Tuesday, March 31, 2020

ঢাকা মেডিকেলে করোনা টেস্ট ফ্রি, ফল ৩ ঘণ্টায়

সংস্করণ
করোনা টেস্ট ,
করোনা টেস্ট , ছবি সংগৃহীত
ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ভাইরোলজি বিভাগে বিনামূল্যে আজ থেকে শুরু হচ্ছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষার কার্যক্রম। দেহে করোনার উপসর্গ থাকা রোগীরা এ পরীক্ষার তিন ঘণ্টার মধ্যেই ফল জানতে পারবেন।
বুধবার সকালে টেলিফোনে যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসিরউদ্দিন।
ঢামেক পরিচালক বলেন, আজ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ভাইরোলজি বিভাগে রোগীদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। তবে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরাই এ সেবা পাবেন। কলেজের চারতলায় ভাইরোলজিস্ট ও জীবাণু বিশেষজ্ঞদের নিয়ে টিম গঠন করে এ পরীক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে বলে জানান পরিচালক।
তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কোনো জরুরি নম্বর নেই। স্বশরীরে হাসপাতালে এসে টেস্ট করাতে হবে।
করোনা পরীক্ষায় কেমন খরচ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা টেস্ট খুবই ব্যয়বহুল। তবে এ পরীক্ষা যেন সহজেই এবং সুলভমূল্যে করা যায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা করাতে পারবেন।
এ পর্যন্ত ঢামেকে করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিনই রোগী আসছে। যাদের করোনার উপসর্গ আছে, তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ পরীক্ষায় কোনো রোগীর যদি করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে, তাকে ঢাকা মেডিকেল ছাড়া সরকারের বরাদ্দ করা হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালেও আজ থেকে শুরু হয়েছে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কার্যক্রম। সেখানে পরীক্ষার ৪ ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে ফল। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে গত মাসের ৮ তারিখে। এ পর্যন্ত ৫১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ জন। মারা গেছেন ৫ জন।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করা সেই চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করা সেই চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত
ছবি: সংগৃহীত
মস্কোর প্রধান করোনাভাইরাস হাসপাতাল পরিদর্শনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সঙ্গ দেয়া চিকিৎসক নিজেই প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার কম্মুনারকা হাসপাতাল সফরে যান পুতিন। তখন চিকিৎসক ডেনিস প্রোটসেনকোর সঙ্গে তার আলাপ হয়েছিল। কথোপকথনের সময়ে দুজনের কারও শরীরে সুরক্ষাসামগ্রী পরা ছিল না। টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ফুটেজে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
ফেসবুকে ওই চিকিৎসক লিখেছেন– হ্যাঁ, করোনাভাইরাস পরীক্ষায় আমার পজিটিভ হয়েছে। কিন্তু আমি কিছুটা ভালো বোধ করছি। নিজ অফিসেই আমি আইসোলেশনে আছি। আমার মনে হয়, চলতি মাসে আমার যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে, সেটি কাজ দিচ্ছে।
আর পুতিন নিয়মিতই করোনাভাইরাস পরীক্ষা করছেন জানিয়ে ক্রেমলিন বলছে, তার সব কিছু ঠিক আছে।
এর আগে বলা হয়েছিল, ভাইরাসসহ যে কোনো অসুস্থতা থেকে পুতিনকে সর্বদা সুরক্ষা দেয়া হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, রোগীদের পরিদর্শনের সময় পুতিন হ্যাজমাত পোশাক ও কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের যন্ত্র রেসপারেইটর পরে আছেন। কিন্তু ওই চিকিৎসকের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এসব খুলে রেখেছিলেন।
এর পর করমর্দন করে ছবিও তুলেছেন তারা। শুক্রবার পুতিন প্রশাসনের একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল ক্রেমলিন। কিন্তু সেই ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সংস্পর্শে আসেননি।

বিএসএমএমইউয়ে করোনা পরীক্ষার ফল মাত্র ৪ ঘণ্টায়

এখন অনেকেই গলাব্যথা, সর্দি, কাশি কিংবা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিগত বছরের মার্চের মাসের তুলনায় এ বছরের মার্চে এসব রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১৪ গুণ। করোনাভাইরাসে আক্রান্তের লক্ষণের সঙ্গে এই লক্ষণের মিল আছে। এ কারণে এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন তিনি হয়তো করোনায় আক্রান্ত। কিন্তু খুব সহজেই যেকেউ চাইলেই পরীক্ষা করতে পারবেন না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন—এমন সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে এই পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। সেখানকার চিকিৎসকেরা রোগীর সঙ্গে কথা বলবেন এবং লক্ষণ বিচার করবেন। চিকিৎসকের যদি সন্দেহ হয় ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত, তাহলেই কেবল তাঁকে পরীক্ষা করবেন। রোগীর নমুনা সংগ্রহের পর চার ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল জানানো হবে। অর্থাৎ দিনে দিনেই ব্যক্তি জানতে পারবেন, তিনি করোনায় আক্রান্ত কি না।
কাল সকাল ৮টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এখানে রোগীদের পরীক্ষা করা হবে। রোগীরা বিনা মূল্যে পরীক্ষা করাতে পারবেন।
বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম রাশেদ উল ইসলাম জানান, করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে আসা ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহের পর চার ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে, নমুনা নেওয়া ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না।
করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে আসা ব্যক্তির মুখের লালা বা নাকের সোয়াব সংগ্রহ করা হয়। ছবি: আসাদুজ্জামানকরোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে আসা ব্যক্তির মুখের লালা বা নাকের সোয়াব সংগ্রহ করা হয়। ছবি: আসাদুজ্জামানআগামীকাল থেকে বিএসএমএমইউয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা শুরু হবে। এই প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয়েছে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ল্যাবরেটরি।
বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাঁরা সর্দি, কাশি, জ্বরে আক্রান্ত, তাঁদের চিকিৎসার জন্য আমরা ফিভার ক্লিনিক নামে আলাদা বিভাগ চালু করেছি। যেকেউ আমাদের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিতে পারবেন। আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে যাঁদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হবে, তাঁদের পরীক্ষা করা হবে।’
যেভাবে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা
বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সি প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে আমাদের চিকিৎসক যাঁকে সন্দেহ করবেন, যাঁর নমুনা পরীক্ষা করার সুপারিশ করা হবে, শুধু সেই ব্যক্তির নমুনা আমরা সংগ্রহ করব। করোনাভাইরাস শনাক্তের এই পরীক্ষা করার জন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তির মুখের লালা কিংবা নাকের সোয়াব নমুনা হিসিবে সংগ্রহ করা হয়।’
নমুনাগুলো প্রসেসিং করার পর করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের কিটসের মাধ্যমে রাইবো নিউক্লিক এসিড (আরএনএ) বের করে আনা হয়। ছবি: আসাদুজ্জামাননমুনাগুলো প্রসেসিং করার পর করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কিটের মাধ্যমে রাইবো নিউক্লিক এসিড (আরএনএ) বের করে আনা হয়। ছবি: আসাদুজ্জামানকরোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা হবে বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে।
বিএসএমএমইউর ল্যাবরেটরি ঘুরে এবং পরীক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ভাইরোলজি বিভাগের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য দুটি মেশিন (যন্ত্র) ব্যবহার করা হয়। একটি যন্ত্রের নাম এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন এবং রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিন। প্রথমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তির মুখের লালা বা নাকের সোয়াব সংগ্রহ করবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ল্যাব টেকনোলোজিস্ট। ওই নমুনা নিয়ে আসা হয় ল্যাবরেটরির করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে। নমুনাগুলো প্রথমে ইনঅ্যাক্টিভেশন করা হয়। এই মেশিনে নমুনা আসার পর তা বিভিন্ন রিএজেন্টের মাধ্যমে তা প্রসেসিং করা হয়।
বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে প্রস্তুত করা নমুনা নিয়ে আসা হয় রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিনে। ছবি: আসাদুজ্জামানবায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে প্রস্তুত করা নমুনা নিয়ে আসা হয় রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিনে। ছবি: আসাদুজ্জামাননমুনাগুলো প্রসেসিং করার পর করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের কিটের মাধ্যমে রাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) বের করে আনা হয়। এরপর আরএনএ-এ কোষের নমুনা ল্যাবরেটরিতে রাখা আরেকটি এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনের রাখা হয়। সংযুক্ত করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। এরপর বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনে প্রস্তুত করা নমুনা নিয়ে আসা হয় রিয়েল টাইম পিসিআর মেশিনে। এই মেশিনের সঙ্গে কম্পিউটার সংযুক্ত রয়েছে। কম্পিউটারে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের সফটওয়্যার চালু করা হয়। যদি নমুনা কোষে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি মেলে, তখন কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে ওঠে, করোনাভাইরাস পজিটিভ। আর যদি নমুনা কোষে করোনাভাইরাস না পাওয়া যায়, তখন করোনাভাইরাস নেগেটিভ লেখা ভেসে ওঠে।
ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম রাশেদ উল ইসলাম বলেন, ‘একজন ব্যক্তির কোষের আরএনএ–তে করোনাভাইরাস থাকলেই তিনি করোনাভাইরাস পজিটিভ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। ল্যাবরেটরির পিসিআর মেশিনের যুক্ত কম্পিউটার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ওই ব্যক্তির করোনাভাইরাস পজিটিভ। আমাদের হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্ত করার ল্যাবরেটরিতে যে কিট ব্যবহার করা হয়, তা চীনের একটি কোম্পানির। কোম্পানির নাম সানশিউর বায়োটেক লিমিটেড। এই কোম্পানির কিট ব্যবহার করে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হচ্ছে।’
এস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন। ছবি: আসাদুজ্জামানএস কো বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন। ছবি: আসাদুজ্জামানভাইরোলজি বিভাগের এস এম রাশেদ উল ইসলাম জানান, ‘করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের ল্যাবরেটরিতে বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস রিস্ক লেবেল যখন দুইয়ের ওপরে হয়, তখন বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিনটি ব্যবহার করা হয়। ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের চার ধরনের রিস্ক লেবেল রয়েছে। রিস্ক এক, রিস্ক দুই, রিস্ক তিন, রিস্ক চার। করোনাভাইরাস রিস্ক দুইয়ের ওপরে। যে কারণে বায়োসেপটিক্যাল প্লাস টু মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এই মেশিন ছাড়া কোনোভাবে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে থাকা ব্যক্তির নমুনা আইসোলেশন কিংবা প্রসেসিং করা সম্ভব নয়।’
বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান সাইফ উল্লাহ মুন্সি বলেন, ‘যে পদ্ধতিতে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হচ্ছে, সেটি হলো পিসিআর পদ্ধতিতে মলিকুলার টেস্ট। এটা রক্তের পরীক্ষা নয়। যেকোনো ব্যক্তি আমাদের হাসপাতালে এসে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষা করতে পারবেন।’
এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে ৩৭ হাজার ৬৩৯ জন মারা গেছেন। বাংলাদেশে মারা গেছেন পাঁচজন, আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ জ

করোনার নমুনা পরীক্ষা হবে ২৮ প্রতিষ্ঠানে

করোনার নমুনা পরীক্ষা হবে ২৮ প্রতিষ্ঠানে
জার্নাল ডেস্ক
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস শনাক্তে আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ২৮টি প্রতিষ্ঠানে করোনা টেস্ট ল্যাব স্থাপিত হবে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমইএস) হাবিবুর রহমান।

|

মঙ্গলবার করোনা নিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।
হাবিবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকায় ৭টি ও ঢাকার বাইরে ৩টি প্রতিষ্ঠানে করোনার টেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকার মধ্যে ৩টি ও বাইরে ৩টি এবং ২০ এপ্রিলের মধ্যে ধার ভেতরে ৪টি ও ঢাকার বাইরে আরও ৬টিসহ মোট ২৮টি স্থানে টেস্টিং ল্যাব স্থাপিত হবে। যেখানে করোনা রোগীদের টেস্ট করা যাবে।
এছাড়া করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা সেবা প্রদানে স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসক দল তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি দিনই এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮০২ জনে। তারা করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজনদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন।
ইতোমধ্যে যারা কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ করেছেন তাদের সাথে শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ থেকে বিরত থাকতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, যারা কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ করেছেন তাদের দেহে আর সংক্রামণ নেই। তারা আপনার আমার মতোই একজন সাধারণ নাগরিক। তাদের সাধারণ জীবন যাপনের সুযোগ দিন।
তিনি বলেন, কারো সর্দি, গলা ব্যথা, কফ, কাশি বা এ জাতীয় কোন অসুস্থতা দেখা দিলে সরাসরি হাসপাতালে না এসে স্বাস্থ্য বাতায়নের নম্বর ১৬২৬৩, ৩৩৩ নম্বর অথবা হটলাইন নম্বর ০১৯৪৪৩৩৩২২ বা ১০৬৫৫ নম্বরে ফোন করে পরামর্শ ও চিকিৎসা সেবা নিবেন।
‘কেউ প্রাইভেট প্র্যাকটিস করা থেকে বিরত থাকবেন না। প্রয়োজনে পিপিই ব্যবহার করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন।’
পিপিই’র বিষয়ে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আশ্বস্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, প্রতিনিয়ত পিপিই সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৭০টি পিপিই দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।

একটি হৃদয়বিদারক ফোন কল




‘তোমার মা ও পরিবারের দেখাশোনা করো, নিজের যত্ন  নিও, তিনদিন পর তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে।‘ মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে ছেলে জিয়াকে ফোনে এমন কথাই বলেছিলেন বার্মিংহামের শীর্ষস্থানীয় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী চৌধুরী আসলাম ওয়াসসান। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর ৬৭ বছর বয়সী চৌধুরী আসলামকে ভর্তি করা হয় শহরের সিটি হাসপাতালে। সেখানে তাকে ইনটেনসিভ কেয়ারে স্থানান্তরের আগে তিনি ছেলেকে শেষ ফোন কলটি করেছিলেন। যেখানে আশা করেছিলেন তিনদিন পর তাদের দেখা হবে। কিন্তু সে সান্ত¦না বাক্যগুলোই এখন পরিবারের সদস্যদের জন্য হয়ে উঠেছে বেদনার বার্তা। ইনটেনসিভ কেয়ারে তার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চিকিতসকরা ভেন্টিলেটরের সুইচ অপ করার সিদ্ধান্ত নেন। মৃত্যুর ঘন্টাখানেক আগে চিকিতসকরা চৌধুরী আসলামের সাথে তার দুই ছেলেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থায় দেখা করার সুযোগ দেন। চৌধুরী আসলামের ভাতিজা জাওয়াদ বলেন, আমরা তখনো আশা করেছিলাম তিনি সেরে উঠবেন।
আমরা তাকে সাহস দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে পেরে উঠেননি। তার মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য বেদনার এবং বার্মিংহামের পাকিস্তানী কমিউনিটির জন্য গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য সুপরিচিত চৌধুরী আসলামের মৃত্যুতে বার্মিংহাম সিটি এমপি খালিদ মাহমুদ ও কাউন্সিলর ওয়াসিম জাফরসহ নানা ব্যক্তিবর্গ শোক প্রকাশ করেছেন। এদিকে চৌধুরী আসলামের স্ত্রী নিজেই এখন করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা এখন বাসায় হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন। মানব জমিন

নিউমোনিয়া মানেই কি কোভিড-১৯?

ছবি: রয়টার্সছবি: রয়টার্সনিউমোনিয়া আমাদের দেশে একটি পরিচিত রোগ। আমাদের দেশের শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের, সব শ্রেণির মানুষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই নিউমোনিয়ার বেশির ভাগই কমিউনিটি অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া। অর্থাৎ সমাজে ও পরিবেশে বিদ্যমান জীবাণুর সংক্রমণে এটি হয়ে থাকে।

নিউমোনিয়ার কারণঅনেক ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, এমনকি ফাঙ্গাসও নিউমোনিয়ার কারণ হতে পারে। করোনাভাইরাসও একধরনের নিউমোনিয়া সৃষ্টি করে থাকে। ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে যে সামান্য কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট অনুভব করলেই আমরা সবাই করোনা সংক্রমণের কারণে কোভিড–১৯ হয়েছে বলে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ছি। এ ধরনের উপসর্গ থাকলে হাসপাতালে রোগী ভর্তি করতে চায় না। পিসিআর টেস্ট করা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব না হলেও আমাদের সবারই কোভিড–১৯ আর সাধারণ নিউমোনিয়া সম্পর্কে সঠিক ও স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন।
সাধারণ নিউমোনিয়া শিশুদের বেশি হতে দেখা যায়। তবে বয়স্ক ও যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারাও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তবে কোভিড–১৯–এর কারণে শিশুদের সাধারণত মৃদু উপসর্গ থাকতে পারে। ৬০ বছরের বেশি বয়স্ক ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস বা ক্যানসার রোগীর কোভিড–১৯ থেকে জটিলতা হয়ে নিউমোনিয়া হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
লক্ষণ
কোভিড–১৯ নিউমোনিয়ায় প্রায় শতকরা ৯৯ ভাগ মানুষের জ্বর থাকে। অর্থাৎ জ্বর ছাড়া করোনা-নিউমোনিয়া হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সঙ্গে থাকে দুর্বলতা, শুকনো কাশি, ক্ষুধামান্দ্য, শরীর ব্যথা, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। অন্যান্য কম উপসর্গগুলো হচ্ছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, পেটব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি করা এবং পাতলা পায়খানা।
করোনা-নিউমোনিয়ার গতি–প্রকৃতি
করোনার প্রাথমিক লক্ষণ থেকে সাধারণত ৫ দিন পর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, ৭ দিন পর হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় এবং ৮ দিনের মাথায় চরম শ্বাসকষ্ট হতে পারে, যাকে বলা হয় অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিসট্রেস সিনড্রোম। এর জন্য নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। জটিলতার মধ্যে চরম শ্বাসকষ্ট (এআরডিএস), অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন, শরীরে অপর্যাপ্ত রক্ত চলাচল ও অক্সিজেনের অভাব হতে পারে।
পরীক্ষা
যেকোনো শ্বাসকষ্টে বুকের একটা সাধারণ এক্স–রে অনেকখানি অর্থ বহন করে। কোভিড–১৯ নিউমোনিয়ায় দুটি ফুসফুসই সমানভাবে আক্রান্ত হয়। দুটি কালো ফুসফুসেই সমভাবে, ছড়ানো ছিটানো বিভিন্ন আকারের সাদা সাদা দাগ দেখা যায়। বুকের সিটি স্ক্যান করা হলে আরেকটু ভালো ক্লু মেলে। এতে ঘষা কাচের মতো দাগ বা গ্রাউন্ড গ্লাস অপাসিটি থাকে। আমাদের জানা দরকার যে ব্যাকটেরিয়ার কারণে নিউমোনিয়া হলে সাধারণত একদিকের ফুসফুসের কোনো একটি অংশ আক্রান্ত হয় এবং ওই অংশ পুরোপুরি বা আংশিক সাদা হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় ফুসফুসে পানিও জমতে পারে, যা করোনা-নিউমোনিয়ায় পাওয়া যায় না।
ইদানীং দেখা যাচ্ছে, শ্বাসকষ্ট হলেই যেকোনো বয়সের রোগীদের কিছু কিছু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে নিরুৎসাহিত করে। আমরা যদি অন্তত জরুরি ভিত্তিতে বুকের একটি এক্স–রে করি, তবে নিউমোনিয়া সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা পেতে পারি এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য একটি দিকনির্দেশনা দিতে পারি। তবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোগীর কাছ থেকে চিকিৎসক ও রেডিওলজি টেকনিশিয়ান উভয়েরই দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
এই রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করলে শ্বেতকণিকার মধ্যে লিম্ফোসাইটের সংখ্যা কম পাওয়া যাবে। প্রথ্রম্বিন টাইম প্রলম্বিত হয় এবং রক্তে ল্যাকটেট ডিহাইড্রোজিনেসের মাত্রা বেড়ে যায়। এগুলোও কিছু তথ্য দেবে।
চিকিৎসা
কোভিড–১৯–জনিত নিউমোনিয়া নিরাময়ের জন্য কোনো কার্যকর চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। শুধু উপসর্গভিত্তিক সাহায্যকারী চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে সংক্রমণের উৎস খুঁজে বের করা, কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ, পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং রোগীকে হাসপাতালে আলাদা করে সাহায্যকারী চিকিৎসা (সাপোর্টিভ কেয়ার) দেওয়া জরুরি। অন্যদিকে কমিউনিটি অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়ায় কফ কালচার করে যথাযথ অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা দিলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে এ ধরনের রোগীর কফ বা যেকোনো নিঃসরণ পরীক্ষা ও সংগ্রহের সময় যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
লেখক: শিশু বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ, আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ঢাকা।

করোনাকে হারাল সেই ভালোবাসা

দুই সীমান্তে চেয়ারে বসে গল্প করছেন দুই প্রবীণ। ছবি: হেনরিক ফ্রাডসেনের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়াদুই সীমান্তে চেয়ারে বসে গল্প করছেন দুই প্রবীণ। ছবি: হেনরিক ফ্রাডসেনের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়াসারা বিশ্বে প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে মারা যাচ্ছে অজস্র মানুষ। চারদিকে ভীতিকর অবস্থা। একের পর এক বিভিন্ন শহর লকডাউন হচ্ছে। অনেক জায়গায় সীমান্ত বন্ধ। করোনার সামাজিক দূরত্বে বিরহ-ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন অনেকে। এরপরও ভালোবাসা সর্বজয়ী। এর প্রমাণ দিলেন একলা থাকা দুই নারী-পুরুষ। একজন থাকেন ডেনমার্কে, আরেকজন জার্মানিতে। ভালোবাসা দুজনের মধ্যে সীমান্তবাধা ভেঙেছে, করোনাকে করেছে জয়।
ডেনমার্কের বাসিন্দা ৮৫ বছরের ইনগা রাসমুসেন ও জার্মান নাগরিক ৮৯ বছর বয়সী কার্স্টেন টুচসেন হ্যানসেনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক বছর দুই আগে থেকে। একলা থাকা এই দুজন গড়ে তোলেন বন্ধুত্বের বন্ধন। প্রতিদিনই তাঁরা দেখা করতেন, গল্প করতেন, ঘুরে বেড়াতেন। তবে করোনার এই বছরে এসে যেন সব ওলট-পালট হয়ে গেছে। লকডাউন আর সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একসঙ্গে আর ঘোরা হচ্ছে না এই প্রবীণ যুগলের।
জার্মানিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৬৩ হাজার। ডেনমার্কে এই সংখ্যা ২ হাজার ৫০০।
সপ্তাহ দুয়েক আগে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর জার্মানি ও ডেনমার্ক তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ভিসাহীন যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। এ কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্য সীমান্ত আর বাধা নয়। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সীমান্তবাধা ফিরে এসেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রায় ২৫ বছর পর। এর মধ্যে চলছে লকডাউন। এতে বিপাকে পড়েন এই প্রবীণ যুগল। কীভাবে দেখা করা যায়, সে উপায় খুঁজতে থাকেন তাঁরা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই একটা উপায় ঠিকই বের করে ফেলেন। বিশ্ব মহামারি তাঁদের যোগাযোগ আটকাতে পারেনি।
রাসমুসেন থাকেন ডেনমার্কের শহর গেলেহাসে। হ্যানসেন থাকেন জার্মান শহর সাডারলাগামে। এই লকডাউনের মধ্যেও প্রতিদিন তাঁরা সীমান্ত শহর আভেনটফটে এসে দেখা করেন। একজন থাকেন নিজের দেশের সীমান্তের পারে, অপরজন থাকেন তাঁর দেশের পারে। চেয়ার পেতে বসে গল্প করেন দুজন। এক সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিজেদের সীমান্তে বসেই সময় কাটান দুজন।
সীমান্তের দুই দিকে নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকা এই যুগলকে প্রথম দেখতে পান নিকটবর্তী শহর টন্ডেরের মেয়র। বাইক চালিয়ে সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তার মাধ্যমেই গণমাধ্যম জানতে পারে ঘটনাটি।
জার্মানির সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাসমুসেন বলেন, ‘জানি বিষয়টা খুব খারাপ হচ্ছে, তবে আমরা তো এটা বদলাতে পারব না।’
খালি হাতে দেখা করতে আসেন না তাঁরা। প্রতিদিনই কিছু না কিছু থাকে হ্যানসেনের হাতে। কখনো এক বোতল লেমনেড, টুকটাক খাবার। অবশ্য রাসমুসেন কফিতেই আসক্ত বেশি। কারণ, তাঁকে গাড়ি চালিয়ে সেখানে আসতে হয়। এভাবে কফি-লেমোনেড পান করতে করতে চলে তাঁদের আড্ডা।

সীমান্তের দুই দিকের দুই দেশ থেকে প্রতিদিন তাঁদের এই দেখা করা—রীতিমতো স্থানীয় তারকায় পরিণত করেছে তাঁদের। করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন ওলট–পালট করলেও এই দুই প্রবীণ যুগল নিজেদের সম্পর্ক ও ভালোবাসাকে সজীব রাখার উপায় খুঁজে নিয়েছেন।

ব্যক্তি থেকে বিশ্ব সবই বদলে দেবে করোনাভাইরাস

ভালো বা মন্দ-যেমনই হোক, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট অভাবনীয়ভাবে বদলে দেবে বিশ্বকে। ছবি: রয়টার্সভালো বা মন্দ-যেমনই হোক, করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট অভাবনীয়ভাবে বদলে দেবে বিশ্বকে। ছবি: রয়টার্সসারা বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে সঙ্গে বদল নিয়ে এসেছে চিন্তায়ও। উন্মোচন করে দিয়েছে এত দিনকার রাষ্ট্রব্যবস্থা ও কাঠামোয় বিদ্যমান গলদগুলো। বিশ্বজুড়েই মানুষ এক নতুন উপলব্ধির সামনে দাঁড়িয়ে। এ কারণে মহামারি–পরবর্তী বিশ্ব যে অনেক দিক থেকেই এখনকার চেয়ে আলাদা হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ভালো বা মন্দ—যেমনই হোক, এই সংকট অভাবনীয়ভাবে বদলে দেবে সামাজিক বিন্যাস। মার্কিন পত্রিকা পলিটিকো সম্প্রতি বৈশ্বিকভাবে করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষাপটে ৩০ জনের বেশি বুদ্ধিজীবীর মত নিয়েছে। তাঁদের দেওয়া মতের সারসংক্ষেপ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
১. স্পর্শ না করাটা রেওয়াজে পরিণত হতে পারে, যা সমাজ ও সংস্কৃতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। অনলাইন যোগাযোগের সঙ্গে বাড়বে মানুষে মানুষে দূরত্বও।
২. বর্তমানে চিকিৎসক, নার্স থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা কোনো আগ্নেয়াস্ত্র না উঁচিয়েই মানুষের জীবন রক্ষায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করছেন, যার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম ধারণার বেসামরিকীকরণ ঘটতে পারে।
৩. রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মেরুকরণ কমে আসবে।
৪. নতুন করোনাভাইরাসের মতো ‘অভিন্ন শত্রুর’ বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে দলীয় ও মতাদর্শিক বিভাজনের বদলে মানুষ ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
৫. বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রতি মানুষকে উদাসীন করে তোলা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা বদলে এমন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে যেখানে বিশেষায়িত জ্ঞানের প্রতি জন-আস্থা বাড়বে।
৬. করোনাভাইরাস মহামারি বাজার-সংস্কৃতি ও অতিমাত্রায় ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের সঙ্গে আমাদের প্রণয়ের অবসান ঘটাতে পারে।
৭. কর্তৃত্ববাদী ও চরম নিপীড়নমূলক রাষ্ট্রের বিষয়টি এখন বাস্তব; নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বাড়বে।
৮. ধনী-গরিবনির্বিশেষে সারা বিশ্বের মানুষের অস্তিত্ব একসূত্রে গাঁথা—এমন উপলব্ধি মানুষকে যূথবদ্ধতার শক্তি অনুধাবনে সহায়তা করবে।
৯. কোয়ারিন্টিনের এই সময় ধর্মের উপাসনার রীতি ও উপাস্য দুই ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ করবে।
১০. ধ্যানচর্চা বা মেডিটেশনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার মঙ্গল চান—এমন ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা বাড়বে।
১১. বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় থাকা ত্রুটিগুলো প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী এক নতুন সংস্কার আন্দোলনের জন্ম হতে পারে, যা এমনকি বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনেও রূপ নিতে পারে।
১২. শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন জরুরি বিষয়কে অনলাইনভিত্তিক করার চাপ বাড়বে প্রশাসনগুলোর ওপর।
১৩. ঘরে বসে কাজ করার যে রেওয়াজ এই সময়ে তৈরি হচ্ছে, তা অক্ষুণ্ন রাখার চাপ তৈরি হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।
১৪. স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল জীবনযাপনের বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়বে।
১৫. বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যয় সংকোচন এবং তাৎক্ষণিক ও উচ্চ মাত্রার সেবার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হওয়া টেলিমেডিসিনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।
১৬. শ্রেণি-পেশানির্বিশেষে নাগরিকদের জন্য কার্যকর সুরক্ষা বলয় তৈরির চাপ বাড়বে রাষ্ট্রের ওপর।
১৭. মুনাফাকেন্দ্রিক ওষুধনীতির বদলে স্বাস্থ্যসেবা এবং ওষুধের উন্নয়ন ও উৎপাদনে আরও সরাসরি ও কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য সরকারগুলোর ওপর চাপ বাড়বে।
১৮. জনস্বাস্থ্য ও মহামারির মতো বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা ও বিজ্ঞানের প্রতি জন-আস্থা বাড়বে।
১৯. ভার্চ্যুয়াল আইন প্রণয়নের কাজ শুরু হতে পারে, যা তদবিরের সংস্কৃতি রোধে কার্যকর হয়ে উঠবে।
২০. বর্তমান পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর দরকার হবে আরও বৃহৎ ও বিজ্ঞ সরকার ব্যবস্থা।
২১. জলবায়ু পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক বৈষম্যের এ যুগকে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তির যুগে রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো অলিম্পিক গেমস পেছাল। রয়টার্সপ্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো অলিম্পিক গেমস পেছাল। রয়টার্স২২. বিদ্যমান বহু আইন ও নীতি অকার্যকর প্রমাণিত হওয়ায় নতুন সামাজিক চুক্তির আলোকে সার্বিক পরিবর্তনের দাবি জোরদার হবে।
২৩. বহুপক্ষীয় কূটনীতি শুধু নয়, বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলায় শত্রু-মিত্র সবার সঙ্গে সহযোগিতার গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করবেন বিশ্বনেতারা।
২৪. তথ্য গোপন বা বিকৃত না করে জনগণকে আস্থায় নেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করবে রাষ্ট্র।
২৫. মূলধারায় আসবে ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থা।
২৬. ঝুঁকি কমাতে চিঠির মাধ্যমে ভোট দেওয়া বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
২৭. বৈশ্বিক মহামারির আতঙ্ক সমাজকে বাধ্য করবে ভোগের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টিকে মেনে নিতে।
২৮. গণহারে বিচ্ছিন্ন থাকার অবধারিত ফল হিসেবে সামনে চলে আসবে মানুষে মানুষে সংসর্গের উচ্চ চাহিদা এবং ছোট পরিসরে হলেও উচ্চ জন্মহারের মতো বিষয়।
২৯. অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
৩০. ভোক্তা ও করপোরেশন উভয়েরই ব্যয় বাড়বে।
৩১. সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন শ্রেণির মধ্যে ব্যবধান বৃদ্ধিই শুধু নয়, মধ্যবর্তী শ্রেণিগুলোর মধ্যেও বৈষম্য বাড়বে।
৩২. এই মহামারি শেষে মানুষ নানা দিক থেকে মুক্তি চাইবে; বাড়িয়ে দেবে পারস্পরিক যোগাযোগ।
৩৩. বাইরে খাওয়া ও পার্টি করার প্রবণতা কমে ঘরে রান্নার ঝোঁক বাড়বে।
৩৪. মহামারি শেষে শপিংমলকেন্দ্রিক সংস্কৃতির বদলে উদ্যানসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত জনপরিসরের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়বে।
৩৫. রক্ষণশীল ও উদারনৈতিক ধারণার পাল্টাপাল্টি বিন্যাসে আটকে থাকা ‘পরিবর্তন’ ধারণায় বদল আসবে মূলগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।
৩৬. দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে সু-অভ্যাস শেখানো প্ল্যাটফর্মগুলো অকেজো প্রমাণিত হওয়ায় মানুষ আবার তার সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তির ওপর আস্থা রাখতে শিখবে।
৩৭. কাজ, কাজ এবং কাজ—সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে স্বীকৃত এই প্রচার থেকে মুখ ফিরিয়ে মানুষ নিজের ও নিজ পরিবারের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হবে।


নবাবগঞ্জে সৌদি প্রবাসী আক্রান্ত, ১২ পরিবার কোয়ারেন্টিনে

করোনাভাইরাসের দিনে ঢাকা, আকাশ থেকে দেখা


করোনাভাইরাসের আতঙ্ক আর বিধিনিষেধে হঠাৎই বদলে গেছে সোয়া কোটি মানুষের শহর ঢাকা। যে সড়কগুলোতে দিনের ব্যস্ত সময়ে মানুষ আর যানবাহনের গাদাগাদিতে থাকে হাঁসফাঁস দশা, সেসব রাস্তাও এখন সুনসান। ঢাকাবাসীর কাছেও এ যেন এক অচেনা শহর।
  • দেশের সব জায়গায় নৌ যোগাযোগ বন্ধ। যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে বুড়িগঙ্গার তুই তীরে।
    দেশের সব জায়গায় নৌ যোগাযোগ বন্ধ। যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে বুড়িগঙ্গার তুই তীরে।
  • নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ঢাকা সদরঘাটের সদাব্যস্ত পন্টুনগুলো এখন একেবারে ফাঁকা।
    নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ঢাকা সদরঘাটের সদাব্যস্ত পন্টুনগুলো এখন একেবারে ফাঁকা।
  • বুড়িগঙ্গার এমন স্তব্ধ রূপ কখনও দেখা গেছে? উপরের বাবুবাজার সেতুতেও নেই গতির চিহ্ন।
    বুড়িগঙ্গার এমন স্তব্ধ রূপ কখনও দেখা গেছে? উপরের বাবুবাজার সেতুতেও নেই গতির চিহ্ন।
  • বুড়িগঙ্গায় পারাপারও বন্ধ। আকাশ থেকে তীরে বাঁধা নৌকাগুলোকে দেখায় ফুটে থাকা ফুলের মত; তবে কর্মহীন নৌশ্রমিকদের মনে শান্তি নেই।
    বুড়িগঙ্গায় পারাপারও বন্ধ। আকাশ থেকে তীরে বাঁধা নৌকাগুলোকে দেখায় ফুটে থাকা ফুলের মত; তবে কর্মহীন নৌশ্রমিকদের মনে শান্তি নেই।
  • রামপুরার ডিআইটি রোড হরতালে যানবাহনশূন্য হতে দেখা যেত আগে, কিন্তু এমন জনমানবশূন্য রাস্তা স্থানীয়দের কাছেও অচেনা।
    রামপুরার ডিআইটি রোড হরতালে যানবাহনশূন্য হতে দেখা যেত আগে, কিন্তু এমন জনমানবশূন্য রাস্তা স্থানীয়দের কাছেও অচেনা।
  • বাড্ডার ইউ-লুপ খাঁ খাঁ।
    বাড্ডার ইউ-লুপ খাঁ খাঁ।
  • একই চিত্র রামপুরা ইউ-লুপেও।
    একই চিত্র রামপুরা ইউ-লুপেও।
  • মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়কের মালিবাগ অংশ ও অতীশ দীপঙ্কর সড়ক এখন এমনই ফাঁকা।
    মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়কের মালিবাগ অংশ ও অতীশ দীপঙ্কর সড়ক এখন এমনই ফাঁকা।
  • মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়কের মৌচাক অংশেও যানবাহন দেখা যাচ্ছে কদাচিৎ।
    মগবাজার-মৌচাক উড়াল সড়কের মৌচাক অংশেও যানবাহন দেখা যাচ্ছে কদাচিৎ।
  • ঢাকার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল এখন সুনসান।
    ঢাকার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল এখন সুনসান।
  • সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ, কমলাপুর রেল স্টেশনও তাই জনশূন্য।
    সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ, কমলাপুর রেল স্টেশনও তাই জনশূন্য।
  • রাজধানীর অতীশ দীপঙ্কর সড়কেও নেই যানবাহনের ভিড়।
    রাজধানীর অতীশ দীপঙ্কর সড়কেও নেই যানবাহনের ভিড়।
  • ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র হয়ে ওঠা হাতিরঝিলে এখন ভিড় নেই, চলছে না ওয়াটারবাসও।
    ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র হয়ে ওঠা হাতিরঝিলে এখন ভিড় নেই, চলছে না ওয়াটারবাসও।
  • চারদিকে কোভিড-১৯ আতঙ্ক, সবাইকে থাকতে হবে যার যার বাড়ি; হাতিরঝিলে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ কই!
    চারদিকে কোভিড-১৯ আতঙ্ক, সবাইকে থাকতে হবে যার যার বাড়ি; হাতিরঝিলে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ কই!
  • মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ী অংশের এমন দৃশ্য ঢাকাবাসীর কাছে অচেনা।
    মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের সায়দাবাদ-যাত্রাবাড়ী অংশের এমন দৃশ্য ঢাকাবাসীর কাছে অচেনা।
  • মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টিকাটুলি অংশ এখন যেমন।
    মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টিকাটুলি অংশ এখন যেমন।
  • সদা ব্যস্ত সায়েদাবাদ এখন এমনই জনশূন্য, উপরে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারেও তাই।
    সদা ব্যস্ত সায়েদাবাদ এখন এমনই জনশূন্য, উপরে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারেও তাই।
  • দেশের সব জায়গার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে দূরপাল্লার বাস।
    দেশের সব জায়গার সাথে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে দূরপাল্লার বাস।

দূরত্ব বজায় রাখুন, ভিড় এড়িয়ে চলুন


করোনাভারাসের সংক্রমণ বন্ধ করতে বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশেও ১০ দিনের বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যা এরই মধ্যে আরও পাঁচ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীর জন্য করণীয় সম্পর্কে জানিয়েছেন স্বনামধন্য মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পার্ক, মার্কেটসহ জনসমাগম হয়, এমন জায়গা ও ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে। অবশ্যই যার যার ধর্ম পালন করবেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ঘরে বসে ধর্ম পালন করা ভালো। আলেম–ওলামাদের সঙ্গে কথা বলে জামাতে নামাজ সীমিত করলে খুব ভালো। তবে অবশ্যই মসজিদ বন্ধ থাকবে না। ইমাম মুষ্টিমেয় লোকজনকে নিয়ে নামাজ পড়াবেন। মসজিদের মেঝে বারবার পরিষ্কার করা উচিত। রাসুল (সা.)–এর আমলে মহামারি দেখা দিলে ঘরে বসে নামাজ পড়ার নির্দেশনা ছিল।
মিরপুরে মারা যাওয়া ব্যক্তির বাসার কেউ বিদেশফেরত ছিলেন না। ধারণা করা হচ্ছে, মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে তিনি সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। পরে মসজিদ কমিটির সম্পাদকও মারা গেছেন। তাই বিষয়টিতে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্য ধর্মাবলম্বীরা যেমন মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে ঘরে বসে প্রার্থনা করবেন। বাইরে থেকে এলে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ঘরে ঢুকবেন। সর্দি–কাশি হলেই করোনা হয়েছে, এমন ধারণার কোনো কারণ নেই। তবে বয়স্ক মানুষ, অন্য রোগী যেমন হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ আছে, এমন রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
কাগজ বা পত্রিকার মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না, এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। তাই পত্রিকা নিশ্চিন্তে পড়তে পারেন। অনেকে শুধু আতঙ্কিত হচ্ছেন, ভয় পাচ্ছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারব। বিদেশ থেকে অনেক মানুষ চলে এসেছেন। তাদের প্রতি অনেকে রূঢ় আচরণ করছেন, এমনটি দেখা যাচ্ছে। আমি বলব, ভয় পেয়ে পরিবারের টানে অনেকে চলে এসেছেন। যেহেতু চলেই এসেছেন, এখন তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা জরুরি। তাঁদের প্রতি সহানুভূতি, সহমর্মিতামূলক আচরণ করতে হবে।
সরকার ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটির ঘোষণা দিয়েছে। এ সুযোগে অনেকে শহর থেকে গ্রামে বেড়াতে গিয়েছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, এ ছুটি বিনোদনমূলক নয়। যাঁরা উৎসব করে গ্রামে চলে গেছেন, তাঁদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। সরকার ১০ দিনের লকডাউন তথা ছুটি ঘোষণা করেছে। এটি ১৪ দিনের করা উচিত।
রিকশাওয়ালাসহ দিনমজুর, দিনে আনে দিনে খায়, এমন মানুষদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। হতদরিদ্রদের জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। তা না হলে জীবিকার তাগিদে তাঁরা রাস্তায় বের হবেন, কোনো ব্যবস্থায়ই কাজ হবে না।
চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মী, সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছেন। এ সময় চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা চিকিৎসা দিতে গিয়ে অবশ্যই নিজেদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এখন পিপিইসহ সুরক্ষাসামগ্রীর যথেষ্ট মজুত আছে। এগুলো উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে। এখন অধিকাংশ মানুষ গ্রামে থাকায় উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও হাসপাতালে লোকজন যাবে। তাই তাদের সুরক্ষার বিষয়টি আগে দেখতে হবে। জনগণকে তথ্য জানাতে সাংবাদিকেরা বিভিন্ন করোনা রোগী, মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাঁদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে নিজের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঝুঁকিতে আছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যেমন পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সেনাবাহিনী এমনকি আনসার সদস্যরা জনগণকে সচেতন করতে মানুষের সংস্পর্শে যাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁদের নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করে কাজ করতে হবে।

করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষা সেপ্টেম্বরে: জে অ্যান্ড জে


আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ মানবদেহে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন পরীক্ষা চালাতে চায় মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)। 


 




সংস্থাটির পক্ষ থেকে সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে আগামী বছরের শুরুতেই এ ভ্যাকসিনের প্রথম ব্যাচের উৎপাদন শুরু করতে চায় তারা।
সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের বায়োমেডিক্যাল অ্যাডভান্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিএআরডিএ) সঙ্গে যৌথভাবে গেল জানুয়ারি থেকেই জনসন অ্যান্ড জনসন এই ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ শুরু করেছে। দুই প্রতিষ্ঠান এই গবেষণার জন্য ১০০ কোটি ডলারের একটি তহবিল তৈরি করবে।
জে অ্যান্ড জে’র চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স গোরস্কি জানিয়েছেন, ‘বিশ্বজুড়ে এখন জনস্বাস্থ্য সংকট চলছে। এই সময়ে আমরা দ্রুত কোভিড নাইনটিন-এর ভ্যাকসিন সাশ্রয়ীভাবে তৈরি করতে চাই’।
জনসন অ্যান্ড জনসন জানিয়েছে, অনুমোদন পেলে তাদের ভ্যাকসিনটি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে উৎপাদন করার ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে, জে অ্যান্ড জে’র পাশাপাশি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করছে মার্কিন বায়োটেক প্রতিষ্ঠান মর্ডানা। তারা গত ফেব্রুয়ারিতেই একটি ভ্যাকসিন পরীক্ষা করার জন্য সরকারি গবেষকদের কাছে পাঠিয়েছে। যা মার্চের শুরুতেই পরীক্ষামূলকভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের দেহে প্রয়োগ করা হয়।

বিএসএমএমইউতে করোনা টেস্ট কাল থেকে শুরু

সংস্করণ
বিএসএমইউ
আগামীকাল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এ শুরু হচ্ছে শনাক্তকরণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম। বেতার ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত করোনাভাইরাস ল্যাবরেটরিতে সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রোগীরা এ পরীক্ষাটি করাতে পারবেন।
মঙ্গলবার রাতে যুগান্তরকে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।
প্রতিদিন কী রকম রোগীর টেস্ট করা সম্ভব হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বিএসএমএমইউ ভিসি অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, এটা নির্ভর করবে আমাদের
কতসংখ্যক কিট দেয়া হয় তার ওপর। বর্তমানে প্রতিদিন ৮০ জন রোগীর টেস্ট করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে এখানে টেস্ট করার বিষয়টি রোগী সংখ্যার ওপরও নির্ভর করবে। সবার তো আর করোনা টেস্ট করার প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকরা যাদের টেস্ট করা প্রয়োজন তাদেরই টেস্ট করা হবে এখানে।
বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, বাংলাদেশ বেতার ভবনের নিচতলায় স্থাপিত ফিভার ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের পর যেসকল রোগী করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের পরীক্ষার জন্য নির্দেশিত হবেন সে সকল রোগীরাই এই টেস্ট বা পরীক্ষাটি ( ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায়) করাতে পারবেন।

নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষায় বাধা আইইডিসিআরের কর্তৃত্বে নিষ্ক্রিয় ৭ ল্যাব

নমুনা সংগ্রহে কেন্দ্রীয়ভাবে পুল তৈরি করতে হবে - অধ্যাপক শামছুজ্জামান * সক্ষমতা থাকলেও কাজে লাগানো হচ্ছে না নিপসমকে - অধ্যাপক বায়েজিদ * আইইডিসিআর থেকেই নমুনা সংগ্রহ করে অন্য ল্যাবে পাঠানো হবে -অধ্যাপক সেব্রিনা


আইইডিসিআরের কর্তৃত্বে নিষ্ক্রিয় ৭ ল্যাব
রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)-এর একক কর্তৃত্বের কারণে সরকারি-বেসরকারি ৭টি ল্যাব করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করতে পারছে না। আইইডিসিআর থেকে এসব ল্যাবে কোনো নমুনা (স্যাম্পল) পাঠানো হচ্ছে না।
সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহের অনুমতিও দেয়া হচ্ছে না এসব প্রতিষ্ঠানকে। নমুনা সংগ্রহে কেন্দ্রীয়ভাবে পুলও তৈরি করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতোই শুধু ঢাকায় দুটি ও চট্টগ্রামে একটি ল্যাবে চলছে পরীক্ষা। এতে প্রস্তুত সাতটি ল্যাব নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে।
সুযোগ না দিয়ে আইসিডিডিআর, বি-কে নামমাত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাব ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রতিষ্ঠান নিপসমকে কাজে লাগানো হচ্ছে না। পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এসব কারণে করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১০টি ল্যাব এ ভাইরাস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আরও ১৯টি ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই এগুলো কাজ শুরুর মতো অবস্থায় যাবে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা যুগান্তরকে বলেন, আমরা একটি পরিকল্পনা করে কাজ করছি। তাই অনেকগুলো ল্যাব প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ বা পরীক্ষার অনুমতি দেয়া হয়নি, বিষয়টি সে অর্থে ঠিক নয়। আমরা মনে করি, যখন আইইডিসিআরের মাধ্যমে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না, তখন ওই ল্যাবগুলোর সহায়তা নেয়া হবে। সে ক্ষেত্রে আমরাই নমুনা সংগ্রহ করব এবং কোন ল্যাব পরীক্ষা করবে, সেটিও আমরাই নির্ধারণ করব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- করোনাভাইরাসে সন্দেহভাজন সবাইকে পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকেও একাধিকবার অধিকতর পরীক্ষা করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। সামগ্রিক বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৯টি ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত পুল করে নমুনা সংগ্রহে ব্যাপক জনবল অন্তর্ভুক্ত করা না হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। সন্দেহভাজন অনেকেই থেকে যাবে পরীক্ষার বাইরে।
ইন্সটিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামসুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সন্দেহভাজন যে হবে, তাকেই পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আইইডিসিআরের ব্রিফিংয়ে জানানো হল নতুন দু’জন রোগী পাওয়া গেছে। তাদের একজনের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এটা নিশ্চিত প্রমাণ করে সামাজিক সংক্রমণ চলছে।
এই চরম মুহূর্তে সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নমুনা সংগ্রহের জন্য পুল করতে হবে। কোন ল্যাবে নমুনা যাবে সেটা কন্ট্রোল রুম ঠিক করে দেবে। অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে রোগীর ফোন পাওয়াসাপেক্ষে পরীক্ষা করতে হবে। সব পরীক্ষার ফলাফল কেন্দ্রীয়ভাবে প্রকাশ করা হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে প্রাইভেট পর্যায়ে প্রচুর মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে টিম গঠন করে সব সন্দেহভাজনের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে পুল তৈরি করা না হলে, পর্যাপ্ত নমুনা পাওয়া যাবে না এবং আশানুরুপ পরীক্ষা করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে তিনটি সর্বাধুনিক মানের পিসিআর ল্যাব রয়েছে। টেকনোলজিস্টদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেলে এখন থেকেই কেন্দ্রীয়ভাবে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ থাকায় সোমবার গণমাধ্যমের এক কর্মী পরীক্ষা করাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরে যোগাযোগ করেন। অধিদফতরের এক কর্মকর্তা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনাইউনিটে অবস্থান করতে বলেন। পাশেই শিশু হাসপাতালের ল্যাব থেকে তার নমুনা সংগ্রহের জন্য টেকনোলজিস্ট পাঠানো হবে।
কিন্তু প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পরও নমুনা সংগ্রহে কেউ না এলে তিনি চলে যান। শিশু হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, আইইডিসিআরের অনুমতি না পাওয়ায় প্রথমে নমুনা সংগ্রহ করা হয়নি। পরে অন্য ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালের কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ওই হাসপাতালে করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এমন তিন থেকে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু তাদের পরীক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও আইইডিসিআর থেকে নমুনা সংগ্রহে কাউকে পাঠানো হয়নি। ফলে ওই রোগীরা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত ছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এতে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্সদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে সন্দেহভাজন এক রোগীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে রাজধানীর ডেল্টা হাসপাতালের প্রায় ১০ জন চিকিৎসক ও নার্স কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হন। পরে কোয়ারেন্টিনে যেতে হয় হাসপাতালের সব কর্মীকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রের (আইসিডিডিআর’বি) এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, তাদের গবেষণাগারে আটটি পিসিআর মেশিন রয়েছে। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার জন্য রয়েছে উচ্চপ্রশিক্ষিত জনগোষ্ঠী। যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সব গবেষণা পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এই ল্যাব ও জনগোষ্ঠী কাজে লাগাতে আইইডিসিআর অনীহা প্রকাশ করেছে। শেষ পর্যন্ত আইইডিসিআর ল্যাব কাজে লাগানোর কথা বলা হলেও নিজস্ব ব্যবস্থায় নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার অনুমতি মেলেনি। এমনকি আইইডিসিআরের পক্ষ থেকে করোনা পরীক্ষার কিট দেয়া হয়েছে মাত্র ১০০টি।
করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক মহামারীতে পরিণত হয়েছে। সারা বিশ্বে এই মহামারী মোকাবেলায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগানো হয়েছে। কিন্তু দেশের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনকে (নিপসম) অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বায়েজিদ খুরশীদ রিয়াজ জানান, প্রতিবছর নিপসম থেকে দেড়শ’জনের বেশি শিক্ষার্থী জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এমপিএইচ ও এমফিল ডিগ্রি অর্জন করে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞে পরিণত হচ্ছেন। কিন্তু চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এদের কাজে লাগানোর কোনো ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত করা যায়নি।
তিনি বলেন, কোভিড-১৯-এর মতো জুনোটিক (প্রাণীবাহিত রোগ) রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া নিপসমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ল্যাব রয়েছে। শুধু বায়োসেফটি নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই ল্যাবেই করোনা পরীক্ষা করা সম্ভব। তাছাড়া নিপসমের রয়েছে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল। কিন্তু আইইডিসিআরের পাশেই অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানকে কেন কাজে লাগানো হচ্ছে না, তা বোধগাম্য নয়। যুগান্তর।

যদি কোন দিন থেমে যায় ..........................।

Image may contain: 9 people, including Mofizul Shishir, Babul Hossain, Kazi Showkot Hossain, Afsar Uddin, Rana Bhuiyan and Khaled B Wahid
শ্রদ্ধেয় বড় ভাই  জনাব  কাজী শওকত শাহীন , ডাঃ বাবুল হোসেন, সাংবাদিক রাশিম মোল্লা, আফসার ভাই, শিশির, কনক , নিমল ঘোষ ও আমি রানা ভঁইয়া
No photo description available.
শ্রদ্ধেয় আনিস ভাই, আফসার ভাই, শিশির, কনক, রাশিম মোল্লা ও আমি রানা ভূঁইয়া



Image may contain: 7 people, including Shajahan Sikder, Rana Bhuiyan, Afsar Uddin and Mofizul Shishir, people smiling

আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্ব ও সুনামধন্য শিল্পপতি  শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিঃ সাবেক চেয়্যারম্যান জনাব আক্কাছ উদ্দীন মোল্লাহ সাহেবের সাথে আমরা।




https://scontent.fdac70-1.fna.fbcdn.net/v/t1.0-9/29187047_431390480623987_8344567525605900288_n.jpg?_nc_cat=104&_nc_sid=0be424&_nc_eui2=AeFGLmeXP5mbrVDRJ0AS8z1B1rT5POTqtZtsMjynYq38o654Aw82xHMDhheZM2lqls8RtJbt_M2R5iiKwjKtPD1vY0GHbgTFt-YjOGcj6hvovQ&_nc_oc=AQkW54BAjpwc0WA2tIul-IIj8abpotV5BRq2NzNucaw2QDFXyd5p60lVrOv55pYKuKE&_nc_ht=scontent.fdac70-1.fna&oh=8ae34f017ff64aeaa685a0069da436da&oe=5EA9B147
সকলের স্নেহভাজন  প্রবাসী কাউছার আহামেদ, শাহজাহান শিকদার, শেরতাজ ভাই ও আমরা।

https://scontent.fdac70-1.fna.fbcdn.net/v/t1.0-9/20770519_1421445831309071_6333824990607650417_n.jpg?_nc_cat=102&_nc_sid=110474&_nc_eui2=AeG9CRY6cCkVl5hBX5TvLnlc37g3rLmHbWcvjW1NR8uVmDpWg4AviGzPdO_6mkqbs2eCpu2qL-bp81egj8mTXhJYQi5Xehn3_bmJtNuV0C_rgQ&_nc_oc=AQlovPg_JjLmIet40Ywtb2RvP8uDas40Htt9NqXYR3XdCA3m9qAq_OkgYR8yC0tkHpI&_nc_ht=scontent.fdac70-1.fna&oh=82a2ca2b242aee4c7ed78e71d6c4e8c8&oe=5EAAEC8A





  রমনা চাইনিজ  এ প্রথম যাত্রা শুরু।

Image may contain: 1 person, sky, crowd and outdoor কাশিয়াখালী বেরিবাঁধ - কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারলেও সেই বন্ধন আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে।










যুক্তরাষ্ট্রের এই হাল হলো যে কারণে


মার্কিন প্রশাসন একদিকে মুখে মুখে আশ্বস্ত করেছে, অন্যদিকে রোগ পরীক্ষা ও লোকজনকে কোয়ারেন্টিন-আইসোলেশনের পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি। ছবি: রয়টার্সমার্কিন প্রশাসন একদিকে মুখে মুখে আশ্বস্ত করেছে, অন্যদিকে রোগ পরীক্ষা ও লোকজনকে কোয়ারেন্টিন-আইসোলেশনের পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি। ছবি: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসের প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ২০ জানুয়ারি। এরপর ৫০ দিনে রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ায় ১০ মার্চ। এরপরের এক সপ্তাহে রোগী ৫ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি। পরের ১২ দিনে রোগী বেড়ে হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার। সঙ্গে বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। সর্বশেষ গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৯। মারা গেছে ২ হাজার ৫৯৯ জন।
এই পরিস্থিতিতে গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্য খাতের শীর্ষ এক ব্যক্তি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দেশটিতে করোনাভাইরাসে ১ থেকে ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে।
কিন্তু প্রস্তুতির জন্য এত দীর্ঘ সময় পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের এই হাল হলো কী কারণে? সম্পদের ঘাটতি নেই তাদের। আছে পর্যাপ্ত চিকিৎসা অবকাঠামো, সঙ্গে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি। তারপরও এই পরিস্থিতি কেন? গতকাল ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ জানুয়ারি প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ২২ জানুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।’
এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি করোনাভাইরাসের সংখ্যা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল, ‘আমাদের দেশে মাত্র ১১ জন আক্রান্ত এবং তাঁরাও সেরে উঠছেন।’ ১৫ দিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আপনারা হয়তো করোনাভাইরাস নিয়ে প্রশ্ন করবেন। আমি বলছি, যুক্তরাষ্ট্রে বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আছে।’ দুই দিন পর ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাচ্ছে। এটা আশ্চর্য, কিন্তু সত্যিই একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে।’ ১০ দিন পর ৬ মার্চ ট্রাম্পের বক্তব্য ছিল, কেউ চাইলেই পরীক্ষা করাতে পারে। সব ব্যবস্থাই আছে। পরীক্ষা করা সত্যিই দারুণ।
আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ছুঁই-ছুঁই। অথচ প্রথম রোগী শনাক্তের পর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আগে দেড় মাসের বেশি সময় পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।



প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের তত দিন সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ছবি: রয়টার্স 
 
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের তত দিন সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ছবি: রয়টার্সদেড় মাস ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন এসব বলে চলেছেন, তখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে দু-চারজন করে বাড়ছে আর ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। এরপর গত অর্ধমাসে কীভাবে তা ছড়াল বিশ্ব দেখেছে। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সও একইভাবে আশ্বস্ত করে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রবাসীকে।
মার্কিন প্রশাসন একদিকে মুখে মুখে আশ্বস্ত করেছে, অন্যদিকে রোগ পরীক্ষা এবং লোকজনকে কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ) ও আইসোলেশনের (বিচ্ছিন্নকরণ) পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি। ঠিকমতো পরীক্ষা না হওয়ায় একটি ভুল বার্তা পেয়েছে দেশের মানুষ, জানতে পারেনি দেশে আসলে কত মানুষ আক্রান্ত। ফলে তারাও বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি। চলাফেরা-মেলামেশায় সতর্ক হয়নি। এই ফাঁকে ট্রাম্পের সেই ‘মাত্র ১১ জন’ ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
তবে চীনে জানুয়ারির শেষের দিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন বাড়ছিল, তখনই ট্রাম্প প্রশাসনকে সতর্ক করেছিল দেশটির রোগনিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)। মার্কিনদের চীন ভ্রমণে সতর্ক করার কথাও তারা জানিয়েছিল। এসব সতর্কতা এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদন ট্রাম্প প্রশাসনের নজরে আনার জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ চেষ্টা করেছেন স্বাস্থ্য ও হিউম্যান সার্ভিস মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার।
করোনাভাইরাস একটি নতুন ধরনের ভাইরাস। এখনো পর্যন্ত ওষুধ নেই, চিকিৎসা নেই এমনকি দেশে দেশে এটির পরীক্ষা পদ্ধতিও ভিন্ন। কেননা, প্রতিনিয়ত জিনের গঠন বদলে ফেলছে ভাইরাসটি। এ কারণে চীন তাদের মতো করে পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবন করে নিয়েছিল। অক্ষম দেশগুলোকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেই অবস্থা নেই। ২০ জানুয়ারি প্রথম রোগী শনাক্তের চার দিনের মাথায় ২৪ জানুয়ারি পরীক্ষা পদ্ধতির নকশা করে দেশটির সিডিসি।
সেন্টার ফর গ্লোবাল ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র পলিসি ফেলো জেরেমি কনিনডাইক বলেন, ‘আমেরিকানদের উপযোগী পরীক্ষা পদ্ধতি তৈরি করে নিয়েছিল সিডিসি। এবং আমরা সাধারণত এভাবেই কাজ করি। আমাদের যে সক্ষমতা আছে, অনেক দেশের তা নেই। কাজেই পরীক্ষা পদ্ধতি পাওয়ার জন্য তাদের নির্ভর করতে হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের তা করতে হয় না।’
প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর প্রথম ১০ দিন আক্রান্তের সংখ্যা এক অঙ্কের ঘরেই ছিল। ওই সময়ই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এ একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন দুই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লুসিয়ানা বোরিও এবং স্কট গটলিব। নিবন্ধে তাঁরা সতর্ক করেছিলেন, ‘আক্রান্তের সংখ্যা যদি বাড়ে তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সিডিসিকে বেগ পেতে হবে। সরকারের এখনই উচিত ব্যক্তি খাতের সঙ্গে মিলে দ্রুত ব্যবহার-উপযোগী পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। মহামারি রুখতে সবার আগে কর্তব্য সন্দেহভাজন রোগীদের শনাক্ত করা, তাদের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আলাদা করে ফেলা।’
কিন্তু সরকার অনেক দিন সময় পেয়েও শুরুর দিকে এসব উদ্যোগ নেয়নি। পরীক্ষার দায়িত্বও অনেক দিন সিডিসির বাইরে কারও হাতে দেওয়া হয়নি। অনেক মানুষের পরীক্ষা করার দরকার ছিল, কিন্তু তা করা হয়নি। ১৬ ফেব্রুয়ারি নাগাদ অর্থাৎ প্রথম প্রায় এক মাসে পরীক্ষা করা হয় মাত্র ৮০০ জনকে। অর্থাৎ প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে পরীক্ষা হয় মাত্র আড়াই জনের। দক্ষিণ কোরিয়াতেও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মতো একই দিনে। কিন্তু সেই একই সময়ে তারা প্রায় ৮ হাজার পরীক্ষা করিয়েছিল, যা তাদের দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি ১০ লাখে ১৫৪ জন।
এর পরের সপ্তাহগুলোতে পরিষ্কার হয়ে যায় যে সংক্রমণ স্থানীয়ভাবে ছড়াতে শুরু করেছে। তখনো সারা দেশে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ও ল্যাবে পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
২৪ ফেব্রুয়ারি সিডিসির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইমিউনাইজেশন অ্যান্ড রেসপিরেটরি ডিজিজের পরিচালক ন্যান্সি ম্যাসোনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের এখানে হয়তো স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ শুরু হবে। আর এটা হলে অনেক মানুষ গুরুতরভাবে আক্রান্ত হবে।’
ঠিক সেদিনও ট্রাম্প টুইট করেন, ‘করোনাভাইরাস আমাদের এখানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে।’
ট্রাম্পের যখন সবকিছু নিয়ন্ত্রণে ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের তত দিন সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এরপর দিনে দিনে রোগী বেড়েছে, বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা। সতর্কতা থেকে একপর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা। একে একে সবকিছু বন্ধ, লকডাউন। কিন্তু তত দিনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেড়েছে।
এই অবস্থায় ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে, তার একটা সম্ভাব্য চিত্র দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি এস ফাউসি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের পরিচালক এবং করোনাভাইরাস প্রতিরোধে গঠিত মার্কিন টাস্কফোর্সের সদস্য। রোববার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমরা এখন যেসব বিধিনিষেধ, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলছি, তা ঠিকমতো পালন হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ১ থেকে ২ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে প্রাণ হারাবে। এসব না মানলে সংখ্যাটা ১০ লাখে ঠেকতে পারে।’ তাই নিষেধাজ্ঞা, লকডাউন, শাটডাউন এবং আরও যা যা আছে তার মেয়াদ আপাতত অন্তত এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত বাড়াতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়িয়েছে। Protham Alo

কী করতে পারি আমরা

রামেন্দু মজুমদার।  ছবি: প্রথম আলোরামেন্দু মজুমদার। ছবি: প্রথম আলোএমন অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়িনি কখনো। কেবল আমরা কেন, সারা বিশ্বই আজ থেমে গেছে। সবাই স্বেচ্ছা–অবরোধ মেনে নিয়েছেন। প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে মুক্ত হওয়ার আর কোনো পথ জানা নেই।
বাংলাদেশে সবচেয়ে সংকটে আছে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ। রোজগারের পথ বন্ধ। ঘরে খাবার প্রায় নেই। অতীতে সব দুর্যোগে, সংকটে আমাদের সংস্কৃতিকর্মীরা এগিয়ে এসে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আসুন, এবারও তাই করি।
আমাদের প্রধান কাজ হবে এসব দরিদ্র মানুষের অন্নসংস্থানে কিছুটা সাহায্য করা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন সহায়তার কাজ শুরু করেছে। আমরা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট থেকেও চাল, ডাল, আলু, সাবান প্যাকেট করে আমাদের সাধ্য অনুযায়ী বিতরণের ব্যবস্থা করছি। এ কাজে আমাদের অর্থের অভাব হবে না। আমাদের পরিচিত অনেকেই আছেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই সাড়া দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, সমাজে অনেকেই আছেন, যাঁরা এ কাজে সহায়তা করতে চান। তাঁরা দয়া করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমাদের সবার জন্যই এর চেয়ে বড় মানবিক কাজ আর কিছু হতে পারে না।
বাড়িতে থাকার ফলে আমাদের আচরণগত অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। অভ্যাস বদল হয়েছে। করোনা–আতঙ্ক দূর হলেও যেন আমরা ভালো অভ্যাসগুলো ধরে রাখি। মানুষের প্রতি, ধরিত্রীর প্রতি যেন আরও মানবিক আচরণ করি। করোনা আমাদের এই শিক্ষা দিচ্ছে।
আরেকটি কথা। আমার ক্ষুদ্র বিবেচনায় মনে হয়, বর্তমান সঙ্গনিরোধ ও ঘরে থাকার অবস্থা আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো উচিত। আমাদের অনেক অসুবিধা হবে জানি, কিন্তু এ কষ্টটা মেনে নিলে আমাদের আগামী দিনগুলো নিরাপদ হবে।
রামেন্দু মজুমদার: নাট্যব্যক্তিত্

যশোরে এত লোকের মাথা ন্যাড়া করার কারণ কী

প্রতীক ছবি।প্রতীক ছবি।সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে চোখ রাখুন। দেখা যাচ্ছে, প্রতিদিনই যশোরে কেউ না কেউ মাথা ন্যাড়া করে ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করছেন। রীতিমতো মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক পড়ে গেছে। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে এমন দৃশ্যে মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
মাথা ন্যাড়া করলে চুল পড়া কমে যায়, এমন কথা প্রচলিত আছে। কিন্তু মাথা ন্যাড়া করলে অনেকে বিরূপ মন্তব্য করেন; অনেকে আবার মশকরা করতে ন্যাড়া মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বিরক্ত করে বসেন। এসব কারণে অনেকে চাইলেও ন্যাড়া করতে পারেন না।
যশোরে সম্প্রতি মাথা ন্যাড়া করেছেন ও ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করেছেন, এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাঁরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন সবাইকে গৃহবন্দী থাকতে হচ্ছে। কত দিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাঁরা স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরবেন, তার নিশ্চয়তা নেই। এই সুযোগে মাথা ন্যাড়া করে নিচ্ছেন। বাইরে বের না হওয়ায় সামনা-সামনি কোনো বিরূপ মন্তব্য শোনার বা কারও মাধ্যমে বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। তা ছাড়া সরকারি নির্দেশনায় এখন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সেলুনগুলোও বন্ধ। দীর্ঘদিন সেলুনে যেতে না পারায় মাথায় চুল বেড়ে যাচ্ছে। গরমের এই সময়ে মাথা চুলকাচ্ছে। তাই বাড়িতে বসেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলছেন। কর্মস্থলে ফেরার আগেই মাথায় নতুন চুল গজিয়ে যাবে; আবার চুল পড়া বন্ধ হবে।
যাঁরা এভাবে ন্যাড়া করেছেন, তাঁদের একজন মাইকেল মধুসূদন ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান জহির ইকবাল। যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের এই বাসিন্দা বলেন, ‘চুল পড়ে যাচ্ছে। শুনেছি, মাথা ন্যাড়া করলে চুল পড়া বন্ধ হয়। করোনাভাইরাসের কারণে বাড়িতেই থাকছি। ভাবলাম, এই সুযোগে মাথা ন্যাড়া করে ফেলি। যদি সুফল পাওয়া যায়। তাই চুল ফেলে দিলাম।’
যশোর শিক্ষা বোর্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মাহবুব উল্লাহও মাথা ন্যাড়া করেছেন। তিনি কর্মস্থল বন্ধ থাকায় এই কটা দিন যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার বাড়িতেই আবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘চুল বেড়ে যাওয়ায় গরমে ঘেমে মাথা চুলকাচ্ছিল। এদিকে সেলুন সব বন্ধ। চুল ছাঁটিয়ে নেওয়ার উপায় নেই। বাড়িতে গিয়ে ছোট ভাইকে বললাম, ব্লেড ধর। মাথা ন্যাড়া করে দে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. ইউনুচ আলী। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হওয়ায় যশোরের চৌগাছা উপজেলার হুগোলডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে আছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল মাথা ন্যাড়া করার। কিন্তু লোকলজ্জার কারণে এত দিন ন্যাড়া করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় অনেক দিন ছুটি। তাই বাড়িতে এসেই আমরা তিন বন্ধু একসঙ্গে মাথা ন্যাড়া করে ফেলেছি। মাথা ন্যাড়া করা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে দিয়েছি। গরমে মাথা থেকে চুল ফেলে দিয়ে ভালোই লাগছে।’
যশোর শহরের চারখাম্বা মোড়ের সীমা হেয়ার কাটিং সেলুনের স্বত্বাধিকারী নিরঞ্জন রায় বলেন, ‘বাড়ি গিয়ে চুল ছাঁটানোর জন্য দু-একজন ফোন দিচ্ছেন। পরিচিত মানুষ হলে বাড়িতে গিয়ে চুল কেটে দিয়ে আসছি। এ জন্য একটু বেশি টাকা নেওয়া হয়।’ তিনি বলেন, ‘সেলুন বন্ধ। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি সহায়তাও তো পাচ্ছি না। Protham Alo

ভেন্টিলেটরের জন্য হাহাকার কেন


কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় জরুরি হয়ে পড়া ভেন্টিলেটরের চাহিদা ও জোগানে রয়েছে বিস্তর ফারাক। ছবি: রয়টার্সকোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় জরুরি হয়ে পড়া ভেন্টিলেটরের চাহিদা ও জোগানে রয়েছে বিস্তর ফারাক। ছবি: রয়টার্সনতুন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারিতে চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতাই সবচেয়ে বেশি চোখে বিঁধছে। নিরাপত্তার জন্য মাস্ক থেকে শুরু করে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা রোগীদের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় হয়ে ওঠা ভেন্টিলেটরের এক ভয়াবহ স্বল্পতার অভিজ্ঞতা নিচ্ছে বিশ্ব। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোও এই সংকটকালে ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছে।
নতুন করোনাভাইরাসের সঙ্গে মানুষের আগে পরিচয় ছিল না। ফলে এর প্রতিষেধক তৈরি থেকে শুরু করে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় কোন ওষুধ ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকতেই পারে। কিন্তু তাই বলে ভেন্টিলেটরের মতো জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগানে এমন ঘাটতি—সত্যিই বিস্ময়কর। এত এত বড় ওষুধ কোম্পানি, এত শক্তিধর সব সরকার তবে কী করল?
প্রশ্নটির উত্তর খোঁজার আগে ভেন্টিলেটরের স্বল্পতাটি ঠিক কোন মাত্রার, তার হদিস নেওয়া যাক। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে জোগানের তুলনায় ভেন্টিলেটরের চাহিদা দশ গুণ। অর্থাৎ ভেন্টিলেটর প্রয়োজন এমন দশজন রোগীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি করে ভেন্টিলেটর। যুক্তরাষ্ট্রেরই যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে অন্য দেশগুলোর অবস্থা সহজেই অনুমেয়।
ইতালি মৃতের সংখ্যার বিচারে সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়তে হলো শুধু জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতায়। আরও ভালো করে বললে, শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর না থাকায় এমন বিপদে পড়তে হয়েছে ইতালিকে। ভেন্টিলেটর–স্বল্পতার এই সংকট এখন গোটা বিশ্বেই। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরাসরিই বলছেন, এমন পরিস্থিতির মুখে এখন দাঁড়িয়ে বিশ্ব, যেখানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়ানো একাধিক রোগীর মধ্যে কাকে বাঁচানো হবে, তার সিদ্ধান্ত চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই নিতে হবে।
কিন্তু এই সংকট কেন তৈরি হলো? এর উত্তর খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই তাকানো যাক। দেশটির বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র নিউইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, ১৩ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক দল জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা মার্কিন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় একটি পরিকল্পনার কথা জানান। ঝুঁকিটি ছিল ‘ভেন্টিলেটরের স্বল্পতা’। ওই কর্মকর্তাদের ভাষ্য ছিল, যুক্তরাষ্ট্রে সে সময় যত ভেন্টিলেটর ছিল, তা বড় ধরনের সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে তাঁরা সহজে বহন করা যায় ও কম খরচে ভেন্টিলেটর উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা পেশ করেন। তাঁদের সেই প্রস্তাব পাস হয়েছিল, হয়েছিল অর্থ বরাদ্দও। ‘প্রজেক্ট অরা’ নামের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল ২০০৬ সালের শেষ নাগাদ। লক্ষ্য ভেন্টিলেটরের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনা এবং বাজারমূল্য ৩ হাজার ডলারের নিচে নামিয়ে আনা।
ফেডারেল চুক্তি সইয়ের পর সে অনুযায়ী কাজও শুরু হয়েছিল। নতুন এই ভেন্টিলেটর তৈরির দায়িত্ব পায় ‘নিউপোর্ট’ নামের ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের তৈরি ভেন্টিলেটর উৎপাদনের জন্য ছাড়পত্রও পায়। কিন্তু তারপরই ওই ছোট প্রতিষ্ঠানকে কিনে নেয় কোভিডিয়েন নামের বড় একটি প্রতিষ্ঠান। তারা প্রকল্পটি থেকে মুনাফা নিয়ে সন্দিহান ছিল। বহু চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদক ওই প্রতিষ্ঠান জানায়, কম মূল্যের ভেন্টিলেটরের উৎপাদন এই মুহূর্তে ‘টপ প্রায়োরিটি’ নয়। ২০১২ সালে নিউপোর্টের কর্মকর্তারা মার্কিন কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের তৈরি ভেন্টিলেটর বাজারে বিক্রির অনুমোদন চায়। কিন্তু বাদ সাধে কোভিডিয়েন। তারা জানায়, বাজারে বিক্রির ক্ষেত্রে তারা ডিভাইসটির দাম আরও বেশি রাখতে চায়। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছ থেকে আরও অর্থ বরাদ্দ চায়। ফেডারেল সরকার শেষ পর্যন্ত ১৪ লাখ ডলার বরাদ্দ দিলেও কাজ হয়নি। ওই প্রকল্পের আওতায় আজ পর্যন্ত কোনো ভেন্টিলেটর উৎপাদিত হয়নি। পরে ২০১৪ সালে ফেডারেল সরকার অন্য একটি কোম্পানির সঙ্গে একই বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়, যাদের তৈরি ভেন্টিলেটর গত বছর অনুমোদন পেলেও তারা এখনো কোনো ভেন্টিলেটর বাজারে সরবরাহ করতে পারেনি।
বৈশ্বিক ভেন্টিলেটর বাজারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করত কোভিডিয়েন। নিউপোর্টের তৈরি কম দামের ভেন্টিলেটর বাজারে এলে তাদের বাজার হুমকিতে পড়তে পারত। এ কারণেই তারা নিউপোর্টকে ১০ কোটি ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউপোর্টকে কিনেই তারা ক্ষান্ত হয়নি, প্রচলিত ভেন্টিলেটরের বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে গিয়ে তারা জীবন রক্ষাকারী একটি চিকিৎসা সরঞ্জামের উৎপাদন স্থগিত করে দেয়। যেকোনো মূল্যে স্বল্পমূল্যের ভেন্টিলেটরের উৎপাদন ঠেকানোই যেন তাদের লক্ষ্য ছিল। এমনকি অন্য কেউ যেন এতে না ঢুকতে পারে, সে জন্য তারা ২০১৪ সাল পর্যন্ত একটি ভেন্টিলেটর উৎপাদন না করেও মার্কিন ফেডারেল সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে থেকে গিয়েছিল।
করপোরেট পুঁজির অতি মুনাফালোভী চরিত্র এমন বহু উদ্যোগকে গোড়াতেই শেষ করে দিচ্ছে। এই লোভ যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশকেই অন্তত ছয় বছর পিছিয়ে দিয়েছে, যা না হলে এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো এতটা বিপাকে পড়তে হতো না। মুনাফার প্রতি এই লোভ এমন এক ভয়াবহ ব্যর্থতার জন্ম দিয়েছে, যার ভার এখন সবাইকে বহন করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় প্রশাসন ভেন্টিলেটরের জোগান নিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। ভবিষ্যৎ জোগানের কথা ভেবে নির্ঘুম হতে হচ্ছে সৎ প্রশাসক মাত্রই। জার্মানির হেসে প্রদেশের অর্থমন্ত্রী হেসে শেফারের মৃত্যু (যাকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে) কিংবা নেদারল্যান্ডসের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্লান্তিজনিত পদত্যাগ—এই সবই অনিয়ন্ত্রিত বাজারব্যবস্থা ও পুঁজির এক অবধারিত ফল হয়ে সামনে চলে এসেছে।
এখন চিকিৎসকদের আক্ষরিক অর্থেই এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে যে তাঁরা কার শ্বাসপ্রশ্বাসে সহায়তা দেবেন, কাকে দেবেন না। এটি চিকিৎসা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি করছে, যা হয়তো দুর্যোগ কেটে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন তাঁদের বহন করতে হবে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মার্কিন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা—যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য অন্তত সাড়ে ৯ লাখ ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পড়তে পারে। অথচ তাদের হাতে রয়েছে মাত্র দুই লাখ ভেন্টিলেটর।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বা চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের বিষয়টি বেসরকারি খাতে একেবারে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ছেড়ে দেওয়ার বড় খেসারত এখন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও মুক্তবাজারের অনুরাগীরা এটা ভেবে দেখেনি যে পুঁজিপতিরা সেখানেই বিনিয়োগ করেন, যেখান থেকে মুনাফা বেশি আসে। এমনকি তারা তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম কাঙ্ক্ষিত মানে রাখতে কৃত্রিম সংকট তৈরি থেকে শুরু করে নানা খেলাও খেলতে পারে। জনগণের জীবনের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া রাষ্ট্রের চেয়ে একটি কোম্পানির লক্ষ্য সম্পূর্ণ আলাদা। মানুষের ভোটে বা সমর্থনে গঠিত সরকারের দায়—জনগণের সুরক্ষা। আর কোম্পানির লক্ষ্য বা দায় যা-ই বলা হোক একটিই—আরও বেশি মুনাফা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) সাবেক পরিচালক ও সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ থমাস আর ফ্রিডেন বলেন, ‘আমরা সংকটটি এখন বুঝতে পারছি। হয়তো এটি আমরা ঠিকঠাক মোকাবিলা করতে পারব। কিন্তু নিশ্চিতভাবেই আমরা আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী (ভেন্টিলেটরের) সরবরাহ পাব না।’
থমাস ফ্রিডেনের এ বক্তব্য অবশ্যই আশাজাগানিয়া। কিন্তু সত্য হচ্ছে, সার্স, মার্স, বার্ড ফ্লু ও সোয়াইন ফ্লু একইভাবে বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরির পরই কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে সহজে বহনক্ষম ও স্বল্পমূল্যের ভেন্টিলেটর উৎপাদনের এ প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল। একই ধরনের নানা প্রকল্প ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও নেওয়া হয়। সে প্রকল্পগুলোর ভাগ্যে কী হয়েছে, তার অনুসন্ধান না করে শুধু এখনকার পরিণতির দিকে তাকালেই হতাশ হতে হয়। কারণ, বিগত ওই মহামারিগুলোও বৈশ্বিক পুঁজি কাঠামো ও সরকারগুলোকে সচেতন করার মতো যথেষ্ট ছিল না। এরই ফল হচ্ছে আজকের চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতা।
এই যে পরিস্থিতি, এর মধ্যেও মুনাফা করে নেওয়া লোকের সংখ্যা তো কম নয়। বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই একশ্রেণির ব্যবসায়ী মানুষের সংকটের সুযোগ নিচ্ছে। ভারতেই যেমন ভেন্টিলেটরের দাম ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের নজরদারিও সেখানে কিছু করতে পারছে না। দিল্লির প্রতিষ্ঠান মেডক্যাম এন্টারপ্রাইজের বিজনেস হেড কমলেশ মৌর্জ স্বীকার করেছেন, চাহিদা বেশি হওয়ায় তাঁরা ডিভাইসটির দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দুর্যোগের এই কালে একশ্রেণির ব্যবসায়ীর অতি মুনাফালোভী ঘৃণ্য আচরণ।
শুধু ভেন্টিলেটর কেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা পোশাক থেকে শুরু করে মাস্ক প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে সংকট। প্রয়োজনের তুলনায় এসব জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের সরবরাহ ভীষণ কম। যাও আছে, তার বাজার নিয়ন্ত্রণে বহু জায়গাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশ এই মহাদুর্যোগের সময় নিয়ন্ত্রণহীন বাজারব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি প্রত্যক্ষ করেছে। একেকটি মাস্ক দেশীয় বাজারেই চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। স্যানিটাইজার থেকে শুরু করে সব ধরনের জীবাণুনাশক পেতে সাধারণ মানুষকে ছুটতে হয়েছে এ দরজা থেকে ও দরজায়। কোথাও পেলেও তার দাম অনেকেরই পিলে চমকে দিয়েছে। নতুন করোনাভাইরাসের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারি গোটা বিশ্বের সামনে মুক্তবাজার অর্থনীতির কু-দিকটি উন্মোচন করে দিয়েছে। এটি জানিয়ে দিচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের মতো একটি বিষয়কে লাগামছাড়া পুঁজির ঘোড়ায় সওয়ার করানো যায় না। এই সংকট আমাদের বিদ্যমান অর্থনৈতিক মডেলটি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বলছে। এই সংকট পার হয়েও উপলব্ধিটি থাকলেই হয়। Protham Alo

আক্রান্ত না হলে মাস্ক ব্যবহার নয়: ডব্লিউএইচও

করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সবাই এখন মাস্ক খুঁজছে-ব্যবহার করছে। করাচিতে সাত বছর বয়সী এই শিশু মাস্ক বিক্রিতে নেমেছে। ছবি: রয়টার্সকরোনাভাইরাসের আতঙ্কে সবাই এখন মাস্ক খুঁজছে-ব্যবহার করছে। করাচিতে সাত বছর বয়সী এই শিশু মাস্ক বিক্রিতে নেমেছে। ছবি: রয়টার্সবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে সবার মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। যদি কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় বা কারও অসুস্থ কোনো ব্যক্তির সেবা করার প্রয়োজন হয়, তাহলেই কেবল মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
আজ মঙ্গলবার সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর হেলথ ইমারজেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক মাইক রায়ান এ তথ্য জানিয়েছেন।
মাইক রায়ান বলেন, ‘সাধারণ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করার কারণে লাভ হচ্ছে—এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। মূলত বিশ্বজুড়ে মাস্কের সঠিক ব্যবহারের পরিবর্তে অপব্যবহারই বেশি হচ্ছে। এ কারণে সারা বিশ্বে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ মাস্কের চরম সংকট দেখা যাচ্ছে।’
ডব্লিউএইচওর হেলথ ইমারজেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কারণ তাঁরা প্রতিদিন, প্রতি সেকেন্ডে এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসছেন। অথচ ভয়াবহ ব্যাপার হলো, তাঁদের জন্যই পর্যাপ্ত মাস্ক নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর ইনফেকশাস ডিজিজ এপিডেমিওলজিস্ট মারিয়া ভন কেরখোভ বলেন, মূলত এই মুহূর্তে মাস্ক ব্যবহার করা বেশি প্রয়োজন, এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আসলে যেসব স্বাস্থ্যকর্মী প্রতিনিয়ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী সামাল দিচ্ছেন, এই মুহূর্তে তাঁদের মাস্ক ব্যবহার করা সবচেয়ে জরুরি।
মারিয়া ভন কেরখোভ আরও বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত করছি। যদি কেউ অসুস্থ হন বা অসুস্থ কোনো ব্যক্তির সেবা করার প্রয়োজন হয়, তাহলেই কেবল মাস্ক ব্যবহার করবেন।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তারা হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, সারা বিশ্বে চিকিৎসা সরঞ্জামসহ চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) চরম সংকট দেখা যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে মারিয়া ভন কেরখোভ বলেছিলেন, ‘যেকোনো বিষয় আমাদের পরিষ্কার করে বলতে হবে। বিশ্বে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পিপিইসহ মাস্ক, গ্লাভস, গাউন ও মুখমণ্ডল সুরক্ষার উপকরণের চরম সংকট। এসব জিনিস সরবরাহে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের গুরুত্ব দিতে হবে।’