Thursday, November 28, 2019

বুদ্ধিমান পাখি কাক

বুদ্ধিমান পাখি কাক

ঈশপের গল্পের 'কাক ও কলসি'র কথা তোমরা অনেকেই জানো। সেই যে তৃষ্ণার্ত কাক, যে কি-না কলসির তলানিতে পড়ে থাকা পানি পান করার জন্য বুদ্ধি করে নুড়ি পাথর ফেলেছিল। অনেক চেষ্টার পর কাজে সফল হয়েছিল। গল্পটি পড়ে তোমরা নিশ্চয় কাকের বুদ্ধির খুব প্রশংসা করেছ। তবে সেটি কি শুধুই একটি গল্প ছিল? বাস্তবেও কাক কিন্তু যেনতেন পাখি নয়। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার বার্ডের নেতৃত্বে কাকের ওপর এক গবেষণায় করা হয়। সেখানে চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যায়। তা হলো, ঈশপের সেই গল্পে কাকের যে বুদ্ধিমত্তার বর্ণনা আছে, তার সঙ্গে শতভাগ মিলে যায়।

কাক পৃথিবীর সর্বত্র দেখা যায়। একে আমরা মূলত কুৎসিত ও কর্কশকণ্ঠী পাখি হিসেবেই জানি। তবে তাকে সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান পাখি মনে করা হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রাণিজগতের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে এদের ধরা হয়। কাকের মাথায় এমন এক নিউরন খুঁজে পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে তারা বুদ্ধিমান ও কৌশলী প্রাণী। এরা মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বেশ নজরে রাখে, যাতে প্রয়োজনে এরা নিজেদের পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করতে পারে। যখন কাক কোনো বাদাম বা শক্ত কোনো খাবার পায়, তখন সেটি রাস্তায় ফেলে রাখে। এ ক্ষেত্রে তাদের হিসাব একদম নিখুঁত। কাকেরা ট্রাফিক সিগন্যাল মুখস্থ রাখে। সে অনুযায়ী সঠিক মুহূর্তে উপর থেকে বাদাম বা আখরোটটি ছেড়ে দেয়। তারপর অপেক্ষায় থাকে কখন একটি গাড়ি এসে পিষে দেবে। গাড়ির তলায় পিষে খাবারটা যখন পড়ে থাকে, তখন তারা একদম তড়িঘড়ি করে না। অপেক্ষায় থাকে সিগন্যালের। যখন লাল বাতি জ্বলে ওঠে, তখন লাফিয়ে এসে ঠোঁটে তুলে নেয় খাবারটি। আবার গাছের ফল খাওয়ার জন্য সঠিক উচ্চতা থেকে ফেলে দেয়। যাতে ফলটা ফেটে গিয়ে খাওয়ার উপযোগী হয়। এমন বুদ্ধির প্রশংসা না করে উপায় আছে?

কাক এবং মানুষের মস্তিস্কের গঠন ভিন্ন। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো সমস্যা সমাধানে একই রকম বুদ্ধি খাটায়। খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য কাক দুই ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। গাছের গায়ে গর্ত থাকলে ডালপালা দিয়ে খোঁচায়। ফলে, গর্তের ভেতর শুঁয়াপোকা থাকলে বের করে আনে এবং খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। আবার শক্ত পাতাকে টুকরো টুকরো করে সেগুলো দিয়ে পোকা বা অমেরুদণ্ডী প্রাণী শিকার করে। শিকার ধরতে সোজা ধাতব তার বাঁকিয়ে হুক বানানোর কৌশলও আয়ত্ত আছে।

লেখা : তাবাসসুম রহমান পিংগলা

No comments:

Post a Comment