
ছবিতে কলিকদের সাথে ম্যানেজার জনাব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন । স্থানীয়ভাবে স্বল্প মুল্যে তৈরি পিপিআই। জনতা ব্যাংকের বাতাকান্দী শাখা এখন ব্যাংকারদের করোনা ভাইরাস সুরক্ষার মডেল।
নিজে উদ্যোগী হয়ে নিজের খরচে কাপড় কিনে সকল অফিসার স্টাফ টেইলার্সে সেলাই করে সাধারণ ছুটির মধ্যেও অফিস করছেন, নিজেদের এবং গ্রাহকদের সুরক্ষার এই চেষ্টা অবশ্যই প্রশংসার দাবী রাখে। মাত্র ৪০০ টাকার মধ্যেই নিজে, নিজের সতীর্থদের এবং সর্বোপূরী গ্রাহকদের সুরক্ষায় একটি উদ্যোগকে আমরা স্বাগত না জানিয়ে সমালোচনা করছি।
স্থানীয়ভাবে তৈরি পিপিই ম্যানেজার নিজে পরিধান করেন এবং শাখার প্রত্যেককে বাধ্যতামূলক পড়ে অফিসে কাজ করার নির্দেশ দেন। তাঁর এই উদ্যোগকে প্রশংসা পেলেও সমালোচকগণ ভিন্নভাবে অপব্যাখা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তুলেছেন।
জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দীনের এই পিপিই তৈরি করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র এর ডাক্তারদেরকেও প্রদান করেছেন ।

পত্রিকার পাতায় জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দীনের আইডিয়ার প্রশংসা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচকগণ যখন ছড়াতে ছিলেন - সত্য তখন চুপ ছিলো। কিন্তু আসল সত্য উদঘাটিত হলো পত্রিকায় প্রশংসা হয়ে আসার পর। এরপর সমালোচকগণ শাখার নাম বদল করে জনতা ব্যাংক মঙ্গলগ্রহ শাখার নাম লিখে পোষ্ট দিয়েছেন। পক্ষান্তরে জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন নিজে উদ্যোগী হয়ে যে পিপিই স্থানীয়ভাবে তৈরি করে নিজে, নিজের সতীর্থদের সুরক্ষা করলেন- এটিই এখন ব্যাংকারদের সুরক্ষা মডেল। কারন ব্যাংকারদের সুরক্ষার জন্য সরকার কোন পিপিই প্রদান করবেন না। আসলে পিপিই জরুরী প্রয়োজন ডাক্তারদের। কেউ যদি নিজ উদ্যোগে তৈরি করে নিজেরদের, নিজের কর্মস্থলকে সুরক্ষা করেন তাহলে ভাল হলে সেটিই সকলকে অনুসরন করা উচিত।
সম্পূর্ন নিজ উদ্যোগে যদি কেউ পরিধান করে তাহলে সমালোচনা না করাই ভাল। আমরা জানি সাড়া দেশ ছুটির আওতায় থাকলেও অন্যান্য ইম্রাজেন্সি ডিউটির সাথে সরকার ব্যাংককেও যুক্ত করেছেন। আগামী রোববার হতে প্রতিদিন দু’ঘন্টা করে ব্যাংকে লেনদেনের নির্দেশ প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক । ডাক্তার, নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের মতো ব্যাংকারও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করে থাকেন। গত ২০ তারিখ হতে প্রতিদিন প্রতিটি শাখায় উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্যনীয়। বাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব উদ্যোগে করোনা ভাইরাসের প্রোটেকশনের জন্য যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা খুবই নগন্য। সরকার পাবলিক ভীর এড়িয়ে চলতে বললেও ব্যাংকে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। আবার সরকারী ব্যাংকগুলোর কোন কোন শাখায় প্রায় ৩৫০/৪০০ কর্মচারী/কর্মকর্তা/নির্বাহীগণ কাজ করে থাকেন। নিজস্ব ইমপ্লয়িসহ গ্রাহকদের সুরক্ষা করে শাখায় প্রবেশ করানো একটি চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার।
সরকারের নির্দেশে সমস্ত সেক্টর বন্ধ থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে ডাক্তারদের মতো কাজ করতে হচ্ছে ব্যাংকারদেরও। আমরা জানি ডাক্তারদের পিপিই সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। তাঁরা সবচেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেবা প্রদান করে থাকেন।
ছবিতে নিজেদের তৈরি পিপিই পরিধানরত শাখার গেটে জনৈক গ্রাহককে সুরক্ষার আওতায় নিয়ে আসছেন।
পাশাপাশি ব্যাংকারও কিন্তু ঝুঁকিমুক্ত নন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। কাজেই ব্যাংকাগণ নিজ উদ্যোগে যদি পিপিই বানিয়ে নিজেকে, নিজের শাখাকে রক্ষা করতে পারেন আমাদের সমালোচনা না করে প্রশংসা করা উচিত। কারন ব্যাংকারগণ সরকারের অর্থনীতির কর্মকান্ডের চালক হিসাবে কাজ করে থাকেন। পাশাপাশি সমাজেরও অংশ। তাঁদের পরিবার পরিজন রয়েছে। এই ছুটির মধ্যে পুরো দেশের যোগাযোগ যেখানে বিচ্ছিন্ন, সেখানে ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংকারগণ শাখায় প্রবেশ করে গ্রাহক সেবা প্রদান করবেন। সরকার যেহেতু ডাক্তরাদের পিপিই দিচ্ছে- সেখানে ব্যাংকাদের বরাদ্ধের প্রশ্নই উঠে না। ব্যাংকারগণ যদি নিজে উদ্যোগী হয়ে নিজে, নিজের সতীর্থদের নিজের পরিবারকে সুরক্ষার উদ্যোগ নেন আশা করি ভিন্ন দিকে না দিয়ে ভাল দিকে লওয়া উচিত। কারন প্রতিটি শাখায় প্রবাসী রেমিট্যান্স আসে। অনেক সময় অনেক প্রবাসী, প্রবাসীর আত্বীয় স্বজন চলে আসেন ব্যাংকে। সুতরাং শুধুমাত্র প্রবাসী কেন যে কোন গ্রাহকই চলে আসতে পারেন। নিজের অজান্তেই যদি কেউ করোনা ভাইরাস বহন করে শাখায় চলে আসেন কোন গ্রাহক, তাহলে খুব সহজেই অন্য গ্রাহকসহ ব্যাংকারদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একজন ব্যাংকার এই রোগে আক্রান্ত হলে শাখার সমস্ত কলিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা থেকে যায়। আবার একজন সতীর্থর হলে তার পরিবার, সে যেখানে বসবাস করেন তার কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ারর সম্ভাবনাও থাকে।
ব্যাংকরাগণ শুধু দেশের এই ক্লান্তিকালে সেবা প্রদানে ক্ষান্ত থাকেন না, দেশের স্বার্থে যে কোন ছুটির দিনগুলোতে সরকারের নির্দেশ পরিপালন করে থাকেন । ঈদের ছুটির মধ্যে সাড়া দেশের মানুষ যখন দেশে গিয়ে ঈদ উদযাপন করেন অনেক ব্যাংকার তখন ব্যাংকে বসে কাজ করতে থাকেন। কাজেই কোন পেশাকেই হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। ব্যাংকারগণ শুধু সরকারের , বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালন করে থাকে। সত্যিকার অর্থে ব্যাংকারদের সুরক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই। আপনারা যখন সরকারের নির্দেশনা পরিপালনের জন্য নিজ গৃহে পরিবার পরিজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা টেলিভিশন দেখে দেখে খবর নিচ্ছেন ব্যাংকারা তখন কেউবা হেটে হেটে, আবার কেউবা রিক্্রা ভ্যান করে ব্যাংকে গিয়ে হাজির হচ্ছেন- মুখে একটি মাক্্র পরে পরে নিজেকে যত সামান্য রক্ষা করে। ব্যাংকারগণ এই দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছেন।

জনাব মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন উপজেলার ইউএনও মহোদয়ের হাতে নিজেদের তৈরি পিপিই প্রদান করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্র এর ডাক্তারদের জন্য।
কাজেই মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন, একজন ব্যাংকার, একটি শাখার ম্যানেজার। তিনি নিজেকে, নিজের শাখার সতীর্থদের নিজেদের পরিবারকে সর্বোপুরী একটি কমিউনিটিকে, একটি দেশকে রক্ষায় যে উদ্যোগ নিয়েছেন - আসুন আমরা সাধুবাদ জানাই।

জনৈক Md. Emran Hossain ID দিয়ে জনতা ব্যাংক, বাতাকান্দী শাখা বদল করে জনতা ব্যাংক মঙ্গলগ্রহ শাখা লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট দেন। যদিও ম্যানেজার সাহেব নিজে পিপিই পরিধানের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্ট দিয়ে সমালোচকদের ক্ষেত্র তৈরি করে দেন যাহা না বুঝে করে ফেলেছেন।
শুধু তাই নয় মোহাম্মদ জসীম উদ্দীনের তৈরি পিপিই হাসপাতালের ডাক্তারগণও পরিবাধ করছেন। সমালোচনা করা উচিত জেনে, বুঝে শুনে। আবার আমাদের এমন মন্তব্য করা উচিত, যে মন্তব্য সমাজের বাসিন্দারদের ক্ষতি না করে উপকারে আসে। আপনার আমার সকলের যাত্রা শুভ হোক নিরাপদ হোক। আল্লাহ যেন আমাদের, আমাদের দেশকে এবং সাড়া বিশ্বকে সুরক্ষা করেন।
No comments:
Post a Comment