সারা
বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন করোনাভাইরাস। আক্রান্তের তালিকায়
কোন দেশ নেই, তা খুঁজতে এখন রীতিমতো গলদঘর্ম হতে হবে। মহামারি ঠেকাতে নানা
উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে চলছে মহামারি-পরবর্তী বিশ্বের রূপটি কেমন হবে, তা
নিয়ে নানা আলোচনা। এ নিয়ে নানা বিতর্ক হতে পারে, তবে একটা বিষয় নিশ্চিত,
ভালো বা মন্দ—যেমনই হোক, এই সংকট অভাবনীয়ভাবে বদলে দেবে সামাজিক বিন্যাস।মার্কিন পত্রিকা পলিটিকো গত সপ্তাহে বৈশ্বিকভাবে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকটের প্রেক্ষাপটে ৩০ জনের বেশি বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদের মতামত নিয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট এই ব্যক্তিবর্গ সমাজের ওপর চলমান এ সংকটের বহুমুখী প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন, যা আদতে বার্তার চেয়েও বেশি কিছু।
শেরি টার্কলস্বাস্থ্যকর ডিজিটাল জীবনযাপনশেরি টার্কল, ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সামাজিক গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক। তিনি এমআইটির টেকনোলজি ও সেলফ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। ‘রিক্লেইমিং কনভারসেশন: দ্য পাওয়ার অব টক ইন আ ডিজিটাল এজ’–এর লেখক।
আমরা আমাদের সময় ও ডিভাইসগুলো হাতে নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারি যে এগুলোর মাধ্যমে আমরা কী ধরনের কমিউনিটি গড়ে তুলব। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার দিনগুলোর শুরুর পর্যায়েই আমরা অনুপ্রেরণামূলক প্রথম উদাহরণের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ এ ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে।
মার্কিন সংগীতশিল্পী ইয়ো-ইয়ো মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন গানের লাইভ কনসার্ট পোস্ট করছেন। এভাবে তিনি নিজের উপস্থিতি জানাচ্ছেন। মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী লরা বেনানতি গানের স্কুলগুলো থেকে বিভিন্ন স্টেজ শো করে এমন শিল্পীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তিনি তাঁদের পরিবেশনা অনলাইনে তাঁকে পাঠাতে বলেন। তিনি এসব পরিবেশনা দেখবেন। লরা বেনানতির এই ক্যাম্পেইনে যোগ দিয়েছেন মার্কিন গীতিকার ও সুরকার লিন ম্যানুয়েল মিরান্ডা। তিনিও সব শিল্পীর পরিবেশনা দেখবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উদ্যোক্তারা সংগীতের পিচ শুনবেন বলে প্রস্তাব দিয়েছেন।
যোগগুরুরা বিনা মূল্যে যোগাসন শেখাচ্ছেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের এই সময়ে অনলাইন স্ক্রিনে ভিডিও গেম খেলার বাইরে এটি অন্য এক জীবন। অনলাইন এখন মানুষে মানুষে উদারতা ও সহানুভূতি প্রকাশের উন্মুক্ত এক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে, ‘আমি কী দিতে পারি? আমার একটা ইতিহাস আছে, আছে জীবন—মানুষের কী প্রয়োজন?’ আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে এভাবে মানবিকতার বিকাশ ঘটাতে পারি। কোভিড-১৯–এর সময়ে এই মানবিকতাই শক্তি হয়ে উঠবে। এভাবে আলাদা থেকেও সবাই একসঙ্গে থাকা সম্ভব।
এলিজাবেথ ব্র্যাডলিভার্চ্যুয়াল জগতের আশীর্বাদএলিজাবেথ ব্র্যাডলি, বিশ্বস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষক ও নিউইয়র্কের ভাসার কলেজের প্রেসিডেন্ট।
ভার্চ্যুয়াল জগৎ আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে আইসোলেশনে, কোয়ারেন্টিনে বা একা থাকলেও আমরা অনেক কিছু করতে পারি। এ অভিজ্ঞতা পরবর্তী কোনো দুর্যোগের সময় আমাদের নিরাপদে থাকতে সহায়তা করবে। নিজেদের যাঁরা আইসোলেশনে রেখেছেন, তাঁদের সামাজিকীকরণ ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করবে এমন একটি ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি (ভিআর) প্রোগ্রাম দেখার অপেক্ষায় আছি। একবার ভাবুন যে একটি গ্লাস পরলেন, আর অমনি আপনি চলে গেলেন কোনো শ্রেণিকক্ষে, কিংবা অন্য কোনো সমাবেশে অথবা মানসিকভাবে ইতিবাচক কোনো স্থানে।
ইজিকিয়েল জে ইমানুয়েলটেলিমেডিসিনের অগ্রযাত্রাইজিকিয়েল জে ইমানুয়েল, পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যনীতি ও চিকিৎসা নৈতিকতা বিভাগের সভাপতি।
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যসেবার ধরন বদলে দিয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে টেলিমেডিসিন ব্যয় সংকোচন ও উচ্চ মাত্রার সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংকটের এই কালে প্রচলিত সেবাব্যবস্থার বদলে দূর থেকে সেবা গ্রহণকে জনপ্রিয় করতে পারে, যখন প্রচলিত ব্যবস্থাটি মহামারির কারণে ভেঙে পড়েছে। সংক্রামক রোগের বিস্তার ঠেকানোটা এই পরিবর্তনের আরেকটি বড় সুবিধা হতে পারে। ভিডিও কলের মাধ্যমে সহজে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার এই পন্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পরিবহনব্যবস্থার সংসর্গে যেতে হবে না, অপেক্ষা করতে হবে না অভ্যর্থনা কক্ষে; সবচেয়ে বড় কথা হলো এতে গুরুতর রোগীরা এর বড় সুফল পাবে।
আই-জেন পোশক্তিশালী পারিবারিক যত্নের শুরুআই-জেন পো, ন্যাশনাল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স অ্যান্ড কেয়ারিং অ্যাক্রস জেনারেশনসের পরিচালক
আমাদের যত্ন নেওয়ার অবকাঠামোতে যে বড় ধরনের ফাঁক রয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। লাখ লাখ মার্কিন পরিবারকে কোনো ধরনের সুরক্ষাবলয় (সেফটি নেট) ছাড়া এই পরিস্থিতি পাড়ি দিতে হচ্ছে। প্রিয়জন অসুস্থ, বাচ্চারা হঠাৎ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িতে। এমন অবস্থায় পরিবার, স্বাস্থ্য আর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে যেকোনোটি বেছে নেওয়ার মতো যন্ত্রণাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। সর্বোপরি, বাচ্চার যত্নে অর্থবহ সাহায্যের পরিমাণ একেবারেই সীমিত। দীর্ঘ মেয়াদে এই পরিমাণ খুবই নগণ্য। আর খুব কমসংখ্যক কর্মীরই রয়েছে সবেতনে পারিবারিক ও চিকিৎসা ছুটির সুবিধা; যার অর্থ হচ্ছে কাজ নেই তো বেতনও নেই।
এই সংকট হয়তো সর্বজনীন পারিবারিক যত্নের (ইউনিভার্সেল ফ্যামিলি কেয়ার) জন্য একটি কেন্দ্রীয় জনতহবিল গঠনের ব্যাপারে রাজনৈতিক সমর্থন ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে। এটি হবে এমন একটি তহবিল, যেখানে আমরা সবাই সহায়তা করব, সবাই সেখান থেকে সুবিধা পাব। কাজের সময় আমাদের পরিবারের যত্নে এটি সহায়তা করবে, শিশু-প্রবীণ আর প্রতিবন্ধীদের যত্নে এই তহবিল কাজে লাগবে, এমনকি সবেতনে ছুটির সুযোগ করে দেবে। আমাদের দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী, কাজের ভারে নুয়ে পড়া কোটি কোটি পরিবার ও পেশাদার সেবাদাতাদের দেখভালে আমরা যে যথেষ্ট মনোযোগী নই, তা নজরে নিয়ে এল করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব। যত্নআত্তি সব সময়ই ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো দায়িত্ব, যাকে আমাদের প্রচলিত নীতি কখনোই পুরোপুরি সমর্থন করেনি। এই মুহূর্তে এই সংকট আমাদের ঝাঁকুনি দিয়ে এর পরিবর্তনের কথাই বলছে।
স্টেফ স্টার্লিংসরকারকে বড় ওষুধের সবচেয়ে বড় উৎপাদকস্টেফ স্টার্লিং, রুজভেল্ট ইনস্টিটিউটের অ্যাডভোকেসি ও পলিসিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ‘জনস্বার্থ: জনমালিকানার মাধ্যমে ওষুধের গণতন্ত্রীকরণ’ বিষয়ক প্রকাশিতব্য একটি প্রবন্ধের সহলেখক।
ওষুধ ও ভ্যাকসিনের উন্নয়ন, গবেষণা ও উৎপাদনের ব্যয়বহুল, অকার্যকর ও বাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা নগ্নভাবে প্রকাশ করে দিয়েছে করোনাভাইরাস। গত ২০ বছরে করোনাভাইরাস গোত্রের বেশ কয়েকটি ভাইরাস হানা দিয়েছে, এর মধ্যে কোভিড-১৯ একটি। এর যে প্রতিষেধক এখনো বের করা গেল না, এর পেছনে সরকারের ব্যর্থতা আছে। কারণ, সরকার নিজে উদ্যোগী হওয়ার বদলে ওষুধ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। আর এ কারণেই আমাদের ১৮ মাস অপেক্ষা করতে হবে, কখন বেসরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হবে। আর মুনাফার নিশ্চয়তা না পেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত ভবিষ্যৎ সংকটের কথা মাথায় রেখে কোনো ওষুধ ও ভ্যাকসিন স্বাভাবিকভাবেই তৈরি করবে না।
আর এটি এ ধরনের সংকট প্রতিরোধে কিছুই করতে পারবে না। ওষুধ তৈরির কাঁচামালের ভঙ্গুর সরবরাহব্যবস্থার পাশাপাশি রয়েছে মেধাস্বত্ব সুরক্ষার নামে নতুন চিকিৎসা প্রণালি ও ওষুধ মানুষের নাগালের বাইরে রাখার বিষয়টি। এ অবস্থায় ওষুধের উন্নয়ন ও উৎপাদনে সরকারকে আরও সরাসরি ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। জনগণের প্রয়োজন মেটানোর চেয়ে মুনাফাকেন্দ্রিক যে ওষুধনীতি ৪০ বছর ধরে দাপট দেখাচ্ছে, তা পরিবর্তন করার সময় এসেছে। জনগণের প্রয়োজনীয় ওষুধ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে নয়, রাষ্ট্রের হাতে রেখে সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
সোনজা ত্রসআবার রাজত্ব করবে বিজ্ঞানসোনজা ত্রস, ক্যালিফোর্নিয়া–ভিত্তিক সংস্থা ওয়াইআইএমবিওয়াই ল-এর নির্বাহী পরিচালক।
সত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রচারক বিজ্ঞান। তবে প্রায় এক প্রজন্মের বেশি সময় ধরে এই বিজ্ঞানের বিশ্বাসযোগ্যতা কমে গেছে। ওবি-ভান কেনোবি যেমনটি ‘রিটার্ন অব দ্য জেডি’তে বলেছিলেন, ‘আপনি দেখবেন যে আমাদের আঁকড়ে থাকা সত্যের অধিকাংশই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল।’ ২০০৫ সালে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জমানা শুরুরও অনেক আগে, হলিউডের বিখ্যাত কমেডিয়ান স্টিফেন কোলবার্ট মজার একটি কথা বলেন। তিনি সত্যকে গৌণ করে তোলা রাজনৈতিক প্রবণতাকে বোঝাতে ‘ট্রুথিনেস’ শব্দটি প্রয়োগ করেন। বলা যায়, তেল ও গ্যাসশিল্প সত্য ও বিজ্ঞানের বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। একই রকম কাজ করছে তামাকশিল্পও।
এবারও তেমন দেখা যাচ্ছে। প্রথমে রিপাবলিকানরা দাবি করেছিল যে করোনাভাইরাস নিয়ে যেসব প্রতিবেদন বের হয়েছে, সেগুলো আদৌ বিজ্ঞান নয়; পুরোদস্তুর রাজনৈতিক। আর এটিই লাখ লাখ মানুষের কাছে যুক্তিসংগত বলে মনে হয়েছিল। তবে এখন দ্রুতই মার্কিনরা জীবাণু তত্ত্ব ও (অণুজীবের) জ্যামিতিক হারে বংশবৃদ্ধির মতো বৈজ্ঞানিক ধারণার সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। তামাকের প্রভাব বা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যুক্তি নিয়ে যাঁদের সন্দেহ ছিল, তাঁরাই এখন করোনাভইরাসের প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন দ্রুত। আমরা আশা করতে পারি, অন্তত আগামী ৩৫ বছরের জন্য জনস্বাস্থ্য ও মহামারির মতো বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের দক্ষতার প্রতি জন-আস্থা আংশিক হলেও বাড়বে।
ইথান জুকারম্যানঅবশেষে কংগ্রেসও ভার্চ্যুয়াল জগতে আসতে পারেইথান জুকারম্যান, এমআইটির মিডিয়া আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি একই সঙ্গে সেন্টার ফর সিভিক মিডিয়ার পরিচালক ও ‘ডিজিটাল কসমোপলিটনস: হোয়াই উই থিংক দ্য ইন্টারনেট কানেক্টস আস, হোয়াই ইট ডাজ নট, অ্যান্ড হাউ টু রিওয়্যার ইট’ প্রবন্ধের লেখক।
করোনাভাইরাস অনেক প্রতিষ্ঠানকে ভার্চ্যুয়ালি কাজ করতে বাধ্য করছে। এখন এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে উপকৃত হবে মার্কিন কংগ্রেস। আমাদের এই সংকটের সময় কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কংগ্রেসের দরকার। এদিকে ১০ জন বা তার কম লোকের সমাবেশ করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের কক্ষে সভা করাটা তাই এখন বুদ্ধিমান বিকল্প নয়। কারণ, কংগ্রেসের অন্তত দুজন সদস্য ইতিমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
বরং এটা বলা যায়, কংগ্রেসের সদস্যদের জন্য এখন সবচেয়ে দুর্দান্ত সময় হলো নিজেদের শহরে ফিরে গিয়ে স্থায়ীভাবে ভার্চ্যুয়াল আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করা। এই পদক্ষেপ এখন কেবল স্বাস্থ্যগত কারণেই প্রয়োজন নয়, এর আরও সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে আইনপ্রণেতারা তাঁদের ভোটারদের কাছাকাছি যেতে পারবেন এবং স্থানীয় দৃষ্টিকোণ ও ইস্যুতে সংবেদনশীল আচরণ করতে পারবেন। ভার্চ্যুয়াল কংগ্রেসের কাছে তদবির করাটা খুব শক্ত হবে। কারণ, তদবিরের জন্য যে গোষ্ঠীগুলো এখন ওয়াশিংটনে ভিড় করে, তাদের তখন এ জন্য পুরো দেশে ছুটে বেড়াতে হবে। এতে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি আইনপ্রণেতাদের দায়িত্ববোধও বাড়বে।
দীর্ঘ মেয়াদে ভার্চ্যুয়ালাইজড কংগ্রেস আমাদের প্রতিনিধি পরিষদের অন্যতম দুটি সমস্যা মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে—তা হলো পুনর্বিবেচনা ও সম্প্রসারণ। ১৯২০ সালের পর থেকে কংগ্রেস অর্থপূর্ণভাবে বড় হয়ে ওঠেনি। বর্তমানে একজন প্রতিনিধি গড়ে ৭ লাখ ৭০ হাজার মানুষের জন্য কথা বলেন, অথচ প্রতিষ্ঠার সময় যা ছিল ৩০ হাজার। আমাদের দেখাতে হবে ভার্চ্যুয়াল কংগ্রেস একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও ভালো কাজ করতে পারে অষ্টাদশ শতাব্দীর তুলনায়। বোঝাতে হবে, প্রযুক্তির মাধ্যমেই হয়তো আমরা জর্জ ওয়াশিংটনের সময়ের মতো ৩০০০০:১ অনুপাতে ফিরে যেতে পারব।
মার্গারেট ও’মারাসরকারের কর্তৃত্ব ফিরে আসছেমার্গারেট ও’মারা, ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। ‘দ্য কোড: সিলিকন ভ্যালি অ্যান্ড দ্য রিমেকিং অব আমেরিকা’ বইয়ের লেখক।
করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেন্দ্রীয়, রাজ্য ও স্থানীয়—সব ধরনের প্রশাসনকে মার্কিনদের সামনে আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান করে তুলেছে। সরকারগুলো নাগরিকদের কাছে এখন অনেক বেশি দৃশ্যমান। আমরা এখন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ব্রিফিং শুনছি, গভর্নরদের কাছ থেকে নির্দেশনা পাচ্ছি এবং জাতীয় নেতাদের কাছ থেকে আশা ও সহায়তা আশা করছি। আমরা দেখছি, বড় সরকারগুলো আমাদের জীবন ও স্বাস্থ্য খাতে ভূমিকা রাখছে। চার দশক ধরে জন-অবকাঠামোতে বিনিয়োগ না করা এবং জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতামত অগ্রাহ্য করার বিপদ আমরা টের পাচ্ছি। সংকট থেকে বের হতে এই বড় বড় সরকারকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা শুধু যে আমেরিকা অনুভব করছে—তা কিন্তু নয়। সবারই প্রয়োজন এটি। বর্তমান পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পর আমাদের দরকার হবে আরও বড় ও বিজ্ঞ সরকারব্যবস্থা।
(অনুবাদ করেছেন: ফারুক হোসেন, শেখ সাবিহা আলম, নাজনীন আখতার, তপতী বর্মন, শুভা জিনিয়া চৌধুরী, ফজলুল কবির, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, শাকিলা হক, রাজিউল হাসান ও অর্ণব সান্যাল।) প্রথম আলো।
No comments:
Post a Comment