Saturday, October 3, 2020

ঘরে থাকুক সবুজের ছোঁয়া

 


ঘরে থাকুক সবুজের ছোঁয়া
নিলুফা খানম

‌‘একটুখানি সবুজ খুঁজি, একটু সবুজ হাওয়া, এই শহরে একটু সবুজ, অনেক বেশি পাওয়া’। ঠিক তাই চারদিকে আকাশছোঁয়া কংক্রিটের বাড়িঘর এবং প্রচণ্ড দাপদাহে মন চায় একটু সবুজের পরশ। মন ছুটে যেতে চায় সবুজের টানে দূরে কোথাও। কিন্তু সেই সবুজের ছোঁয়া যদি পাওয়া যায় নিজের বাড়িতে অথবা শোয়ার ঘরের ভেতরেই, তাহলে তো আর কথাই নেই। চাইলেই খুব সহজে গাছ দিয়ে সাজিয়ে তুলতে পারেন আপনার বাড়ির অন্দরমহলটি।

সবুজে থাকুন, সবুজে বাঁচুন- এমন মনোভাব সবার হৃদয়েই দোলা দেয়। ঘরের দেয়ালজুড়ে প্লাস্টিক পেইন্ট নয়, অন্দরজুড়ে সতেজ পাতাবাহার থাকুক। এর ফলে মনটাও সতেজ থাকবে। ব্যালকনিজুড়ে হোক বা ড্রইং রুমের এক কোণে। অন্দরসজ্জায় পাতাবাহারের সতেজ পরশ মানে প্রকৃতির দিকে একধাপ এগিয়ে যাওয়া।

ঘরে ছোট বড় যাই হোক সেখানে যদি থাকে সবুজের ছোয়া তবে তা সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা ধারণ করে। ঘর সাজাতে সুন্দর ফার্ণিচার, পর্দা, ওয়ালম্যাট সব কিছুই জরুরি। এর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান দখল করেছে গাছ। মানিপ্ল্যান্ট, পাতাবাহার, বাঁশ গাছ ঘরের শোভা বাড়ায়। তবে আসবাবপত্রের সাথে মিল রেখে নির্বাচন করে ফেলুন আপনার পচ্ছন্দের গাছ।

ঘরে যে গাছই রাখুন তা সাজানোর উপর নির্ভর করছে এর সৌন্দর্য। গাছ একদিকে যেমন সৌন্দর্য বর্ধন করে তেমনি বাতাস ঠান্ডা ও বিশুদ্ধ রাখে।


টেবিলের উপর ছোট গাছ: ঘরে বা অফিসের টেবিলের উপর ছোট গাছ একদিকে যেমন সৌন্দর্য বর্ধন করে তেমনি সারাদিনের ক্লান্তিকেও ভুলিয়ে দেয়। ক্যাকটাস, যেকোনো বনসাই এমনকি অ্যালোভেরাও রাখা যেতে পারে। গাছগুলো এমনিতে ছোট হয় সেজন্য বাড়তি কোন জায়গা দরকার হয় না আবার তেমন যত্ন নেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না।

মানিপ্ল্যান্ট: নিজের সৌভাগ্য ফিরিয়ে বড়লোক হতে চায় সবাই। মানিপ্ল্যান্টকে এই সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। সাধারণত ঘরে রাখা হয় মানিপ্ল্যান্ট, এর বাড়তি কোন যত্নের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি দিলেই হয়।

ঝুলন গাছ: ঘরে জায়গার স্বল্পতা থাকলে গাছ ঝুলানো যেতে পারে। যেহেতু জায়গা আনেক কম সেহেতু অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি আকৃতির টব নির্বাচন করা ভাল। ঝুলানো গাছের ক্ষেত্রে ৮-১০ ইঞ্চি বাশেঁর ঝুড়ি, মাটি বা প্লাস্টিকের টব ব্যবহার করা ভাল। মাটি ও প্লস্টিক টবের উপরের কোনাগুলো ছিদ্র করে গাছসহ টবটিকে রশির সাহায্যে ঝুলিয়ে দিলেই হয়ে গেল ঝুলন গাছ। শিকা কিনে তাতে করেও ঝুলিয়ে দেয়া যায় টব। গাছগুলো এমনভাবে ঝুলাতে হবে যেনো সহজে পানি দেয়া যায় এবং পরিচর্যা করা যায়।


সবজি বাগান: আপনি বাসার বারান্দায় খুব সহজেই বিভিন্ন সবজির গাছ লাগাতে পারেন। এতে একসাথে যেমন আপনার দৈনিক চাহিদা পূরণ হবে তেমনি পরিবেশও সবুজ ও সতেজ থাকবে।

বেঁচে থাকুক সবুজ অন্তরে, বেঁচে থাক সবুজ জীবনের গহীনে, বেঁচে থাক সবুজ চারিদিকে। সবুজ গাছের পাতায় হাত ছোঁয়াতে ভালো লাগে, সবুজ ঘাসের উপর পা ফেলে মুহূর্ত গুনতে আমাদের আনন্দ হয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে





কি আছে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটের ভিতরে-ডেইলি মেইলের রিপোর্ট

 


ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে করোনার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে। এই হাসপাতালে আছেন ৭ হাজার ১০০ স্টাফ। এর মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ চিকিৎসকরাও। সেখানে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট অত্যন্ত বিলাসবহুল। এটি ওয়ার্ড ৭১ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও হোয়াইট হাউজের মন্ত্রীপরিষদের সদস্যদের জন্য এই হাসপাতালে এমন বিশেষ ৬টি রুমকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তার একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট। এর ভিতর আছে সব রকম নিরাপত্তামুলক ডিভাইস, যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য সরঞ্জাম।

এ কথা লিখেছেন রিয়ার এডমিরাল কোনি মারিয়ানো।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং বিল ক্লিনটনকে চিকিৎসক হিসেবে সেবা দিয়েছেন। এ সময় তিনি হোয়াইট হাউজের মেডিকেল ইউনিটের পরিচালক ছিলেন। 
এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন ডেইলি মেইল। ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের সুনাম যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে। সিলভার স্প্রিংয়ে রয়েছে এর একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব রিসার্স। এটি মেরিল্যান্ডে হাসপাতালের কাছেই। ওই গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানীরা টিকা উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করেন এবং করোনা ভাইরাসের মতো সংক্রামক রোগের চিকিৎসা নিয়ে কাজ করেন।

আবার এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগও আছে। ২০০৭ সালে সেখানে বেশ কিছু সেনা সদস্যকে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ সময়ে তাদের অনেকে মারা যান। ফলে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে। তা সত্ত্বেও এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘দ্য নেশনস মেডিকেল সেন্টার’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং সেনাবাহিনীর প্রধানদের চিকিৎসা দেয়া হয় এখানে। আছে ৭১০০ স্টাফ।

এর রয়েছে শতাধিক ক্লিনিক। এখানকার মেডিকেল ইভ্যালুয়েশন এন্ড ট্রিটমেন্ট ইউনিটে (এমইটিইউ) চিকিৎসা নিয়ে থাকেন প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট। এমইটিইউ অত্যন্ত নিরাপদ, প্রাইভেট ও হাসপাতালের বিস্তৃত অন্যান্য ওয়ার্ড থেকে আলাদা। এর ভিতর আছে একটি ডাইনিং রুম। তাতে আছে ক্রিস্টাল ক্যান্ডেলিয়ার। বেড থেকে কয়েক পা দূরে আছে একটি ডেস্ক বা টেবিল।

রুমগুলোকে সাজানো হয়েছে এমনভাবে যাতে সেখানে অতিথিরা যেতে পারেন। আছে নিরাপত্তা প্রযুক্তি। এ ছাড়া ট্রাম্প যাতে সেখানে অবস্থান করে তার প্রেসিডেন্সিয়াল সব দায়িত্ব পালন করতে পারেন, এমন সব সরঞ্জাম রয়েছে এর মধ্যে। হোয়াইট হাউজ থেকে প্রায় ৯ মাইল দূরে এই হাসপাতাল। এতে আছে ২৪৪টি বেড। আর আছে ৫০টি আইসিইউ।

এই হাসপাতালে আছে ১৬৫টি স্মার্ট স্যুট। এতে আছে ‘টু-ওয়ে’ যোগাযোগ বিষয় বিষয়ক ডিভাইস। আছে অডিও ভিজুয়াল, ওয়ারলেস সুবিধা। আছে বিছানার পাশে বিনোদনের ব্যবস্থা। সবই স্থানান্তরযোগ্য কিবোর্ড দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ সুবিধা রোগীরা সব সময় ভোগ করতে পারেন। অনলাইন মেইল লিখেছে, প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট এসব উচ্চ প্রযুক্তির কোনো স্যুট কিনা তা পরিষ্কার নয়।

Friday, October 2, 2020

বাংলাদেশে নান্দনিক ইসলামিক স্থাপনা

 

মোস্তফা কাজলঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বাংলাদেশে নান্দনিক ইসলামিক স্থাপনা

বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে নান্দনিক ইসলামিক স্থাপনা। এসব স্থাপনার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মসজিদ। মসজিদ আল্লাহর ঘর। পৃথিবীতে মানুষের কল্যাণে যে ঘর নির্মিত হয়েছিল, তা হলো মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ বা বায়তুল্লাহ। পৃথিবীতে এখনো মসজিদ নির্মিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এসব মসজিদ পবিত্র কাবাঘরকে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) পবিত্র মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করে প্রথমেই মসজিদুল কুবা নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মহানবী (সা.)-এর নামে  মদিনায় মসজিদ নির্মিত হয় মসজিদুন নববী। রসুল (সা.)-এর আমলে মসজিদে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, দৈনন্দিন ইবাদত-বন্দেগি, সাহাবায়ে কেরামকে ইসলামের বিধিবিধান শিক্ষাদান, সাধারণ মানুষের মধ্যে ইসলামের বাণী প্রচারসহ নানাবিধ ধর্মীয়, সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালিত হতো।  বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও রয়েছে সুলতানি, মোগল ও বাংলাদেশ আমলের মসজিদ ও স্থাপনা। এসব নিয়েই আজকের আয়োজন-

 

বাহারি মডেল মসজিদ

মসজিদ নির্মাণ মুসলমান সমাজের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। মসজিদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে মসজিদকেন্দ্রিক সমাজ। বহু স্থানে এর সঙ্গে যুক্ত আছে পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র, পরামর্শ কেন্দ্র, মুসাফিরখানা, হেফজখানাসহ নানাবিধ শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠী মুসলমান। এখানকার প্রতিটি শহর, নগর, গ্রাম ও মহল্লায় মসজিদ রয়েছে। মসজিদ এ দেশের সমাজ ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ। এ অঞ্চলে অনেক ওলি ইসলামের সুমহান বাণী প্রচার করতে এসেছেন। তাদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে অসংখ্য মসজিদ নির্মিত হয়েছে। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে মসজিদ-সংলগ্ন পুকুরঘাট, কবরস্থান, মুসাফিরখানা দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব মসজিদভিত্তিক সমাজের প্রমাণ বহন করে। বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদ আছে। এসব মসজিদের বেশির ভাগই স্থানীয় জনগণের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয়। সম্প্রতি মসজিদভিত্তিক সমাজের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ইসলামী মূল্যবোধের প্রসার ও ইসলামী সংস্কৃতি বিকাশের উদ্দেশ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি ২০১৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা প্রদান করেন, প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করতে হবে। ওই মডেল মসজিদ কমপ্লেক্সে লাইব্রেরি, গবেষণাকক্ষ, ইসলামিক সংস্কৃতি, শিশুশিক্ষা কার্যক্রম থাকতে হবে। পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক নামাজ কক্ষ, মেহমানদের আবাসন ব্যবস্থা, বিদেশি পর্যটকদের পরিদর্শনের ব্যবস্থা এবং হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকবে। আরও থাকবে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক অজুর ব্যবস্থা। মুসলিম মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা। এই মডেল মসজিদ প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে। এ ছাড়া নির্মাণকারী সংস্থার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে গণপূর্ত অধিদফতরকে। প্রকল্পের প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। এর অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ সরকার। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

মডেল মসজিদ হবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। উপকূলীয় এলাকায় নিচতলা উন্মুক্ত রেখে ভবনটি নির্মিত হবে। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মুসল্লিদের জন্য আলাদা র‌্যাম্প থাকবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত্ব হলে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৪৪০ পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ নারীর নামাজ পড়ার সুযোগ হবে।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ৩৪ হাজার পাঠকের জন্য লাইব্রেরি সুবিধা নিশ্চিত হবে। ৬ হাজার ৮০০ গবেষকের গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে। প্রতিদিন ৫৬ হাজার মুসল্লি দীনি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবেন। প্রতি বছর ১৪ হাজার শিক্ষার্থীও কোরআন শরিফ হিফজ করার সুযোগ পাবে। প্রতি বছর ১৬ হাজার শিশুর প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থা তৈরি হবে।

মডেল মসজিদে দৈনিক ২ হাজার ২৪০ জন দেশি-বিদেশি অতিথি আবাসন সুবিধা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পের আওতায় দেশের নয়টি স্থানে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। নয়টি স্থানের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। স্থানগুলো হলো- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, ঝালকাঠির রাজাপুর, খুলনার জেলা সদর, বগুড়ার শেরপুর, রংপুর জেলা সদর, ময়মনসিংহ জেলা সদর, সিলেটের দক্ষিণ সুরমা, নোয়াখালী জেলা সদর এবং চট্টগ্রাম মহানগরের কল্পলোক আবাসিক এলাকায়। এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৃণমূল পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের সঠিক প্রচার-প্রসারে ভূমিকা রাখবে। এই মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো আলেম-ওলামার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফরম তৈরি করছে।

 

বসুন্ধরায় দেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ

রাজধানীর বসুন্ধরায় হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং আধুনিক মসজিদ। এটি নির্মাণ করছে দেশের শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা বসুন্ধরা গ্রুপ। এই মসজিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো- এখানে একসঙ্গে ৭০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায় ও সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াতের সুব্যবস্থা। ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে পরিবেশবান্ধব এই মসজিদ হবে দেশের সবচেয়ে সুন্দর মসজিদ। মূলত আবাসিক এলাকায়  হাজার হাজার মুসল্লির নামাজ আদায় করার চিন্তা থেকেই বানানো হচ্ছে মসজিদটি। দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট। এই মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে দ্রুতগতিতে।

বর্তমানে মসজিদটিতে নিচতলায় নামাজ আদায় করার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করা হয়েছে। মসজিদের প্রতি তলায় সাত হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মো. সফিউল্লাহ।

এই মসজিদ এক নজর দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার নতুন এই মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিদের ভিড় জমে। মসজিদের নাম দেওয়া হয়েছে বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা মুফতি আবদুর রহমান (রহ.)-এর নামে ফক্বিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান জামে মসজিদ। মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে আট বিঘা জমির ওপর। এতে সব রকম সুবিধা থাকবে। উন্নতমানের টাইলস এই মসজিদের শোভা বাড়িয়ে দেবে অনেকখানি। মসজিদে থাকবে ১২০ ফুট উচ্চতার একটি সুদৃশ্য মিনার, যা তৈরি হবে কষ্টিপাথর দিয়ে।

শুধু তাই নয়, মসজিদে থাকবে চারটি চলন্ত সিঁড়ি। পাশাপাশি চারপাশেও থাকবে আধুনিক সিঁড়ি, যা দিয়ে ওপর তলায় ওঠানামা করা যাবে অতি সহজে। মসজিদের ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি বড় গম্বুজ।

মসজিদের প্রতি তলায় ৫০ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গা রয়েছে। এই মসজিদে রয়েছেন একজন পেশ ইমাম ও একজন খতিব। প্রতি তলায় নামাজের কাতার হবে ৪৫টি। প্রতি কাতারে ২০০ মুসল্লি দাঁড়াতে পারবেন। একেক তলায় ৫০০ থেকে ৫৫০টি ফ্যান থাকবে। তবে মসজিদটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। মসজিদের তিন পাশে আলাদা বারান্দাও রয়েছে। সামনের অংশের দুই পাশে থাকবে মুসল্লিদের অজুখানা।

 এ ছাড়া মসজিদের সামনেই রয়েছে একটি মাদ্রাসা। মাদ্রাসা ভবনও নির্মাণাধীন। যাতে বর্তমানে হেফজখানা চালু আছে। আর এই মাদ্রাসায় ১ হাজার ২০০ ছাত্র একসঙ্গে পড়াশোনা করতে পারবে।

জানা গেছে, একই কমপ্লেক্সে মসজিদের পাশাপাশি কবরস্থান ও ঈদগাহ নির্মাণ করা হবে।  বসুন্ধরা এলাকায় আরও ৫০টি মসজিদ নির্মাণের জায়গা রাখা হয়েছে।

 

ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাট

বাগেরহাট জেলায় রয়েছে হজরত খানজাহান (রহ.) কর্তৃক নির্মিত অপূর্ব কারুকার্য খচিত পাঁচ শতাব্দীরও অধিককালের পুরাতন বিশালায়তন একটি মসজিদ। এটি তাঁর দরগাহ থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। স্থাপত্য কৌশল ও লাল পোড়ামাটির ওপর লতাপাতার অলঙ্করণে মধ্যযুগীয় স্থাপত্য শিল্পে এ মসজিদ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। যদিও এটা ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চতুষ্কোণের বুরুজের ওপর চারটি গম্বুজসহ এতে মোট ৭৪টি গম্বুজ আছে। মধ্যের সারির বাংলা চালের অনুরূপ সাতটি চৌচালা গম্বুজসহ এতে মোট ৮১টি গম্বুজ আছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, প্রার্থনা কক্ষের চৌচালা ছাদ ও গম্বুজগুলো ইট ও পাথরের ষাটটি খাম্বার দ্বারা সমর্থিত খিলানের ওপর নির্মিত। জনশ্রুতি আছে, হজরত খানজাহান (রহ.) ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মাণের জন্য সমুদয় পাথর সুদূর চট্টগ্রাম, মতান্তরে ভারতের উড়িষ্যার রাজমহল থেকে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা বলে জলপথে ভাসিয়ে এনেছিলেন। ইমারতটির গঠন বৈচিত্র্যে তুঘলক স্থাপত্যের বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকের প্রাচীর ৮ ফুট চওড়া। চার কোণে চারটি মিনার আছে।

দক্ষিণ দিকের মিনারের শীর্ষে কুটিরের নাম রোশনাই কুঠির এবং এ মিনারে উপরে ওঠার সিঁড়ি আছে। মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরি। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১৬০ ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ ফুট। মসজিদের সম্মুখ দিকের মধ্যস্থলে একটি বড় খিলান। দুই পাশে পাঁচটি করে ছোট খিলান আছে। মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর বিভাগ পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের জন্য এ ঐতিহাসিক মসজিদ এবং খানজাহান (রহ.)-এর মাজার শরিফের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

 

দৃষ্টিনন্দন ২০১ গম্বুজ মসজিদ টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নির্মাণ হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত ২০১ গম্বুজের মসজিদ। এ মসজিদের মিনারের উচ্চতা ৪৫১ ফুট (১৩৮ মিটার)। যা ৫৭ তলা ভবনের সমান। গম্বুজ আছে ২০১টি। আর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এটি হচ্ছে বিশ্বের দ্বিতীয় উঁচু মিনারের মসজিদ।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে ঝিনাই নদীর তীরে অবস্থিত ২০১ গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল বিগত ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি। ২০১৮ সালের শেষ দিকে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এখানে নির্মাণ করা হয়েছে দুটি হেলিপ্যাড। ডিজাইন ও কারুকার্যের দিক থেকে মসজিদটি একটি ভিন্ন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে গড়ে উঠছে। মসজিদের টাইলসসহ ফিটিংসের যাবতীয় শোভাবর্ধনের শৌখিন কারুকার্যখচিত পাথরগুলো বিশ্বের কয়েকটি দেশ ঘুরে সংগ্রহ করা হয়েছে।

এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটক, ওলি-আউলিয়া ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আগমন ঘটছে। বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনারটি মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় দ্বিতীয় হাসান মসজিদে অবস্থিত। এর উচ্চতা ৬৮৯ ফুট (২১০ মিটার)। যা ৬০ তলা ভবনের সমান। তবে এটি ইটের তৈরি নয়। ভারতের দিল্লির কুতুব মিনার বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ইটের তৈরি মিনার। এটির উচ্চতা ৭৩ মিটার বা ২৪০ ফুট। ৩৭৯টি সিঁড়ি রয়েছে এতে।

নির্মাণাধীন অবস্থাতেই ২০১ গম্বুজের এই মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় শুরু হয়েছে। প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর এ মসজিদ কমপ্লেক্সে থাকবে অত্যাধুনিক সব সুবিধা। মিহরাবের দুই পাশে লাশ রাখার জন্য হিমাগার তৈরি করা হবে। পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার পরও মসজিদটিতে শতাধিক ফ্যান লাগানো হবে। মসজিদের ছাদের মাঝখানে থাকবে ৮১ ফুট উচ্চতার একটি বড় গম্বুজ। এর চারদিকে থাকবে ১৭ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট ২০০টি গম্বুজ। মূল মসজিদের চার কোণে থাকছে ১০১ ফুট উচ্চতার চারটি মিনার। পাশাপাশি থাকবে ৮১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার।

১৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪৪ ফুট প্রস্থের দ্বিতল মসজিদটিতে নামাজ আদায় করতে পারবেন একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি। দেয়ালের টাইলসে অঙ্কিত থাকবে ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরিফ। যে কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে মসজিদের দেয়ালের কোরআন শরিফ পড়তে পারবেন। আর মসজিদের প্রধান দরজা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫০ মণ পিতল। আজান প্রচারের জন্য মসজিদের দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হবে উঁচু মিনারটি। উচ্চতার হিসাবে মিনারটি তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৭ তলার সমান অর্থাৎ ৪৫১ ফুট। মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে পৃথক দুটি পাঁচতলা ভবন।

 

১৫০ বছরের চন্দনপুরা তাজ মসজিদ চট্টগ্রাম

অনেকের কাছে এ মসজিদটি চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। এখন মসজিদটির বয়স ১৫০ বছর। চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়

ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন স্থাপনার একটি চন্দনপুরা তাজ মসজিদ। বন্দরনগরীর চকবাজার ওয়ার্ডের সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কে এটি অবস্থিত। মসজিদের চারদিকে যেন রঙের মেলা। হরেক রং ব্যবহার করা হয়েছে স্থাপনার প্রতিটি অংশে। লতাপাতার নকশা আর নানা কারুকাজে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুনিপুণ হাতে। অনেক দূর থেকে দেখা যায় মসজিদটির বাহ্যিক সৌন্দর্য। সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কের পশ্চিম পাশে মোগল স্থাপনা শিল্পের আদলে ১৮৭০ সালে মাটি ও চুন সুরকির দেয়াল আর টিনের ছাদের মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন আবদুল হামিদ মাস্টার। তখনো মাটির দেয়ালে কারুকাজে ভরপুর ছিল। তার বংশধর ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সৈয়দ দোভাষ ১৯৪৬ সালে এই মসজিদের সংস্কার কাজে হাত দেন। মসজিদের কারিগর ও নির্মাণসামগ্রী ভারত থেকে আনা হয়। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকারও অধিক খরচ হয়। চারপাশের দেয়ালগুলো ভেন্টিলেশন সিস্টেমের। দেয়ালের ফাঁক গলে ঢুকছে আলো। আলোর ঝরনাধারায় ভিতরটা করছে ঝলমল। আছে বাতাসের কোমল পরশ।

অনেকের কাছে এ মসজিদটি চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। এখন মসজিদটির বয়স ১৫০ বছর। চট্টগ্রামের পর্যটনশিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়। এসব প্রকাশনায় এ মসজিদের ছবি থাকায় বিদেশ থেকে পর্যটকরাও আসেন এখানে। আবু সৈয়দ দোভাষ সেই সময়ে কলকাতা থেকে কারিগর ও দিল্লিসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উপকরণ এনে ১৩ শতক জায়গার ওপর দোতলা মসজিদটি গড়ে তোলেন। মসজিদে রয়েছে ছোট-বড় ১৫টি গম্বুজ। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য আছে সিঁড়ি। গম্বুজ ও সিঁড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মোগল স্থাপত্য নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি। গম্বুজের চারপাশে রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবির নাম। যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না, তখন চারতলা সমান উঁচু মিনারে উঠে আজান দেওয়া হতো। এ রকম দুটি মিনার এখনো আছে। বর্তমানে প্রতি পাঁচ বছর পর একবার রং করা হয়। এ মসজিদে বড় গম্বুজটি ছিল প্রায় ১৩ মণ রুপা ও পিতলের তৈরি। বৈরী আবহাওয়ায় এসব জিনিস যেমন নষ্ট হয়েছে তেমনি সংস্কারের সময়ও অনেক কিছু হারিয়ে গেছে। পরবর্তীতে বড় গম্বুজে সবুজ, গোলাপি ও হলুদ রং করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মসজিদে একজন ইমাম, একজন হাফেজ ও দুজন মুয়াজ্জিন রয়েছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন মুসল্লি এ মসজিদ দেখতে আসেন। আশপাশেও অনেক নতুন মসজিদ গড়ে উঠেছে। এরপরও এ মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত দিনে গড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ লোক নামাজ পড়েন এ মসজিদে। শুক্রবার জুমায় পাঁচ হাজার মুসল্লি ছাড়িয়ে যায়। তখন মসজিদে জায়গা সংকুলান না হলে মসজিদ-সংলগ্ন রাস্তা বন্ধ করে সেখানেই নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

Thursday, May 7, 2020

নিরাপদ সবজির গ্রাম

নিরাপদ সবজির গ্রাম
পরিবেশবান্ধব, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক ছাড়াই নিরাপদ বিষমুক্ত সবজি চাষ করেন দিনাজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শুশুলী গ্রামের চাষিরা। মানুষকে বিষমুক্ত শাক-সবজি খাওয়াতে পেরে তারাও যেমন আনন্দিত, তেমনি দাম ভালো পাওয়ায় লাভবানও তারা। এই প্রচেষ্টার কারণে গ্রামটি এখন ‘নিরাপদ সবজির গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেতে যাচ্ছে। এখানের ১২০ জন চাষি এবার তাদের জমিতে চাষ করেছেন বিষমুক্ত করলা, বেগুন, শসা, চালকুমডা, পটলসহ বিভিন্ন সবজি। সরেজমিন দেখা যায়, ওই গ্রামের চারদিকে সবুজ সবজির খেতে ভরা। খানসামার শুশুলী, ফরিদাবাদ এবং বাসুলী গ্রামের ৩৫ একর জমিতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত এসব সবজি। বিষমুক্ত শাক-সবজি খাওয়ার কথা যখন ভাবাই যায় না সেখানে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের শুশুলী গ্রামের চাষিরা। কৃষকরা উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে ভোক্তাকে বিষমুক্ত শাক-সবজি খাওয়ানোর সংকল্প নেন। জমিগুলোয় দেখা যায়, প্রতি জমিতে মাঝে মাঝে সেক্সফেরোমন ফাঁদ। এটি হচ্ছে কীটপতঙ্গ দমন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক বক্স ব্যবহার করা হয়। যার দুই পাশে তিন কোণা ফাঁক থাকে। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত এক রকম রাসায়নিক পদার্থ বা স্ত্রী পোকার গন্ধ ব্যবহার করা হয় ফাঁদে। এর আকর্ষণে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ফাঁদে পড়ে মারা যায়। এতে জমির ফসল নিরাপদ থাকে। সেক্সফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় জমির ফসল নিরাপদ থাকছে। এ ছাড়াও তারা রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করছে জৈব সার ও ভার্মি কম্পোষ্ট সার। এতে খাদ্যমান ও পুষ্টি সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ। চালকুমড়া চাষি রশিদুল ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের কাছ থেকে জানতে পারি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগে জমির ফসল বিষে পরিণত হয় এবং মাটির উর্বরতা কমে যায়। এ কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ভোক্তাকে আর বিষ খাওয়াব না। বর্তমানে আমাদের গ্রামের সবাই নিরাপদ সবজি চাষাবাদে সংকল্পবদ্ধ হয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, প্রতিটি উপজেলায় নিরাপদ সবজিগ্রাম করার বিভাগীয় নির্দেশনা রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাসুলী, শুশুলী ও ফরিদাবাদ গ্রামের কৃষকদের সংগঠিত করে জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসম্মত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যসম্মত ফসল উৎপাদনের সুফল বুঝতে পেরে কৃষকরা সহজেই এই পদ্ধতি গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেন

Tuesday, May 5, 2020

যাত্রীবাহী ফ্লাইট বন্ধ ১৬ মে পর্যন্ত

প্রতীকী ছবিপ্রতীকী ছবিঅভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সময়সীমা ৭ মে থেকে বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। তবে চীনের সঙ্গে সব ধরনের ফ্লাইট চালু থাকবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের (সিডিউল প্যাসেঞ্জার ফ্লাইট)ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আগের মতো বাহরাইন, ভুটান, হংকং, ভারত, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইউএই, ইউকে -এর সাথে বিদ্যমান বিমান চলাচল রুটের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। একই সাথে অভ্যন্তরীণ যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে বেবিচক। পরে কয়েক দফা এই সময়সীমা বাড়ানো হয়।

Saturday, April 25, 2020

বিষণ্ন পৃথিবীতে অচেনা রমজান

মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ   


বিষণ্ন পৃথিবীতে অচেনা রমজান

রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর কাছে একটি সম্মানিত মাস। এ মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সারা দিন রোজা রাখে সবাই। সন্ধ্যাবেলায় আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও দুখী-দুস্থদের ইফতার দিয়ে আতিথেয়তা মুসলিম সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাতের বেলা দল বেঁধে অংশগ্রহণ করা হয় মসজিদে অনুষ্ঠিত তারাবির নামাজে। শাবান মাসের শেষ দিন রমজানের চাঁদ দেখতে পাড়া-মহল্লার শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সের নারী-পুরুষের মন হয়ে থাকে উত্সুক। অন্তরে বিরাজ করে অন্য রকম আনন্দ-উচ্ছ্বাস। এমনই ছিল যুগ যুগ ধরে চলে আসা মুসলিম সংস্কৃতির প্রতিরূপ। এ ছাড়া রমজানকে ঘিরে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে আছে নানা সংস্কৃতি।
কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে এবারের রমজান মুসলিমদের কাছে ভিন্ন রকম এক চিত্র নিয়ে হাজির হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারির দরুন সবাই এখন ঘরবন্দি। দেশে দেশে চলছে লকডাউন ও কারফিউ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে মাসখানেক ধরে। মসজিদের নামাজেও বাইরের কারো অংশগ্রহণের অনুমতি নেই। জুমার নামাজও নিজের ঘরে আদায় করছে সবাই। পৃথিবীর ব্যস্ততম স্থানগুলোতে বিরাজ করছে পিনপতন নীরবতা। নেই মানুষের কোলাহল ও পদচারণ। এমন বিমর্ষ ও অচেনা পৃথিবীতে বছর ঘুরে হাজির হয়েছে পবিত্র রমজান।
‘এমন রমজান এর আগে পালিত হয়েছে কি না আমার ঠিক মনে পড়ছে না। অতীতে বিশ্বযুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানা রকম সংকটময় মুহূর্ত অতিবাহিত হয়েছে। অতীতের ইতিহাস, সাহিত্য ও বিভিন্ন আর্কাইভের নথিতে দেখা গেছে, যুদ্ধ-বিগ্রহ, দুর্যোগসহ যেকোনো কঠিন মুহূর্তেও মুসলিমরা রমজানের সময় এলে একত্রে ইবাদত করেছেন। সম্প্রতি আলজাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব দ্য মালয় ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড সিভিলাইজেশনের গবেষক ফাইজাল মুসা বিষাদময় রমজান সম্পর্কে এমনটি বলেছেন।

যেভাবে বদলে গেল রমজান
মানুষের চলাচল সীমিত করার পাশাপাশি শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ থাকায় আগের মতো এবার রমজানের দিনগুলো উদ্যাপনের সুযোগ হবে না। ভোরবেলা সাহিরর সময় খাবার খেয়ে শুরু হয় রোজা। আবার সন্ধ্যাবেলা ইফতারের মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটে। তবে মুসলিম সমাজে ইফতারের ব্যবস্থাপনা অনেকটা সামাজিক অনুষ্ঠানের মতো হয়ে থাকে। বিশেষত বহু স্থানে সমাজের দুস্থ-দরিদ্রদের মধ্যে ব্যাপক হরে খাবার পরিবেশন করা হয়। কিন্তু এবার সে রকম কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান হবে না। কভিড-১৯-এর সংক্রমণ প্রতিরোধে সব দেশেই সব ধরনের জমায়েত নিষেধ করা হয়েছে। সাহির ও ইফতারের সবটুকুই হবে পরিবারের সঙ্গে নিজের ঘরের ভেতর।

ঘরে তারাবি আদায়ের নির্দেশনা
বেশির ভাগ দেশে মসজিদের বদলে ঘরে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি তারাবির নামাজও আদায় করতে বলা হয়েছে। সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনার  হারামাইনে জনসাধারণের উপস্থিতি ছাড়া তারাবির নামাজ সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করা হচ্ছে। মিসরে ফতোয়া বোর্ড থেকেও ঘরে সব নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জর্দানে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায়ে বারণ করা হয়েছে। ইরানেও সম্মিলিতভাবে নামাজ আদায় এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় মসজিদে সব রকম ধর্মীয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানে পারস্পরিক দুই মিটার দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে নামাজের জন্য জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। জেরুজালেমের বিখ্যাত আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণ মুসলিমদের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান হবে এবং সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে। যুক্তরাজ্যে মসজিদগুলোতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াত ও ধর্মীয় বক্তব্য সম্প্রচার করা হচ্ছে।

থাকছে না সবমুখর বাজার
মিসরে রমজানকেন্দ্রিক ইফতারসহ সব ধরনের জনসমাগমের সব কার্যক্রম নিষেধ করা হয়েছে। তা ছাড়া মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও সিঙ্গাপুরে রমজানের পুরো মাস ব্যস্ত থাকে খাদ্য ও বস্ত্রের অস্থায়ী জনপ্রিয় বাজার। এবার তা স্থাপনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হলেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এমনটি করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হচ্ছে। তবে আবুধাবিতে রমজান উপলক্ষে সীমিত সময়ের জন্য শর্ত সাপেক্ষে শপিং মল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তা ছাড়া প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের ১২৭টি তাঁবুতে তিন লাখ ৩৩ হাজার ইফতারের প্যাক ফ্রি বিতরণ করা হবে।

অনলাইনে সহযোগিতার আহ্বান
গরিব-দুখীদের জাকাত দেওয়া কিংবা দান করা অনেক বড় পুণ্যের কাজ। রমজানে বেশির ভাগ মুসলিম সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে থাকে। যুক্তরাজ্যে এবারের রমজানে মসজিদে কিংবা কোনো ক্যাম্পে কোনো কিছু দেওয়া হবে না। বরং দরিদ্রদের ইফতার সামগ্রী ও সহযোগিতা সংস্থার মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে। সৌদি আরবে এবার মদিনার মসজিদে নববীতে কোনো ইফতারের ব্যবস্থা থাকবে না। নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বাস্থ্য ও ধর্ম বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এনজিও সংস্থাকে অনলাইনের মাধ্যমে দানের অর্থ দিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া ত্রাণ কার্যক্রমের সব কিছু সুশৃঙ্খলভাবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সম্পন্ন করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে।

Wednesday, April 15, 2020

লঙ্ঘিতে হবে দুস্তর পারাবার

করোনাভাইরাস পাল্টে দিয়েছে সবার জীবনের বাস্তবতা। আমরা এখানে শুনছি পাঠকের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার কথা। তাঁরা লিখছেন পরিবারের আনন্দ–বেদনাভরা গল্প। শোনাচ্ছেন এ সময়ের কোনো মানবিক সাফল্যের কাহিনি। প্রথম আলো মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে পাঠকের গল্প। দেশ বা প্রবাস থেকে আপনিও লিখুন আপনার অভিজ্ঞতার কথা। পাঠকের আরও লেখা দেখুন প্রথম আলো অনলাইনে। লেখা পাঠানোর ঠিকানা: dp@prothomalo.com
চাকরির কারণে বাড়ি থেকে অনেক দূরে একা থাকি। বাড়ির কথা মনে হলেই রিমোট হাতে টেলিভিশনে সার্ফিং করি একটার পর একটা চ্যানেল। কপালে চিন্তার ভাঁজ। অন্ধকারময় সময় আরও নিঃসঙ্গতা নিয়ে আসে। কফি হাতে জানালার গ্রিলে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে সান্ত্বনা খুঁজি।

ঘড়ির কাঁটা টিকটিক করে বাজছে। নিষ্প্রাণ শহরের চেহারা যে এত নিষ্প্রভ হতে পারে, আগে কখনো বুঝিনি। কখনো বসে বসে চিন্তিত মনে একা একা পায়চারি করি। কখনো মোবাইল ফোন হাতে খবরের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করি। ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস। টেলিভিশন আমাকে তেমন টানে না। কিন্তু ইদানীং টেলিভিশনের খবরটা কিংবা মোবাইলের আপডেট তথ্যই বারবার দেখার তাগিদ অনুভব করছি। পত্রিকা হাতে নিয়ে পড়তেও মনটা সায় দেয় না। কত প্রিয় খবর পত্রিকার পাতা ভরে থাকত আগে। এখন করোনায় সব বিবর্ণ।

রাত যত ঘনিয়ে আসছে, মনটা ততই কেমন যেন করছে। কাছের মানুষজনদের কাছ থেকে অনেক দূরে থাকি বলেই হয়তো স্থবিরতা আরও চেপে বসেছে। বয়স্ক মা-বাবাকে দূরে বাড়িতে রেখে এখানে অসহনীয় লাগছে। চাকরি সামলিয়ে চলতে গেলে অনেক কিছু গুটিয়ে আনতে হয়। প্রতিদিনের অভ্যাসমতো রাত জেগে জেগে রবীন্দ্রসংগীত শুনেও মনের অস্থিরতা কাটে না।

একটি বাড়িতে চারতলার চারটা ঘরে আমরা চারজন থাকি। আমি ছাড়া বাকি সবাই একান্ত নিরাপত্তার জন্য আপনজনদের কাছে চলে গেছেন। এখন তো এই ঘরটাই আমার নিরাপদ আশ্রয়। দশ–পনেরো দিন হলো মেসের রাঁধুনি আসছে না। আগে দুবেলা রান্না হতো। খেয়েদেয়ে দিন চলে যেত। সহকর্মী উত্তমদা বলতেন, সুন্দর রান্নাও একটা আর্ট। এক বেলা খেয়ে দুবেলার কাজ চালিয়ে দেওয়ার জন্য আলুই মোক্ষম। তা ছাড়া রাঁধুনি না আসায় নিঃসঙ্গতা আরও এক ধাপ বেড়েছে বৈকি!
সকালে ব্যাংকে যাওয়ার পর কখনো কখনো মনে হয়, মানুষের কাছে টাকার গুরুত্ব এখনো কত বড়। নইলে এই সময়ে ডিপিএস জমা দেওয়ার জন্য এত ভিড় ঠেলে মানুষ আসে! অফিস শেষে বাসায় ফিরি। দেখি দরকারি জিনিসপত্র ফুরিয়ে এসেছে। মাস্ক পরে মুদির দোকানে গেলাম। চিংড়ি নিয়ে এলাম মাছের বাজার থেকে। ফিরে এসে নতুন অভ্যাসে সাবান দিয়ে হাত-পা পরিষ্কার করে কাপড়চোপড় ধুয়ে ফেললাম। রান্নার প্রস্তুতির সময় মোবাইল ফোন বেজে উঠল। এখন ফোন বাজলেই বুক ছ্যাঁত করে ওঠে। ধরে দেখি আমার সদা হাস্যোজ্জ্বল বন্ধু মহিম। কথা বলে রান্না করতে গিয়ে দেখি, একটুও লবণ নেই। উপায়ান্তর না দেখে আবার বাইরে বের হই। কিন্তু মুদিদোকান বন্ধ। খালি হাতে বাসায় ফিরলাম। খেতে হলো লবণ ছাড়া চিংড়ি আর লতি। কিন্তু লবণের ঘাটতি কি আর কিছু দিয়ে মেটে?
আবারও মোবাইল ফোন বেজে উঠল। এবার মা। তাঁর কণ্ঠে চিরচেনা উদ্বেগ, ‘কখন ছুটি পাবি?’ বললাম, ‘চিন্তা কোরো না, চলে আসব কয়েক দিনের মধ্যে।’ ফোনটা রাখার পর নিঃসঙ্গতা আরও তীব্র হয়ে উঠল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখছি, ব্যাংকারদের অনেকে নিরাপত্তার জন্য ব্যাংক বন্ধ রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন। হয়তো ব্যাংক বন্ধ হবে। হয়তো তখন বাড়ি যাওয়া যাবে। আবার ভাবি, গণপরিবহন তো বন্ধ। যেতে পারব তো?
পৃথিবী তো আর এমন অচল থাকবে না। সব সচল আর স্বাভাবিক হয়ে আসবে। জানালার ওপাশে নারকেলগাছের পাতায় ঝিরিঝিরি বাতাস বইবে। কিন্তু এই সময়টাকেই মনে হচ্ছে দুস্তর পারাবার।

যেভাবে করোনা মোকাবিলায় সফল শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কান কোচ জানালেন কীভাবে করোনা মোকাবিলায় সফল শ্রীলঙ্কা। ছবি: প্রথম আলোশ্রীলঙ্কান কোচ জানালেন কীভাবে করোনা মোকাবিলায় সফল শ্রীলঙ্কা। ছবি: প্রথম আলোবাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে, ‌দুদিন আগে খবরটা শুনেই আঁতকে উঠেছিলেন চম্পাকা রমানায়েকে। আজ আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩১-এ। গত দুই দিনে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী বেড়েছে ৪২৮ জন। এ তথ্যটা অবশ্য আর তাঁকে জানানো হয়নি। দুদিন আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলে বোঝা যাচ্ছিল, বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কতটা উদ্বিগ্ন।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে চম্পাকা কেন এতটা উদ্বিগ্ন? বরং একটা বিষয় ভেবে তিনি কিছুটা স্বস্তিতেই থাকতে পারেন। তাঁর দেশ শ্রীলঙ্কা তো খুব ভালোভাবে সামাল দিতে পেরেছে করোনার বিস্তার। এ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কায় আক্রান্ত ২৩৩, মারা গেছে ৭ জন। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের দেশ ভালো অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তা থাকবেই চম্পাকার। তাঁর কর্মস্থল যে ঢাকা, নির্দিষ্ট করে বললে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে চম্পাকা বিসিবিতে কাজ করছেন হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটের বোলিং কোচ হয়ে। গত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলেন ছুটিতে। বাড়িতে গিয়েই আটকা।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় অন্য দেশগুলোর মতো শ্রীলঙ্কাও লকডাউন ঘোষণা করেছে গত মাসে। প্রায় একই সময় থেকে অঘোষিত লকডাউন চলছে বাংলাদেশেও । এ সময়ে শ্রীলঙ্কা বেশ ভালোভাবে পারলেও বাংলাদেশ পারছে না করোনার বিস্তার ঠেকাতে। বরং তা বেড়েই চলেছে দিন দিন।

শ্রীলঙ্কা কীভাবে সফল হলো, কলম্বো থেকে বলছিলেন চম্পাকা, ‘জনসংখ্যা ঘনত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার একটা পার্থক্য আছে। আর শ্রীলঙ্কায় কোনো এলাকায় যদি করোনা রোগী ধরা পড়ে, পুরো এলাকা, গ্রাম লকডাউন করা হচ্ছে। কেউই বের হতে পারবে না। এরপর সেই এলাকায় প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। আর মানুষ সরকারের নির্দেশনা ভালোভাবে মানছে। বাংলাদেশের মানুষের তুলনায় শ্রীলঙ্কানরা বোধ হয় একটু বেশিই নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এভাবেই সরকার করোনা সামাল দিচ্ছে। অন্য দেশগুলোর তুলনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে বলা যায়।’

এক মাস হলো চম্পাকা গৃহবন্দী। ঘরে আটকে থাকার সময়টা তিনি পার করছেন গান শুনে, কাজ করছেন ফিটনেস নিয়ে। প্রশাসনের কাছ থেকে অবশ্য বিশেষ অনুমতি নিয়ে রেখেছেন যেন জরুরি দরকার হলে যেকোনো সময়ে বাইরে যেতে পারেন। বর্তমান কলম্বোর পরিস্থিতি নিয়ে চম্পাকা বলছিলেন, ‘কলম্বোতে কারফিউ চলছে। আমি চাইলে বের হতে পারি, সে অনুমতি নেওয়া আছে। তবে বের হচ্ছি না। যা যা দরকার, সবই ঘরে চলে আসছে। শুধু ফার্মেসি খোলা। বাকি সব বন্ধ। আমাদের খাবারের স্বল্পতা নেই।’
লকডাউনে যাওয়ার আগে বিদেশফেরতদের কঠোরভাবে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কান সরকার। নিজের দেশের করোনা পরিস্থিতি বেশ ভালো থাকলেও চম্পাকার চিন্তা হচ্ছে তাঁর ছাত্রদের নিয়ে। করোনার কারণে থমকে আছে বিসিবির এইচপির কর্মসূচি। জুলাইয়ে এইচপি দলের সফর ছিল শ্রীলঙ্কায়। সেটি এখন ঝুলছে অনিশ্চয়তার সুতোয়। অসহায় কণ্ঠে চম্পাকা বলছেন, ‘এইচপিতে থাকা খেলোয়াড়দের ফিটনেসের কাজ করে যেতে বলা হয়েছে। খাবারের অভ্যাস ধরে ঠিক রাখতে বলা হয়েছে। এর বাইরে কিছুই করার নেই। দেখি কী হয় সামনের সময়টায়।’

এটিই হচ্ছে কথা, ঘন কুয়াশা ঢাকা পথ ধরে এগোতে হচ্ছে সবাইকে। সামনে কী, কারও বলার উপায় নেই।

সপ্তাহে ১ দিন খোলা থাকবে সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিস

ফখরুল ইসলাম, ঢাকা

আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২০, ২৩:১৭
যেসব গ্রাহক অনলাইনের মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র কিনেও মুনাফা পাচ্ছিলেন না, তাদের স্বার্থে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অফিসগুলো সীমিত পরিসরে খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশব্যাপী এই অফিস খোলা থাকবে প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত।

বুধবার সঞ্চয় অধিদপ্তর এমন আদেশ জারি করে বিভাগীয় ও জেলা অফিসগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে। তবে যারা আগের নিয়মে কাগজে-কলমে (ম্যানুয়াল) সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের সমস্যা থেকেই গেল। আদেশে তাদের মুনাফার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এখন সাধারণ ছুটি চলছে। তারপরও জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন সব জেলা সঞ্চয় ব্যুরো ও জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরোগুলো প্রতি বৃহস্পতিবার তিন ঘণ্টার জন্য খোলা রাখা হবে। শুধু অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা বিষয়ক কাজে খোলা রাখা হবে এ অফিসগুলো।
আরও বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর আগে ছুটি বিষয়ক যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা অনুসরণ করে অফিসে আসা-যাওয়া করতে হবে এবং অফিসে অবস্থান করতে হবে। এ সময় তাদের সতর্কতা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে। জাতীয় সঞ্চয়ের বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর উপপরিচালকেরা বিষয়গুলোর তদারকি করবেন। আর দায়িত্ব পালনকালে যাতায়াতের সময় কর্মচারীদের পরিচয়পত্র ও এই আদেশের কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
ছুটি থাকায় সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মচারীরা অফিসে আসছিলেন না, ফলে সঞ্চয়পত্রের অনেক গ্রাহক মুনাফাও পাচ্ছিলেন না। এই পরিস্থিতিতে মুনাফা না পাওয়ায় কষ্ট হচ্ছিল বলে অভিযোগ করে যাচ্ছিলেন গ্রাহকেরা। গত ১২ এপ্রিল রোববার এ নিয়ে প্রথম আলো অনলাইনে ‘সঞ্চয়পত্রের মুনাফা জমা হচ্ছে না গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পর ছুটির মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মচারীদের গত সোমবার ডেকে পাঠায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় সপ্তাহে এক দিন অফিস খোলা রাখার। ওই সিদ্ধান্তের আলোকে আনুষ্ঠানিক আদেশ হয় বুধবার।
জানতে চাইলে সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামছুন্নাহার বেগম বুধবার রাতে মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘'যারা অনলাইনের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ১ জুলাইয়ের পর সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের অনেকে মুনাফা পাচ্ছিলেন না। সপ্তাহে এক দিন অফিস রাখার সিদ্ধান্ত হওয়ায় এখন সমস্যা কেটে যাবে।’
সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকেরা মুনাফা পেয়েছেন ১৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। গত জানুয়ারিতে মুনাফার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। সাত মাসের গড় হিসাব বলছে, প্রতি মাসে ২ হাজার ৬১১ কোটি টাকা করে মুনাফা পান গ্রাহকেরা।
মোটা দাগে চার ধরনের সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকই দেশে বেশি। এগুলো হচ্ছে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের সব শাখা, সঞ্চয় ব্যুরো, ডাকঘর এবং নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো (লিঙ্কড ব্যাংক) থেকে গ্রাহকেরা সঞ্চয়পত্র কিনে থাকেন।
২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে প্রতি মাসের শুরুতেই ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে আগের মাসের মুনাফার টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয়ে আসছে। কিন্তু চলতি মার্চ মাসে গ্রাহকদের ব্যাংক হিসাবে অনেকেরই মুনাফার টাকা জমা হয়নি।
সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মচারীরা জানান, ছুটি থাকার কারণেই এই সমস্যা হয়েছে। এখন প্রত্যেক অফিসের একজন কর্মচারী হিসাব করবেন সংশ্লিষ্ট গ্রাহক কত টাকা মুনাফা পাবেন, আরেকজন কর্মচারী অনুমোদন দেবেন। এরপর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে।
যারা ম্যনুয়ালি সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, তাদের মুনাফার কী হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধিদপ্তরের ডিজি সামছুন্নাহার বেগম বলেন, ‘'করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিরাপত্তার স্বার্থেই এ নিয়ে আপাতত কোনো উদ্যোগ নেওয়া যাচ্ছে না। ম্যানুয়ালি যারা সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন, মুনাফা পেতে তাদের সশরীরে আমাদের অফিসে আসতেই হবে।’ অফিস স্বাভাবিকভাবে খোলার আগ পর্যন্ত এ ধরনের গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান তিনি।

নিউইয়র্কে করোনায় বাংলাদেশী অধ্যাপিকার মৃত্যু

করোনায় মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিন বেড়েই চলেছে এমন এক শহর নিউইয়র্ক।  এবার সেখানের করোনার মৃতের সংখ্যা বাড়াল পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার এক সাবেক অধ্যপিকার মৃত্যুতে। বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটার দিকে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। করোনায় মৃত ঐ অধ্যাপিকার নাম তাহেরা আক্তার। তিনি ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের সরদারপাড়া মহল্লার সাবেক অধ্যক্ষ শাহাদত হোসেনের স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অধ্যাপিকা তাহেরা আক্তার জাহান ও তার স্বামী সাবেক অধ্যক্ষ শাহাদাত হোসেন বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন সময বিভিন্ন সরকারি কলেজে চাকরি করেছেন। ওই দম্পতি অবসরে যাওয়ার পরে গত তিন বছর আগে আমেরিকায় চলে যান। সেখানে তারা নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করেন। সম্প্রতি তাহেরা আক্তার কিডনিজনিত রোগে ভুগছিলেন। তাই তার চিকিৎসার কারণে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে যাতায়াত করতেন।
হাসপাতলে যাতায়াতের সময় এক পর্যায়ে ওই দম্পতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। গত এক সপ্তাহ ধরে শহরের আরেকটি হাসপাতালে করোনা ইউনিটে দু'জনই আইসোলেশনে ছিলেন। একপর্যায়ে তাহেরা আক্তারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বুধবার দুপুর তিনটার (বাংলাদেশ সময়) দিকে মারা যান। এদিকে করোনায় আক্রান্ত তার স্বামী শাহাদাত হোসেন একই হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার অবস্থা অনেকটা উন্নতির দিকে।

নিহতের ভাতিজা বিপু আহমেদ জানান, তার চাচা ও চাচী দীর্ঘ তিন বছর ধরে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করেন। চিকিৎসার জন্য ওই শহরের একটি হাসপাতলে যাতায়াত করার সময় তারা করোনায় আক্রান্ত হন। এতে তার চাচী মারা যান। তবে তার চাচার শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটাই ভালো।

সৌদিতে করোনা কেড়েছে ১৫ বাংলাদেশির প্রাণ, আক্রান্তদের নিয়ে উদ্বেগ

ফাইল ছবি
সৌদি আরবে প্রাণঘাতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ১৫ বাংলাদেশি মারা গেছেন। দেশটিতে (১৫ এপ্রিল পর্যন্ত) মোট মৃতের সংখ্যা ৭৯। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করোনা সেলে থাকা তথ্য মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশেই প্রবাসী বাংলাদেশি করোনা আক্রান্ত রয়েছেন। আক্রান্তের বিচারে পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্র কাতার এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশিদের মৃত্যুহার সৌদি আরবে সবচেয়ে বেশি। এক সপ্তাহ আগে সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূখপাত্রের এক ব্রিফিংয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ন্যাশনালিটির প্রসঙ্গে বলা হয়- করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত ব্যক্তিদের বেশিরভাই নন-সাউদি। তারা কর্মসূত্রে সৌদি আরবে থাকলে মূলত অন্য দেশের নাগরিক। দআক্রান্তদের মধ্যে ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ সৌদি আরবের বাইরে নাগরিক এমনটা জানিয়ে ঢাকায় পাঠানো রিয়াদ মিশনের রিপোর্ট বলছে, সরকারী সূত্রে এক সপ্তাহ আগে ৮২ বাংলাদেশি আক্রান্ত বলে তাদের জানানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কমিউনিটি সূত্রে য খবরা খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে এই সংখ্যা আরেকটু বেশি বলে ধারণা মিলেছে।
দেশটিতে আক্রান্ত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই ডরমিটরিতে থাকেন জানিয়ে ঢাকার করোনা সেলে কাজ করা এক কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, ডরমিটরিতে এক রুমে ৭-৮জন পর্যন্ত থাকেন। ফলে একজন আক্রান্ত হলে অন্যদেরও ঝুঁকি বাড়ে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশ কমিউনিটির বরাতে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ মিশনের ঢাকায় পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে, আক্রান্তের যে সংখ্যা (৮২) পাওয়া গেছে তা প্রকৃত চিত্রের প্রতিফলন নয়। প্রকৃত অর্থে আক্রান্তে সংখ্যা আরেকটু বেশি হবে। রিপোর্টে জানানো হয়েছে- আক্রান্তের বিষয়ে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য মতে, ৭২ জন পুরুষ আর ১০ জন নারী। বেশিরভাগ অর্থাৎ ২৭ জনের বাস রিয়াদে। অন্যরা দাম্মাম, মদীনা, আল কাসিম, তাবুক জেদ্দাসহ বিভিন্ন এলাকায়। করোনা ভয়াবহতা রোধে সৌদি আরবের বাদশাহ দেশটিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করেছেন। পবিত্র দুই মসজিদ মক্কা ও মদীনাসহ সর্বত্র জমায়েত বন্ধ রয়েছে। বৈশ্বিক ওই সঙ্কটের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় সৌদি সরকার জেলে থাকা বিদেশি এবং ওমরাহ করতে যেতে আটকা বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসাবে ৩৬৬ বাংলাদেশিকে নিজ খরচে স্পেশাল বিমান দিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছে দিয়েছে সৌদি সরকার। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, করোনার প্রভাবে দেশটিতে থাকা প্রবাসীরা নানারকম ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবৈধ এবং নানা অপরাধে আটক একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশে ফিরতে বাধ্য হতে পারে।

কিছু বাংলাদেশ এরইমধ্যে বেকার হয়ে পড়েছেন, তাদের ত্রাণ দিচ্ছে মিশন: এদিকে সৌদি আরবে এরইমধ্যে কিছু বাংলাদেশি কর্মহীন হয়ে অর্থ ও খাবারের কষ্টে পড়ে গেছেন।  রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে সেই সব অভিবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে খাদ্য বিতরণ শুরু হয়েছে। করোনার কারণে গত ২৩ মার্চ থেকে চলমান কারফিউতে বাংলাদেশীদের অনেকেই অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছেন জানিয়ে দূতাবাসের রিপোর্টে বলা হয়- বাংলাদেশ সরকারের সহায়তার অংশ হিসেবে দূতাবাস সঙ্কটে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ফুড বাস্কেট বিতরণ কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওই বিতরণ কার্যক্রমে কমিউনিটির সঙ্গে মিলে তৈরি করা তালিকা ধরে প্রত্যেককে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি ডাল, ১.৫ লিটার তেল, লবন ও সাবান দেয়া হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, করোনা পরিস্থিতিতে যেন কোন বাংলাদেশী অভিবাসী চাকুরিচ্যুত না হন এজন্য বিভিন্ন কোম্পানির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে দূতাবাস। তারপরও  কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি খাদ্য সঙ্কটে পড়েন বা  বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হন তাদের জরুরি ভিত্তিতে দূতাবাসের ইমেইল অথবা হোয়াটস আ্যপে তথ্য প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। দূতাবাসের সরবরাহ করা তথ্য মতে, কেবল রিয়াদ নয়, জেদ্দাসহ সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলেও খাদ্যকষ্টে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝেও খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।  জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ফয়সল আহমেদ এবং তাঁর সহকর্মীরা ওই অঞ্চলের সহায়তা কার্যক্রম দেখভাল করছেন।

উৎকণ্ঠা নিয়ে হাওরে ধান কাটা শুরু করোনা ও অকাল বন্যার শঙ্কা শ্রমিকেরও সংকট

উৎকণ্ঠা নিয়ে হাওরে ধান কাটা শুরু
করোনা ও অকাল বন্যার শঙ্কা নিয়ে হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের দিরাই, শাল্লা, ধর্মপাশা ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব এলাকার সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনও কৃষক ও শ্রমিকদের উৎসাহ জোগাচ্ছেন ধান কাটতে।
অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : কিশোরগঞ্জ :কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী- এ চার উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলার মূল হাওরাঞ্চল। ইতোমধ্যে হাওরে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবে ধান কাটার শ্রমিক না আসায় বিপাকে পড়েছেন হাওরের কৃষক। এ অবস্থায় কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নিজেই হাওরে গিয়ে ধান কাটছেন। নিজ সংসদীয় আসনের মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে শুরু করেছেন ধান কাটা। তার এ কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে হাওরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এমপির নেতৃত্বে বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২৫০ একর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে অষ্টগ্রামে হাওরে ধান কেটে উপজেলায় এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন এমপি তৌফিক। তার আহ্বানে এলাকার ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সাত দিন ধরে ধান কাটছেন। বৈশাখ মাসজুড়ে চলবে এ কর্মসূচি। এতে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শেখ তারিফ আহাম্মেদ, যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান কাঞ্চন, বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।

সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, হাওরে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবার নজির সৃষ্টি করবে।

সুনামগঞ্জ :হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের একমাত্র ফসল বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার ধান কাটতে কৃষক-শ্রমিকের পাশাপাশি হাজারো শিক্ষার্থী নেমেছেন ধান কাটতে। ভয় কাটিয়ে পাকা ধান ঘরে আনার যুদ্ধে নেমেছেন লাখো মানুষ। জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার হাওরে এবার বোরোর আবাদ হয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টন। দিরাই উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কৃষক আবদুস ছাত্তার জানান, মঙ্গলবার থেকে ধান কাটা শুরু করেছেন। অন্যান্য বছর শ্রমিকরা গৃহস্থের বাড়িতেই থাকতেন। এবার করোনার ভয়ে গ্রামের পাশেই তাদের থাকার জন্য প্যান্ডেল করা হয়েছে। রাজাপুর গ্রামের কৃষক কফিল উদ্দিন জানান, ধান কাটা শ্রমিকের সংকট রয়েছে তাদের এলাকায়। অনেকে করোনার ভয়ে আসছেন না ধান কাটতে। শাল্লা উপজেলা চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী জানান, গার্মেন্ট শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীরাও ধান কাটতে নেমে গেছেন। তবে ভয় হচ্ছে অকাল বন্যার। শিক্ষার্থী দীপজয় গোপ বলেন, শিক্ষার্থীরা মিলে এই উপজেলায় একাধিক গ্রুপ ধান কাটার কাজে নেমেছে। যেসব কৃষক শ্রমিক সংকটে ভুগছেন, তাদের ধান কেটে দিচ্ছেন এবং কম পারিশ্রমিক নিচ্ছেন তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক সফর উদ্দিন জানান, আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে ১৭ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২০ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় ধানে ৮০ ভাগ চাল হলেই কেটে আনতে হবে। এবারও বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক আনতে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্ব স্ব উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কাছ থেকে সনদ নিয়ে ইতোমধ্যে তিন হাজার ২০০ শ্রমিক এসেছেন। আরও ১২ হাজার ২৯৪ শ্রমিক আসবেন। সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বেশি পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, ঝড়-বৃষ্টি ও অকাল বন্যার শঙ্কা রয়েছে। এ জন্য দ্রুত ধান কাটতে হবে।

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) :উপজেলায় মঙ্গলবার বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় পাকা ধান আগেভাগেই কাটা শুরু হয়েছে। এ জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও প্রচার চালানো হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ধান কাটায় কৃষকদের সঙ্গে অংশ নেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, ইউএনও শামীম আল ইমরান, ওসি ইয়াছিনুল হক প্রমুখ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, 'বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের পেকে যাওয়া ধান দ্রুত কাটার আহ্বান জানাচ্ছি। এখানে শ্রমিকের সংকট হবে না। উপজেলা প্রশাসন থেকে কৃষি শ্রমিকদের ত্রাণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য অনেকেই ধান কাটায় আগ্রহী হবেন।

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) :ধর্মপাশায় হাওরে বোরোর বাম্পার ফলন হলেও করোনার কারণে উজান থেকে আসছেন না শ্রমিক। যেসব স্থানীয় শ্রমিক ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন, তাদের মজুরিও বেশি। বিচরাকান্দা গ্রামের কৃষক আহম্মদ আলী জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে উজানের শ্রমিকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, আগাম বন্যার আশঙ্কায় কৃষককে দ্রুত ধান কাটতে বলা হয়েছে। ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব বলেন, 'অন্য এলাকা থেকে যেসব শ্রমিক আসবেন তাদের আলাদা রাখার জন্য কৃষকদের বলা হয়েছে।

কী শিক্ষা দিচ্ছে করোনা

কী শিক্ষা দিচ্ছে করোনা
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস যেন প্রকৃতির হয়ে মানুষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে। ওলটপালট করে দিয়েছে গোটা বিশ্ব। এটাই বোধ হয় প্রকৃতির প্রতিশোধ। আমরা মানুষ এতদিন নির্বিচারে প্রকৃতির ওপর ধ্বংসলীলা চালিয়েছি; আকাশ-বাতাস বিষময় করেছি; নদনদী দূষণ করেছি। সবই আমরা করেছি সভ্যতার অগ্রগতির নামে; আমাদের ভোগবিলাসের উপকরণ জোগাতে। কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ব্যয় করে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন করেছি, বড় বড় পরিকল্পনা করেছি; কাজের কাজ হয়নি কিছুই। সর্বংসহা ধরিত্রী এবার গর্জে উঠে দেখিয়ে দিচ্ছে- এ বিপুলা পৃথিবীতে মানুষ কত অসহায়!
সারা পৃথিবী আজ অবরুদ্ধ। এক দেশ থেকে আরেক দেশ দূরে থাক, নিজ দেশেও আমরা চলাচল করতে পারছি না। সবাই ঘরে বন্দি। করোনার এটাই সংক্রমণ প্রতিরোধের শ্রেষ্ঠ পন্থা। যেহেতু প্রতিদিনের প্রচণ্ড ব্যস্ততা শিকেয় তুলে এখন আমরা বাড়িতে বসে আছি; একবার ভেবে দেখি, এই করোনা আমাদের কী শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে?
যদিও জানি, ইতিহাসের শিক্ষাই হচ্ছে- ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা না নেওয়া। তবু একদিন যখন করোনার কাল কেটে যাবে, আমরা নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করব, তখন কি আমরা মনে রাখব কিছু কথা?
এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার কেবল মানুষের একার নয়। পশু-পাখি, জীব-জন্তু, নদী-বন- সবারই সমান অধিকার আছে এ পৃথিবীতে থাকার। আমরা আমাদের ভোগ-লালসার জন্য এসব ধ্বংস করতে পারি না। বর্তমান সময় বলে দিচ্ছে, কী করলে বৈশ্বিক উষ্ণতা কমে। প্রকৃতির সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করেই আমাদের বাঁচতে হবে। আকাশ কি কখনও এত নীল দেখেছি আমরা? অথবা নদীর পানি এত স্বচ্ছ কিংবা বাতাস এত বিষমুক্ত?
দৈনন্দিন জীবনাচরণে এখন আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হচ্ছে। বারবার হাত ধুয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হচ্ছে। সুস্থ জীবনের জন্য, রোগ-বালাই থেকে দূরে থাকার জন্য এসব অভ্যাস কি আমরা স্বাভাবিক সময়ে বজায় রাখতে পারি না?
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ বিপদের সময়ে একে অন্যকে সাহায্য করে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের দিনে, দাঙ্গা বা দুর্ভিক্ষের কালে অসহায় মানুষকে সহায়তা করতে মানুষের অভাব হয়নি। এবারও আমরা দেখছি খেটে খাওয়া মানুষ, যারা দিন এনে দিন খায়, তাদের খাদ্য সহায়তা দিতে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ ব্যক্তিরা এগিয়ে এসেছেন। স্বাভাবিক সময়ে আমরা কি পারি না, আমাদের চারপাশের দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে? নিজে একা সমৃদ্ধির মধ্যে বেঁচে থাকার মধ্যে কোনো আনন্দ আছে? কোনো তৃপ্তি আছে?
এখন আমরা পুরো সময়টাই পরিবারের সঙ্গে কাটাচ্ছি। নানা কাজের অজুহাতে আমরা পরিবারের সঙ্গে, ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানোর সময় কতটা কমিয়ে ফেলেছিলাম! নতুন জীবনে কি আমরা নিয়ম করে ঘরে সবাই মিলে সময় কাটাব না?
এখন উপলব্ধি করি, স্বাভাবিক জীবনে আমরা অনেক কিছুই না করলেও পারি। তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে বাইরে ঘোরাঘুরি। তেমন প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর অভ্যাস যদি আয়ত্ত করতে পারি, তবে যানবাহনের ব্যবহার কম হবে; পরিবেশ দূষিত হবে না। ঘরে বসে লেখাপড়া করতে পারব, গান শুনতে পারব, কত কাজ গোছাতে পারব!
সাম্প্রতিক একটা অমানবিক ঘটনায় বিপর্যস্ত বোধ করেছি। পোশাক শিল্পের মালিকরা কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে হাজার হাজার কর্মীকে ঢাকা নিয়ে এলেন। চাকরি বাঁচাতে তারা হেঁটে, চরম কষ্ট করে এসে দেখলেন, কারখানার গেট বন্ধ। আরও কয়েকদিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এ আচরণের দায় কে নেবে? কোনো সমন্বয় ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো? ওই দিন কি তাদের পাওনা বেতন দেওয়া যেত না?
এবার প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতি চালু রাখার জন্য যে প্যাকেজগুলো ঘোষণা করেছেন, তা অত্যন্ত সুবিবেচনাপ্রসূত। সেখানেও কিন্তু সবেচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন পোশাক শিল্প মালিকরা। এ প্যাকেজের টাকা যেন কেবল কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য ব্যবহূত হয়- তার জন্য কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা রাখতে হবে। দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত বলে পোশাক শিল্প মালিকদের স্বেচ্ছাচারিতা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যাচ্ছে।
আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি যে কৃষি- তাকে বাঁচাতে হবে। কৃষক বাঁচলে আমরা বাঁচব- এটা যেন আমরা ভুলে না যাই। গ্রামের লাখ লাখ কৃষক ও হাঁস-মুরগি-মাছের খামারিরাও সরকারের বিশেষ প্রণোদনা পাবে জেনে স্বস্তিবোধ করছি। সেদিন একজন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ লিখেছেন, সরকারের নানা প্রণোদনা থেকে ধনীরাই আরও লাভবান হবে। এটা যেন মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এখনকার সংকটময় সময়ের নায়করা হলেন আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের সেবা করে চলেছেন। এদের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার সীমা নেই।
এর মধ্যে আমরা প্রবেশ করেছি নতুন বছরে। আমরা নিশ্চিত- এ কৃষ্ণপক্ষের অবসান হবেই। ১৪২৭ আমাদের উপহার দেবে নতুন এক পৃথিবী। আমাদের কামনা -অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
নাট্যব্যক্তিত্ব

নতুন বিপদ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে গোপনে ফিরছে মানুষ

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে গোপনে ফিরছে মানুষ
লকডাউনের নিষেধ মানছে না অনেকেই। পণ্যবাহী ট্রলারে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে দলে দলে বাড়ি ফিরছে মানুষ। পটুয়াখালীর ছবি- মুফতী সালাহউদ্দিন
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন গার্মেন্টস ও শিল্প-কারখানায় কর্মরত শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিয়ম ভেঙে গোপনে দল বেঁধে বিভিন্ন জেলায় নিজ বাড়ি ফিরছেন। গত কয়েক দিন তাদের বাড়ি ফেরার ঘটনায় এলাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে স্থানীয়দের মাঝে।
সমকালের অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর- কিশোরগঞ্জ :গত সোমবার গভীর রাতে কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম এলাকায় একটি পিকআপ ভর্তি মানুষ বাড়ি ফেরে। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাদের কাছে এত রাতে কোথা থেকে এসেছে জানতে চাইলে তারা সঠিক তথ্য না দিয়ে কয়েকজনকে নামিয়ে দিয়ে অন্যদের নিয়ে দ্রুত চলে যায়। একইভাবে নদী ও সড়কপথে করিমগঞ্জ, বালিখলা, বাজিতপুর, নিকলী হয়ে অনেক শ্রমিক হাওরাঞ্চলে প্রবেশ করে নিজ নিজ গ্রামে ঢুকছে।

কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবদুস সোবহান বলেন, পুলিশ কঠোরভাবে মহাসড়ক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এ ধরনের ঘটনা নজরে এলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আক্রান্ত এলাকা থেকে এভাবে মানুষ  এলে করোনার কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হতে পারে বলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) জেলা সভাপতি ডা. দীন মোহাম্মদসহ স্থানীয় কয়েক চিকিৎসক জানান।

পটুয়াখালী :গত ৪ এপ্রিল থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে সড়ক ও নদীপথে কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষ আসে পটুয়াখালী সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। স্থানীয় প্রশাসন এসব লোককে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিলেও কেউ তা মানছে না। এমনকি তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও চলাচল করছে না। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর মানুষ। গত ৯ এপ্রিল দুমকীতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা এক গার্মেন্টস কর্মীর মৃত্যু ও তার বড় বোন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাংগীর আলম জানান, যারা অন্য জেলা থেকে আসছে তাদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখার বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর :গত এক সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জ থেকে শতাধিক ব্যক্তি লক্ষ্মীপুরে এসেছে। এর মধ্যে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রায় ৫০ জনকে খুঁজে বের করে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে। অন্যরা আত্মগোপনে আছে। এর মধ্যে অনেকেই পাড়া-মহল্লা, হাটবাজারে অবাধে বিচরণ করছে। এতে আতঙ্ক বাড়ছে জেলাব্যাপী। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে রামগঞ্জ ও ঢাকা থেকে রামগতিতে আসা করোনায় আক্রান্ত দুইজন শনাক্ত হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী গাড়ি ও ট্রলারযোগে কৌশলে তারা আসে।

মাগুরা :গত ৪-৫ দিনে নারায়ণগঞ্জ থেকে কয়েকশ' মানুষ মাগুরার বিভিন্ন স্থানে ঢুকেছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, মাঠ পর্যায়ে কর্মী নামিয়ে তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ পর্যন্ত জেলায় বিদেশফেরত ৪০০ জনের কোয়ারেইটাইন শেষ হয়েছে। এখন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৬৭৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে।

কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) :নারায়ণগঞ্জ থেকে শ্রমজীবীদের আসা কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছে না। এতে কাশিয়ানী উপজেলায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন স্থানীয়রা। মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট থাকলেও গ্রামের বিকল্প রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করেছে তারা। ইউএনও সাব্বির আহমেদ বলেন, বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিদের ঘরে থাকতে বলছি। কেউ কোয়ারেন্টাইন অমান্য করলে সাজা দেওয়া হচ্ছে।

পটিয়া (চট্টগ্রাম) :ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে অন্তত দেড় শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা এসেছেন পটিয়ায় নিজ বাড়িতে। এদের অনেকের এলাকায় আসার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে হোম কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও বেশিরভাগই সে নিয়ম মানছে না। ইউএনও ফারহানা জাহান উপমা বলেন, ব্যাংকারদের অনেকেই বাইরে ঘোরাঘুরি করছে বলে অভিযোগ পাচ্ছি। কয়েকজনকে জরিমানাও করা হয়েছে।

শিবালয় (মানিকগঞ্জ) :ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে গার্মেন্টস ও কল-কারখানার শ্রমিকরা গোপনে বাড়িতে এসে লুকিয়ে থাকলেও এদের পরিবারের লোকজন এলাকার মানুষদের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করায় এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। ইতোমধ্যে উপজেলায় একজনের দেহে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে। ইউএনও এএফএম ফিরোজ মাহমুদ জানান, কেউ হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ অমান্য করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসে আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসে আরও ৪ বাংলাদেশির মৃত্যু
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। ১৫ এপ্রিল (বুধবার) দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় তাদের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছেন তাদের স্বজনরা। তারপরও অনেকেরই খবর আসছে না সংবাদ মাধ্যমে। বিশেষ করে নারীদের।
সরকারি সূত্রে সঠিক কোনও পরিসংখ্যান প্রকাশিত না হলেও স্যোশাল মিডিয়ার পরিসংখ্যানেও রয়েছে মতভেদ। করোনায় মৃতদের তালিকা করারও চেষ্টা করছেন সংবাদকর্মীরা। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৯৪ জন বাংলাদেশি এই মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারীরা হচ্ছে:-
আব্দুন নূর
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন পূর্ব লন্ডনের ইস্টহামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুন নূর। তিনি গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে নিউহাম হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী, ৪ ছেলে ১ মেয়ে রেখে গেছেন। তিনি জগন্নাথপুর বৃটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তার দেশের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার, জগন্নাথপুর পৌরসভার হাবিবুর গ্রামে। হাবিবুর রহমান
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের বো এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান। তিনি গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গরবার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটের সময় লন্ডন হমাটন হসপিটালে ইন্তেকাল করেন। তিনি গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। তার দেশের বাড়ি সিলেটের ওসমানী নগর উপজেলার, সাদিপুর ইউনিয়নের সাদিপুর গ্রামে।
সুরুজ আলী
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মৃত্যুবরণ করেছেন নিউহামের বাসিন্দা সুরুজ আলী। তিনি ১৫ এপ্রিল বুধবার সকালে হমাটন হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। তিনি স্ত্রী ২ ছেলে ২ মেয়ে রেখে গেছেন। তার দেশের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার সাবাজপুর গ্রামে।
শফিকুল ইসলাম
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইংল্যান্ডের কেন্টে মৃত্যুবরণ করেছেন শফিকুল ইসলাম নামের এক ইতালিয়ান বাংলাদেশি। তিনি গত ১২ এপ্রিল রবিবার স্থানীয় একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ইউকের সাধারণ সম্পাদক জলিল খান জানিয়েছেন, তিনি গত ৪ বছর যাবত কেন্টের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন। তার দেশের বাড়ি নারায়নগঞ্জ জেলায়। যুক্তরাজ্যে তার কোনও নিকট আত্মীয় স্বজন নেই বলে জানিয়েছেন জলিল খান। তবে দেশে মৃত শফিকুল ইসলামের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মরহুমের জানাজা ও দাফন রেস্টুরেন্ট মালিক করছেন বলে জানাগেছে। তবে ওই রেস্টুরেন্টের মালিক তার নাম প্রকাশ করেননি।
বিডি প্রতিদিন/কালাম

নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে বিমান চলাচলে অচলাবস্থার মধ্যে সৌদি আরব থেকে তিন শতাধিক বাংলাদেশি ঢাকায় ফিরেছেন।


মা, বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত ডা. মঈন

করোনায় আক্রান্ত হলে ৫, মৃত্যু হলে ৫০ লাখ টাকা পাবেন ব্যাংকাররা

বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি
সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেও ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাংকাররা। নিজের জীবন এবং পরিবারকে ঝুঁকিতে রেখে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা এবং বিশেষ অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বুধবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেও যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন তাদের মধ্যে কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে পদমর্যাদার ভিত্তিতে তাদেরকে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্য বীমা নিশ্চিত করতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সে অর্থ পরিশোধ করবে ব্যাংক। পাশাপাশি তার সার্বিক চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে।
সাধারণ ছুটির সময় দায়িত্ব পালনের কারণে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীর মৃত্যু ঘটলে বিশেষ স্বাস্থ্য বীমার জন্য নির্ধারিত অংকের পাঁচগুণ বিশেষ অনুদান হিসেবে তার পরিবারকে প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক তার অন্য কোনো দায়-দেনার সঙ্গে বিশেষ অনুদান সমন্বয় করতে পারবে না।
এছাড়া ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ সুবিধা যথানিয়মে প্রদান করতে হবে। সাধারণ ছুটিকালীন সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সময় কিংবা দায়িত্ব পালনের সময় অন্য যে কোনো দুর্ঘটনার শিকার হলে তার চিকিৎসা প্রকৃত ব্যয় বহন করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।
এই নির্দেশনা সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির তারিখ থেকে কার্যকর হবে এবং সাধারণ ছুটির শেষ হওয়ার পরবর্তী এক মাস পর্যন্ত আক্রান্তদের বিশেষ স্বাস্থ্য বীমা কার্যকর থাকবে।
এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য ঝুঁকি ভাতা ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণ ছুটির মধ্যে এক মাসে কেউ ১০ দিন অফিস করলে মাসিক মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ বোনাস হিসাবে পাবেন।

করোনায় ভিডিওকলে চিকিৎসা দিতে এলো ‘হ্যালো ডক’

ছবি সংগৃহীত
ছবি সংগৃহীত
দেশে প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করেছে ভার্চুয়াল হাসপাতাল ‘হ্যালো ডক’। রোগীরা ঘরে বসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। করোনা রোগের ক্রান্তিলগ্নে এই সেবাটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেয়া হবে।
করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণের কারণে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচুর বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের জন্য এই হাসপাতাল চালু হওয়ার খবর সত্যিই সুসংবাদ।
মঙ্গলবার অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হ্যালো ডকের উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। যেখানে বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মটিতে অভিজ্ঞ ডাক্তাররা অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করবেন।
উদ্যোক্তারা বলছেন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ডাক্তারদের ৮০ শতাংশ সেবাই ঘরে বসে অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রদান করা সম্ভব। এ ছাড়া এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘরে অবস্থান করে রক্ত পরীক্ষা সেবা ও জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা গ্রহণ করা যাবে।
দেশের প্রথম লাইফস্টাইল অ্যাপ ‘কথা’-এর সঙ্গে মিলে এই ভার্চুয়াল হাসপাতালটি তৈরি করেছে আমার ল্যাব এবং অ্যারগো ভেনচারস লিমিটেড নামে অপর দুটি কোম্পানি।
প্রাথমিকভাবে আমার ল্যাবের ফেসবুক পেজ এবং কথা অ্যাপ থেকে হ্যালো ডকের সেবা নেয়া যাবে।
সেবা গ্রহণ অত্যন্ত সহজ ও সেবা গ্রহণ করার জন্য নতুন কোনো অ্যাপ বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে হবে না। একজন রোগী ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের স্মার্ট চ্যাট বটের মাধ্যমে সেবাটি গ্রহণ করতে পারবেন।

Tuesday, April 14, 2020

করোনা ছড়িয়ে পড়েছে ৩৭ জেলায়

করোনা ছড়িয়ে পড়েছে ৩৭ জেলায়
করোনা ভাইরাসের প্রতীকি ছবি।
বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের থাবায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও থমকে গেছে। দিন দিন বেড়েই চলেছে করোনায় নতুন নতুন সংক্রমনের সংখ্যা। তবে অদৃশ্য এ ভাইরাসের মোকাবেলায় গত ২৫ মার্চ থেকে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জেলাও লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আইইডিসিআর ও স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয়ের নিয়মিত বিফ্রিংয়ে ১৪ এপ্রিল এ গত ২৪ ঘন্টায় ২০৯ জন নতুন করোনায় আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ দিন মৃত্যু বরণ করেন ৭ জন।
এখন পর্যন্ত ৩৭ জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে আইইডিসিআর। তালিকার তথ্য মতে ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ঢাকা বিভাগের ঢাকা শহরেই ৩৮৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা অন্যান্য জেলাগুলোতে আরো ২৯১ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। যারমধ্যে গাজীপুরে ৩৫ জন, কিশোরগঞ্জে ১০ জন, মাদারীপুরে ১৯ জন, মানিকগঞ্জে ৫ জন, নারায়ণগঞ্জে ১৪৪ জন, মুন্সীগঞ্জে ১৭ জন, নরসিংদীতে ২০ জন, রাজবাড়ীতে ৬ জন, টাঙ্গাইলে ৭ জন, শরীয়তপুরে ১ জন, গোপালগঞ্জে ৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রামে ১৮ জন, কক্সবাজারে একজন, কুমিল্লায় ৯ জন, ব্রাহ্মনবাড়িয়া ৬ জন, লক্ষীপুরে একজন, চাঁদপুরে ৬ জন।
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জে ও সিলেট জেলায় একজন করে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে।
রংপুর বিভাগের রংপুরে ২ জন, গাইবান্ধায় ৬ জন, নীলফামারীতে ৩ জন, লালমনিরহাটে একজন ও ঠাকুরগাঁয়ে ৩ জন।
খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলায় এ দিন এক জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ জেলায় ৫ জন, জামালপুরে ৬ জন, নেত্রকোনায় একজন ও শেরপুরে ২ জন।
বরিশাল বিভাগের বরগুনায় ৩ জন, বরিশালে ২ জন, পটুয়াখালীতে ২ ও ঝালকাঠিতে ৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।
দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগী ঢাকা শহরে ৩৮৩ জন। এই শহরের ৮৫টি এলাকায় কোভিড-১৯-এর রোগী পাওয়া গেছে।

ইউপি সদস্যকে গ্রেপ্তার করল দুদক

লকডাউন কোন দেশ কীভাবে তুলছে