Friday, February 28, 2020

পাপিয়ার প্রশ্রয়দাতাদের তালিকা হচ্ছে

যুগান্তর
পাপিয়া
কাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে শামীমা নূর পাপিয়া ফুলেফেঁপে উঠেছেন তাদের তালিকা করছে গোয়েন্দা সংস্থা। যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত এ নেত্রীর আস্তানায় যাতায়াতকারীদেরও তালিকা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া যাদের নাম বলেছেন, তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে, কাজ শুরু হয়েছে। তালিকায় কাদের নাম আসছে কিংবা জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া কার কার নাম বলেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে একজন তদন্ত কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, এসব নামের বেশিরভাগই গণমাধ্যমে এসেছে। তিনি বলেন, পাপিয়ার দেয়া তথ্য এবং মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও এসএমএস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পাপিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শুক্রবার বলেছেন, পাপিয়ার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে।
সাভারের আশুলিয়ায় শুক্রবার একটি মাদ্রাসা ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাপিয়ার প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পাপিয়ার সঙ্গে যারা অপরাধ করেছেন তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। যারাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ পার পাবে না।
ইতিমধ্যেই একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে জানিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার পর কয়েকজনের ওপর নজরদারি চলছে। এদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্য ছাড়াও ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতানেত্রী রয়েছেন। ক্ষমতার খুব কাছাকাছি থাকা এক কর্মকর্তার নামও রয়েছে ওই তালিকায়। নানা পর্যায়ে পাপিয়াকে সহায়তা করা সরকারি কর্মকর্তারাও আসছেন তালিকায়। সিগন্যাল মিললেই তাদের ডেকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন করা হবে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গ্রেফতার করার আগেই পাপিয়ার নানা অপকর্মের বিষয় নিয়ে কাজ করছেন র‌্যাবের এমন একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, বহিষ্কৃত মহিলা যুবলীগ নেত্রী পাপিয়ার রাজনৈতিক উত্থান ঘটেছে এক সংসদ সদস্যের হাত ধরে। আর তার অপরাধ জগতে বিস্তার ঘটেছে জেলার আরেক এমপির প্রশ্রয়ে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিসের বড় বড় কাজ মোটা অঙ্কের কমিশনের ভিত্তিতে পাইয়ে দেয়ার বিষয়ে দেন-দরবার করতেন পাপিয়া ও তার স্বামী। যাকে যে কায়দায় ম্যানেজ করা যায়, সেটা ব্যবহার করতেন পাপিয়া। কেউ প্রলোভনের ফাঁদে পা না দিলে তাকে কৌশলে প্রতারণার জালে বন্দি করতেন।
পাপিয়ার অপকর্মের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিকসংশ্লিষ্টতা আছে কিনা জানতে চাইলে বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কায়কোবাদ কাজী যুগান্তরকে বলেন, তিনি যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল এবং যুব মহিলা লীগ ঢাকা উত্তরের সভাপতি সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের নাম বলেছেন। সব অভিযোগ যাচাই করা যায়নি।
সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাপিয়া নিজে বাঁচার জন্যও উপর মহলের সংশ্লিষ্টতার কথা বলতে পারেন। তাই তার দেয়া তথ্য যাচাই করতে এরই মধ্যে হোটেলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। যেসব রাজনৈতিক নেতা, আমলা বা ব্যবসায়ীর নাম এসেছে মামলার প্রয়োজনে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে এর মধ্যেই পাপিয়া ও তার স্বামী এবং দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্তভার মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় বিমানবন্দর থেকে র‌্যাব পাপিয়া ও তার স্বামীসহ চারজনকে আটক করে। পরে তাদের থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর থানায় তিন মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেছেন, প্রথম থেকেই পাপিয়ার এসব অপকর্মের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে র‌্যাবের একটি টিম কাজ করছিল।

Thursday, February 27, 2020

ছেলে বারান্দায়, নীচে থেকে দেখবেন বাবা -আনন্দ বাজার

HC






মা-হারা বছর দশেকের ছেলে দাঁড়িয়ে থাকবে বারান্দায়। বাবা তাকে দেখবেন নীচ থেকে। সপ্তাহের একটি দিন হবে সেই সাক্ষাৎ। কিছু ক্ষণের জন্য। ছেলের সঙ্গে দেখা করার অধিকার সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার।
পুলিশ জানায়, উত্তর ২৪ পরগনার টাকি রেজিপুরের বাসিন্দা এক শিক্ষকের সঙ্গে বসিরহাটের এক তরুণীর বিয়ে হয় ২০০৮ সালে। ওই শিক্ষক ন্যাজাট খড়মপুর হাইস্কুলের ইংরেজি পড়ান। ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অগ্নিদগ্ধ হন তাঁর স্ত্রী। সাত দিন পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। অগ্নিদগ্ধ হওয়ার দিনেই তরুণীর বাবা মেয়ের শ্বশুর-শাশুড়ি এবং জামাইয়ের বিরুদ্ধে বধূ-নির্যাতন, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন এবং নাতিকে নিয়ে চলে যান। বধূ-নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিছু দিন পরে তিনি জামিন পান।
২০১৭-র জুনে জামাইয়ের বিরুদ্ধে বসিরহাট থানায় তিনটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মেয়ের বাবা। তার মধ্যে একটি অভিযোগ, তাঁর নাতি স্কুলে যায়। জামাই রাস্তা থেকে তাঁর নাতিকে অপহরণের চেষ্টা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নিজের ছেলেকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের হয়েছে জেনে বারাসত আদালতে মামলা করেন ওই শিক্ষক। আবেদনে শিক্ষক জানান, তিনি ছেলের অভিভাবকত্ব ফিরে পেতে চান। আদালত শ্বশুরের জিম্মা থেকে ছেলেকে তাঁর জিম্মায় ফিরিয়ে দিক।
বারাসত আদালত জানায়, শিক্ষকের বিরুদ্ধে বধূ-নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার যে-মামলা চলছে, তাতে তদন্তকারী পুলিশ অফিসার সাক্ষী করেছেন তাঁর একমাত্র ছেলেকে। ছেলের সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হলে অভিভাবকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি বিবেচনা করা হবে। বারাসত আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন ওই শিক্ষক। সেই মামলায় যুক্ত করেন শ্বশুরকেও।
শিক্ষকের আইনজীবী জানান, সেই মামলায় এর আগের শুনানিতে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছিলেন, ছেলেটিকে আদালতে হাজির করাতে হবে। নাতিকে নিয়ে এ দিন আদালত কক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন দাদু। বিচারপতির নির্দেশে আদালতের এক কর্মী তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রটিকে এজলাসে নিয়ে যান। বিচারপতি ছেলেটিকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন। ছেলেটি তার উত্তরও দেয়। উত্তর শুনে বিচারপতি সরকার জানিয়ে দেন, আপাতত প্রতি শনিবার বিকেলে মিনিট দশেকের জন্য বাড়ির বারান্দায় দাঁড়াবে ছেলে। তার শিক্ষক বাবা তাকে নীচ থেকে দেখে চলে যাবেন।
শিক্ষকের আইনজীবী জানান, মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে পরবর্তী শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।

ছেলের সঙ্গে সপ্তাহে এক দিন সাক্ষাতের অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

‘তিনি বলে চলে গেলেন, মাতৃভূমি জ্বলতে থাকল’ -আনন্দ বাজার

Protest
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকে বসার ২৪ ঘন্টা আগে দিল্লির হিংসা নিয়ে তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘বিচলিত, শঙ্কিত, উদ্বিগ্ন। হৃদয় আমার ক্রন্দনরত। মৃত্যুমিছিল বেড়ে গেল।’
আজ ভুবনেশ্বর পূর্বাঞ্চলীয় আন্তঃরাজ্য পরিষদের বৈঠকে শাহের সঙ্গে মমতার মুখোমুখি দেখা হবে। তাঁদের মধ্যে একান্ত আলোচনা হোক বা না হোক, আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দু’জনের দেখা হওয়ার ঠিক আগে দিল্লির ঘটনা নিয়ে মমতার কঠোর বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
নাগরিকত্ব নিয়ে আন্দোলনে ইতিমধ্যেই মমতা পথে নেমেছেন। তাঁর দলও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। দিল্লির সাম্প্রতিক হিংসার বিরুদ্ধেও মুখ খুলেছেন মমতা। তাঁর নির্দেশেই এদিন দিল্লির ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের মহিলা শাখা কলকাতায় শান্তি মিছিল করে। হাজরা থেকে  গাঁধী মূর্তি পর্যন্ত এই মিছিলে অংশ নেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী প্রমুখ।
এই আবহে মমতা এদিন তাঁর ফেসবুক বার্তায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভারত সফরকেও কৌশলে টেনে এনেছেন। ভারতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘‘মোদী শান্ত এবং ধার্মিক। ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে মোদী অসাধারণ কাজ করছেন। তিনি এ ব্যাপারে উদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই চলেন। অন্য অনেক জায়গার থেকে ভারতের পরিস্থিতি এ ব্যাপারে ভাল।’’
ফেসবুকে সরাসরি কারও নাম না করে মমতা লিখেছেন, ‘তিনি এলেন, বললেন এবং চলে গেলেন। আমার মাতৃভূমি জ্বলতে থাকল।’ উল্লেখ্য ট্রাম্প যেদিন আমদাবাদ হয়ে তাজমহল সফর সেরে দিল্লি পৌঁছান সেদিনই নাগরিকত্ব আন্দোলন ঘিরে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়। যার জেরে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।
পথে পথে: দিল্লিতে হিংসার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার হাজরা থেকে মেয়ো রোডের গাঁধী-মূর্তি পর্যন্ত মিছিল করল তৃণমূেলর মহিলা শাখা। মিছিল শেষে জ্বালানো হল মোমবাতিও। নিজস্ব চিত্র

Delhi Violence স্বজনহারা: দিল্লিতে সংঘর্ষে নিহত মুদাস্‌সর খানের দেহ ঘিরে হাহাকার। বৃহস্পতিবার। রয়টার্স ‘‘ওই যে রাজধানী পাবলিক স্কুলটা দেখছেন, তার ছাদে ইট-পাথর-অ্যাসিড-পেট্রল বোমা জমা করেছিল ওরা। ছাদে লোহার রড গেঁথে বিরাট গুলতি বানিয়েছিল। আমরা নীচ থেকে ইট-পাথর ছুড়ছিলাম। ওরা তিন-চারজন মিলে গুলতিতে টান দিয়ে বড় বড় পাথর গোলার মতো ছুড়ছিল।’’ আমরা আর ওরা! এক দিকে শিবপুরী। অন্য দিকে মুস্তাফাবাদ। আশপাশের পুড়ে যাওয়া বাড়ি, দোকানের ভিতর থেকে পাকিয়ে পাকিয়ে কালো ধোঁয়া উঠছে। সারি সারি গাড়ির পোড়া কঙ্কাল। বাড়ির গায়ে, পুড়ে যাওয়া কাঠের দরজায় গুলির দগদগে ক্ষত। মাঝখানের রাস্তাটা স্থানীয়দের কাছে ‘ইন্ডিয়া-পাকিস্তান বর্ডার’। সত্যিই যেন ‘সংঘর্ষবিধ্বস্ত সীমান্ত’। সেই ‘সীমান্তে’ দাঁড়িয়ে বছর তিরিশের রাজু বাদোরিয়া সোম-মঙ্গলবারের সংঘর্ষের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। রাজুর চশমার নীচে, নাকে, হাতে-পায়ে চোটের দাগ। পাথর এসে লেগেছিল। এত ঝুঁকি নিয়ে পাথর ছুড়ছিলেন কেন? এক মুহূর্ত না-থেমে রাজু জবাব দেন, ‘‘মুস্তাফাবাদে ওদের মসজিদে আগুন ধরানো হয়েছিল। তাই ওরা আমাদের মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতলব করছিল। নিজেদের মান-ইজ্জত বাঁচাতে পাথর ছুড়েছি।’’ এসব শুরু করল কে? রাজু আর জবাব খুঁজে পান না। ‘‘জানি না। কেন এসব শুরু হল, বুঝতে পারিনি এখনও।’’ মুস্তাফাবাদে ব্রিজপুরী মেন রোড দিয়ে ঢুকতেই ডান হাতে পরপর রাজধানী পাবলিক স্কুল ও ডিআরপি কনভেন্ট স্কুল। চারতলা রাজধানী স্কুলের সমস্ত কাচের জানলা ভাঙা। চার দিকে বই, পরীক্ষার খাতা, কাচের টুকরো ছড়িয়ে। গোটা স্কুল জুড়ে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, সেটা স্পষ্ট। স্কুলের মালিক ফয়জল ফারুক সকালে এসে সব দেখে, অশান্তির ভয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন। পাশের দোতলা ডিআরপি স্কুলেরও অর্ধেক পুড়ে ছাই। যে-সব টেবিল-চেয়ার, কাগজপত্র বাঁচানো গিয়েছে, সেগুলো খোলা মাঠে ডাঁই করে রাখা। সেই স্কুলের মালিক রূপচাঁদ শর্মা মাথায় হাত দিয়ে বসে। ‘‘সব তো শেষ হয়ে গেল। হাজারখানেক ছাত্রছাত্রী কোথায় যাবে? কোথায় পড়াশোনা করবে ওরা,’’ প্রশ্ন দিশাহারা রূপচাঁেদর। সোম-মঙ্গলবার টানা সংঘর্ষের পরে গত কাল থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লি জুড়ে পুলিশ, র‌্যাফ, আধাসেনার টহলদারি শুরু হয়েছে। জাফরাবাদ, মৌজপুর, গোকুলপুরীর অনেক এলাকাই আগের তুলনায় ‘শান্ত’। শান্তই বটে! দলে দলে পাড়া খালি করে পালাচ্ছেন মৌজপুরের বাসিন্দারা। শিবপুরী, মুস্তাফাবাদের মতো ভিতরের দিকে পাড়ায় পাড়ায় অশান্তি এখনও থামেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরেই শিবপুরীর একটি ধর্মীয় স্থানে আগুন লাগানো হয়েছে। ফের পাথর ছোড়াছুড়ি হয়েছে। অটোর ভিতর থেকে অ্যাসিডের বোতল-সহ আটক করা হয়েছে চার যুবককে। শিবপুরী-মুস্তাফাবাদের মাঝখানের রাস্তা বরাবর বিরাট নালা। সোমবার থেকে নালা পারাপারের সমস্ত সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কোথাও বেঞ্চ-চেয়ার-টেবিল, কোথাও বাঁশ-তারের জালের ব্যারিকেড। নালার একটি জায়গা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। গাড়ি থেকেও নামতে দেওয়া হল না। কী ব্যাপার? মুস্তাফাবাদের বাসিন্দা হায়দর আলি নিজের পোড়া জামাকাপড়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফিসফিস করে বললেন, ‘‘বলছে নাকি, ৩৮ জন মারা গিয়েছে। আমি বলছি, সংখ্যাটা আরও বেশি। ওই নালায় কত দেহ পড়ে রয়েছে, কেউ জানে না।’’ কারা করল এ-সব? হায়দর আশেপাশে আঙুল দেখিয়ে বলেন, ‘‘বেছে বেছে আমাদের দোকানগুলোয় আগুন লাগিয়েছে। বাড়ির ছাদে কাঁদানে গ্যাসের শেল ‘রাজধানী’ পেয়েছি। পুলিশের নয়, বেআইনি কাঁদানে গ্যাসের শেল। এ সব কোথা থেকে এল?’’ দিল্লি পুলিশের এক অফিসার বলেন, ‘‘অন্তত দু’দিন ধরে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। না-হলে এত পেট্রল বোমা, বিরাট বিরাট গুলতি, অ্যাসিড, বন্দুক-গুলি জোগাড় করে ফেলা সম্ভব নয়।’’ টের পাননি কেন? পুলিশ অফিসার তেতো মুখে জবাব দেন, ‘‘টের পেয়েও কিছু করার ছিল না। দু’দিক থেকে ওই অ্যাসিডের বোতল, পেট্রল বোমা ছোড়া হলে কে কী করবে? মঙ্গলবারই এখানে এক এসএসবি জওয়ানের মুখে অ্যাসিড এসে পড়েছে।’’ স্কুলের ছাদে বোমা-পাথর জমা হল কী করে? রাজধানী পাবলিকের চৌকিদার মনোজ কালোনি হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন— ‘‘সোমবার সকালেও ছেলেমেয়েরা এসেছে। ক্লাস চলছিল। হঠাৎ মহল্লার সবাই এসে বলল, স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হবে। দুপুরে স্কুলের টেবিল-চেয়ার বার করে ওরা রাস্তায় ব্যারিকেড করে ফেলল। সাত ঘণ্টা স্কুলে আটকে ছিলাম। দানাপানিও জোটেনি। চার দিকে শুধু আগুন আর গুলি, বোমার শব্দ। ১৮ বছর আগে দিল্লিতে এসেছি। দেশের রাজধানী। স্কুলের নামও রাজধানী ছিল। সেই রাজধানীই নরক হয়ে উঠল!’’ -আন্দ বাজার

agitators
আগে কোনও দিন বিমানে চড়েননি তিনি। চোখে ভাল দেখেন না। রক্তচাপেরও সমস্যা রয়েছে। খাওয়া বলতে দিনে এক বার। তা-ও সামান্য। এ নিয়েই গত তিন দিনে শাহিন বাগের ‘দাদি’, বছর বিরাশির বিলকিস চষে ফেলেছেন পরপর তিনটি শহর! কেরল থেকে কলকাতার বিমানে ওঠার সময়ে সঙ্গীরা জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘‘অসুবিধা হবে না তো? এত ক্ষণ বসতে পারবেন?’’
মাথার ঘোমটা পরিপাটি করে টেনে নিয়ে ঝাঁঝিয়ে উঠে বৃদ্ধা বলেন, ‘‘গত ৭০ দিন ধরে তো শাহিন বাগেই বসে থাকলাম। বিমানে বসতে অসুবিধা কোথায়? ঠিক তো করেই নিয়েছিলাম, হয় মৃত্যুর পরে শাহিন বাগ থেকে উঠব, নয়তো দাবি পূরণ হওয়ার পরে।’’
স্বামী মারা গিয়েছেন ১১ বছর আগে। পাঁচ পুত্র ও পুত্রবধূ, ১৯ জন নাতি-নাতনির সংসার ছেড়ে গত আড়াই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিলকিসের ঘর শাহিন বাগ। এখন দেশের নানা প্রান্তে শুরু হওয়া সিএএ, এনআরসি, এনপিআর-বিরোধী আন্দোলনে উৎসাহ দিতে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। সঙ্গী কয়েক জন যুবক-যুবতী। বুধবার সেই সূত্রেই ‘দাদি’ পৌঁছেছেন কলকাতায়। আজ, শুক্রবার পার্ক সার্কাসের আন্দোলনস্থলে যাওয়ার কথা তাঁর। কমবয়সিদের সঙ্গে দৌড়ে পেরে উঠছেন? বৃদ্ধা বললেন, ‘‘চোখে একটু কম দেখি। তবে অসুবিধা হচ্ছে না। বরং স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, সরকারকে এই জনবিরোধী আইন পাল্টাতেই হচ্ছে। যেখানেই যাচ্ছি সকলকে বলছি, কখনও না কখনও সেই সকাল আসবে, যখন আমাদের দাবি পূর্ণ হবে। তত দিন সকলে এক হয়ে বসে থাকো।’’
এখন দিল্লির যা পরিস্থিতি, তাতে কি শাহিন বাগে বেশি দিন বসা যাবে?
বৃদ্ধার সঙ্গী, শাহিন বাগের আন্দোলনকারী সোনু ওয়ারসি, সৈয়দ জাওয়াদের দাবি, কিছু লোকের উস্কানিমূলক মন্তব্যে হিংসা ছড়াচ্ছে। তাঁরা কোন দলের, সকলেই জানেন। শাহিন বাগে প্রথম থেকেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছে। সোনুর কথায়, ‘‘সরকার চাইলে জোর করে শাহিন বাগ থেকে লোকজনকে সরিয়ে দিতেই পারে। কিন্তু সংবিধান মেনে সরানো কঠিন। বলা হচ্ছে, আমরা রাস্তায় বসে আছি। কিন্তু আমাদের তো পার্ক বা স্কুল নেই। তাই রাস্তাতেই বসেছি।’’
শোনা যাচ্ছিল, শাহিন বাগের আন্দোলনকারীরা নাকি সমঝোতা করতে চান...! কথা থামিয়ে বিলকিসের সঙ্গে আসা শামসাদ বিবি বললেন, ‘‘কত ভাবে যে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা হয়েছে! তুমি ঘরে শুয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ করছ, আর আমরা ঠান্ডায় বসে আছি, রোদে পুড়ছি! আমাদের কি বসে থাকার শখ রয়েছে?’’ শামসাদকে চুপ করিয়ে ‘দাদি’র জবাব, ‘‘এত কথা কীসের! শাহিন বাগে গুলি চলেছে, ছেলেরা বোরখা পরে এসে ঝামেলা করেছে। কিন্তু আমরা কিছুরই পরোয়া করি না।’’
তিন দিনে তিনটে শহর চষে ফেলা বৃদ্ধার চোখে-মুখে ক্লান্তি নেই। তাঁর কথায় উৎসাহিত হয়ে সঙ্গী যুবকেরা দেখালেন বুকের টি-শার্ট। তাতে লেখা, ‘শহরে শহরে শাহিন বাগ!’ এক জন বললেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট ২৩ মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তত দিন প্রাণপণ আন্দোলন চলবে। তার পরে যা রায় দেবে, মেনে নেব। কিন্তু শাহিন বাগ তুলে দিলেও সারা দেশে এর প্রভাব থেকে যাবে। ৭০ দিনের আন্দোলন আগামী ৭০ বছর দেশের রাজনীতিতে দিশা দেখাবে।
প্রতিবাদী: বেকবাগানের একটি অতিথিশালায় বিলকিস ও তাঁর সঙ্গীরা। বৃহস্পতিবার। ছবি: স্বাতী চক্রবর্তী

‘এ যেন ইন্ডিয়া-পাকিস্তান বর্ডার’! ‘নরক হয়ে গেল চেনা রাজধানী’ - আনন্দ বাজার

Delhi Violence
‘‘ওই যে রাজধানী পাবলিক স্কুলটা দেখছেন, তার ছাদে ইট-পাথর-অ্যাসিড-পেট্রল বোমা জমা করেছিল ওরা। ছাদে লোহার রড গেঁথে বিরাট গুলতি বানিয়েছিল। আমরা নীচ থেকে ইট-পাথর ছুড়ছিলাম। ওরা তিন-চারজন মিলে গুলতিতে টান দিয়ে বড় বড় পাথর গোলার মতো ছুড়ছিল।’’
আমরা আর ওরা! এক দিকে শিবপুরী। অন্য দিকে মুস্তাফাবাদ। আশপাশের পুড়ে যাওয়া বাড়ি, দোকানের ভিতর থেকে পাকিয়ে পাকিয়ে কালো ধোঁয়া উঠছে। সারি সারি গাড়ির পোড়া কঙ্কাল। বাড়ির গায়ে, পুড়ে যাওয়া কাঠের দরজায় গুলির দগদগে ক্ষত। মাঝখানের রাস্তাটা স্থানীয়দের কাছে ‘ইন্ডিয়া-পাকিস্তান বর্ডার’। সত্যিই যেন ‘সংঘর্ষবিধ্বস্ত সীমান্ত’। সেই ‘সীমান্তে’ দাঁড়িয়ে বছর তিরিশের রাজু বাদোরিয়া সোম-মঙ্গলবারের সংঘর্ষের বর্ণনা দিচ্ছিলেন। রাজুর চশমার নীচে, নাকে, হাতে-পায়ে চোটের দাগ। পাথর এসে লেগেছিল।
এত ঝুঁকি নিয়ে পাথর ছুড়ছিলেন কেন? এক মুহূর্ত না-থেমে রাজু জবাব দেন, ‘‘মুস্তাফাবাদে ওদের মসজিদে আগুন ধরানো হয়েছিল। তাই ওরা আমাদের মন্দিরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার মতলব করছিল। নিজেদের মান-ইজ্জত বাঁচাতে পাথর ছুড়েছি।’’ এসব শুরু করল কে? রাজু আর জবাব খুঁজে পান না। ‘‘জানি না। কেন এসব শুরু হল, বুঝতে পারিনি এখনও।’’
মুস্তাফাবাদে ব্রিজপুরী মেন রোড দিয়ে ঢুকতেই ডান হাতে পরপর রাজধানী পাবলিক স্কুল ও ডিআরপি কনভেন্ট স্কুল। চারতলা রাজধানী স্কুলের সমস্ত কাচের জানলা ভাঙা। চার দিকে বই, পরীক্ষার খাতা, কাচের টুকরো ছড়িয়ে। গোটা স্কুল জুড়ে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, সেটা স্পষ্ট। স্কুলের মালিক ফয়জল ফারুক সকালে এসে সব দেখে, অশান্তির ভয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন। পাশের দোতলা ডিআরপি স্কুলেরও অর্ধেক পুড়ে ছাই। যে-সব টেবিল-চেয়ার, কাগজপত্র বাঁচানো গিয়েছে, সেগুলো খোলা মাঠে ডাঁই করে রাখা। সেই স্কুলের মালিক রূপচাঁদ শর্মা মাথায় হাত দিয়ে বসে। ‘‘সব তো শেষ হয়ে গেল। হাজারখানেক ছাত্রছাত্রী কোথায় যাবে? কোথায় পড়াশোনা করবে ওরা,’’ প্রশ্ন দিশাহারা রূপচাঁেদর।
সোম-মঙ্গলবার টানা সংঘর্ষের পরে গত কাল থেকে উত্তর-পূর্ব দিল্লি জুড়ে পুলিশ, র‌্যাফ, আধাসেনার টহলদারি শুরু হয়েছে। জাফরাবাদ, মৌজপুর, গোকুলপুরীর অনেক এলাকাই আগের তুলনায় ‘শান্ত’। শান্তই বটে! দলে দলে পাড়া খালি করে পালাচ্ছেন মৌজপুরের বাসিন্দারা। শিবপুরী, মুস্তাফাবাদের মতো ভিতরের দিকে পাড়ায় পাড়ায় অশান্তি এখনও থামেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরেই শিবপুরীর একটি ধর্মীয় স্থানে আগুন লাগানো হয়েছে। ফের পাথর ছোড়াছুড়ি হয়েছে। অটোর ভিতর থেকে অ্যাসিডের বোতল-সহ আটক করা হয়েছে চার যুবককে।
শিবপুরী-মুস্তাফাবাদের মাঝখানের রাস্তা বরাবর বিরাট নালা। সোমবার থেকে নালা পারাপারের সমস্ত সেতু বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কোথাও বেঞ্চ-চেয়ার-টেবিল, কোথাও বাঁশ-তারের জালের ব্যারিকেড। নালার একটি জায়গা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। গাড়ি থেকেও নামতে দেওয়া হল না। কী ব্যাপার? মুস্তাফাবাদের বাসিন্দা হায়দর আলি নিজের পোড়া জামাকাপড়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফিসফিস করে বললেন, ‘‘বলছে নাকি, ৩৮ জন মারা গিয়েছে। আমি বলছি, সংখ্যাটা আরও বেশি। ওই নালায় কত দেহ পড়ে রয়েছে, কেউ জানে না।’’
কারা করল এ-সব? হায়দর আশেপাশে আঙুল দেখিয়ে বলেন, ‘‘বেছে বেছে আমাদের দোকানগুলোয় আগুন লাগিয়েছে। বাড়ির ছাদে কাঁদানে গ্যাসের শেল ‘রাজধানী’ পেয়েছি। পুলিশের নয়, বেআইনি কাঁদানে গ্যাসের শেল। এ সব কোথা থেকে এল?’’ দিল্লি পুলিশের এক অফিসার বলেন, ‘‘অন্তত দু’দিন ধরে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। না-হলে এত পেট্রল বোমা, বিরাট বিরাট গুলতি, অ্যাসিড, বন্দুক-গুলি জোগাড় করে ফেলা সম্ভব নয়।’’ টের পাননি কেন? পুলিশ অফিসার তেতো মুখে জবাব দেন, ‘‘টের পেয়েও কিছু করার ছিল না। দু’দিক থেকে ওই অ্যাসিডের বোতল, পেট্রল বোমা ছোড়া হলে কে কী করবে? মঙ্গলবারই এখানে এক এসএসবি জওয়ানের মুখে অ্যাসিড এসে পড়েছে।’’
স্কুলের ছাদে বোমা-পাথর জমা হল কী করে? রাজধানী পাবলিকের চৌকিদার মনোজ কালোনি হাউহাউ করে কেঁদে ফেলেন— ‘‘সোমবার সকালেও ছেলেমেয়েরা এসেছে। ক্লাস চলছিল। হঠাৎ মহল্লার সবাই এসে বলল, স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হবে। দুপুরে স্কুলের টেবিল-চেয়ার বার করে ওরা রাস্তায় ব্যারিকেড করে ফেলল। সাত ঘণ্টা স্কুলে আটকে ছিলাম। দানাপানিও জোটেনি। চার দিকে শুধু আগুন আর গুলি, বোমার শব্দ। ১৮ বছর আগে দিল্লিতে এসেছি। দেশের রাজধানী। স্কুলের নামও রাজধানী ছিল। সেই রাজধানীই নরক হয়ে উঠল!’’ 
স্বজনহারা: দিল্লিতে সংঘর্ষে নিহত মুদাস্‌সর খানের দেহ ঘিরে হাহাকার। বৃহস্পতিবার। রয়টার্স

কচুয়ায় ১০ গ্রামের ভরসা বাঁশের সাঁকো



 মানব জমিন

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের কড়ইয়া এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১০ গ্রামের মানুষ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করে আসছেন। কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া এলাকায় প্রবাহমান সুন্দীর খালের উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে কড়ইয়াসহ বরুচর, নাহারা, লতিফপুর, নোয়াগাঁও, নোয়াদ্দা, সিংআড্ডা ও পার্শ্ববর্তী চান্দিনা উপজেলার কালিয়ারচর, গল্লাই ও নবাবপুর  এলাকার প্রায় ২০ শতাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করছে। বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে ওই এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ওই এলাকায় বসবাসরত মানুষ কচুয়া, চান্দিনা, নবাবপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের পথে প্রধান অন্তরায় বহু বছর ধরে ব্যবহার করে আসা বাঁশের সাঁকোটি। যার ফলে এলাকার মানুষের প্রয়োজনীয় মালামাল পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। চলাচলের অসুবিধার কারণে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি ওই এলাকার বসবাসরত সাধারণ মানুষের মাঝে। ফলে ওই এলাকার মানুষের মাঝে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এলাকাবাসী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট অচিরেই পাকা ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।

মোদির নাগরিকত্ব আইন বর্ণবাদী-সাম্প্রদায়িক: রজার ওয়াটার্স


 






 Daily Star
ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বাতিলের দাবিতে দিল্লির বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে একাত্মতা জানালেন কিংবদন্তি রক ব্যান্ড পিংক ফ্লয়েডের সহপ্রতিষ্ঠাতা রজার ওয়াটার্স।
জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার ছাত্র আমির আজিজের কবিতা ‘সব ইয়াদ রাখা জায়েগা’ আবৃত্তি করেছেন তিনি।
উইকিলিক্স প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের লন্ডনের কারাগার থেকে মুক্তি দাবির আন্দোলনে গত ২২ ফেব্রুয়ারি আমিরের হিন্দি কবিতাটি ইংরেজিতে আবৃত্তি করেন রজার।
তিনি আজিজের কবিতা সম্পর্কে বলেন, এটা অচেনা এক যুবকের লেখা। তার নাম আমির আজিজ। দিল্লির মোদি সরকারের সাম্প্রদায়িক এবং বর্ণবিদ্বেষী সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন অচেনা কবি ও সমাজকর্মী আমির।
আবৃত্তির আগে তিনি বলেন, ‘এক বিশ্বে এক আন্দোলনের অংশ হয়ে আছি আমরা। বিশ্বজুড়ে এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে জীর্ণ পৃথিবীতে বোধের দীপ্তি জ্বালানোটা একান্ত প্রয়োজন।'

ভারতে কাঁদছে মুসলমান

ভারতে কাঁদছে মুসলমান

 Jugantor

মক্কায় মুশরিকরা আর মদিনায় ইহুদিরা মুসলিমদের নির্যাতন করেছিল। সে সময় মুসলিমদের রক্তে তপ্ত মরুভূমি শীতল হয়েছিল। মুসলিমরা তখনও অন্যায়ের প্রতি বশ্যতা স্বীকার করেনি। এখনও তাদের অবিচারের স্টিমরোলার মেনে নেয়নি। সব সময় তাদের বিরুদ্ধে বুক টান করে দাঁড়িয়েছে। মেরুদণ্ড সোজা করে প্রতিরোধ গড়েছে।
বুলেট এসেছে, প্রাণ গেছে। মা তার আরেক সন্তানকে শ্রুত্রুর সামনে দাঁড় করিয়েছে। ভয় পায়নি। ভয় শব্দ মুসলিমদের অভিধানে নেই। হয় শহীদ হয়েছে, নয়তো গাজী হয়েছে। যে জাতি মৃত্যুকে ভয় পায় না, সে জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারে না।
এ দুই জাতি সূচনালগ্ন থেকেই মুসলিমদের শত্রুছিল। কোরআনের ভাষ্যও তা-ই। আজও এর ব্যতিক্রম নয়।
নির্যাতনের ফলাফল ছিল মক্কা এবং মদিনাতে ইসলামের পতাকা প্রথম উড়েছিল। মুশরিক এবং ইহুদিরা চূড়ান্ত পরাজয়বরণ করেছিল। নির্যাতন যেখানে, ইসলামের বিজয় সেখানে। এটাই মুসলিমদের বিজয়ের পথ। রক্ত ঝরবেই। শহীদ হবেই। দুঃখ সাময়িক। সুখ চিরদিনের। আগামীর বিশ্ব ইসলামের। ঘুমন্ত মুসলিমকে ওরাই জাগিয়ে দিচ্ছে। ওরা মুসলিমদের হাতে ভারতবর্ষের পতাকা আবার ওড়াতে দিচ্ছে। যতই অত্যাচার, নিপীড়ন বাড়বে, ততই মোহাম্মদ বিন কাসেমের আগমনের পথ খুলবে।
ওরা কোরআন পোড়াল, মসজিদের বিরুদ্ধে রায় দিল, মসজিদে আগুন দিল, মসজিদের মিনারে হনুমানের পতাকা টাঙাল, পিটিয়ে পিটিয়ে মুসলিমদের হত্যা করল এর বদলা অবশ্যই মুসলিমরা নিতে সচেষ্ট হবে। মুসলিমরা শান্তিপ্রিয়, কিন্তু অন্যায়কে অন্যায় বলে প্রতিবাদ করতে জানে। মুসলিমরা হুংকার দিলে, তাদের হৃদয় মন্দির এমনিতেই খানখান হয়ে যাবে। কাশ্মীর কিংবা হায়দ্রাবাদ, গুজরাট কিংবা উত্তরপ্রদেশ অথবা দিল্লি মুসলমানদের রক্তে লাল হয়েছে, সে জমিন মুসলমান উদ্ধার করবেই। এ রকম মনোভাব থাকাটাই স্বাভাবিক।
গরুর মূল্য তাদের কাছে থাকলেও মুসলিমদের মূল্য নেই।
মানুষ আগে নাকি জীব আগে, এ জ্ঞান যার নেই, সে যে ধর্মেরই হোক না কেন, সে মানুষ নয়। সে ধর্ম বোঝে না। সে উগ্রবাদী সন্ত্রাসী। কট্টর হয়ে অত্যাচারী হওয়া যায়, ধার্মিক হওয়া যায় না।
আনন্দবাজার পত্রিকা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যাপক শেলডন পোলকের মতামত ছাপিয়েছিল। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘মুসলমান শাসকরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করলে বর্তমান ভারতে একজনও হিন্দু থাকত না।’
এতে জানা যায়, মুসলিমরা কখনই অত্যাচারী ছিল না। অন্য সম্প্রদায়কে সবসময় সম্মান ও সুযোগসুবিধা দিত। মিলেমিশে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ থাকত। কিন্তু বিনিময়ে আজ ওরা কী পাচ্ছে?
জয় শ্রী রাম বলে যারা হত্যাযজ্ঞে মেতেছে, তারা প্রকৃত হিন্দু কিংবা সনাতনী নয়। প্রকৃত হিন্দু কখনও অন্য জাতির ওপর আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাতে পারেন না।
ধর্মের বাণী প্রচার করা, আর হত্যা করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা অনেক পার্থক্য। ভারতের সংবিধান অসাম্প্রদায়িক চেতনার। সেখানে সব জাতির প্রতি সমান দৃষ্টি রাখার কথা বলা হয়েছে।
মোতাহার হোসেন চৌধুরী তার ‘স্বাধীনতা : জাতীয়তা ও সাম্প্রদায়িকতা’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ভারতবর্ষ কার- এ প্রশ্নের উত্তরে বহু আগেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন : ‘নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিস্মৃত হয়ে যে ভারতবর্ষের সেবা করে ভারতবর্ষ তার, কারণ সেবার দ্বারাই সে তাকে আপন করে- তার অভিভাবক হয়ে দাঁড়ায়।’
সুতরাং মোদি পরিচালিত যে ভারত, সে ভারত আর আগের ভারত এক নয়। ভারতের বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উচিত, এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখা।
লেখক : লেকচারার ও কলাম লেখক

রাতারাতি দিল্লির ‘রক্ষাকর্তা’ হয়ে ওঠা বিচারপতি মুরলীধর কে জানেন?

শেয়ার করুন
১১ muralidhar
একরাতেই দিল্লির ‘রক্ষাকর্তা’ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। তাঁর বদলির সিদ্ধান্তের নিন্দায় সরব হয়েছেন দিল্লির হাই কোর্টের আইনজীবীরা। দিল্লি হাই কোর্টের ওই বিচারপতি এস মুরলীধরের সঙ্গে পরিচয় করা যাক।
১১ muralidhar
বদলি হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ থেকে পঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাই কোর্টের বিচারপতির আসনে বসবেন এস মুরলীধর। তার আগে তিনি দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি ছিলেন।
১১ SC
১৯৮৪ সালে সেপ্টেম্বরে চেন্নাইয়ে প্রথম আইনজীবী হিসাবে প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি। তারপর ১৯৮৭ সালে দিল্লিতে চলে যান। দিল্লি হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস শুরু করেন।
১১ muralidhar
সুপ্রিম কোর্টে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং নর্মদা বাঁধ তৈরির জন্য ঘরহারা মানুষদের জন্য লড়াই করে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন।
১১ muralidhar
এরপর তিনি জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরামর্শদাতা নিযুক্ত হন। ২০০২ সালের ডিসেম্বরে ল’কমিশন-এর আংশিক সময়ের সদস্য হন তিনি।
১১ muralidhar
বিচারপতি হিসাবে দিল্লি হাই কোর্টে তিনি ২০০৬ সাল থেকে রয়েছেন। ওই বছর ২৯ মে-তে দিল্লি হাই কোর্টে বিচারপতি হিসাবে কাজে যোগ দেন।
১১ muralidhar
দীর্ঘ এই ১৪ বছর দিল্লি হাই কোর্টে বিচারপতি থাকাকালীন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নানা গুরুত্বপূর্ণ মামলা সামলেছেন তিনি। যার মধ্যে রয়েছে কংগ্রেস নেতা সজ্জন কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ৮৪-র শিখ-বিরোধী দাঙ্গা মামলা। সমকামিতাকে ফৌজদারি অপরাধের তকমা থেকে মুক্ত করার রায়ও তিনিই দেন।
১১ muralidhar
সম্প্রতি দিল্লি-হিংসা নিয়েও ভীষণ তৎপরতা দেখিয়েছেন তিনি। দিল্লির মুস্তাফাবাদে গোষ্ঠী সংঘর্ষে বহু আহত স্থানীয় ছোট্ট হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পুলিশের থেকে কোনও সাহায্য না-পেয়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার সময় বিচারপতি মুরলীধরের বাড়িতে যান চিকিৎসক, মানবাধিকার কর্মীরা। রাতেই তাঁদের আর্জি শুনতে রাজি হন বিচারপতি।
১১ muralidhar
এমন একজন বিচারপতির বদলি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি বলে সরব হন আইনজীবীরা। কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। দিল্লি হাইকোর্ট থেকে বিচারপতি মুরলীধরের বদলির প্রসঙ্গ এর আগেও দু’বার উঠেছিল। ২০১৮-র ডিসেম্বর ও ২০১৯-এর জানুয়ারিতে।
১০১১ muralidhar
‘ল, পভার্টি অ্যান্ড লিগাল এইড: অ্যাকসেস টু ক্রিমিনাল জাস্টিস’ নামে ২০০৪ সালের অগস্টে নিজের লেখা একটি বইও প্রকাশ করেন তিনি। প্রযুক্তি আইন এবং গোপনীয়তার অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ উষা রামানাথন তাঁর স্ত্রী।
১১১১ muralidhar ব্যক্তিগত মহলে তাঁর আরও একটা পরিচয় রয়েছে। ‘ফিটনেস ফ্রিক’ হিসাবে পরিচিত তিনি। প্রতিদিনই নিয়ম করে লোধি গার্ডেনে মর্নিং ওয়াক এবং জগিং করেন। আর তাঁর রবিবার বরাদ্দ দিল্লির সেন্ট্রাল রিজ এলাকায় সাইক্লিংয়ের জন্য।

Wednesday, February 19, 2020

ওভারব্রিজ বন্ধ থাকায় বিপাকে পথচারীরা


ঢাকার উত্তরার বিএনএস ভবনের সামনের ওভারব্রিজটি দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ সব পথচারীদের।
জানা যায়, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি মেরামতের কাজ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আজমপুর এবং হাউজবিল্ডিং এর মাঝখানে অবস্থিত এই ওভার ব্রিজটি ছাড়া পারাপার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে ফুট ওভার ব্রিজ বন্ধ রাখায় আইল্যান্ড ডিঙিয়ে রাস্তা পারা হচ্ছে মানুষ।
জানা যায়, এই রাস্তার দুই পাশেই রয়েছে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র।
এসএসসি পরীক্ষার্থী তাহমিনা বলে, “আমাদের এই ব্রিজটা না থাকায় রাস্তা পারাপারে খুব ভয় লাগে, কখন কী বিপদ ঘটে যায়। খুব ভয়ে ভয়ে রাস্তা পারাপার হতে হয়।” 

বিডিনিউজ২৪.কম

Thursday, February 13, 2020

পদ্মা-মেঘনার চরে বিদ্যুতের আলো কেরোসিন কুপি থেকে মুক্তি মিলবে ১৮ হাজার পরিবারের

পদ্মা-মেঘনার চরে বিদ্যুতের আলো
ঘরে ঘরে বিদ্যুতের মিটার লাগানো শেষ। চারদিকে উৎসবের আমেজ। আগামীকাল শনিবার সন্ধ্যা থেকে পদ্মা ও মেঘনা নদী চরের ১৮ হাজার পরিবারে মিলবে ৭০ বছরের অন্ধকার থেকে মুক্তি। শরীয়তপুরের নড়িয়া ও ভেদেরগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নের এই পরিবারগুলোতে কেরোসিনের কুপি বাতির পরিবর্তে জ্বলবে বিদ্যুতের আলো।
নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা জেলা-উপজেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন এসব চর কখনো বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে- এটা কারও ভাবনায় ছিল না। কিন্তু মুজিববর্ষে প্রতিটি ঘর হবে আলোকিত- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন ঘোষণার পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছেন নড়িয়া-২ আসনের দলীয় এমপি পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম। শরীয়তপুর জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে পদ্মা ও মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা চরে প্রায় ৭০ বছর আগে থেকে মানুষের বসবাস শুরু হয়। চরের নওয়াপাড়া ও চরআত্রা ইউনিয়ন পড়েছে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায়। আর কাঁচিকাটা ইউনিয়ন ভেদরগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত। জেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত এ এলাকার মানুষ। বিদ্যুতের আলো এখানকার মানুষের কাছে স্বপ্নের মতো। সন্ধ্যা নেমে এলেই অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো চরাঞ্চল। এ অবস্থায় গত বছরের ২৩ এপ্রিল এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনতে পার্শ্ববর্তী মুন্সীগঞ্জ জেলা থেকে পদ্মা নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর ৮০০ মিটার অংশে বিদ্যুতের লাইনের প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়। সাবমেরিন ক্যাবল ও সাব পাওয়ার স্টেশনের উদ্বোধন করেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তিনি এ কাজ করেন।
এরপর এখন বিদ্যুতের লাইন, সংযোগসহ সব কাজ শেষ হয়েছে। ঘরে ঘরে এগুলো লাগানো হয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা। আগামীকাল শনিবার হবে এই শুভ কাজটি। আর তখন অন্ধকার থেকে আলো জ্বলবে ঘরে ঘরে। এ নিয়ে ঈদ উৎসবের চেয়েও বড় আনন্দ এখন চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে। নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহেল মুন্সী বলেন, আমাদের ইউনিয়নটি দুর্গম চরে। পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে এখানে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে- তা কখনো ভাবিনি। এ এলাকায় আগামীকাল থেকে বিদ্যুৎ জ্বলবে-এটা যেন ঈদের চেয়ে বড় আনন্দ। এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এর চেয়ে গত ৭০ বছরে কোনো সুখের সংবাদ আসেনি। চরআত্রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিনা রতন বলেন, ৭০ বছর ধরে এ চরে মানুষ বসবাস করলেও বিদ্যুতের আলো বঞ্চিত ছিল। বিদ্যুৎ ছিল সবার স্বপ্নের মতো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে বর্তমান এমপি এনামুল হক শামীমের কল্যাণেই।
নওপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফারহানা হক শম্পা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘চরের মানুষ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে- কখনো ভাবনার মধ্যেই ছিল না। তাও এত কম সময়ের মধ্যে? এটা বিস্ময়কর। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ¯ন্ডেœহভাজন এনামুল হক শামীম এমপি বলেই এটা করা সম্ভব হয়েছে। এটা চরবাসীর জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাই এখন সবাই আবেগে আপ্লুত।’ মুন্সীগঞ্জ বিদ্যুতের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন বলেন, আগামীকাল বিদ্যুৎ লাইনের উদ্বোধন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৮ হাজার বাড়িতে লাগানো হয়েছে বিদ্যুতের মিটার। সাব স্টেশনে মোট ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সব সময় বাড়তি উদ্বৃত্ত থাকবে। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে চরে কখনো বিদ্যুৎ যাওয়ার সম্ভবনা নেই।
শরীয়তপুর-২ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, ‘গত নির্বাচনে আমি যখন ওই চরে গণসংযোগে যাই, তখন চরবাসীর বড় দাবি ছিল বিদ্যুৎ সংযোগ। আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম ভোটে জিতলে তিন মাসের মধ্যেই বিদ্যুতের আলো পৌঁছাব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণায় ও তার নির্দেশে আমি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত বছরের ২৩ এপ্রিল সাবমেরিন ক্যাবল ও পাওয়ার স্টেশনের উদ্বোধন করি। এরপর সময়ের মধ্যেই তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘সব কৃতিত্ব বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কারণ তিনি আমাকে মনোনয়ন না দিলে আমি চরবাসীকে কুপি বাতির আলো থেকে মুক্ত করতে পারতাম না। চরবাসীও বঙ্গবন্ধুকন্যার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।’ শুধু চরাঞ্চলের মানুষই নয়, এই চরের অনেক বাসিন্দাই প্রবাসী। তারাও বিদ্যুৎ যাওয়ার খবরে খুশি। লন্ডন প্রবাসী মো. মহসিন উদ্দিন লিখন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনায় গ্রামকে শহর করার উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। শরীয়তপুর জেলার কাঁচিকাটা, চরআত্রা ও নওপাড়ার নদীবেষ্টিত বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন তিনি। চরের ছেলে (শামীমের জন্ম চরে) এমপি হওয়ার মাত্র এক বছরের মাথায় এ কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন। মূল ভূখন্ড থেকে আলাদা, যে কোনো দিক থেকে মূল ভূখন্ডে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা নদী পাড় হতে হয় ইঞ্জিন নৌকায়। এমন একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যুতের সুবিধা যেন এক ইতিহাস, যেন উন্নয়নের এক মাইল ফলক।’

এবার রঙিন হবে সিলেট প্রতিটি ওয়ার্ডের স্থাপনার রং হবে আলাদা

এবার রঙিন হবে সিলেট
‘ডিজিটাল সিটি’র পথে এগিয়ে যাচ্ছে সিলেট। ইতিমধ্যে পুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। এগিয়ে চলছে তারবিহীন নগরী গড়ার কাজও। এবার পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেটকে ‘কালার কোডিং’য়ে বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের বিশেষ আগ্রহে সিটি করপোরেশন এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। ‘কালার কোডিং’ বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের বাসা-বাড়িসহ সব স্থাপনার রং হবে আলাদা। এতে বদলে যাবে সিলেট নগরীর রূপ। সৌন্দর্য বর্ধনের এই বিশেষ উদ্যোগ পর্যটকদেরও আকৃষ্ট করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারমুক্ত নগরী গড়ার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার সড়কের বিদ্যুতের খুঁটি ও তার অপসারণ করা হয়েছে। মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। এরপর থেকে আলাদা রূপ পেয়েছে তারবিহীন ওই সড়কটি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়িত এই প্রকল্প উদ্বোধন করতে এসে সিলেটে ‘কালার কোডিং’ বাস্তবায়নের আগ্রহের কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এরপর সিটি করপোরেশন ‘কালার কোডিং’ নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করে। জানা গেছে, হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহর তারবিহীন সড়কের উভয় পাশের স্থাপনার রং বদলে দিয়ে ‘কালার কোডিং’য়ের কাজ শুরু করতে চাইছে সিটি করপোরেশন। শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের প্রধান  ফটকের রং আকাশি ও সাদা হওয়ায় ওই আদলেই সব স্থাপনার রং করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দরগার প্রধান ফটক থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশের বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আকাশি ও সাদা রং দিয়েই সাজানো হবে। এ লক্ষ্যে স্থাপনাগুলোর মালিকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা চাই সিলেটকে ব্যতিক্রমী স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে অনেকগুলো প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ‘কালার কোডিং’ বাস্তবায়ন করা গেলে স্মার্ট সিটির দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে সিলেট।’

Tuesday, February 11, 2020

৩ লাখ ৪০ হাজার কর্মী চায় জাপান- দক্ষ করে তোলা হচ্ছে কর্মী।

জাপানে ১৪টি ক্যাটাগরিতে দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের বিশাল এক বাজার রয়েছে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে শ্রমবাজারের এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছে।
জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত এক বন্ধু। জাপানের জনগণের অনুকরণীয় জীবনযাপন ও আচরণ বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। জাপান অত্যন্ত উপযোগী কর্মক্ষেত্র। দেশে ৬৫টি ল্যাবে জাপানি ভাষাসহ ৯টি ভাষা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণের সিলেবাস বা কারিকুলাম পেলে দক্ষ জনবল তৈরি করার দায়িত্ব  নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ।
জাপানে বর্তমানে কেয়ার ওয়ার্কার, বিল্ডিং ক্লিনিং ম্যানেজমেন্ট, মেশিন পার্টস অ্যান্ড টুলিং ইন্ডাস্ট্রিজ, ইলেকট্রিক, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ইনফরমেশন ইন্ডাস্ট্রি, কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি, শিপ বিল্ডিং অ্যান্ড শিপ মেশিনারিজ ইন্ডাস্ট্রি, অটোমোবাইল রিপেয়ার ইন্ডাস্ট্রি, এভিয়েশনস ইন্ডাস্ট্রি, অ্যাকমোডেশন ইন্ডাস্ট্রি, এগ্রিকালচার, ফিশারিজ, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ও ফুড সার্ভিসেস ইন্ডাস্ট্রিতে ৩ লাখ ৪০ হাজার কর্মীর চাহিদা রয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৯টি জাপানি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৯টি দেশ থেকে এসব কর্মী নিয়োগ করা হবে। ৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে জাপান সরকার বাংলাদেশকে এই তালিকায় যুক্ত করার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
“জাপানে যেতে ইচ্ছুক একজনকে দক্ষ হিসেবে গড়ে উঠতে কমপক্ষে ৮ মাস লাগে।জাপান যেই ধরনের দক্ষ লোক চায়, তাদের সেটা দিতে পারবে বাংলাদেশ সরকার।
আগামী বছরগুলোতে  বিভিন্ন খাতে জাপানের ৬ লাখ কর্মী সংকট হবে। আর পাঁচ বছরে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ৩০ লাখ। প্র তিটি চাকরির বিপরীতে আবেদন হচ্ছে ১ দশমিক ৬ জন।
ভাষা ও কালচার শিক্ষা জাপানে যেতে হলে জাপানি ভাষা শিক্ষার সাথে কালচার জানতে হবে। এজন্য জাপানি ভাষার এন ফোর লেভেল পর্যন্ত জানতে হবে। জাপানি ভাষায় এন ফাইভ হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়। এর পরের ধাপ হচ্ছে এন ফোর লেভেল। অর্থাৎ জাপানি ভাষায় বলতে, লিখতে ও পড়তে জানতে হবে। সরকার অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ” নগর জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ এন্ড ক্যালচারাল সেন্ট্রার ৩২০, ইষ্ট রামপুরা, আলআমিন মার্কেট ( ২তলা), রামপুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা- ১২১৯ নিয়মিত জাপানি ভাষা ও কালচার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।




জাপানী প্রশিক্ষনের এই একাডেমীর একটি বিশেষায়িত গুন হলো- জাপানী প্রতিনিধির সাথে দেশীয় দুজন দক্ষ প্রশিক্ষক ভাষা ও কালচার প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে। তিন মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণে আবাসিক সুবিধা রয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।



বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুনঃ 45, Topkhana Road, Tropicana Tower ( 2nd & 3rd Floor), Dhaka-1000 Tel: +88 02- 9552428, 57160744 Mobile 01313891963, email: narajlcc@gmail.com
web : http://nagaroverseas.com/

Monday, February 10, 2020

জাপানে কর্মী প্রেরন- ভাষা ও কালচার বিষয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ”NAGAR JAPANESE LANGUAGE & CULTURAL CENTER"






This image has an empty alt attribute; its file name is জাপান১-1024x576.jpg
জাপানে ২০১৯ এপ্রিল থেকে চালু হয়েছে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা। প্রস্তুতি লওয়ার সময় এখনি।
১৪টি খাতে যত ভিসা দেবে জাপান:
নার্সিং কেয়ারে ৬০ হাজার, রেস্টুরেন্ট খাতে ৫৩ হাজার, কনস্ট্রাকশন খাতে ৪০ হাজার, বিল্ডিং ক্লিনিং খাতে ৩৭ হাজার, কৃষি খাতে ৩৬ হাজার ৫০০, খাবার ও পানীয় শিল্পে ৩৪ হাজার, সেবা খাতে ২২ হাজার, ম্যাটারিয়ালস প্রেসসিং খাতে ২১ হাজার ৫০০, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি ৭ হাজার, ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রপাতি ৪ হাজার ৭০০, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ১৩ হাজার, মৎস্য শিল্পে ৯ হাজার, অটোমোবাইল মেনটেইনেন্স শিল্পে ২১ হাজার ৫০০, এয়ারপোর্ট গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং অ্যান্ড এয়ারক্রাফট মেনটেইনেন্স (এভিয়েশন) খাতে ২ হাজার ২০০ মিলিয়ে ৫ বছরের মধ্যে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৪০০ বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা দেবে জাপান সরকার।





This image has an empty alt attribute; its file name is জাপান২-1024x576.jpg
ভাষা ও কালচার শিক্ষা
জাপানে যেতে হলে জাপানি ভাষা শিক্ষার সাথে কালচার জানতে হবে। এজন্য জাপানি ভাষার এন ফোর লেভেল পর্যন্ত জানতে হবে। জাপানি ভাষায় এন ফাইভ হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়। এর পরের ধাপ হচ্ছে এন ফোর লেভেল। অর্থাৎ জাপানি ভাষায় বলতে, লিখতে ও পড়তে জানতে হবে। সরকার অনুমোদিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান " নগর জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ এন্ড ক্যালচারাল সেন্ট্রার ৩২০, ইষ্ট রামপুরা, আলআমিন মার্কেট ( ২তলা), রামপুরা বাজার বাসস্ট্যান্ড, ঢাকা- ১২১৯ নিয়মিত জাপানি ভাষা ও কালচার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।





This image has an empty alt attribute; its file name is জাপান৩-1024x498.jpg
জাপানী প্রশিক্ষনের এই একাডেমীর একটি বিশেষায়িত গুন হলো- জাপানী প্রতিনিধির সাথে দেশীয় দুজন দক্ষ প্রশিক্ষক ভাষা ও কালচার প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে।
তিন মাস ব্যাপী প্রশিক্ষণে আবাসিক সুবিধা রয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে।






বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুনঃ
45, Topkhana Road, Tropicana Tower ( 2nd & 3rd Floor), Dhaka-1000
Tel: +88 02- 9552428, 57160744
Mobile 01313891963, email: narajlcc@gmail.com

web : http://nagaroverseas.com/

Sunday, February 9, 2020

মেজর (অব,) সুধীর সাহা-একজন কৃতিমান পুরুষের প্রতিচ্ছবি ।






অমর একুশ এবারের বই মেলায় লেখক গবেষক মেজর (অব.) সুধীর সাহার প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক মোট ০৬টি বই বের হয়েছে।   লেখক গবেষকের জন্মস্থান ঢাকা  জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার শিকারীপাড়া গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এলএলবি সম্মান ও এলএলএম শেষ করে আইন পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন। অতঃপর কমিশন অফিসার হিসাবে যোগ দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জজ অ্যাডভোকেট জেনারেল ডিপার্টমেন্ট। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী হতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহন করে কানাডায় চলে যান। একজন ইম্রিগেন্ট বিশেষজ্ঞ হিসাবেও সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হন। তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠান আইএলসিবি বেশ সুনাম অর্জন করেছে।
প্রবাসে বসবাস করলেও কৃতিমান পুরুষ যখনি সময় পান চলে আসেন মাতৃভূমিতে। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন নিয়মিতভাবে। বিশেষ করে প্রতিবছর একুশের বই মেলাতে সামনে রেখে চলে আসেন প্রিয় বাংলা একাডেমীর প্রাঙ্গণ।


 মেজর (অব.) সুধীর সাহা কানাডা এবং বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য  প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নামগুলো হলোঃ



 সদস্য                                      
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট, বাংলাদেশ।
আজীবন সদস্য                      
- বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ।
আজীবন সদস্য                       -
এশিয়াটিক সোসাইটিক অব বাংলাদেশে।
চেয়্যারম্যান                             -
কল্যাণী ফাউন্ডডেশন, বাংলাদেশ।
সভাপতি                                  -
ইছামতি বাঁচাও আন্দোলন, বাংলাদেশ।

সদ্স্য
ইম্রগ্রেশন অব কানাডা রেগুলেটরি কমিটি, কানাডা
সদস্
কানাডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন                            ইমিগ্রেশন  কানাডা। 
আন্তর্জাতিক মার্কেটিং এজেন্ট                 
সেন্ট কিটস্ এন্ড নেভিস, সেন্ট লুসা,এন্টিগুয়া এগু বারবুদা,গ্রেনাডা।
                                                        



মেজর সুধীর লেখালেখি নিয়েও ব্যস্ত থাকে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য দৈনিক পত্রিকা তার লেখা অনেকটাই রাজনীতি এবং সমাজ সচেতনমূলক প্রবন্ধ। জীবনধর্মী বাস্তব সামাজিক সমস্যা প্রায়ই তাঁর লেখা ফুটে উঠে। শুধু পত্রিকার লেখাই সীমাবদ্ধ নন সুধীর সাহা। তাঁর উল্লেখযোগ্য ১৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। সেই ১৯৯১ সালে তাঁর প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে। তারপর একে একে ১৬টি বই প্রকাশিত হয়। বইগুলোর নাম, বিবরণ এবং প্রকাশক ও প্রকাশের তারিখ উল্লেখ করা হলোঃ



     বইয়ের   নাম
  বিবরণ        
প্রকাশক   প্রকাশের সময়কাল
১। 
মাদক সমাজ আইন   
প্রবন্ধ           
বাংলা একাডেমি (১৯৯১)     
২।
বিপন্ন ভালবাসা              
প্রবন্ধ              
অমিয় ধারা (২০১৬) ২য় সংস্করণ।
৩।
ঠিকানা   
নাটক            
অমিয় ধারা (২০১৬) ২য় সংস্করণ
৪।
একটি জীবন ও আমরা         
 ছোট গল্প        
অমিয় ধারা ২০১৬) ২য় সংস্করণ
৫।
নির্বাচিত কলাম
প্রবন্ধ    
অমিয় ধারা (২০১৬) ২য় সংস্করণ
৬।
 এলোমেলা চিন্ত-ভাবনা         
প্রবন্ধ              
অমিয় ধারা (২০১৬) ২য় সংস্করণ।
৭।
 নির্বাচিত কলাম   দ্বিতীয়  খন্ড   
প্রবন্ধ              
অমিয় ধারা (২০১৬) ২য় সংস্করণ
৮।
 বাংলাদেশ, এগিয়ে যাওয়ার   এখনি সময়
প্রবন্ধ                                                        
অমিয় ধারা   (২০১৭) 
৯।
  নির্বাচিত কলাম   তৃতীয় খন্ড    
প্রবন্ধ            
অমিয় ধারা (২০১৭)
১০।
আবাসযোগ্য পৃথিবী কত  দূরে
প্রবন্ধ             
অমিয় ধারা (২০১৯)
১১।
 রাজনীতি এবং  
প্রবন্ধ             
অমিয় ধারা (২০১৯)
১২।
 চেতনাই বাঁচিয়ে রাখবে বাঙ্গালী
সংস্কৃতি 
প্রবন্ধ             
অমিয় ধারা (২০২০)
১৩।
শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ       
প্রবন্ধ              
অমিয় ধারা (২০২০)
১৪।
  World History of Civilization   
গবেষণাধর্মী  
অমিয় ধারা (২০২০)
১৫।
  বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাস  
গবেষণাধর্মী  
অমিয় ধারা (২০২০)
১৬।
  Investment Migration  
গবেষণাধর্মী   
অমিয় ধারা (২০২০)
১৭।
  How far uninhabitable        
প্রবন্ধ              
অমিয় ধারা (২০২০)
 

লেখক ও গবেষক মেজর ( অব.) সুধীর সাহা নবাবগঞ্জের গর্ব। তাঁর গবেষণামূলক লেখা ও পরিবেশসহ সামাজিক কর্মকান্ড আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে । নতুন প্রজন্মের কাছে তারঁ এই কর্মকান্ড প্রেরনা যোগাবে-নিঃসন্দহে বলা যেতে পারে।

https://ranabhuiyan.com/নবাবগঞ্জঃ-মেজরঅবঃ-সুধীর/(opens in a new tab)