Tuesday, April 7, 2020

‘ঘরবন্দি’ রাজনীতিবিদরা: প্রযুক্তির মাধ্যমে চলছে সার্বিক কার্যক্রম

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান

  হাবিবুর রহমান খান ও রেজাউল করিম প্লাবন ০৮ এপ্রিল ২০২০,
প্রযুক্তির মাধ্যমে চলছে সার্বিক কার্যক্রম
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ স্থবির। বাংলাদেশেও চলছে অঘোষিত ‘লকডাউন’। অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই বন্ধ। সরকারি নির্দেশ মেনে দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষই এখন ঘরে। ব্যতিক্রম নয় রাজনীতিবিদরাও।
এ মহামারীর প্রাদুর্ভাব কমাতে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতারাও আছেন ‘ঘরবন্দি’। অনেকটা হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন তারা। বিশেষ করে বয়স্ক রাজনীতিবিদরা নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না। তবে ‘ঘরবন্দি’ থাকলেও দেশের এ দুর্যোগে কেউ বসে নেই। বাসায় থেকেই নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দিচ্ছেন নানা দিকনির্দেশনা।
ভিডিও বার্তা, মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্বিক কাজ পরিচালনা করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকরা ভিডিও কনফারেন্সে নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে নিচ্ছেন। জনগণকেও সতর্কভাবে ঘরে থাকা এবং সরকারি নির্দেশ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি অনেকে বই পড়ে, লেখালেখি করে, টিভি ও পত্রিকায় চোখ বুলিয়ে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর জানছেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘরের বারান্দা বা বাসার ছাদে নিয়মিত হাঁটছেন কেউ কেউ।
আওয়ামী লীগ : গণভবন থেকে সার্বিক বিষয় মনিটরিং করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মন্ত্রী, এমপি, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, দলের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে বাসায় অবস্থান করেও সরব ভূমিকা পালন করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।
দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের থেকে শুরু করে সাধারণ সদস্যরাও বিভিন্নভাবে মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এদিকে মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, গ্লাভস, পিপিই সরবরাহ করছে দলের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি। কমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দীর সার্বিক পরিচালনায় ঢাকার অলিতে-গলিতে থাকা অসহায় দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষকে খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে।
বিএনপি : দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়েই হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। নিকটাত্মীয় ছাড়া কোনো নেতাকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। টিভি ও পত্রিকা পড়েই সময় কাটছে তার। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমানসহ প্রায় সব সদস্যই বাসায় কোয়ারেন্টিনে আছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা বাসায় অবস্থান করলেও নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় পরামর্শ।
এরই মধ্যে সোমবার টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে স্থায়ী কমিটির বৈঠক করেছে বিএনপি। যেখানে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যুক্ত ছিলেন। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২৬ মার্চ দলীয় কার্যালয় ছেড়ে বাসায় উঠেছেন। তবে সাংগঠনিক প্রয়োজনে অফিসে এসে দাফতরিক কার্যক্রমও করছেন।
দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার উত্তরার ভাড়া বাসায় সময় কাটাচ্ছেন। নিয়মিত অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও করণীয় তুলে ধরছেন। জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতিবিদরা কখনও কাজ ছাড়া থাকতে পারে না। পরিস্থিতির কারণে ঘরে আছি সত্যি কিন্তু তারপরও বসে নেই।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে বাড়িতেই আছি। কোথাও যাচ্ছি না। অন্যের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ রেখেছি। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম টেলিফোনের মাধ্যমেই সেরে নিচ্ছি। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও সংক্রমণ রোধে জনগণের উদ্দেশে ইতোমধ্যে ফেসবুকের মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু যুগান্তরকে বলেন, বাসায় থেকে দিন কাটছে। পরিবারের সঙ্গে গল্প করি, মোবাইলে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছি। মহাসচিবের নির্দেশে রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলা নেতাদের অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও এখন ‘ঘরবন্দি’। বাসায় অবস্থান করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। বাসা থেকে নিয়মিত লাইভে বক্তব্য দিচ্ছেন মান্না। হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন ২০ দলের নেতারাও।
বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ঘোষণা দিয়েই হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকরাও অবস্থান করছেন বাসায়। জাসদের হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া সবাই বাসায় থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারাও আছেন ঘরে। তবে সিনিয়র কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে গরিব-অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন। যুগান্তর

No comments:

Post a Comment