হোসাইন
কী আশ্চর্য! কী অপূর্ব দৃষ্টান্ত! সত্যি, ঈশ্বরের রহস্যলীলা বোঝা মানুষের সাধ্য নয়। করোনাভাইরাসে আমরা সবাই আজ আতঙ্কিত। সংকিত। ভীত। মৃত। লড়াই। কান্না। চেষ্টা। প্রচেষ্টা। আবার আবিস্কারও চলছে বিভিন্ন ভ্যাকসিন ও প্রতিষেধকের। গবেষণা করে যাচ্ছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। আহা! মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কত কী না করে! এর মধ্যেও আছে একটি রহস্য। একটি আহ্বান। একটি মধুর শ্রুতি। একটি মেলবন্ধন। সময়টা বেশিদিনের নয়। মাস খানেক। হয়তো একটু বেশি। পৃথিবীর চেহারা কেমন ছিল? হানাহানি। মারামারি। বিভেদ। যুদ্ধ। হুঙ্কার। অহঙ্কার। বৈষম্য। দ্বন্দ্ব। প্রভাব। আরও কত শব্দের জন্ম হয়েছে খবরের কাগজে। কত কথা লেখা হয়েছে ৫০ বর্ণের সাজে। কোথাও কোনো মিল ছিল না। শুধু নীল-সবুজে এক খণ্ড অখণ্ড রক্ত ছোঁয়া ছিল। বোনের কান্না ছিল ভাইয়ের জন্য। মায়ের কান্না সন্তানের জন্য। বাবার মুখ শুকিয়ে গেছে অনাহারে বেঁচে থাকা প্রজন্মের জন্য। চাকরির খোঁজ নেই। কর্মসংস্থান নেই। অথচ টাকার খেলায় মেতেছে একদল। ক্যাসিনো। পাপিয়া। হিংসে। আহা! কত বিদ্বেষ ভরা ছিল এই ভূখণ্ড। এক খণ্ড এই আকাশ তলে কতই অগ্নি চোখ দেখেছে অর্ধাহারি। অনাহারি। খেটে খাওয়া মানুষ।
সুখও ছিল। ধনীদের পালংয়ে। গাড়িতে। বাড়িতে। অফিসে। আদালতে। সেমিনারে। সভাকক্ষে। মিছিলে। আর প্রজন্মের দু'চোখে।
সবকিছু ছাড়িয়ে শুধু একা হয়ে পড়েছিল- মানবতা। মানবিকতা। মনুষ্যত্ব। সহনশীলতা। মায়া-মমতা। স্নেহ-দয়া। সহযোগিতা। সহমর্মিতা। সমবেদনা। আর মানুষের প্রতি মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার সম্মান।
এই সূর্য-চন্দ্র, রাত-দিবস, সাগর-নদী, পাহাড়-পক্ষী, আকাশ-বাতাস সবই কেঁদেছিল। দেখেছিল। হয়তো বলেও ছিল। কেউ শোনেনি। কথা রাখেনি। কথা বলেনি। কথা বলতে দেয়নি। দেখেছে- দুই মিলিয়ন বছর আগে জন্ম নেওয়া এই মানুষের নিষ্ঠুরতা। নির্মমতা। নির্দয়তা। আর শুনেছে- নির্যাতিত-নিপীড়িত-কাতর মানুষের গগন ভারিতুল্য আর্তনাদ। সেদিন আমরা ছিলাম- বিচ্ছিন্ন। দাঁড়িয়ে ছিলাম- ভিন্ন মাটিতে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে। পুড়ে ছিলাম হিংসার আগুনে অন্য দেশের গৃহ। কেড়ে নিয়েছিলাম মানুষের সুখ। কেউ কাঁদার ছিল না- পরের তরে। সহযোগিতা? তা তো কল্পনা থেকেও হারিয়ে গিয়েছিল। 'তোমার পাশে আছি'- এই শব্দগুলোতে ছিল শুধু- সাম্প্রদায়িকতা। স্বার্থপরতা। লোভ। হীনমন্যতা। অনৈক্য।
গান্ধীজির 'আমি আছি' আর বঙ্গবন্ধুর 'তোমরা আমার ভাই' শব্দের অর্থ বুঝেও হেঁটেছি ভুল পথে। যারা জীবন বিলিয়ে মানুষকে আহ্বান করেছেন মানবতার ঐক্যের পথে। দেশ ও মানুষের জন্য বছরের পর বছর জেলজীবন কাটিয়েছেন। অনৈক্য দূর করে আপসহীন কাজ করেছেন সমাজ গঠনে। মানুষের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে হয়েছেন কঠোর। তবুও মাথা নত করে দাঁড়াননি অন্যায়ের কাছে- সেই বঙ্গবন্ধু, আব্রাহাম, মাহাথির, সুভাষ কিংবা গান্ধীজির মানসিকতায় 'তোমার পাশে আছি'- এই শব্দের ব্যবহার ছিল না। নিজ স্বার্থে প্রয়োজনে কেড়েছি অন্যের প্রাণ। দেশে দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি হিংসা। যুদ্ধ-মহড়া। অকাতরে ধ্বংস করেছি মানুষের বন্ধন। সাম্প্রদায়িকতায় জড়িয়ে পড়েছি গোটা বিশ্বে। কত সহজেই ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত করেছি হাত। মেতেছি অসুর নৃত্যে। ঠা ঠা হাসির শব্দে কম্পিত করে তুলেছি। আরও কত নিষ্ঠুরতার জন্ম দেখেছে ওই নীল আকাশ।
অথচ আজ! একেই বলেই ঐশ্বরিক প্রেম। ভালোবাসা। রহস্য। কৃতজ্ঞ হও মানববিশ্ব। আজ আমরা একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে। যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। হিংসে নেই। হুঙ্কার নেই। যুদ্ধ নেই। সাম্প্রদায়িকতা নেই। পরের তরে বিলিয়ে দিচ্ছি প্রাণ। অকাতরে আহ্বান করছি মানুষকে। মানবিকতাকে। মনুষ্যত্বকে। বেঁচে থাকার তাগিদে- ছড়িয়ে দিচ্ছি, বাড়িয়ে দিচ্ছি সহযোগিতার হাত। একদিকে 'করোনাভাইরাস', অন্যদিকে 'পুরো বিশ্ব'। একাকার। কাঁধে কাঁধ। হাতে হাত। দেশ, জাত-জাতি ও প্রাণের শত্রুও এগিয়ে আসে মিত্রের হাত বাড়িয়ে। এ যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। অদৃশ্য এই মহামারি 'করোনাভাইরাস'- এর সঙ্গে লড়ছে পুরো পৃথিবী। কী অপূর্ব! তাই না? অবশেষ এই 'করোনাভাইরাস'ই মানুষকে, আমাদের, বিশ্ববাসীকে এক মঞ্চে দাঁড় করাল। শুধু একটি শব্দ কানে দিয়ে যেতে চায়- 'তোমরা মানুষ। মানুষের ঊর্ধ্বে কিছু্ নেই। এক হয়েছিলে। আজও এক হয়ে থাকো। এক হয়ে বাঁচো। এক হয়ে চলো সামনে পথ। ধর্ম-বর্ণ, অমূলক স্বার্থপর, বৈষম্য ছেড়ে মানবতার ঐক্যের গান গাও।'
কী আশ্চর্য! কী অপূর্ব দৃষ্টান্ত! সত্যি, ঈশ্বরের রহস্যলীলা বোঝা মানুষের সাধ্য নয়। করোনাভাইরাসে আমরা সবাই আজ আতঙ্কিত। সংকিত। ভীত। মৃত। লড়াই। কান্না। চেষ্টা। প্রচেষ্টা। আবার আবিস্কারও চলছে বিভিন্ন ভ্যাকসিন ও প্রতিষেধকের। গবেষণা করে যাচ্ছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। আহা! মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কত কী না করে! এর মধ্যেও আছে একটি রহস্য। একটি আহ্বান। একটি মধুর শ্রুতি। একটি মেলবন্ধন। সময়টা বেশিদিনের নয়। মাস খানেক। হয়তো একটু বেশি। পৃথিবীর চেহারা কেমন ছিল? হানাহানি। মারামারি। বিভেদ। যুদ্ধ। হুঙ্কার। অহঙ্কার। বৈষম্য। দ্বন্দ্ব। প্রভাব। আরও কত শব্দের জন্ম হয়েছে খবরের কাগজে। কত কথা লেখা হয়েছে ৫০ বর্ণের সাজে। কোথাও কোনো মিল ছিল না। শুধু নীল-সবুজে এক খণ্ড অখণ্ড রক্ত ছোঁয়া ছিল। বোনের কান্না ছিল ভাইয়ের জন্য। মায়ের কান্না সন্তানের জন্য। বাবার মুখ শুকিয়ে গেছে অনাহারে বেঁচে থাকা প্রজন্মের জন্য। চাকরির খোঁজ নেই। কর্মসংস্থান নেই। অথচ টাকার খেলায় মেতেছে একদল। ক্যাসিনো। পাপিয়া। হিংসে। আহা! কত বিদ্বেষ ভরা ছিল এই ভূখণ্ড। এক খণ্ড এই আকাশ তলে কতই অগ্নি চোখ দেখেছে অর্ধাহারি। অনাহারি। খেটে খাওয়া মানুষ।
সুখও ছিল। ধনীদের পালংয়ে। গাড়িতে। বাড়িতে। অফিসে। আদালতে। সেমিনারে। সভাকক্ষে। মিছিলে। আর প্রজন্মের দু'চোখে।
সবকিছু ছাড়িয়ে শুধু একা হয়ে পড়েছিল- মানবতা। মানবিকতা। মনুষ্যত্ব। সহনশীলতা। মায়া-মমতা। স্নেহ-দয়া। সহযোগিতা। সহমর্মিতা। সমবেদনা। আর মানুষের প্রতি মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার সম্মান।
এই সূর্য-চন্দ্র, রাত-দিবস, সাগর-নদী, পাহাড়-পক্ষী, আকাশ-বাতাস সবই কেঁদেছিল। দেখেছিল। হয়তো বলেও ছিল। কেউ শোনেনি। কথা রাখেনি। কথা বলেনি। কথা বলতে দেয়নি। দেখেছে- দুই মিলিয়ন বছর আগে জন্ম নেওয়া এই মানুষের নিষ্ঠুরতা। নির্মমতা। নির্দয়তা। আর শুনেছে- নির্যাতিত-নিপীড়িত-কাতর মানুষের গগন ভারিতুল্য আর্তনাদ। সেদিন আমরা ছিলাম- বিচ্ছিন্ন। দাঁড়িয়ে ছিলাম- ভিন্ন মাটিতে দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে। পুড়ে ছিলাম হিংসার আগুনে অন্য দেশের গৃহ। কেড়ে নিয়েছিলাম মানুষের সুখ। কেউ কাঁদার ছিল না- পরের তরে। সহযোগিতা? তা তো কল্পনা থেকেও হারিয়ে গিয়েছিল। 'তোমার পাশে আছি'- এই শব্দগুলোতে ছিল শুধু- সাম্প্রদায়িকতা। স্বার্থপরতা। লোভ। হীনমন্যতা। অনৈক্য।
গান্ধীজির 'আমি আছি' আর বঙ্গবন্ধুর 'তোমরা আমার ভাই' শব্দের অর্থ বুঝেও হেঁটেছি ভুল পথে। যারা জীবন বিলিয়ে মানুষকে আহ্বান করেছেন মানবতার ঐক্যের পথে। দেশ ও মানুষের জন্য বছরের পর বছর জেলজীবন কাটিয়েছেন। অনৈক্য দূর করে আপসহীন কাজ করেছেন সমাজ গঠনে। মানুষের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে হয়েছেন কঠোর। তবুও মাথা নত করে দাঁড়াননি অন্যায়ের কাছে- সেই বঙ্গবন্ধু, আব্রাহাম, মাহাথির, সুভাষ কিংবা গান্ধীজির মানসিকতায় 'তোমার পাশে আছি'- এই শব্দের ব্যবহার ছিল না। নিজ স্বার্থে প্রয়োজনে কেড়েছি অন্যের প্রাণ। দেশে দেশে ছড়িয়ে দিয়েছি হিংসা। যুদ্ধ-মহড়া। অকাতরে ধ্বংস করেছি মানুষের বন্ধন। সাম্প্রদায়িকতায় জড়িয়ে পড়েছি গোটা বিশ্বে। কত সহজেই ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত করেছি হাত। মেতেছি অসুর নৃত্যে। ঠা ঠা হাসির শব্দে কম্পিত করে তুলেছি। আরও কত নিষ্ঠুরতার জন্ম দেখেছে ওই নীল আকাশ।
অথচ আজ! একেই বলেই ঐশ্বরিক প্রেম। ভালোবাসা। রহস্য। কৃতজ্ঞ হও মানববিশ্ব। আজ আমরা একটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে। যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। হিংসে নেই। হুঙ্কার নেই। যুদ্ধ নেই। সাম্প্রদায়িকতা নেই। পরের তরে বিলিয়ে দিচ্ছি প্রাণ। অকাতরে আহ্বান করছি মানুষকে। মানবিকতাকে। মনুষ্যত্বকে। বেঁচে থাকার তাগিদে- ছড়িয়ে দিচ্ছি, বাড়িয়ে দিচ্ছি সহযোগিতার হাত। একদিকে 'করোনাভাইরাস', অন্যদিকে 'পুরো বিশ্ব'। একাকার। কাঁধে কাঁধ। হাতে হাত। দেশ, জাত-জাতি ও প্রাণের শত্রুও এগিয়ে আসে মিত্রের হাত বাড়িয়ে। এ যেন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। অদৃশ্য এই মহামারি 'করোনাভাইরাস'- এর সঙ্গে লড়ছে পুরো পৃথিবী। কী অপূর্ব! তাই না? অবশেষ এই 'করোনাভাইরাস'ই মানুষকে, আমাদের, বিশ্ববাসীকে এক মঞ্চে দাঁড় করাল। শুধু একটি শব্দ কানে দিয়ে যেতে চায়- 'তোমরা মানুষ। মানুষের ঊর্ধ্বে কিছু্ নেই। এক হয়েছিলে। আজও এক হয়ে থাকো। এক হয়ে বাঁচো। এক হয়ে চলো সামনে পথ। ধর্ম-বর্ণ, অমূলক স্বার্থপর, বৈষম্য ছেড়ে মানবতার ঐক্যের গান গাও।'
No comments:
Post a Comment