
দেশে চলছিল কারফিউ। রাত থেকে শুরু হয় ঘুমন্ত জনতার ওপর তৎকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার অপারেশন সার্স লাইট। অধ্যাপক মেসবা কামালের বর্ণনায় জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিল খানা, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, পুরান ঢাকার শাখারিপট্টিসহ অনেকগুলো জায়গায় হামলা করে পাকিস্তানি বাহিনী। একটা ছিল নির্বিচার গণহত্যা। আরেকটা ছিল টার্গেটেড গণহত্যা। জহুরুল হক হলের ভেতরে যারা ছিল তাদের তো হত্যা করেছেই। যারা মাঠ দিয়ে আসছিল তাদেরকেও হত্যা করেছে। বিশ্বের যে কোনো গণহত্যাকে ছাড়িয়েছে এ নৃশংসতা।
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, এটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে পরিকল্পিত গণহত্যা। সেই রাতে রাজধানী ঢাকা শহরে ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষকে হত্যা করা হয়।
এদিকে গণহত্যাকারীদের বিচারের আন্দোলন চালিয়ে আসা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি মনে করে, বিশ্ব স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশ সরকারকেই জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, গণহত্যাকারীর সংগঠনগুলোর বিচার দ্রুত ট্রাইব্যুনালে শুরু করতে হবে। সরকার এগিয়ে না আসলে কখনো গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যাবে না।
রাত আসে রাত যায়। এ ভূখণ্ডের মানুষের জীবনে ২৫ মার্চ নেমে এসেছিল কালরাত হয়ে। এ রাতে বাঙালির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নৃশংস বর্বরতায়। তৎকালীন ঢাকা শহর পরিণত হয়েছিল গণহত্যার ভাগারে। তারপরেও এ দেশের মানুষ দেশকে স্বাধীন করে ছেড়েছিল।
No comments:
Post a Comment