Saturday, April 4, 2020

করোনায় শ্রমিক সংকটে বোরো ধান কাটা অনিশ্চিত






ফাইল ছবি
হাওর অঞ্চলে আর মাত্র কয়েক দিন তারপরই ধান কাটার ধুম পড়বে কিন্তু বর্তমানে করোনার প্রভাবে শ্রমিক না পাওয়ার কারণে তাদের কষ্টার্জিত ফসল বোরো ধান কাটতে পারবে কিনা এই শঙ্কা কৃষকদের মাঝে।
এছাড়াও এই হাওর গুলোতে সকল উন্নয়ন কাজগুলোতেও শ্রমিক সংকটে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা । এই সংকট আর চরম দুশ্চিন্ত চলছে হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার কৃষকদের। বাম্পার ফলন হওয়ার আনন্দের পরিবর্তে জীবন রক্ষা করার পদ যেন খুঁজে পাচ্ছে না কৃষকেরা। প্রচুর ধান পেলেও ঘরে নিতে পারবে কিনা এই দুশ্চিতায সময় পার করছে তারা। একটি মাত্র ফসল বোরো উৎপাদনের উপর এই হাওর অঞ্চলের ৮৫ ভাগ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। উৎপাদিত ফসলের ২০ শতাংশে স্থানীয় খাদ্য পূরন করে ৮০ ভাগ জাতীয় খাদ্য সংযোগ হয়।
সূত্র জানাই, এছাড়াও অষ্টগ্রাম উপজেলা সহ হাওর অঞ্চলের কৃষকেরা বর্ষার ৬ মাস পানিতে একাকার হয়ে যাওয়ায় বেকার দিন কাটায়। ফলে একমাত্র ফসল বোরো উৎপাদান ছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের বাচার কোন পথ নেই। কৃষকদের সংখ্যাগরিষ্ট মাঝারী ছোট কৃষক, বর্গা ও
প্রান্তিক চাষী, বর্গাচাষী ও কৃষি মজুরের সংখ্যা সর্বাদিক। তবুও কার্তিকের বোরো রোপন থেকে শুরু করে চৈত্রের শেষের দিকে ধান কাটার মৌসুম পর্যন্ত প্রাপ্ত মজুরী ও ধানে চলে তাদের সারা বছরের খাবার আর জীবন যাত্রার ব্যয়। গত কয়েক বছর দফায় দফায় বছর এই উপজেলার অকাল বন্যায় ৯০ ভাগ ফসলহানি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ফসল হানির ফলে কৃষকেরা বেঁচে থাকার অধিকার যেন হারিয়ে ফেলে। এই উপজেলায় সরকারি ভাবে প্রচুর চাল, নগদ টাকা, মাসিক রিলিফ, সার বীজ নগদ টাকা কৃষি প্রণোদনা সহ নানা সহায়তা কৃষকেরা বেঁচে উঠে এবং আবার কৃষি উৎপাদনে সাহস নিয়ে উৎপাদন খরচ আর জীবন যাত্রার ব্যয় নির্বাহ করতে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারি, এনজিও ও মহাজনী ঋণ গ্রহণ করে। ফাল্গুন চৈত্র মাসে এই উপজেলা ও পাশ্ববর্তী এলাকায় প্রতিটি হাওর সবুজ আর সোনালীতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। ফলন ও বাম্পার ফলন বুক ভরা আশা নিয়ে কৃষকেরা মাঠে নামে চৈত্রের শেষের দিকে ধান-২৮ প্রজাতি কেটে অনেকেই ঘরে আনতে শুরু করে এবং সারা হাওরে ফসলে পরিপূর্ণ থাকে। ঠিক এই মুহুত্যে করোনার দুর্যোগ এসে দেখা দেওয়ার শ্রমিক নিয়ে দেখা দিয়েছে সংকট। কৃষকেরা ধান কাটার জন্য রংপুর, ঠাকুরগা, কুমিল্লা,নোয়াখালী, ময়মনসিংহ থেকে হাজার হাজার শ্রমিক এসে ধান কেটে দিয়ে যেত কিন্ত বর্তানে করোনা প্রভাবে কোথায় পাবে এত শ্রমিক কৃষকেরা যেন চরম বিপন্ন, বিব্রত ও হত্যাশাগ্রস্থ পড়েছে। এছাড়াও কিশোরগঞ্জের হাওর গুলোতে ভিবিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে , পানি উন্নয়নের বোর্ডের ভিবিন্ন উন্নযন কর্মকান্ড, সড়ক ও জনপদ,এলজিওডি, ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনাসহ সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের উপর পড়েছে করোনার প্রভাব। এব্যাপারে অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রফিকুল আলম জানান,আমি স্থানীয় অটোবাইক চালক,রিস্কা চালকদের নিয়ে এই বিষযে কথা বলে দেখছি যেহেতু এখন তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছে তাই ধান কাটার জন্য তাদের কে উদ্বুদ্ধ করা হবে ।
এব্যাপারে কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল আলম জানান,এই জেলায় আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭১০ হেক্টর এর মধ্যে অষ্টগ্রাম,ইটনা মিঠামইন নিকলী ৪টি উপজেলা আবাদ বেশি হয়েছে। তাই দেশের ভিবিন্ন জায়গা থেকে পূর্বে আসা শ্রমিক সদারের সাথে এলাকার কৃষকেরা যোগাযোগ করছে আর আমরা তাদের আসার জন্য পরিবহনের বিষয়টি দেখছি। তা ছাড়াও আমাদের কিছু আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতিও রযেছে সেগুলো কে কাজে লাগানো হবে।

No comments:

Post a Comment