নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আমরা তাদের প্রবাসীদের সংস্পর্শে আসার তথ্য পাইনি। তা ছাড়া পরীক্ষায় যাদের করোনা পজিটিভ এসেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেও এমনটি জানা যায়নি। অর্থাৎ এ জেলায় করোনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে প্রবাসীদের সরাসরি কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। এটি লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। এখন আর এ রোগ বিস্তারের জন্য প্রবাসীদের সংস্পর্শের প্রয়োজন হচ্ছে না। তাই সবাইকে এখনই সচেতন হতে হবে, ঘরে অবস্থান করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জে এ পর্যন্ত যারা করোনা সংক্রমণে মারা গেছেন তাদের মধ্যে একজন নারী এবং বাকি ৫ জন পুরুষ। গত ৩০ মার্চ বন্দরের এক নারী, ৪ এপ্রিল নগরের দেওভোগ আমবাগান এলাকার এক ব্যবসায়ী ও দেওভোগ আখড়া এলাকার আরও এক ব্যক্তি, ৫ এপ্রিল জামতলার এক ব্যক্তি, ৬ এপ্রিল আরেক ব্যক্তি মারা যান ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। নিহতদের মধ্যে দু'জন ছাড়া বাকিরা বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। কিন্তু তাদের কারোরই প্রবাসীর সংস্পর্শে আসার তথ্য পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ সবার ক্ষেত্রে এটি লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে ছড়িয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিভিল সার্জন অফিসের একটি সূত্র জানায়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাস লোকাল কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে বলা গেলেও এ ভাইরাসটি মূলত প্রবাসীদের মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করেছে। এর পর এটি লোকাল কমিউনিটিতে ট্রান্সমিশন হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ঘরে থাকার কোনো বিকল্প নেই বলে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদসহ সংশ্নিষ্ট সবাই নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
No comments:
Post a Comment