হচ্ছে না।'

বে-টার্মিনালে বিশ্বমানের বন্দর


বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

বে-টার্মিনালে বিশ্বমানের বন্দর
বহুল কাক্সিক্ষত বে-টার্মিনাল নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম বন্দর পরিণত হবে বিশ্বমানের বন্দরে- এমনটাই ধারণা বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবহারকারীদের। তবে এই বে-টার্মিনালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও দীর্ঘদিন।
এখনো মাত্র ৫ শতাংশ কাজেই থেমে আছে দেশের অন্যতম এই উন্নয়ন প্রকল্পটি। টার্মিনালটি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্ন দেশের সাতটি প্রতিষ্ঠান কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানা গেছে। প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। আগ্রহ প্রকাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে আগের সমীক্ষাটি যথেষ্ট না হওয়ায় নতুন করে সমীক্ষা চালাতে হচ্ছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ-সূত্রে জানা গেছে। প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হলেও শেষ হয়নি।
সূত্র জানান, নগরের পতেঙ্গা-হালিশহর এলাকায় সাগর উপকূল ঘেঁষে বে-টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। একে বলা হচ্ছে ‘আগামীর বন্দর’। ৮৭১ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি জমি ছাড়াও সমুদ্র থেকে জেগে ওঠা আরও ১ হাজার ৬০০ একরসহ ২ হাজার ৫০০ একর জমিতে টার্মিনালটি নির্মাণের কথা রয়েছে। বে-টার্মিনালের জন্য ব্যক্তিমালিকানাধীন ৬৮ একর ভূমি এরই মধ্যে অধিগ্রহণ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পের অবশিষ্ট ৮০৩ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমতি মিলেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি করছে। তবে এ কাজে খুব বেশি অগ্রগতি নেই। চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, এটি চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোর চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বড় হবে। দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামো ৪৫০ একর জমির ওপর। এ বন্দরে বর্তমানে সাড়ে ৯ মিটার গভীরতা ও ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে বড় জাহাজ প্রবেশ করতে পারে না। নতুন টার্মিনাল হলে ভিড়তে পারবে ১২ মিটার গভীরতা ও ২৮০ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যরে জাহাজ। ফলে বন্দরে প্রতি বছর যে পরিমাণ আমদানি-রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং হচ্ছে, বে-টার্মিনালে হ্যান্ডলিং হবে তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। এদিকে ২ হাজার কোটি টাকা প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হলেও এ পরিমাণ অর্থ বন্দরের একার পক্ষে জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এটি কারা বাস্তবায়ন করবে তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। যদিও বিদেশি সাতটি প্রতিষ্ঠান বে-টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- পোর্ট অব সিঙ্গাপুর অথরিটি (পিএসএ), সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড, সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে, ভারতের আদানি গ্রুপ, ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস, চীনের চায়না মার্চেন্টস গ্রুপ ও দক্ষিণ কোরিয়ার হুন্দাই গ্রুপ। চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বে-টার্মিনাল কবে হবে বুঝতে পারছি না। সরকারের উচিত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ প্রকল্প নেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া।’ বে-টার্মিনাল প্রকল্পে নিয়োজিত চট্টগ্রাম বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী রাফিউল আলম বলেন, ‘প্রকল্পটির মূল কাজ শুরুর আগে নতুন করে সমীক্ষা চালাতে হবে। এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের ডিটেইলড ফিজিবিলিটি স্টাডি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে আগ্রহী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর ছিল প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ দিন। এরই মধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে। নতুন সমীক্ষার জন্য সময় ধরা হয়েছে নয় মাস। আর এ কাজের জন্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।’ পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এটা শুধু চট্টগ্রাম নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। কারণ সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে জানানোর পরও বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজে দৃশ্যত অগ্রগতি হয়নি।’ প্রকল্প পরিচালক ও বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিউল আলম বলেন, ‘বে-টার্মিনালে মাটি ভরাট করে ট্রাক টার্মিনাল ও ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি ডিপিপি তৈরি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে গত ৩০ মে। সেটির অনুমোদন না হওয়ায় মূল কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এখন ৬৮ একর জমি দখলে রাখার জন্য প্রাথমিকভাবে সীমানা দেয়াল নির্মাণ হচ্ছে।’

বায়ু বিদ্যুতে নতুন সম্ভাবনা

বায়ু বিদ্যুতে নতুন সম্ভাবনা



 বাংলাদেশ প্রতিদিনঃ

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বায়ু বিদ্যুৎ ঘিরে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। কারণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে চীন ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বায়ু বিদ্যুৎ এখন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ফলে বাংলাদেশও এবার এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাইছে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)-এর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে বায়ু বিদ্যুৎ থেকে প্রায় তিন মেগাওয়াট (দুই দশমিক নয় মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। নবায়নযোগ্য  জ্বালানি হিসেবে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও এবার বৃহত্তর পরিসরে বায়ু বিদ্যুৎ-এর সম্ভাব্যতা পরখ করতে চাইছে সরকার। যদিও এক সময় বাংলাদেশে বায়ু বিদ্যুতের সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হয়েছিল, কিন্তু সম্প্রতি এ ধারণায় পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে।
পিডিবি সূত্র জানায়, গত বছর বায়ু প্রবাহের রেকর্ড পর্যবেক্ষণ করে আমেরিকার ন্যাশনাল রিনিউয়েবেল এনার্জি ল্যাবরেটরি (এনআরইএল) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, দেশের কিছু এলাকা বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত। বায়ু প্রবাহের ক্ষেত্রে সংস্থাটির বছরব্যাপী পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট নয়টি এলাকার বাতাসের গড় গতিবেগ ৫ থেকে ৬ মিটার/সেকেন্ড; যা বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য আদর্শ। সূত্র জানায়, এই প্রতিবেদনের পরই সরকার বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে জোর দিয়েছে। এনআরইএল’র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের বায়ুর প্রবাহ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উপযোগী এবং স্বাভাবিকভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে কুতুবদিয়া ও ফেনীতে বায়ু বিদ্যুতের দুটি পাইলট প্রকল্প চালু আছে। কুতুবদিয়ায় এক মেগাওয়াট করে দুটি এবং ফেনীতে এক মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে এই পাইলট প্রকল্প দুটি বেশ পুরনো প্রযুক্তির। ফলে এর বাইরে দেশের পৃথক আরও তিনটি স্থানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে চাইছে। প্রতিটি ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই কেন্দ্র তিনটি হবে আইপিপিভিত্তিক। আর বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নির্মিত হবে চাঁদপুরের কচুয়া, কক্সবাজারের ইনানি এবং বাগেরহাটের মোংলায়। এ লক্ষ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিডিবি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করবে। কেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানই কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে বায়ু বিদ্যুতে এটিই হবে দেশের সব থেকে বড় উদ্যোগ। এ ছাড়াও ফেনীর সোনাগাজীতে ভারতীয় কোম্পানি উইন্ড এনার্জি প্রাইভেট লিমিটেড ৩০ মেগাওয়াটের উইন্ড মিল নির্মাণ করতে যাচ্ছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটি হবে দেশের প্রথম বৃহৎ পরিসরে স্থাপিত কোনো উইন্ড মিল। এর আগে দেশের দুটি স্থানে উইন্ড মিল নির্মাণ করা হলেও এর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা মাত্র এক মেগাওয়াটেরও কম। সূত্র জানায়, সোনাগাজীর কেন্দ্রটির জন্য মোট ১৫টি উইন্ড মিল বসানো হবে। প্রতিটি উইন্ড মিল ২ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম খোরশেদুল আলম সম্প্রতি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প এলাকাতে বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে গত এক বছরে টাওয়ার বসিয়ে সেই এলাকার বাতাসের গতিবিধি পরীক্ষার ফলাফলও পাওয়া গেছে। চীনে এই ডাটা পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সেই ফিজিবিলিটি রিপোর্টের ভিত্তিতে এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় ৫০ মেগাওয়াটের বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য টারবাইন বসানোর উদ্যোগও নিয়েছে। এটি নির্মাণে দুই বছর সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পশ্চিম পাড়ে চায়না ক্রসবাঁধ ঘেঁষে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে আরেকটি বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয় চলতি বছরের শুরুতে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাস্তবায়নে কাজ করছে প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস লিমিটেড। ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি টাওয়ারের মাধ্যমে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

ঢাকার দুই সিটিতে আওয়ামী লীগে দুই নারী কাউন্সিলর প্রার্থী

ঢাকার দুই সিটিতে আওয়ামী লীগে দুই নারী কাউন্সিলর প্রার্থী

মরিয়ম চম্পা

দেশ বিদেশ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার

 ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১২৯ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে দুই নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। সরকারি দল আওয়ামী লীগ থেকে তাদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তারা হলেন- উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩১ নাম্বার ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আলেয়া সারোয়ার ডেইজি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪৫ নাম্বার ওয়ার্ডে হেলেন আক্তার। দুজনেই বর্তমানে দুই সিটিতে সংরক্ষিত আসনে নারী কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এবছর তারা সরাসরি পুরুষ প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচনের মাঠে লড়াইয়ে নামবেন। এ বিষয়ে আলেয়া সারোয়ার ডেইজি মানবজমিনকে বলেন, বর্তমানে আমি সংরক্ষিত আসনে ১২ নাম্বার ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়ে ওভাবে কাজ করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু আমি সেই প্রথা ভেঙ্গেছি।
এলাকায় ইতোমধ্যে একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এলাকায় পার্ক, রাস্তাঘাট সংস্কার, সুপেয় পানির ব্যবস্থাসহ অনেক কাজ করেছি। আবারও কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে নারী-শিশুদের উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে কাজ করে যাব। নতুন প্রজন্মের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করবো। তারা যাতে মানসিক বিকাশে ভালোভাবে খেলাধুলা করতে পারে। তাছাড়া আমাদের ওয়ার্ডগুলোতে মেয়েদের জন্য আলাদা খেলাধুলার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের জন্য আলাদা খেলার মাঠের ব্যবস্থা করতে চাই। নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে তাদের মধ্যে সততা, আত্মসম্মানবোধ, আত্মবিশ্বাস ইত্যাদি বাড়ানোর জন্য যা যা পদক্ষেপ নেয়া দরকার সেটা করতে চাই। তাদেরকে এলাকার প্রতিটি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চাই। ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে আমি একটি পার্ক তৈরির কাজ শুরু করেছি। তিনি বলেন, মাঠপর্যায় থেকে আজকের এই অবস্থানে এসেছি শুধু নিজের কাজ ও যোগ্যতার মূল্যায়নে। ব্যক্তিগতভাবে সততা, এবং আত্মসম্মানবোধের ক্ষেত্রে কখনো আপোস করিনি এবং ভবিষ্যতেও করবো না। আমার নির্বাচিত এলাকায় নতুন প্রজন্ম দুর্নীতি ও মাদকের সঙ্গে যাতে না জড়ায় সেজন্য তাদের কাউন্সিলিং, করে কথা বলে তাদের মধ্যে এক ধরনের নৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করতে চাই। অনেকেই বলে থাকেন কাউন্সিলরদের কাজের মূল্যায়ন করা হয় না। কিন্তু আমি সেটা ভুল প্রমান করেছি। আমি মনে করি শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকা উচিৎ। যারা অন্যায় কাজ করেছে তারা ইতোমধ্যে ভয় এবং শিক্ষা দুটোই পেয়েছে। অন্যায় ও দুর্নীতি করে যত বড় নেতাই হোক না কেন তাদের পরিচয় কিন্তু একটাই। দুর্নীতিবাজ। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে বলতে চাই, অন্যায়কারীর কোন জাত, দল, ধর্ম নেই। আমার কাছে মনে হয় যে সকল স্থানগুলোতে আলো কম বা অন্ধকার থাকে সেখানে মাদকের আখড়াটা বেশি হয়। আমি সেসকল স্থানগুলোকে আলোকিত করার চেষ্টা করছি এবং করবো। আমরা প্রমান করতে চাই ‘জনগনের জন্য জনপ্রতিনিধি। জনপ্রতিনিধির জন্য জনগন না’। জনগনের মঙ্গল করতে না পারলেও দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের ক্ষতি যেন না করি এই বিষয়টি প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির মনে রাখতে হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪৫ নাম্বার ওয়ার্ডে মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী হেলেন আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে আমি ৪৫, ৪৬, ৪৭ নাম্বার ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসন থেকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এবছর সরাসরি মাঠে লড়াই করে কাউন্সিলর নির্বাচিত হতে পারলে আমার নির্বাচনী এলাকাকে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়বো। ওয়ার্ডকে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখবো। জনগনের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক সব ধরনের সেবা করতে চাই। শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যেমন নিজেকে সৎ রেখেছি বাকীটা সময় এই সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে যে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে সেটা অব্যাহত রাখতে সরকারকে সবসময় সহযোগিতা করে যাবো। যাতে আমরা সবাই সংশোধন হয়ে আসতে পারি। 

মানব জমিন

ফসলি জমির মাটি লুট ঠেকানো যাচ্ছে না

ফসলি জমির মাটি লুট ঠেকানো যাচ্ছে না
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদীখান উপজেলার অন্তর্গত আড়িয়ল বিলে ভূমিদস্যুদের মাটি লুট ঠেকাতে পারছে না বিলবাসী। স্থানীয় একাধিক ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট কৃষকের ভূমি-সংক্রান্ত আইনের তথ্যাবলি না জানার সুযোগ নিয়ে নানা কৌশলে ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বিনষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে ফসলি জমির মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈইখালী, ভাগ্যকুল, বাঘরা, হাষাঁড়া, ষোলঘর, রাঢ়ীখাল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আড়িয়ল বিলের ফসলি জমি লুটের হিড়িক পড়েছে।

শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় সারিবদ্ধভাবে আড়িয়ল বিলের ফসলি জমি থেকে কাটা মাটির টিলা গড়ে তোলা হয়েছে। আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমি থেকে এসব মাটি কেটে কামারগাঁও এলাকায় রাখা হয়। এরপর এখান থেকেই বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে থাকে ভূমিদস্যুরা। অন্যদিকে বাঘরা ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী মৌজায় লিজ নেওয়া ও সরকারি খাস জমির মাটি কেটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। গ্রামবাসী জানায়, আড়িয়ল বিলের আবাদি জমির ওপরের অংশ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার সঙ্গে একাধিক ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট জড়িত। কিছু জমির মালিক ভূমি-সংক্রান্ত আইনের তথ্য না জানার কারণে ভূমিদস্যুদের প্রলোভনে পড়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করলেও বেশির ভাগ ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অবৈধভাবে নানা কৌশলে।

গ্রামবাসী জানায়, ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটগুলো খাস জমির সন্ধান বের করে প্রথমে পাশে থাকা ব্যক্তিমালিকানার ফসলি জমির মাটি ফুট হিসেবে কিনতে প্রলোভন দেখায় সংশ্নিষ্ট মালিককে। কোনো মতে রাজি করানোর পর শুরু হয় খাস জমির মাটি লুটের কাজ। কখনও বায়না সূত্রে ও কখনও জাল দলিলে ফসলি জমির ওপর সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয় ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট। এতে ওই জমি ভোগদখলকারী জমিতে সাইনবোর্ড টানানোর কারণ জানতে চাইলে ভূমি আইনের তথ্য না জানার সুযোগ নিয়ে তাদের মাটি ক্রয়ের চুক্তিতে বাধ্য করে সিন্ডিকেট।

ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটে তিন পর্যায়ের লোকজন জড়িত। দখলের জন্য প্রথমে ভূমিকায় থাকে সন্ত্রাসী গ্রুপ, দ্বিতীয় পর্যায়ে ভূমির কাগজপত্র ভালো বোঝে এমন গ্রুপ যুক্ত হয়। আর দুই পর্যায়ের নেপথ্যে থাকে অর্থ জোগানদাতা তৃতীয় গ্রুপ। এ ছাড়া তাদের দাবি করা চাঁদা না দিলে কষ্টার্জিত ফসল রাতের আঁধারে লুট হয়ে যায়। এখন আড়িয়ল বিলেই গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক ইটভাটা। সেখানে ইট তৈরি করা হচ্ছে আড়িয়ল বিলের মাটি দিয়েই।

২০১৬ সালে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও লুটেরাদের বিরুদ্ধে আড়িয়ল বিলের জগন্নাথপট্টি এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করে পাঁচ শতাধিক বিলবাসী। সেই সমাবেশে জগন্নাথপট্টির রাজ্জাক, রিপন বেপারী, আজিজ মিয়া, শামছুল হক, আব্দুল্লাহ, মান্নান, নুরুল হকের মালিকানাসহ ২৮টি জমির মাটি কেটে বিক্রি করে দেয় ভূমিদস্যুরা। এমনকি ভয়ে শীতকালীন সবজিও ঘরে তুলতে পারেননি কৃষকরা। সেই সমাবেশে শ্রীনগর থানার ওসি ও ভাগ্যকুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আজিবর-রাসেল ও আলম বাহিনীর ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন জমির মালিকরা।

পুরো আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন গ্রামের একই চিত্র বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জানান, আড়িয়ল বিল এলাকার ইউনিয়নগুলোর সংশ্নিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। 
 
সমকাল।

শ্রীমঙ্গলের ৬ হাজার গাছ কাটার সিদ্ধান্ত স্থগিত

মিন্টু দেশোয়ারা
পরিবেশবিদদের সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে শ্রীমঙ্গলে ৬ হাজার ৬৩২টি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে বনবিভাগ।
জানা গেছে, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় চাওতলী এলাকার এসব গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিলো। শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া বনের পাশেই চাওতলী বনাঞ্চল।
গত বছরের ডিসেম্বরে চাওতলী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সেখানের চাপালি, বহেরা, ডুমুর, হর্তকি, আমলকি, জামরুল, লটকন, লুকলুকি এবং বাদাম গাছ চিহ্নিত করে তাতে লাল কালি দিয়ে সংখ্যা লেখা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বন সংরক্ষণ বিভাগের প্রধান মো. সাইফুল আলম চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বিষয়টি জানার পরে তারা সংশ্লিষ্টদের গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল (১ জানুয়ারি) তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।”
এর আগে আঞ্চলিক বন বিভাগ জানিয়েছিল, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির কারণেই এসব গাছ কাটার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু, এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং স্থানীয়দের প্রতিবাদের ফলে তারা বলতে শুরু করেন, গণনার জন্য এসব গাছ চিহ্নিত করা হয়েছিলো। বনবিভাগের মাধ্যমে সারাদেশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল গাছ লাগানো হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পরে তা কেটে ফেলা হয়। আর এ থেকে উপার্জিত অর্থ সরকার ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ সার্কেলের সহকারী সংরক্ষক আনিসুর রহমান সম্প্রতি এই এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং বনবিভাগের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। গতকাল (১ জানুয়ারি) তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ৩০ ডিসেম্বর আঞ্চলিক বনবিভাগ গাছ কাটার সিদ্ধান্ত বাতিলের কথা জানিয়েছেলো। তিনি বলেন, “গাছগুলো কাটার আগে যারা এগুলো লাগিয়েছিলো তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক হবে এবং কোনো ফলের গাছ কাটা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “সামাজিক বনায়নের জন্য চাওতলী বিট যেন ভবিষ্যতে আর না ব্যবহার করা হয় সেই সিদ্ধান্তও নেওয়া হবে ওই বৈঠকে।”
এখানে কেন সামাজিক বনায়ন?
লাওয়াছড়া একটি সংরক্ষিত বন। বিশ্বজুড়ে হুমকির মুখে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাস্থল হিসেবে এটি সুপরিচিত।
টুরিস্ট গাইড সাজু মারছিয়াং বলেন, পার্ক সংলগ্ন চাওতলী বিটটি ৩২ হেক্টর জায়গার উপর অবস্থিত। এখানের অধিকাংশ গাছ প্রায় ১০০ বছরেরও বেশি বয়সী এবং এগুলো বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর প্রতিদিনের খাবারের অন্যতম উৎস।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি লাউয়াছাড়া থেকে বিরল বন্যপ্রাণীরা এসব গাছের ফল খেতে আসে, তারপর আবার ফিরে যায়। যদি গাছগুলো কেটে ফেলা হয় তাহলে এসব প্রাণী হুমকির মুখে পড়বে।”
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জড়িত প্রতিষ্ঠান মিতা ফাউন্ডেশনের সদস্য বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ৩২ হেক্টরের এ ফলের বাগানের মাত্র ১০ শতাংশ জায়গায় রয়েছে উপকারভোগীদের লাগানো একাশিয়া (আকাশমনি) এবং বেলজিয়া গাছ। কিছুদিন আগে থেকে এই দুই জাতের গাছগুলোর পাশাপাশি প্রায় সব ফলের গাছে ‘লাল নম্বর’ দিয়ে কেটে ফেলার ষড়যন্ত্র করছে বন বিভাগ।
তিনি বলেন, এখানে পৃথিবীব্যাপী মহাবিপন্ন উল্লুকসহ চশমাপরা হনুমান, কুলু বানর, কোটা বানর, লজ্জাবতী বানর, উড়ন্ত কাঠবিড়ালী, বড় বাদুড়, গন্ধগোকুল প্রভৃতি প্রাণী রয়েছে।
সেখানকার ফল-ফুলের গাছের ওপর বণ্যপ্রাণীরা সরাসরি নির্ভরশীল। এ গাছগুলো যত কমবে ততই কিন্তু বণ্যপ্রাণীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
লাউয়াছড়া বন ও জীব রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ ভূঁইয়া বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে দিনদিন এখানকার বনে গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, “বন ধ্বংসের ফলে বন্যপ্রাণীর খাবারের উৎস কমে গেছে। ফলে বহু প্রজাতি এখন বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে বনবিভাগও একই কাজ করছে বলে আমার মনে হয়।” “কেন প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়ন হচ্ছে?” প্রশ্ন করেন এই পরিবেশ কর্মী।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নির্বাহী সদস্য আব্দুল করিম কিম বলেন, লাউয়াছড়া বনটি বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান সম্পদ। আইন প্রয়োগ ও যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বন রক্ষা করা উচিত। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে আইন আছে। কিন্তু আইন প্রয়োগের অভাবে দুর্নীতির সুযোগ বাড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এই রেইনফরেস্টের জীববৈচিত্র্যের কথা সরকারের বিবেচনা করা উচিত ছিলো।”