ভৌগলিকভাবে দোহার নবাবগঞ্জে এমন এক অবস্থানে রয়েছে যার চারপাশে কেরানীগঞ্জ,সিঙ্গাইর,শ্রীনগর, হরিরামপুর উপজেলা সমূহ । ঢাকার সাথে নবাবগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার রয়েছে অনেকগুলো পথ। কেরানীগঞ্জ টু নবাবগঞ্জের গাড়ীর চলাচলের একাধিক পথের পাশাপাশি রয়েছে নৌপথ, রয়েছে পায়ে চলার পথ। কালিগঙ্গা নদীর ঠিক ঐ পারে নবাবগঞ্জ উপজেৃলা। ঢাকার টু বান্দুরা রোড ছাড়াও হযরতপুর-পাড়াগ্রাম-নবাবগঞ্জ রোড রয়েছে। ইহাছাড়া নৌপথে ধলেশ্বরী -কালিগঙ্গা নদীপথ ছাড়াও ধলেশ্বরী - ইছামতি নদী পথ রয়েছে। অপর দিকে সাভার- হেমায়তপুর- নবাবগঞ্জ গাড়ী চলাচলের পাকা রোড রয়েছে । সিঙ্গাইর- বালুখন্ড নদী পারাপার পথও রয়েছে। হেমায়তপুর-চারিগ্রাম- জামসা- নবাবগঞ্জ পাকা সড়ক পথ রয়েছে। আবার মানিকগঞ্জের হরিরামপুর- নবাবগঞ্জ পাকা সড়ক পথ রয়েছে। এদিকে মুন্সিগঞ্জের সাথে দোহার নবাবগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থাও উন্নত। শ্রীনগরের সাথে নবাবগঞ্জ ও দোহারের উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। করোনা ভাইরাস যাহাতে বিস্তার ঘটাতে না পারে সেইজন্য নবাবগঞ্জের প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। ইতিমধ্যে নবাবগঞ্জের বাজার পাইলট স্কুল মাঠে বসানোর উদ্যোগ গ্রহন করেছেন। বাহিরের লোকজন যাহাতে প্রবেশ করতে না পারে উপজেলা পরিষদ হতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সকলের নিকট খেযাল রাখার জন্য আহব্বান জানানো হয়েছে। তা সত্বেও নৌপথ নজরাদী আনা প্রয়োজন। ইছামতিতে পানি না থাকলেও ধলেম্বরী ও কালিগঙ্গায় নৌ যোগাযোগ বিদ্যমান রয়েছে।

ধলেশ্বরী-কালিগঙ্গা নদী পথ। ফাইল ছবি।
বর্তমানে ঢাকা এবং নারায়নগঞ্জের লোকজনের মাধ্যমেই সারা বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে। গতকাল আইইডিসিআর সূত্রে জানানো হয় নতুন যে ৪টি জেলায় সংক্রামন হয়েছে তাদের সবগুলোই ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের থেকে গমন করেছেন। এদিকে নারায়নগঞ্জের সাথে মুন্সিগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় মুন্সিগঞ্জে এই রোগের পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল পর্যন্ত হিসাবে নারায়নগঞ্জে ১০৭ জন ,ঢাকায় ৩১৩ জন, মুন্সিগঞ্জে ১৪ জন, কেরানীগঞ্জে ১৬ জন,মানিকগঞ্জে ৫ জন করোনা রোগী আক্রান্ত হয়েছে। ঢাকা ও নারায়নগঞ্জে দিনকে দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকে ঢাকার টোলারবাগ, মিরপুর ও উত্তরা এলাকা হতে ভয়ে অনেকে দোহার নবাবগঞ্জে প্রবেশের আশংকা করছেন। অপরদিকে কেরানীগঞ্জে রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। নারায়নগঞ্জ থেকে নৌপথে সহজেই শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও কালিগঙ্গা নৌপথ ব্যবহার করে দোহার নবাবগঞ্জে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। দোহার নবাবগঞ্জের আভ্যন্তরীন নজরদারী পাশাপাশি বর্হিগমনের এই পথগুলোর নজরদারী বাড়ানো প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। দোহার নবাবগঞ্জের প্রশাসন বেশ তৎপর এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এম পি সার্বক্ষন তদারকি করে যাচ্ছেন। যে কোন বিষয়ে সহজেই সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে অসুবিধা হচ্ছে না ঢাকার নিকটবর্তী দুটি উপজেলার প্রশাসনের। প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন,রাজনীতিবিদ, স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন পোর্টালের সাংবাদিকগণ এবং সাধারন জনগণ সম্পৃক্ত হওয়াতে করোনা বিস্তার রোধের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এটি রোধ করা সম্ভবপর হবে বলে সকলেই বিশ্বাস করেন। আল্লাহ পাক সকলকে এই বিপদ হতে রক্ষা করুক- এই কামনাই করছি।
ছবিতে সাদা এ্যারো সড়কপথ এবং লাল এ্যারো দ্বারা নৌপথকে বুঝানো হয়েছে।
No comments:
Post a Comment