জয়ন্ত চক্রবর্তী, কলকাতা
অনলাইন ১৩ এপ্রিল ২০২০, সোমবার, ১১:৫০
নিরালাকে আপনারা চেনেন না। চেনার কোনো কারণ নেই। একশো বছর আগে সূর্যকান্ত
ত্রিপাঠি, হিন্দি সাহিত্যের বিশিষ্ট কবি তাঁর কলমে লিখে গেছেন একশো বছর
আগের সেই অতিমারির কথা, যার নাম ছিল স্প্যানিশ ফ্লু। যে অতিমারি সারা
বিশ্বে লক্ষ লক্ষ প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। হ্যাঁ, এতক্ষনে ঠিক ধরেছেন।
সূর্যকান্ত ত্রিপাঠিই হলেন নিরালা। সেদিন, উনিশশো কুড়ি সালে নিরালার বয়স
ছিল বাইশ। দলিল দস্তাবেজ ঘেঁটে দেখছি, মারণ স্প্যানিশ ফ্লু তে নিরালা
হারিয়েছিলেন স্ত্রী, একবছরের শিশুকন্যা, পনেরো বছরের ভাইপো, আরো নিকট
আত্মীয় তিনজন, কাজের মুনিশ ছ জনকে।
নিরালা লিখছেন, দাহ কিংবা কবর দেওয়ার লোক পাওয়া যায়নি। চারদিকে
শুধু হাহাকার। বাতাসে বিলাপের স্বর। স্প্যানিশ ফ্লু তে সারা বিশ্বে মৃতের
সংখ্যা ছিল প্রায় দশ কোটি। ভারতে প্রায় এক কোটি আশি লক্ষ মানুষ প্রাণ
হারায়। মনে রাখবেন, তখন ভারত মানে অবিভক্ত বাংলা। সেই সময় কলকাতার মানুষের
যেমন প্রাণ গেছে, ঢাকার মানুষেরও গেছে। স্প্যানিশ ফ্লুতে সামোয়া যা এখন
পশ্চিম সামোয়া নামে পরিচিত বাইশ শতাংশ জনসম্পদ হারায়, ভারত হারায় ছয় শতাংশ।
অবিভক্ত ভারত। তখন কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ঢাকা মেল ছাড়তো, ঢাকার
কমলাপুর স্টেশন থেকে ক্যালকাটা মেল ছাড়তো। সেই সময় এই ভয়াবহ ফ্লু ছড়িয়ে পরে
গোটা দুনিয়ায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সবে শেষ হয়েছে। স্পেন এ সংবাদপত্রের ওপর
সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না, তারাই এই ফ্লুকে প্রথম স্পেন এর উৎপাদন বলে
চিহ্নিত করে। অচিরেই নাম হয়ে যায় স্প্যানিশ ফ্লু। ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ।
কদিনের মধ্যেই সব শেষ। করোনার কথা মনে হচ্ছে? সেই উনিশশো কুড়িতে বিশ্ব
লকডাউন কাকে বলে জানতো না। জানলে হয়তো নিরালা এতগুলো স্বজনকে হারাতো না।
এখন মানুষ জানে। পারবে কি তারা এই অস্ত্র প্রয়োগ করে করনাকে নির্মূল করতে?
নাকি আবার কোনো এক নিরালাকে লিখতে হবে শোকের ব্যালাড? এই প্রশ্নের জবাব
শুধু দিতে পারে মানুষই।
No comments:
Post a Comment