Thursday, November 28, 2019

চা ও মাছের বর্জ্য থেকে মিলবে জ্বালানি ও সার



চা ও মাছের বর্জ্য থেকে মিলবে জ্বালানি ও সার
সিকৃবির গবেষণাগারে ব্যস্ত ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন এবং শিক্ষার্থী শঙ্খরূপা দে ও জিনাত জাহান - সমকাল
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) এক গবেষণায় জ্বালানি খাতে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এ গবেষণা করেছেন সিকৃবির এক শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থী। বাংলাদেশে ব্যবহূত চা ও মাছের বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদনে প্রথমবারের মতো সফল হয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন এবং শিক্ষার্থী শঙ্খরূপা দে ও জিনাত জাহান এ গবেষণা করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিকৃবির জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্যবহূত চা, মাছ ও গবাদিপশুর বর্জ্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বায়োগ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি সার হিসেবে ব্যবহারের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণায় ভিন্ন ভিন্ন অনুপাতে মাছ, চা ও গরুর সমন্বিত বর্জ্য থেকে ৭২ মিলি. এবং ৪৫ মিলি. গরু ও চায়ের সমন্বিত বর্জ্য থেকে ৩৫ মিলি. এবং গরু ও মাছের সমন্বিত বর্জ্য থেকে ৬৫ মিলি. বায়োগ্যাস বা মিথেন পাওয়া গেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বর্জ্য ভেদে বায়োগ্যাস থেকে ৬০-৬৫ শতাংশ মিথেন গ্যাস পাওয়া যায়। বাংলাদেশে প্রতিদিন ব্যাপক পরিমাণ চা, মাছ ও গবাদিপশুর বর্জ্য তৈরি হয়, যা সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশের ওপর নানাবিধ ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। ওই বর্জ্য পচে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস নির্গত হয়, যা গ্রিন হাউস গ্যাস হিসেবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি ক্ষতিকর। এ অবস্থায় মাছের বর্জ্য, চায়ের বর্জ্য ও গোবর মিশিয়ে ৬৫ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছে সিকৃবির গবেষক দল। এ ছাড়া জ্বালানি উৎপাদনের পর বর্জ্য থেকে সার ও মাছের খাবার উৎপন্ন হয়। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বৃহৎ পরিসরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হলে দেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করেন গবেষক ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন।

No comments:

Post a Comment