Friday, April 10, 2020

মাথা ন্যাড়া করার হিড়িক!

টাঙ্গাইল-ন্যাড়া
মাথা ন্যাড়া করে দলবদ্ধ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন অনেকেই ঢাকা ট্রিবিউন
তাদের এমন কাণ্ড অন্যদের মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে
দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই একের পর এক ছড়াচ্ছে গুজব। কোথাও থানকুনি পাতা খাওয়া হচ্ছে, কোথাওবা তুলসি পাতা। তেমনই এক গুজবের ভিত্তিতে মাথা ন্যাড়া করা শুরু করেছেন অনেকেই। সম্প্রতি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় দেখা গেছে এমন ঘটনা।
গত কয়েকদিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শত শত যুবক তাদের মাথার সব চুল ফেলে দিয়েছেন। দলবদ্ধ হয়ে আবার ন্যাড়া মাথার ছবি পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। তারা মনে করছেন, মাথা ন্যাড়া করলে হয়ত করোনাভাইরাস থেকে বাঁচা যাবে!
তাদের এমন কাণ্ড অন্যদের মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে। আর বিষয়টিকে হাস্যকর বলছেন চিকিৎসকরা।
জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে অনেকেই মাথা ন্যাড়া নিজের মতো বাড়িতে থাকছেন আর কেউবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ছবি পোস্ট করছেন।
ঢাকা ট্রিবিউনের কথা হয় এমন হিড়িকে মাথা ন্যাড়া করা উপজেলার কচুয়া গ্রামের ইব্রাহিম শিকদার, নজরুল ইসলামের সঙ্গে।
তারা বলেন, ‘‘করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এখন সবাইকে বাসা-বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। কতদিন পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফেরা যাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই সুযোগে মাথা ন্যাড়া করে নিচ্ছেন। এছাড়াও এই ভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে আমরা মাথা ন্যাড়া করেছি।’’
অনেকে আবার বলছেন, ‘‘সরকারি নির্দেশনায় এখন অন্যান্য দোকানের মতো সেলুনগুলোও বন্ধ রয়েছে। এদিকে চুল বড় হচ্ছে। ফলে এই গরমে গিয়ে অস্বস্তি হচ্ছে। তাই বাড়িতে বসেই মাথা ন্যাড়া করে ফেলেছি।’’
সখীপুরের নরসুন্দর কানাই লাল শীল বলেন, ‘‘সরকারি নির্দেশে বাজারের সেলুন ঘরটি এখন বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেকেই বাড়ি গিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার কল করছেন। পরিচিত হলে তাদের বাড়িতে গিয়ে ন্যাড়া করে দিয়ে আসছি।’’
কথা বলা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুস সোবহান বলেন, “দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ ঠেকাতে গণহারে ন্যাড়া করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে এতে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হবে না, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমন কথার কোনো ভিত্তি নেই। বিষয়টি হাস্যকর।”
এসব গুজব এড়িয়ে সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

No comments:

Post a Comment