
স্নান-খাওয়া থেকে শুরু করে রাত্রিযাপন— সবই চলছে টাঙন নদীর তীরে থাকা
নৌকায়। করোনা মোকাবিলায় শারীরিক দূরত্ব-বিধি বজায় রাখতে নৌকাতেই দিন
কাটাচ্ছেন নদিয়ার বাসিন্দা, কীর্তনিয়া নিরাঞ্জন হালদার। চার দিন আগে
মালদহের হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডীতে আত্মীয়ের বাড়িতে ঘুরতে এসেছিলেন
তিনি। ভিন্ জেলা থেকে আসায় গ্রামবাসীদের দাবি মতো স্বাস্থ্যপরীক্ষা করান
নিরাঞ্জন। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা হোম কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দেন।
কিন্তু আত্মীয়ের বাড়িতে বাড়তি ঘর না থাকায় নৌকায় থাকতে শুরু করেন তিনি।
হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডী গ্রাম পঞ্চায়েতের ডুবাপাড়া গ্রামে যে
শ্মশান, তার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে টাঙন নদী। শুখা মরসুম হওয়ায় স্রোত কমেছে
টাঙনের। কচুরিপানায় ঢেকেছে নদী। সেখানে ঘাটে বাঁধা নৌকাই এখন ঘরবাড়ি
নিরাঞ্জনের। গ্রামে গ্রামে ঘুরে কীর্তন করেন তিনি। শনিবার ডুবাপাড়া গ্রামে
আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। বাইরে থেকে আসায় গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ
তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি করে। গ্রামবাসীদের কথা মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা
করান তিনি। তবে জ্বর, কাশি না থাকলেও স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা তাঁকে হোম
কোয়রান্টিনে থাকার পরামর্শ দেন।
আত্মীয়ের বাড়িতে দু’টো ভাঙাচোরা টিনের ঘর রয়েছে। ফলে সেই বাড়িতে
থেকে দূরত্ব-বিধি মেনে চলা সম্ভব ছিল না ষাটোর্ধ্ব নিরাঞ্জনের। তাই শেষে
ঠাঁই নিতে হয়েছে আত্মীয়ের বাড়ির পাশে বাঁধা নৌকায়। তিনি বলেন, ‘‘ভাগ্নির
বাড়িতে থাকার জায়গা নেই। আমি সেখানে থাকলে ছেলেমেয়েকে নিয়ে ওদের বাইরে
থাকতে হবে। তাই নৌকায় বসবাস শুরু করেছি।” তাঁর নাতি রঞ্জিত হালদার বলেন,
“ভাঙাচোরা ঘরে কোনওমতে রয়েছি। দাদুকে কী ভাবে আলাদা রাখব, বুঝতে পারছিলাম
না।”
দুঃস্থদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন স্থানীয় কয়েক জন। সেই দলেরই প্রথম নজরে আসে বিষয়টি। দলের অন্যতম সদস্য স্কুলশিক্ষক বিশ্বজিৎ সিংহ বলেন, “বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছি। আশা করছি তাঁকে অন্যত্র রাখার ব্যবস্থা করা হবে।”
বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন হবিবপুর ব্লকের বিডিও শুভজিৎ জানা। তিনি বলেন, “হোম কোয়রান্টিনের জন্য বিভিন্ন স্কুল বেছে নেওয়া হচ্ছে। সেখানেই ওঁকে রাখা হবে।” আনন্দ বাজার পত্রিকা
দুঃস্থদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন স্থানীয় কয়েক জন। সেই দলেরই প্রথম নজরে আসে বিষয়টি। দলের অন্যতম সদস্য স্কুলশিক্ষক বিশ্বজিৎ সিংহ বলেন, “বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনেছি। আশা করছি তাঁকে অন্যত্র রাখার ব্যবস্থা করা হবে।”
বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন হবিবপুর ব্লকের বিডিও শুভজিৎ জানা। তিনি বলেন, “হোম কোয়রান্টিনের জন্য বিভিন্ন স্কুল বেছে নেওয়া হচ্ছে। সেখানেই ওঁকে রাখা হবে।” আনন্দ বাজার পত্রিকা
No comments:
Post a Comment