বকুল আহমেদ
সমাজবিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ সমকালকে বলেন, 'ফুটপাতবাসী বা ভাসমান জনসংখ্যা যারা আছে এই মুহূর্তে তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।'
সরেজমিন হাইকোর্ট, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাহবাগ ও রমনাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতবাসীরা আগের মতোই জটলা করে গল্প করছে কিংবা বসে আছে। একসঙ্গে গোল হয়ে বসে ড্যান্ডি সেবন করতেও দেখা গেছে পথশিশু-কিশোরদের। ফুটপাতে পাশাপাশি ঘুমিয়ে রাত কাটে ছিন্নমূল মানুষের। সতর্ক না হওয়ায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে তারা।
হাইকোর্টের মাজারগেটের পাশের ফুটপাতে থাকেন জোছনা, তার স্বামী ও এক সন্তান। জোছনা বলেন, 'করোনাভাইরাস আমাগো কী করব? আমরা গরিব মানুষ। ঘর নাই, বাড়ি নাই। এখন খামু কী, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।' লাইলী নামে এক বৃদ্ধা বললেন, 'হুনছি করোনাভাইরাস আইছে। তাই ঢাকায় মানুষ নাই। মানুষের কাছে চেয়েচিন্তা খাই। এখন মানুষ নাই, চামু কার কাছে?' করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে নিজেকে সবসময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে জানতে চাইলে ওই বৃদ্ধা যেন রেগে গেলেন। ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, 'গোসল করারই পানি পাই না, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকব কীভাবে!' হাইকোর্টের সামনের ফুটপাতবাসী ৩০ বছরের পারভীন জানান, তিনি হাইকোর্ট মাজারগেটের পাশের সড়কের সিগন্যালে ভিক্ষা করে নিজে এবং দেড় বছরের ছেলের পেটের ভাত জোটাতেন। করোনার কারণে যানবাহন বন্ধ। সিগন্যালে গাড়ি আটকায় না, তাই ভিক্ষা বন্ধ হয়েছে তার। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কিছু সময় পরপর সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে বলা হয়েছে, এ নিয়ম মানেন কি-না জানতে চাইলে পারভীন বলেন, 'সাবান-পানি কই পামু। দ্যাহেন না গায়ের জামা ময়লা হয়া আছে। এসব ধোবারই পানি পাই না।'
রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ মিনার গেটের পাশে চার কিশোরকে ড্যান্ডি খেতে দেখা যায়। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় তাদের কাছে। রুবেল নামে এক কিশোর জানায়, সে শুনেছে ভাইরাস এসেছে দেশে। তবে ফুটপাত আর গাছের নিচেই তার ঘর।
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, 'ফুটপাতবাসী করোনা ঝুঁকিতে আছে। এই ঝুঁকিটা শুধু তাদের জন্যই নয়। তারা আক্রান্ত হলে ঝুঁকিতে থাকবে নগরবাসী। কারণ, তারা রাস্তাঘাটে মানুষের মধ্যেই চলাফেরা করছে। এই দুর্যোগ মুহূর্তে তাদের অস্থায়ী আবাসনে রাখার বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে।'
No comments:
Post a Comment