করোনা ও অকাল বন্যার শঙ্কা নিয়ে হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের দিরাই, শাল্লা, ধর্মপাশা ও মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব এলাকার সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনও কৃষক ও শ্রমিকদের উৎসাহ জোগাচ্ছেন ধান কাটতে।
অফিস ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর : কিশোরগঞ্জ :কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী- এ চার উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলার মূল হাওরাঞ্চল। ইতোমধ্যে হাওরে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা। তবে করোনার প্রাদুর্ভাবে ধান কাটার শ্রমিক না আসায় বিপাকে পড়েছেন হাওরের কৃষক। এ অবস্থায় কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনের এমপি রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নিজেই হাওরে গিয়ে ধান কাটছেন। নিজ সংসদীয় আসনের মিঠামইন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে শুরু করেছেন ধান কাটা। তার এ কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে হাওরের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এমপির নেতৃত্বে বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২৫০ একর জমির ধান কাটা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে অষ্টগ্রামে হাওরে ধান কেটে উপজেলায় এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন এমপি তৌফিক। তার আহ্বানে এলাকার ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সাত দিন ধরে ধান কাটছেন। বৈশাখ মাসজুড়ে চলবে এ কর্মসূচি। এতে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শেখ তারিফ আহাম্মেদ, যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান কাঞ্চন, বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।
সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক বলেন, হাওরে ছাত্রলীগ-যুবলীগ এবার নজির সৃষ্টি করবে।
সুনামগঞ্জ :হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের একমাত্র ফসল বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার ধান কাটতে কৃষক-শ্রমিকের পাশাপাশি হাজারো শিক্ষার্থী নেমেছেন ধান কাটতে। ভয় কাটিয়ে পাকা ধান ঘরে আনার যুদ্ধে নেমেছেন লাখো মানুষ। জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলার হাওরে এবার বোরোর আবাদ হয়েছে দুই লাখ ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ লাখ টন। দিরাই উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কৃষক আবদুস ছাত্তার জানান, মঙ্গলবার থেকে ধান কাটা শুরু করেছেন। অন্যান্য বছর শ্রমিকরা গৃহস্থের বাড়িতেই থাকতেন। এবার করোনার ভয়ে গ্রামের পাশেই তাদের থাকার জন্য প্যান্ডেল করা হয়েছে। রাজাপুর গ্রামের কৃষক কফিল উদ্দিন জানান, ধান কাটা শ্রমিকের সংকট রয়েছে তাদের এলাকায়। অনেকে করোনার ভয়ে আসছেন না ধান কাটতে। শাল্লা উপজেলা চেয়ারম্যান আলামিন চৌধুরী জানান, গার্মেন্ট শ্রমিক এবং শিক্ষার্থীরাও ধান কাটতে নেমে গেছেন। তবে ভয় হচ্ছে অকাল বন্যার। শিক্ষার্থী দীপজয় গোপ বলেন, শিক্ষার্থীরা মিলে এই উপজেলায় একাধিক গ্রুপ ধান কাটার কাজে নেমেছে। যেসব কৃষক শ্রমিক সংকটে ভুগছেন, তাদের ধান কেটে দিচ্ছেন এবং কম পারিশ্রমিক নিচ্ছেন তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক সফর উদ্দিন জানান, আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে ১৭ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২০ মিলিলিটার বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় ধানে ৮০ ভাগ চাল হলেই কেটে আনতে হবে। এবারও বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিক আনতে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্ব স্ব উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কাছ থেকে সনদ নিয়ে ইতোমধ্যে তিন হাজার ২০০ শ্রমিক এসেছেন। আরও ১২ হাজার ২৯৪ শ্রমিক আসবেন। সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে বেশি পরিমাণে বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, ঝড়-বৃষ্টি ও অকাল বন্যার শঙ্কা রয়েছে। এ জন্য দ্রুত ধান কাটতে হবে।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) :উপজেলায় মঙ্গলবার বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় পাকা ধান আগেভাগেই কাটা শুরু হয়েছে। এ জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও প্রচার চালানো হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ধান কাটায় কৃষকদের সঙ্গে অংশ নেন উপজেলা চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, ইউএনও শামীম আল ইমরান, ওসি ইয়াছিনুল হক প্রমুখ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার বলেন, 'বৈরী আবহাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকদের পেকে যাওয়া ধান দ্রুত কাটার আহ্বান জানাচ্ছি। এখানে শ্রমিকের সংকট হবে না। উপজেলা প্রশাসন থেকে কৃষি শ্রমিকদের ত্রাণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য অনেকেই ধান কাটায় আগ্রহী হবেন।
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) :ধর্মপাশায় হাওরে বোরোর বাম্পার ফলন হলেও করোনার কারণে উজান থেকে আসছেন না শ্রমিক। যেসব স্থানীয় শ্রমিক ধান কাটতে রাজি হচ্ছেন, তাদের মজুরিও বেশি। বিচরাকান্দা গ্রামের কৃষক আহম্মদ আলী জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে উজানের শ্রমিকরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। ফলে স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, আগাম বন্যার আশঙ্কায় কৃষককে দ্রুত ধান কাটতে বলা হয়েছে। ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) আবু তালেব বলেন, 'অন্য এলাকা থেকে যেসব শ্রমিক আসবেন তাদের আলাদা রাখার জন্য কৃষকদের বলা হয়েছে।
No comments:
Post a Comment